শহীদ মো: রবিউল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় শুনার পর ভালুখালির গাজীপুর ও অন্যান্য গ্রামের সাঈদী ভক্ত শত শত তৌহিদী জনতার সাথে পিতা-পুত্র একসাথে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে চড়ে শহরের সার্কিট হাউজের সামনে চলে যান। জনসভা শেষে মিছিল হয়। মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলিতে তিনি নিহত হন। বিকাল ৫ টার দিকে বাম ঘাড়ে গুলি লেগে গলা ফেঁড়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। অপরদিকে একই মিছিলের ভিন্ন জায়গায় তার পিতা মো: আনোয়ারুল ইসলাম সামনে এগুতে থাকেন, তখন তাঁরও বুকের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। আল্লাহ তায়া'লা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শহীদের জানাযায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"স্ত্রীকে বলেছিল, 'আমায় দুটো শেষ খাবার খাওয়াইয়া দাও।... শাহাদাতের দেড় মাস আগে বাবা আনোয়ারুল ইসলাম স্বপ্নে দেখতে পেলেন, যেখানে তাদের গোরস্থান ঠিক সেখানটায় চমৎকার একটি রেশমি লাল, হলুদ রুমাল দুলছে। যেন সেখানে আসমান থেকে এক জ্যোতি নেমে এসেছে। এর ঠিক দেড় মাস পরেই এই শাহাদাত এবং ছেলেকে সেখানটাতেই কবর দেয়া হয়। অপর দিকে শহীদের স্ত্রী দেখেছে-প্যান্ট, শার্ট পরে তার স্বামী এত সুন্দর জায়গায় আছে, যা জীবনে সে দেখেনি। রবিউল একটি কামরায় শুয়ে আছে। তাকে জিজ্ঞস করলো, 'তুমি না মরে গেছ? সে বললো না আমি মরিনি।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: রবিউল ইসলাম সাতক্ষীরা সদরের গাজীপুর গ্রামে ১৯৮২ ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও মাতা ফাতেমা বেগমের ছেলে। তিনি ভালুখালী উচ্চবিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে দরিদ্রতার কারণে আর সামনে এগুতে পারেননি। শহীদ মো: রবিউল ইসলামের ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শহীদ মো: রবিউল ইসলাম দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। দ্বীনের প্রতি কোন ধরনের ধৃষ্টতা সহ্য করতে পারতেন না। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি যে জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে তিনি সবসময় তার প্রতিবাদ করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় শুনার পর ভালুখালির গাজীপুর ও অন্যান্য গ্রামের সাঈদী ভক্ত শত শত তৌহিদী জনতার সাথে পিতা-পুত্র একসাথে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে চড়ে শহরের সার্কিট হাউজের সামনে চলে যান। জনসভা শেষে মিছিল হয়। মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলিতে তিনি নিহত হন। বিকাল ৫ টার দিকে বাম ঘাড়ে গুলি লেগে গলা ফেঁড়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। অপরদিকে একই মিছিলের ভিন্ন জায়গায় তার পিতা মো: আনোয়ারুল ইসলাম সামনে এগুতে থাকেন, তখন তাঁরও বুকের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। আল্লাহ তায়া'লা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শহীদের জানাযায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ এ আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে আল্লামা সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন। এখানেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ মো: রবিউল ইসলাম।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদের মা: সব সময় শাহাদাতের তামান্না করতেন; মিছিলে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে বলেন, "আমাকে শেষ খাবার খাওয়াও, আমি আজ শহীদ হব"।
শহীদের পিতা: "রবিউল শহীদ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পূর্বে স্বপ্নে দেখি, যেখানে আমাদের গোরস্থান সেখানটায় চমৎকার একটি রেশমি লাল-হলুদ রুমাল দুলছে। যেন সেখানে আসমান থেকে একটি জ্যোতি নেমে এসেছে। এর ঠিক দেড় মাস পরেই এই শাহাদাত এবং ছেলেকে সেখানটাতেই কবর দেয়া হয়"।
শহীদের স্ত্রী: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখ রবিউল ইসলাম ধানক্ষেতে কাজ করছিলো এসময় আড়াই বছরের ছোট মেয়ে সাদিয়া কাঁদছিল। একজন দরদি পিতা হিসেবে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'ও কাঁদছে কেন? অতঃপর কাজ শেষে বললো, 'তাড়াতাড়ি ভাত রান্না কর। মিছিলে যাব। নামাজ পড়েই ভাত খাচ্ছিল আর বলছিলো-'আমাকে দুটো শেষ খাবার খাওয়াইয়া দাও, আল্লামা সাইদী যদি দুনিয়ায় না থাকে আমার বেঁচে থেকে লাভ কি"?
শাহাদাতের পরে স্বপ্নে দেখি-প্যান্ট, শার্ট পরে সে খুব সুন্দর জায়গায় আছে, যা জীবনে আমি দেখেনি। সে একটি কামরায় শুয়ে আছে। তাকে জিজ্ঞস করলাম, 'তুমি না মরে গেছ? সে বললো, না আমি মরিনি।'
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রবিউল ইসলাম (০৬৩), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১০/০৫/১৯৮২, বয়স-৩১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বাম ঘাড়ে গুলি লেগে গলা ফেঁড়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বিকাল ৫ টা। স্থান: সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজের। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গাজীপুর, ডাকঘর: ভালুখালী, থানা: সদর, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মো: আনোয়ারুল ইসলাম, বয়স ৫২ বছর, কৃষি।
মাতা: ফাতেমা বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি কাঁচা বাড়ি, উপরে পুরাতন টিন; দুই বিঘার চেয়ে একটু কম জমি আছে, তাতে কৃষি কাজ করে এবং ইটভাঙা, পাথর ভাঙার কাজ করে পরিবার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: বিউটি খাতুন, স্ত্রী, বয়স ২৫ বছর। মেয়ে: শাহনাজ খাতুন, বয়স ৭বছর, ১ম শ্রেণি। সাদিয়া সুলতানা মীম, বয়স ২ বছর ৬ মাস।
ভাই-বোনের বিবরণ: শামিমা খাতুন, বিবাহিতা, স্বামী-ভ্যানচালক।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: রবিউল ইসলাম সাতক্ষীরা সদরের গাজীপুর গ্রামে ১৯৮২ ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও মাতা ফাতেমা বেগমের ছেলে। তিনি ভালুখালী উচ্চবিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে দরিদ্রতার কারণে আর সামনে এগুতে পারেননি। শহীদ মো: রবিউল ইসলামের ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শহীদ মো: রবিউল ইসলাম দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। দ্বীনের প্রতি কোন ধরনের ধৃষ্টতা সহ্য করতে পারতেন না। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি যে জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে তিনি সবসময় তার প্রতিবাদ করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় শুনার পর ভালুখালির গাজীপুর ও অন্যান্য গ্রামের সাঈদী ভক্ত শত শত তৌহিদী জনতার সাথে পিতা-পুত্র একসাথে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে চড়ে শহরের সার্কিট হাউজের সামনে চলে যান। জনসভা শেষে মিছিল হয়। মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলিতে তিনি নিহত হন। বিকাল ৫ টার দিকে বাম ঘাড়ে গুলি লেগে গলা ফেঁড়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। অপরদিকে একই মিছিলের ভিন্ন জায়গায় তার পিতা মো: আনোয়ারুল ইসলাম সামনে এগুতে থাকেন, তখন তাঁরও বুকের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। আল্লাহ তায়া'লা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শহীদের জানাযায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ এ আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে আল্লামা সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন। এখানেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ মো: রবিউল ইসলাম।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদের মা: সব সময় শাহাদাতের তামান্না করতেন; মিছিলে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে বলেন, "আমাকে শেষ খাবার খাওয়াও, আমি আজ শহীদ হব"।
শহীদের পিতা: "রবিউল শহীদ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পূর্বে স্বপ্নে দেখি, যেখানে আমাদের গোরস্থান সেখানটায় চমৎকার একটি রেশমি লাল-হলুদ রুমাল দুলছে। যেন সেখানে আসমান থেকে একটি জ্যোতি নেমে এসেছে। এর ঠিক দেড় মাস পরেই এই শাহাদাত এবং ছেলেকে সেখানটাতেই কবর দেয়া হয়"।
শহীদের স্ত্রী: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখ রবিউল ইসলাম ধানক্ষেতে কাজ করছিলো এসময় আড়াই বছরের ছোট মেয়ে সাদিয়া কাঁদছিল। একজন দরদি পিতা হিসেবে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'ও কাঁদছে কেন? অতঃপর কাজ শেষে বললো, 'তাড়াতাড়ি ভাত রান্না কর। মিছিলে যাব। নামাজ পড়েই ভাত খাচ্ছিল আর বলছিলো-'আমাকে দুটো শেষ খাবার খাওয়াইয়া দাও, আল্লামা সাইদী যদি দুনিয়ায় না থাকে আমার বেঁচে থেকে লাভ কি"?
শাহাদাতের পরে স্বপ্নে দেখি-প্যান্ট, শার্ট পরে সে খুব সুন্দর জায়গায় আছে, যা জীবনে আমি দেখেনি। সে একটি কামরায় শুয়ে আছে। তাকে জিজ্ঞস করলাম, 'তুমি না মরে গেছ? সে বললো, না আমি মরিনি।'
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রবিউল ইসলাম (০৬৩), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১০/০৫/১৯৮২, বয়স-৩১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বাম ঘাড়ে গুলি লেগে গলা ফেঁড়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বিকাল ৫ টা। স্থান: সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজের। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গাজীপুর, ডাকঘর: ভালুখালী, থানা: সদর, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মো: আনোয়ারুল ইসলাম, বয়স ৫২ বছর, কৃষি।
মাতা: ফাতেমা বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি কাঁচা বাড়ি, উপরে পুরাতন টিন; দুই বিঘার চেয়ে একটু কম জমি আছে, তাতে কৃষি কাজ করে এবং ইটভাঙা, পাথর ভাঙার কাজ করে পরিবার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: বিউটি খাতুন, স্ত্রী, বয়স ২৫ বছর। মেয়ে: শাহনাজ খাতুন, বয়স ৭বছর, ১ম শ্রেণি। সাদিয়া সুলতানা মীম, বয়স ২ বছর ৬ মাস।
ভাই-বোনের বিবরণ: শামিমা খাতুন, বিবাহিতা, স্বামী-ভ্যানচালক।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍