হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: মাহমুদুল হাসান
শহীদ মো: মাহমুদুল হাসান

শহীদ মো: মাহমুদুল হাসান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন। এ ঘটনায় ৭ জন শাহাদাত বরণ করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"স্ত্রী স্বপ্নে দেখে, তার পাশে এসে দাঁড়ায় মাহমুদ। আর বলে, 'ময়না আমার লাকি মনিকে কোলে দাও। কোলে দিলেও স্ত্রী কিছুটা ইতস্তত করছে। তখন বললো, 'কে বললো আমি মরে গেছি? বাচ্চাটা হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। প্রায় প্রতিদিনই সে বাবার বিশাল ছবির সামনে এসে দাঁড়ায় একবার কবরের দিকে দেখায় আবার আকাশের দিকে ইশারা করে। এতিম অবুঝ শিশুটির এই চাহনি এবং কয়েকটি ইশারাতেই ফুটে ওঠে হৃদয়বিদারক এক মহাকাব্য। ওর মনোজগতে বিস্তীর্ণ ক্যানভাসকে ধারণকরা কোন বর্ণনাকারীর পক্ষে সম্ভব?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: মাহমুদুল হাসান সাতক্ষীরা সদর থানার বালিয়াডাংগা গ্রামে ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা ছয়ফুননেসার দুই ছেলে এক মেয়ের মাঝে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শহীদ হাসান কাশেমপুর ছিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে আর সামনে এগুতে পারেননি। প্রায় দুই বছর পূর্বে বিবাহ করেন। তার দশ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই ভাই মিলে একসাথে থাকতেন এবং জমিতে কাজকর্ম করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সারা দেশে। ঘটনার দিন তার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। মা বলেছিলেন, বাবা আজ তোমার বেড়াতে যাওয়ার কথা, আজ মিছিলে যেওনা। তিনি বলেছিলেন, যদি বেঁচে থাকি তাহলে আগামীকাল যাব। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ফাঁসি হবে আর আমি শ্বশুরবাড়ি যাব? এর পরে তিনি মিছিলে যোগ দেন। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিছিলে গুলি চালালে বুকের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায় হবে বলে কোর্ট থেকে ঘোষণা আসে। আর এ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরপরাধ মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাই বলে দেয় যে কেমন রায় হতে পারে। তাই ২৮ তারিখ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিকালে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে লাখো সাঈদী প্রেমিকের জনস্রোত সমাবেশস্থল কদমতলা ছাপিয়ে সার্কিট হাউজ মোড় পর্যন্ত চলে যায়। বেলা ৫টার দিকে শুরু হয় সাঈদী প্রেমিক জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন। এ ঘটনায় ৭ জন শাহাদাত বরণ করেন।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
পিতা-মাতা: ঐদিন তার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব ভুলে ১০ মাস বয়েসের ফুটফুটে সন্তান লাকিমনি ও তার মাকে বুঝিয়ে দিয়ে আমাদের রেখে কি এক অঘোম টানে চলে গেল মাহমুদ। পাশের দোকানে একটি কেক কিনলো দোকানিকে ৩ টাকা দিয়ে বললো, এসে আর ২টাকা দিব, না দিতে পারলে মাফ করে দিয়েন। দোকানি তাকে সাবধান করেছিল, ওদিকে গোলাগুলি হচ্ছে যেও না, সে বললো মরলে শহীদ হবো, দোয়া করবেন। এরপর নারায়ে তাকবির দিয়ে সাইকেলে চলে গেল আর আমার বাবা ফিরো আসলো না,। বাচ্চাটি হাঁটিহাঁটি পা পা করছে। প্রায় প্রতিদিনই সে বাবার বিশাল ছবির সামনে এসে দাঁড়ায় আর একবার কবরের দিকে দেখায় আবার আকাশের দিকে ইশারা করে। এতিম অবুঝ শিশুটির এই চাহনি এবং কয়েকটি ইশারাতেই ফুটে ওঠে হৃদয়বিদারক এক মহাকাব্য। ওর মনোজগতে বিস্তীর্ণ ক্যানভাসকে ধারণ করা কোন বর্ণনাকারীর পক্ষে সম্ভব?
শহীদের স্ত্রী: ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা পর্যন্ত সে মাঠে বসে ছিল। দ্রুত এসে বললো শিগগিরই খেতে দাও। কিছুক্ষণ ১০ মাসের ছোট্ট মেয়ের সাথে খেলা করলো। এর পর মিছিলে যাওয়ার জন্য বের হলে এক অজানা আশঙ্কায় আমি তার কাপড় টেনে ধরে না যাওয়ার অনুরোধ করি। তার শাহাদাতের পরে আমি স্বপ্নে দেখি, সে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলছে, 'ময়না আমার লাকি মনিকে কোলে দাও।' আমি কোলে দিলেও কিছুটা ইতস্তত করছি। তখন বললো, 'কে বললো আমি মরে গেছি?
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: মো: মাহমুদুল হাসান (০৬৫), পেশা: কৃষি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯১ ইং, বয়স-২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বুকে গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বিকাল ৫ টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়, সাতক্ষীরা। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবর স্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বালিয়াডাংগা, ডাকঘর: রসূলপুর, থানা: সদর, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মো: আব্দুর রাজ্জাক, বয়স ৫০ বছর, কৃষি।
মাতা: ছয়ফুননেসা, ৪৮ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি আধা পাকা বাড়ি ও এক বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। নিজেদের জমি ও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে কাজ করে অতি কষ্টে সংসার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: সাফুরা খাতুন, স্ত্রী, বয়স ২০ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: আলমগীর হোসেন, বয়স-২৩, পেশা কৃষি। মো: মাহমুদুল হাসান, শহীদ। সেলিনা খাতুন, বয়স-১৫, বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍