হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান
শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান

শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও মাওলানা সাঈদী ভক্তদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি রাস্তায় পিকেটারদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। খানপুর এলাকায় বিজিবি ও সাধারণ সাঈদী ভক্তদের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায়।
শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান ঐ দিন মাঠে কাজে থাকাবস্থায় সংবাদ পান যে গ্রামে বিজিবি এসেছে। আল্লামা সাঈদী সাহেবের ওপর দেয়া ফাঁসির রায় তিনি এমনিতেই মেনে নিতে পারেননি। তাই শতাব্দীর সবচেয়ে গর্হিত মিথ্যা রায়ের বিরুদ্ধে ৩ মার্চ ২০১৩ ইং জামায়াতের ডাকা হরতালে যখন বিজিবি বাধা দিচ্ছে জানতে পারেন, তখন বেরিয়ে পড়েন মিছিলে। মিছিলে যাওয়ার পূর্বে তার চাচাত ভাইকে বলেন, 'ভাই আমি মিছিলে যাচ্ছি দোয়া করবেন।' তিনি খানপুরে এসে দেখেন বিজিবি চলে যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর বিজিবি প্রতিরোধের মুখে পড়ে এবং আবার ফিরে আসে। বিজিবির ফিরে আসা দেখে খানপুর এলাকার জনগণ আবার উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মাহবুব উত্তেজিত জনতাকে হাত উঠিয়ে থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং বিজিবিকে আক্রমণ করতে নিষেধ করছিলেন। সকাল ১১ টার দিকে পেছন দিক হতে বিজিবি খুব কাছ থেকে তাকে টার্গেট করে গুলি করে এবং তা পিঠে লেগে কলিজাসহ সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ তিনি শাহাদৎ বরণ করেণ। ৩ মার্চ রবিবার পোস্টমর্টেম ছাড়াই রক্তাক্ত পোশাকে বিকাল পাঁচটায় জানাযা ও দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। জানাযায় প্রায় ১০ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"মা স্বপ্নে ছেলেকে বলেন, 'তুই এতদিন কোথায় ছিলি? ও বলে, 'আমিতো বাঁচি আছি। শোকাতুর স্ত্রী স্বপ্নে দেখেন, তার স্বামী মোজাইক করা ঘরে বসে আছে। আর বলে, আব্বা-আম্মাকে কষ্ট দিও না, তাদের দেখাশুনা করো।... ৮৫ বছরের বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানকে হারিয়ে চোখের জলে আল্লাহ-খোদা বলে নিজকে সান্তনা দেন। কিন্তু একমাত্র সন্তান ছয় বছরের ছাদিক সর্বদা বাবার সাথেই চলতো। আজকে শুধু বাপকে খোজে আর কাঁদে। প্রায়ই এক মাইল দূরে গোরস্থানে ওর বাবার কবরের কাছে চলে যায়। আর বলে,' কবর খুঁড়ে আমার আব্বুকে দেখে আসবো। কার সাধ্য তাকে সান্তনা দেয়?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান, সাতক্ষীরার খানপুরের রইচপুর গ্রামে ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব মো: মফিজউদ্দীন সরদার ও মাতা মর্জিনা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান সবার বড়। আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তারপর কৃষি কাজে মন দেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন ও তার ছয় বছর বয়সের একটি পুত্রসন্তান আছে। মাহবুব অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান হলেও অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও মাওলানা সাঈদী ভক্তদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি রাস্তায় পিকেটারদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। খানপুর এলাকায় বিজিবি ও সাধারণ সাঈদী ভক্তদের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায়।
শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান ঐ দিন মাঠে কাজে থাকাবস্থায় সংবাদ পান যে গ্রামে বিজিবি এসেছে। আল্লামা সাঈদী সাহেবের ওপর দেয়া ফাঁসির রায় তিনি এমনিতেই মেনে নিতে পারেননি। তাই শতাব্দীর সবচেয়ে গর্হিত মিথ্যা রায়ের বিরুদ্ধে ৩ মার্চ ২০১৩ ইং জামায়াতের ডাকা হরতালে যখন বিজিবি বাধা দিচ্ছে জানতে পারেন, তখন বেরিয়ে পড়েন মিছিলে। মিছিলে যাওয়ার পূর্বে তার চাচাত ভাইকে বলেন, 'ভাই আমি মিছিলে যাচ্ছি দোয়া করবেন।' তিনি খানপুরে এসে দেখেন বিজিবি চলে যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর বিজিবি প্রতিরোধের মুখে পড়ে এবং আবার ফিরে আসে। বিজিবির ফিরে আসা দেখে খানপুর এলাকার জনগণ আবার উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মাহবুব উত্তেজিত জনতাকে হাত উঠিয়ে থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং বিজিবিকে আক্রমণ করতে নিষেধ করছিলেন। সকাল ১১ টার দিকে পেছন দিক হতে বিজিবি খুব কাছ থেকে তাকে টার্গেট করে গুলি করে এবং তা পিঠে লেগে কলিজাসহ সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ তিনি শাহাদৎ বরণ করেণ। ৩ মার্চ রবিবার পোস্টমর্টেম ছাড়াই রক্তাক্ত পোশাকে বিকাল পাঁচটায় জানাযা ও দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। জানাযায় প্রায় ১০ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও মাওলানা সাঈদী ভক্তদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় রাস্তায় বেরিয়ে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকারি নির্দেশে পুলিশ, বিজিবি রাস্তায় রাস্তায় পিকেটারদের গুলি চালায়। খানপুর এলাকায় বিজিবি ও সাথে সাধারণ সাঈদী ভক্তদের মাঝে সংঘর্ষ বেজে যায়। তারপর দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপে কিছু শান্ত হলেও বিজিবি ফিরে যাওয়ার সময় বাধার মুখে পড়লে ফিরে এসে আবার টার্গেট করে মানুষের উপর গুলি চালাতে থাকে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে একই এলাকার আব্দুস সবুরের পুত্র পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সোহাগ, স্থানীয় নুরুল আমিনের পুত্র নাজির হোসেন এবং খানপুর গ্রামের আলহাজ্ব ইব্রাহীম হোসেনের পুত্র ইছহাক গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে সোহাগের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের সখিপুর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিজিবির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইটপাটকেল নিপে করে এবং তাদের গাড়ী আটকানোর চেষ্টা চালায়। অবশেষে খবর পেয়ে বিজিবি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
পুরাতন ঘর ছোট, বাবা মায়ের কষ্ট হয়। বোনেরা আসলে অসুবিধা হয়। তাই ঘর বানাবেন বলে ইট কিনেছিলেন। তার ৩/৪ বছরের ছোট শারিরিক প্রতিবন্ধি সাবুর আলী প্রোগ্রামে যেতে চাইলে তাকে বলেছিলে,-'তুমি কেন আসছো সংঘর্ষ হলে সমস্যায় পড়বে।, শহীদ মাহবুব বিজিবির গাড়ি রাস্তার পার্শ্বে হেলে গিয়েছিল বলে তুলে দিতে এগিয়ে গিয়েছিল। এমতাবসায় ১০/১২ হাত দুর থেকে তাকে লক্ষ করে বিজিবি ৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। নিয়মিত যেত না ঐদিন অন্যদের কে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।
মা: আমি স্বপ্নে দেখি মাহবুবুর এবং বলি, "বাবা, তুই এতদিন কোথায় ছিলি? ও বলে, 'আমিতো বাঁচি আছি।
স্ত্রী: শহীদের শোকাতুর স্ত্রী ঐদিনই দিবাগত রাতে স্বপ্নে দেখেন, "তার স্বামী মোজাইক করা ঘরে বসে আছে। আর বলছে, আমি ভাল জিনিসপত্র খাচ্ছি। সে আরো বলে, আব্বা-আম্মাকে কষ্ট দিও না, তাদের দেখাশুনা করো।
পিতা: ৮৫ বছরের বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানকে হারিয়ে চোখের জলে আল্লাহ-খোদা বলে নিজকে সান্ত্বনা দেন। কিন্তু একমাত্র সন্তান ছয় বছরের ছাদিক সর্বদা বাবার সাথে চলতো। আজকে শুধু বাপকে খোজে আর কাঁদে। প্রায়ই এক মাইল দুরে গোরস্থানে ওর বাবার কবরের কাছে চলে যায়। আর বলে, 'কবর খুড়ে আমার আব্বুকে দেখে আসবো। কার সাধ্য তাকে সান্তনা দেয়?
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: মাহবুবুর রহমান (০৬১), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২ মে ১৯৮০ ইং, ৩৩ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩, বিজিবির গুলি পেছনে লেগে কলিজাসহ সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩, সকাল ১১টা। স্থান: সাতক্ষীরা শহরের কাছে খানপুর। দাফন
করা হয়: নিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রইচপুর, ডাকঘর: খানপুর, থানা ও জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন সরদার, বয়স-৮৫ বছর।
মাতা: মর্জিনা খাতুন, বয়স-৬০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজস্ব জমিতে ভঙ্গুর অবস্থায় আধাপাকা বাড়ি, নিজেদের দুই বিঘা কৃষিজমি রয়েছে তাই জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে পরিবার পরিচালনা করতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: হোসনে আরা বেগম, স্ত্রী, বয়স-২৮ বছর। একমাত্র সন্তান মো: সাদেকুজ্জামান, ৬ বছর, নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে।
ভাই-বোনের বিবরণ: শাহানা আক্তার, বিবাহিতা। ইয়াসমিন আক্তার, বিবাহিতা। মাহবুবুর
রহমান, শহীদ। সাবুর আলী, শারীরিক প্রতিবন্ধী। গোলাম সারোয়ার (বৈমাত্রেয়), ব্যবসা। আবুল হাসান (বৈমাত্রেয়), আইনজীবী সহকারী, মুহুরি। মাগফুর রহমান (বৈমাত্রেয়), কৃষি। মোখলেসুর রহমান (বৈমাত্রেয়), কৃষি।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍