হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ সাহেব মিয়া
শহীদ মোঃ সাহেব মিয়া

শহীদ মোঃ সাহেব মিয়া

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮শে ফেব্রুয়ারি' ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে মাত্র অর্ধ কিলোমিটার। মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত লোক দলবেঁধে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে কেউ রিক্সা, কেউ বাইসাইকেল, মোটর সাইকেলে আবার কেউবা নসিমনে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। শহীদের স্ত্রীর বক্তবা-সেদিন পরিবারের সব মহিলা রোজা আর নফল নামাজে ব্যস্ত। সকাল থেকেই যেন বাপ-বেটার জিহাদে যাওয়া ও শহীদ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। ছেলে ৭ম শ্রেণির মিজানকে মিছিলে যেতে বারণ করায় সে মাকে বলেছে, 'শহীদের মা হওয়ার ইচ্ছা নেই আপনার?' এসব দেখে এক পর্যায়ে জামিলা বেগম হাল ছেড়ে দিলেন। নিজেই সিদ্ধান্তে আসলেন এ কাজে তো বাধা দিতে নেই। দুপুরের পর স্বামী সাহেব মিয়া বাসায় এসে টিভি নিউজ দেখছিলেন হঠাৎ প্রশ্ন করলেন, মিজান কোথায়? ওতো মিছিলেই আছে, বলতেই, দুটো খেয়েই তাড়াহুড়া করে রওনা হয়ে যান মিছিলে। ভাবখানা এই, ছেলে চলে গেছে, সবাই গেছে তারতো অনেক দেরি হয়ে গেল।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"কবরের আশপাশ সুগন্ধে ভরপুর, মৌ মৌ করে।"
১. শহীদের পরিচিতি
রংপুর মিঠাপুকুরের কাশিপুর গ্রামের শহীদ মোঃ সাহেব মিয়া ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৪ সন্তানের এই পিতা অভাবের সংসারে কোন রকমে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতেন। বড় দুই মেয়েকে অর্থাভাবে পড়ালেখা শেষ না করিয়েই বিবাহ দিয়েছেন। ছোট মেয়ে এবং ছেলেকে বড় করে গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তার। নিজের সামান্য ছোট তেলের দোকানে তিনি নিজেই সবকিছু করতেন, সেখান থেকে যা আয় হতো তা দিয়েই টায় টায় সংসার চলতো।
২. যেভাবে তিনি শহীদি ঈদগাহে শামিল হলেন
২৮শে ফেব্রুয়ারি' ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে মাত্র অর্ধ কিলোমিটার। মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত লোক দলবেঁধে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে কেউ রিক্সা, কেউ বাইসাইকেল, মোটর সাইকেলে আবার কেউবা নসিমনে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। শহীদের স্ত্রীর বক্তবা-সেদিন পরিবারের সব মহিলা রোজা আর নফল নামাজে ব্যস্ত। সকাল থেকেই যেন বাপ-বেটার জিহাদে যাওয়া ও শহীদ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। ছেলে ৭ম শ্রেণির মিজানকে মিছিলে যেতে বারণ করায় সে মাকে বলেছে, 'শহীদের মা হওয়ার ইচ্ছা নেই আপনার?' এসব দেখে এক পর্যায়ে জামিলা বেগম হাল ছেড়ে দিলেন। নিজেই সিদ্ধান্তে আসলেন এ কাজে তো বাধা দিতে নেই। দুপুরের পর স্বামী সাহেব মিয়া বাসায় এসে টিভি নিউজ দেখছিলেন হঠাৎ প্রশ্ন করলেন, মিজান কোথায়? ওতো মিছিলেই আছে, বলতেই, দুটো খেয়েই তাড়াহুড়া করে রওনা হয়ে যান মিছিলে। ভাবখানা এই, ছেলে চলে গেছে, সবাই গেছে তারতো অনেক দেরি হয়ে গেল।
তিনি মিঠাপুকুর বাজারে পৌঁছলেই মিছিল শুরু হয়। মিছিল শুরুর সাথে সাথে পুলিশ বিজিবি গুলি করে এতে তিনি গলায় গুলিবিদ্ধ হন। গোলাগুলির আওয়াজ শুনে তার স্ত্রী এ সময়ই মোবাইলে ফোন করে ছেলের সংবাদ জানতে চায়। তিনি এ অবস্থায়ই স্ত্রীর ফোন রিসিভ করেছেন-বললেন, "আল্লাহর কাছে দোয়া কর"। কিন্তু একান্ত আপন স্ত্রীর কাছ থেকে সন্তানের জন্য মায়ের আর্তি শুনলেও নিজের কথা কিছুই বলেননি। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন আল্লাহর দরবারে। মৃত লাশকে পুলিশ ছাড়েনি। স্বজনদের হাতে তৎক্ষণাৎ পৌছতে দেয়নি (বলা যায় গ্রেফতার করে) তার লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং ১ মার্চ ২০১৩ তারিখ আসরের পর লাশ ফেরত দেয়। মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে পুরনো বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ৩. পরিবারের পবিত্র অনুভূতি
স্ত্রী-পুত্র এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা তাকে স্বপ্নে দেখে। আবার তাদের অভিজ্ঞতা-নিয়মিত নামাজ না পড়লে দেখা যায় না। স্ত্রী বলেনঃ একদিন স্বপ্নে টিউবওয়েল পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছেন মিজানের বাবা, তাকে বললাম:-'পুলিশের গুলির ওখান থেকে পালাতে পারলেন না?' উত্তরে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন-শাহাদাতের ময়দান থেকে কি পালানো যায়? এরপর মিজান এসে বললো, গুলি লেগেছে কষ্ট পাননি। বললো- নাহ! একদম না। আর এখন খুব ভাল আছি।
এতো গেল স্বপ্নের কথা। কিন্তু আল্লাহপাক শহীদ সাহেব মিয়ার স্বজনদের সান্ত্বনার জন্য আরো কুদরতি ব্যবস্থা রেখেছেন। মাঝেমাঝেই বাদ মাগরিবের পর কবরের আশপাশ সুগন্ধে ভরপুর হয়ে যায়। মৌ মৌ করে। পরিবারের সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সাময়িক হলেও ভুলে যান স্বামী-বাপ হারানোর সুতীব্র বেদনা। রাতে কবরের ওপর আলোর ঝাড় দেখেন পাশের বাড়ির ভাবী। প্রতিবেশীরা হুমড়ি খায় তাতে। আলোড়ন সৃষ্টি হয় এলাকায়। চেতনায় বান ডাকে। একজনের কলিজার রক্তে শত কলিজায় প্রত্যয়ের প্রদীপ জ্বলে।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
৩টি টিনের ঘর, ৩ কাঠার বাড়ি, ৬ কাঠার একটি পুকুর আছে মাছ চাষ করা যায়, ২০ শতকের সুপারির বাগান। পরিবারের আয়ের উৎস ও পরিমাণ: তেলের দোকান, পনের হাজার টাকা।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ সাহেব মিয়া (০০৪)। পেশা: কৃষি ও বাজারে তেলের দোকানের ব্যবসা।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর কর্মী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৬৫ সাল ৪৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি-২০১৩।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা। গলার ডান পাশ দিয়ে গুলি লেগে বাম পাশ দিয়ে বের হয়। বিজিবি কৃষি ব্যাংকের ওপর থেকে গুলি করে।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি-১৩, ৫টা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
জানাজা পড়ান জনাব মাওলানা এনামুল হক। উপস্থিত ছিল আনুমানিক চার হাজার মানুষ।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কাশিপুর, ডাকঘর: মিঠাপুকুর ইউনিয়ন: ১৪ নং দুর্গাপুর, উপজেলা: মিঠাপুকুর, জেলা: রংপুর।
পিতা: মরহুম মোঃ আবুল হোসেন, ইন্তেকালের তারিখ: ২০১১ সাল।
মাতা: মোছাঃ গুলজান বিবি, ৭০ বছরের বৃদ্ধা, অধিকাংশ সময় রোগে ভোগেন। চিকিৎসার সামর্থ্য নেই।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: মোছাঃ জামিলা বেগম, বয়স-৩৫, গৃহিণী। ১ম মেয়ে: মোছাঃ শারমিন আক্তার বয়স-২৩ বিবাহিতা, ২য় মেয়ে: মোছাঃ মহসিনা বেগম বয়স-২১ বিবাহিতা, ৩য় মেয়ে: সাইয়্যেদা খাতুন বয়স-১৬, মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী, ৪র্থ সন্তান এবং একমাত্র ছেলে: মোঃ মিজানুর রহমান-১৪ বছর, আল ফারুক ইনস্টিটিউটের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র।
ভাই-বোনের বিবরণ: উম্মে হানী বেগম, বিবাহিতা, মোঃ চান মিয়া, হেলথ বিভাগে চাকরি করেন। শহীদ মোঃ শাহেব মিয়া, লায়জু বেগম বিবাহিতা, মোঃ মানিক মিয়া-৩৫ বছর বয়সী কৃষক, আনজুরা বেগম ২৫-২৬ বছর, মানসিক প্রতিবন্ধী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍