হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: শাহীন আলম
শহীদ মো: শাহীন আলম

শহীদ মো: শাহীন আলম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮ মার্চ ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ। এখানেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শাহীন আলম।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"আদরের বোন দিতি বলে, 'আব্বা ভাইকে কোন জায়গায় যেতে দেয় না। এমনকি মাও ছেলেকে চোখের আড়াল হতে দিত না। শাহীনও সর্বদা মায়ের পেছন পেছনই থাকতো। আজকে সে ছেলেকে হারিয়ে মা পাগলপ্রায়। একাকী প্রলাপ বকে, 'আমার শরীর এমন ক্যান, আমার ছেলি মরি গ্যাল। ও আল্লাহ আমারে কি করি?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শাহীন আলম সাতক্ষীরা সদরের পায়রাডাঙ্গা গ্রামে ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: অজিয়ার রহমান ও মাতা মিনার নাহারের দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি বড়। স্থানীয় স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে পারিবারিক প্রয়োজনেই তিনি সাংসারিক কাজকর্মে জড়িয়ে যান। সংসারের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের কাজও করতেন। তাই দ্বীনের প্রতি কোন ধরনের ধৃষ্টতা সহ্য করতে পারতেন না।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় শুনার পর সদরের অন্যান্য গ্রামের মতোই পায়রাডাঙ্গা গ্রামের সাঈদী ভক্ত শতশত তৌহিদী জনতা দলে দলে শহরের সার্কিট হাউজের সামনে এসে হাজির হয়। বিকালে আল্লামা সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ। শাহীন মিছিলের সামনেই ছিলেন। লুটিয়ে পড়লেন তিনি সহ সাত জন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বুলেটের আঘাতে তিনি সাতক্ষীরা সদরের সার্কিট হাউজের সামনে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন তিনি। সংসারের উপার্জনক্ষম বলতে তিনিই ছিলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিলেন শহীদ শাহীন আলম। তার জানাযায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা আল আমিন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ মার্চ ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ। এখানেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শাহীন আলম।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদের মা-বাবা: 'ও খুব কম কথা বলতো। সর্বদা মানুষের উপকার করা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। তাদের পানির মেশিন মেরামত করে দিত। ফিরে আসতো হাতে কালি-ঝুল লাগিয়ে। যদি মা রসিকতা করে বলতেন, 'কেনরে সাবান কেনার জন্য টাকা নিতে পারিস না। ছেলেটি ঝটপট উত্তর দিত 'তোমার টাকার এত লোভ কেন মা?'
আদরের বোন দিতি: 'আব্বা ভাইকে কোন জায়গায় য্যাত দেয় না। এমনকি মাও ছেলেকে চোখের আড়াল হতে দিত না। শাহীনও সর্বদা মায়ের পেছন পেছনই থাকতো। আজকে সে ছেলেকে হারিয়ে মা পাগলপ্রায়। একাকী প্রলাপ বকে, 'আমার শরীর এমন ক্যান, আমার ছেলি মরি গ্যাল। ও আল্লাহ আমারে কি কল্লি?
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শাহীন আলম (০৬৪), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৯ ইং, ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বিকাল ৫টা। স্থান: সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজ মোড়। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পায়রা ডাঙ্গা, ডাকঘর: আড়ুয়াখালি, থান্য: সদর, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মো: অজিয়ার রহমান, ৬০ বছর, কৃষি।
মাতা: মিনার নাহার, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: মাটির দেওয়াল দেয়া একটি বাড়ি আছে। ৭/৮ বিঘা আবাদিজমি আছে তাতে কৃষি কাজ করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ: দিতি, বয়স-১৭. দশম শেণী।