হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আলী মোস্তফা
শহীদ আলী মোস্তফা

শহীদ আলী মোস্তফা

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ আলী মোস্তফা সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার শশাডাংগা গ্রামে ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল মজিদ ও মাতা আনোয়ারা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পিতা-মাতার অত্যন্ত আদরের সন্তান শহীদ আলী মোস্তফা শশাডাংগা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি বৃত্তি পেয়ে, এ পর্ব শেষ করে শশাডাংগা দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ২০১২ সালে সায়েন্স থেকে এ প্লাস পেয়ে তিনি দাখিল পাস করেন। সর্বশেষ খানপুর আলিম মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছিলেন। অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতি, দ্বীনের কাজে সদাব্যস্ত ও সুন্দর সংগঠক হওয়ায় সমবয়সী সবাই তার সাথে বন্ধুর মত ব্যবহার করতেন আর মুরুব্বিগণ তাকে খুবই স্নেহ করতেন। বাড়ি আসলেই তার শিক্ষকগণ তাকে জুমার খুৎবা বা মসজিদে দ্বীনি আলোচনা করতে বলতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ছোট বা সমবয়সী ছাত্রদের তাদের কঠিন বিষয়গুলো পড়িয়ে দিতেন। তার মন ছিল ঈমানী চেতনায় উদীপ্ত। তাই কোন ঈমানদারের ওপর জুলুম তিনি সহ্য করতে পারতেন না। শাহাদাতের মাত্র দুইদিন আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তিনি সাথীপ্রার্থী হয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ছিলো আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে বাড়ি থেকে খানপুর আলিম মাদ্রাসায় যান এবং বলে যান যে সামনে পরীক্ষা আছে। তিনি মাদ্রাসা হোস্টেলে থাকতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে, কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি মিছিলের একেবারে সামনের কাতারে ছিলেন। মিছিল শুরু হয়ে শহরের সার্কিট হাউজের কাছাকাছি আসলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে গুলি আরম্ভ করে। শহীদ আলী মোস্তফার মাথায় বাম চোখের উপরের দিকে গুলি লেগে তা পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
১ মার্চ শুক্রবার সকাল ৯:৪০ মিনিটে তার জানাযা হয়। এতে ইমামতি করেন মুহাদ্দিস মাওলানা রবিউল বাশার। জানাযায় আনুমানিক তিন হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন। তার পর নিজ গ্রাম শশাডাংগা মসজিদের উত্তরে পবিত্র পরিবেশে তাকে দাফন করা হয়।সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা মোস্তফার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। ইনসেটে নিহত মোস্তফার লাশ-সংগ্রাম

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"মা হৃদয়ের আকুতি দিয়ে বলেছিল, 'বাবা তোর পায় ধরি তুই থাক। অতঃপর মোস্তফা বড় বোনকে বলেছিল, 'বু আমার মাকে দেখ, আমি হয়তো আর আসবো না। বাবা বলেন, 'ওর মাকে বললাম, তোমার আলী মোস্তফা শাহাদাত বরণ করেছে। সে বস্তার মতোই মাটিতে পড়ে গেল। নয় দিন পর্যন্ত স্যালাইনে ছিল। জ্ঞান ফিরলে, 'আলী মোস্তফা-আমার আব্বব্বু' বলে আবার জ্ঞান হারায়। ওর দাদীও বিছানায়, উঠতে পারেন না-খাওয়া, টয়লেট সব বিছানায়। উভয়ের জীবন শংকাগ্রস্ত। ঐদিন শ্যাম্পু কেনে আর মোস্তফা বলে, 'ভালভাবে গোছল করে যাচ্ছি শহীদদের নাকি গোছল দিতে হয় না।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আলী মোস্তফা সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার শশাডাংগা গ্রামে ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল মজিদ ও মাতা আনোয়ারা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পিতা-মাতার অত্যন্ত আদরের সন্তান শহীদ আলী মোস্তফা শশাডাংগা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি বৃত্তি পেয়ে, এ পর্ব শেষ করে শশাডাংগা দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ২০১২ সালে সায়েন্স থেকে এ প্লাস পেয়ে তিনি দাখিল পাস করেন। সর্বশেষ খানপুর আলিম মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছিলেন। অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতি, দ্বীনের কাজে সদাব্যস্ত ও সুন্দর সংগঠক হওয়ায় সমবয়সী সবাই তার সাথে বন্ধুর মত ব্যবহার করতেন আর মুরুব্বিগণ তাকে খুবই স্নেহ করতেন। বাড়ি আসলেই তার শিক্ষকগণ তাকে জুমার খুৎবা বা মসজিদে দ্বীনি আলোচনা করতে বলতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ছোট বা সমবয়সী ছাত্রদের তাদের কঠিন বিষয়গুলো পড়িয়ে দিতেন। তার মন ছিল ঈমানী চেতনায় উদীপ্ত। তাই কোন ঈমানদারের ওপর জুলুম তিনি সহ্য করতে পারতেন না। শাহাদাতের মাত্র দুইদিন আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তিনি সাথীপ্রার্থী হয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ছিলো আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে বাড়ি থেকে খানপুর আলিম মাদ্রাসায় যান এবং বলে যান যে সামনে পরীক্ষা আছে। তিনি মাদ্রাসা হোস্টেলে থাকতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে, কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি মিছিলের একেবারে সামনের কাতারে ছিলেন। মিছিল শুরু হয়ে শহরের সার্কিট হাউজের কাছাকাছি আসলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে গুলি আরম্ভ করে। শহীদ আলী মোস্তফার মাথায় বাম চোখের উপরের দিকে গুলি লেগে তা পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
১ মার্চ শুক্রবার সকাল ৯:৪০ মিনিটে তার জানাযা হয়। এতে ইমামতি করেন মুহাদ্দিস মাওলানা রবিউল বাশার। জানাযায় আনুমানিক তিন হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন। তার পর নিজ গ্রাম শশাডাংগা মসজিদের উত্তরে পবিত্র পরিবেশে তাকে দাফন করা হয়।সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা মোস্তফার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। ইনসেটে নিহত মোস্তফার লাশ-সংগ্রাম
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ। লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন। এ ঘটনায় ৭ জন শাহাদাত বরণ করেন।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের পিতা-মাতা: শহীদের পিতা ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মজিদ শিশুর মতো কেঁদে কেঁদে বলেন, "না বলে ছেলেটি কিছু করতো না। কয়েকদিন আগে বাড়ী গিয়েছিল দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে অজানা আশঙ্কায় মা তাকে নিজের কাছে আটকে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু মাদ্রাসার মাহফিলের বাঁশ কাটতে হবে বলে ও চলে আসতে চায়। মা হৃদয়ের আকুতি দিয়ে বলেছিল, 'বাবা তোর পায় ধরি তুই থাক, অতঃপর মোস্তফা বড় বোনকে বলেছিল, 'বু আমার মাকে দেখ, আমি হয়তো আর আসবোনানে।
শহীদ আলী মোস্তফা সকালে বাবার সাথে ফোন করে বলেন, আব্বু পিকেটিং এ যাচ্ছি, বাবা নিষেধ করে বাসায় বসে দোয়া করতে বলেন। কিন্তু তেজদীপ্ত কিশোর মোস্তফা বলে উঠে, 'হাজার হাজার লোক যাচ্ছে, বাড়িতে বসে বসে দোয়া করলে হবে?, অবশেষে আব্বার অনুমতি নিয়ে সে বের হয়ে পড়ে। দুপুরে সে ফিরে আসে এবং গোসল করে দুপুরের খাবার খেয়ে বাবার সাথে মোবাইলে আবার কথা বলে। বলে,-' আর বসে থাকা যায় না। কারণ মুমিনের গুণ হলো তিনটি: অন্তরে বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও কাজে বাস্তবায়ন এখন কাজে বাস্তবায়ন করার সময়। আমি মিছিলে গেলাম, দোয়া করবেন। এই বলে সাতক্ষীরা শহরের মিছিলে চলে যায়। বাবা বলেন, 'পাঁচটার দিকে ফোনে শুনলাম ছেলে শহীদ হয়ে গেছে। ওর মাকে বললাম, 'তোমার আলী মোস্তফা শাহাদাত বরণ করেছে। সে কোন কথা বলতে পারলো না, বস্তার মতোই মাটিতে পড়ে গেল। নয় দিন পর্যন্ত স্যালাইনে ছিল। জ্ঞান ফিরলে সে, 'আলী মোস্তফা-'আমার আব্বু' বলে আবার জ্ঞান হারায়। তাকে উচ্চচিকিৎসার জন্য এখন ভারত নিতে হচ্ছে, তাকে উচ্চচিকিৎসার জন্য এখন ভারত নিতে হচ্ছে ওর দাদী একেবারে বিছানায়, উঠতে পারে না।" খাওয়া টয়লেট সব বিছানায়। শহীদের পিতা আব্দুল মজিদ স্ত্রী, মা উভয়ের জীবন নিয়েই আজ শংকিত।
শহীদের শিক্ষক: বড় ও মুরুব্বীদের খুব সম্মান করতো। খুবই লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিলো। যদি কখনো বাসায় আসতাম ও খাবারের সময় খাবার গ্রহণ করার অবস্থায় থাকলে খুব লজ্জা পেত। বিভিন্নমুখী যোগ্যতা ছিল তার এবং সে ছিল খুবই মেধাবী। তার শিক্ষক বলেন: সে আরবীতে এত ভাল ছিল যে, ৯ম শ্রেণীর পরীক্ষার খাতা কোন বইয়ের সহযোগিতা ছাড়াই নিজে দেখে নম্বর দিতে পারত।
একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবে সে "শংগঠক ইসলামিক যুব কমিটি" নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। যার ব্যবস্থাপনায় এলাকায় একটি ইসলামী সম্মেলন হয়েছিল।
শহীদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য: শহীদ আলী মোস্তফা খানপুর আলিম মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।
ছিল। যদি কখনো বাসায় আসতাম ও খাবারের সময় খাবার গ্রহণ করার অবস্থায় থাকলে খুব লজ্জা পেত। সে এলাকার মানুষদের সাথে তার ছিল অন্যরকম সম্পর্ক। মিজানুর রহমান ১৩ বছর যাবৎ সেই প্রতিষ্ঠানের জিবি সদস্য। মাদ্রাসার পার্শ্বেই তার দোকান। সেখান থেকেই সব জিনিসপত্র ক্রয় করতো শহীদ মোস্তফা। মোস্তফা ছিল তার ছোট ভাই মুজাহিদের ক্লাসমেট। তারা একসাথেই মিছিলে গিয়েছিল। দুপুরে এ দোকান থেকে শ্যাম্পু কিনে নিয়ে যায় ভালভাবে গোছল করবে বলে। আর বলে, 'ভালভাবে গোছল করে যাচ্ছি শহীদদের নাকি গোছল দিতে হয় না। আব্বা, আম্মা, ভাইবোন সবার সাথে আলাপ করেছি। আমি খানপুরের মুখ উজ্জ্বল করে দিব।'
রক্তের সম্পর্ক নেই তবুও জিবি সদস্য মিজানুর রহমান সে সব স্মৃতি স্মরণ করে হু হু করে কেঁদে ওঠেন। সত্যি খানপুরের মুখ সে উজ্জল করেছিল। তাই খানপুরের আমজনতা শহীদের লাশ দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কেঁদে বুক ভাষায় তারা যেন প্রত্যেকেই নিজ সন্তানকেই হারিয়েছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ আলী মোস্তফা (০৬০), পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৮/০৬/১৯৯৬ ইং, ১৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বাম চোখের উপরে গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বিকাল ৪টা আনুমানিক। স্থান: সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজের পাশে। দাফন করা হয়। নিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শশাডাংগা, ডাকঘর: সুবর্ণাবাদ, থানা: দেবহাটা, জেলা: সাতক্ষীরা
পিতা: মো: আব্দুল মজিদ, ৫৫ বছর, জমি ভাড়া নিয়ে মাছের চাষ করেন।
মাতা: আনোয়ারা বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ১০ শতাংশ লিজ নেয়া খাস জমিতে আধা পাকা বাড়ি, নিজেদের বসত বাড়ির কোন জায়গা নেই। চাষাবাদের কোন জমি নেই। জমি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করে শহীদের পিতা পরিবার পরিচালনা করেন।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍