হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম
শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম

শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর অবিচারপূর্ণ রায় ঘোষণা হলে এলাকা থেকে অনেক সাঈদী ভক্ত সাতক্ষীরা শহরে চলে আসে, খেটে খাওয়া কৃষক মো: সাইফুল ইসলামও তাদের সাথে ইঞ্জিন ভ্যানে করে শহরে যান। যাওয়ার পূর্বে দুপুরের খাবার না খেয়েই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তার বড় ভাবী বলেন, মেজভাই ভাত খেয়ে যাও, তখন তিনি বলেছিলেন আমি শহীদ হওয়ার জন্য যাচ্ছি। আসরের পর মিছিল শুরু হয়। মিছিলে সম্মুখভাগে ছিলেন সাইফুল, আলী মোস্তফাসহ আরো অনেকে। মিছিলের সামনে পুলিশ বিজিবি আর বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে লুকিয়ে ছিল সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা। মিছিল শুরু হবার সাথে সাথেই পুলিশ, বিজিবি আর সন্ত্রাসীরা গুলি শুরু করে মিছিলের ওপর। শাহাদাত বরণ করেন অনেকে। শহীদের মিছিলের সারিতে সাইফুল ইসলামও ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে তার ডান কাঁধের হাড়ের পাশ দিয়ে গুলি ভেতরে ঢুকে যায়। আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখেই শাহাদাৎ বরণ করেন। পরেরদিন ১ মার্চ, ২০১৩ প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি নিয়ে খানপুর মাদ্রাসায় জানাযার ইমামতি করেন আবু সালেহ মো: রফিকুল ইসলাম।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"দাদীকে বলেছিল, 'ভাল পোশাক পরে কি হবে? আমিতো জীবন দিব।' ভাত খেয়ে চলে যাচ্ছে, আর
বলছে, 'জিনিসপত্রগুলি গুছিয়ে রেখ। শহীদ হলে এগুলি দিয়ে কি হবে? বড়বোন শামসুন্নাহার তাকে স্বপ্নে
দেখে বলে, 'ময়না তুই আইছিস কিভাবে? মারা যাসনি? সে উত্তরে বলে, 'না মারা যাইনি। গুলি লেগেছিল
এখানে।'... চাচাতো ভাই মাওলানা গোলাম মোস্তফা কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরের কাছে সুতীব্র সুঘ্রাণ
পেয়েছেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদরের খানপুর গ্রামে ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করে। তিনি ছিলেন পিতা মাহবুব সর্দার ও মাতা আলেয়া খাতুনের তিন ছেলে-মেয়ের মাঝে দ্বিতীয়। খানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেন। গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় আর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি, তাই পিতার সাথে বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করে সংসারে সহযোগিতা করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন
২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর অবিচারপূর্ণ রায় ঘোষণা হলে এলাকা থেকে অনেক সাঈদী ভক্ত সাতক্ষীরা শহরে চলে আসে, খেটে খাওয়া কৃষক মো: সাইফুল ইসলামও তাদের সাথে ইঞ্জিন ভ্যানে করে শহরে যান। যাওয়ার পূর্বে দুপুরের খাবার না খেয়েই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তার বড় ভাবী বলেন, মেজভাই ভাত খেয়ে যাও, তখন তিনি বলেছিলেন আমি শহীদ হওয়ার জন্য যাচ্ছি। আসরের পর মিছিল শুরু হয়। মিছিলে সম্মুখভাগে ছিলেন সাইফুল, আলী মোস্তফাসহ আরো অনেকে। মিছিলের সামনে পুলিশ বিজিবি আর বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে লুকিয়ে ছিল সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা। মিছিল শুরু হবার সাথে সাথেই পুলিশ, বিজিবি আর সন্ত্রাসীরা গুলি শুরু করে মিছিলের ওপর। শাহাদাত বরণ করেন অনেকে। শহীদের মিছিলের সারিতে সাইফুল ইসলামও ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে তার ডান কাঁধের হাড়ের পাশ দিয়ে গুলি ভেতরে ঢুকে যায়। আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখেই শাহাদাৎ বরণ করেন। পরেরদিন ১ মার্চ, ২০১৩ প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি নিয়ে খানপুর মাদ্রাসায় জানাযার ইমামতি করেন আবু সালেহ মো: রফিকুল ইসলাম।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন। এ ঘটনায় মো: সাইফুল ইসলামসহ ৭ জন শাহাদাত বরণ করেন।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
দাদী: মাঝে মাঝেই সে প্রোগ্রামে যেত। ঐদিন বাড়িতে আব্বা-আম্মা ছিল না। প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে দাদীর সাথে তার কথা হয়েছিল। দাদীকে বলেছিল, 'ভাল পোশাক পরে কি হবে? আমিতো জীবন দিব। ভাত খেয়ে চলে যাচ্ছে, আর বলছে, 'জিনিসপত্রগুলি গুছিয়ে রেখ। শহীদ হলে এগুলি দিয়ে কি হবে?'
বড়বোন শামসুন্নাহার: আমি তাকে স্বপ্নে দেখে বলি, 'ময়না তুই আইছিস কিভাবে? মারা যাসনি? সে উত্তরে বলে, 'না মারা যাইনি। গুলি লেগেছিল এখানে।'
চাচাতো ভাই মাওলানা গোলাম মোস্তফা: কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরের কাছে সুতীব্র সুঘ্রাণ পেয়েছেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম (০৬২), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২২/০৮/১৯৯৯, বযস-১৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলি ডান কাঁধের হাড়ের নিচ দিয়ে বুকের ভেতরে ঢুকে যায়।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮/০২/২০১৩, বিকাল ৫টা। স্থান: সাতক্ষীরা শহর। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: খানপুর, ডাকঘর: খানপুর, থানা ও জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মাহবুব সর্দার, বয়স-৫০ বছর, কৃষি।
মাতা: আলেয়া খাতুন, বয়স-৪০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: আধাপাকা বাড়ি। নিজেদের ৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে, তিন ভাই মিলে পিতার সাথে কৃষি কাজ করে পরিবার চালাতেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: শরিফুল ইসলাম, বয়স-১৬ বছর, কৃষি। মো: সাইফুল ইসলাম, শহীদ। আরিফুল ইসলাম, বয়স-১২ বছর, ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শামসুন্নাহার, বয়স-১৮ বছর, বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍