শহীদ মো: শামসুর রহমান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো: শামসুর রহমান প্রায়ই বলতেন 'সাঈদীর মতো লোক যদি মারা যায় আমাদের বেঁচে থেকে লাভকি?' সেদিন তিনি মাঠে ছিলেন। খবর পাওয়া মাত্রই মিছিলে চলে যান। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর গাজির প্ররোচনায় পুলিশ-বিজিবি জনতার ওপর হামলা করে। গোলাগুলি দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা কেউ পিছিও না-তোমরা আগু।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"গোলাগুলি দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা কেউ পিছিও না-তোমরা আগু"। গ্রামে এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, বোন, স্ত্রীরা পর্যন্ত সবাই মাঠে চলে যায়।... আহত হওয়ার পর প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টা সদর হসপিটালে ভর্তি থাকার পর কোন ডাক্তার অপারেশন করতে রাজি হলো না। বরং ডাক্তার মারূফ হোসেন এর কাছে সরাসরি যাওয়ায় সে তার চিকিৎসা না করে বরং তাদের বিদ্রূপ করে।... কষ্টকর এ কয়েকটি ঘন্টা তিনি আল্লাহকেই ডেকেছেন আর স্বজনদের ডেকে ডেকে বলেছেন, 'আমার ছেলে মেয়েদের দেখেশুনে রাখিও, আমি হয়তো আর বাঁচবো না।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শামসুর রহমান সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার ওফাপুর গ্রামে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মরহুম মজিবর রহমান ও মাতা নুরুন নাহারের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। ওফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তারপর অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি। পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। শহীদ মো: শামসুর রহমান বিবাহিত ছিলেন। তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি অতি গরিব পরিবারের সন্তান ছিলেন, অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।
শহীদ মো: শামসুর রহমান ঐ দিন বাসায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি সংবাদ পান গ্রামে বিজিবি এসেছে এবং সাধারণ মানুষকে গুলি করছে। সংবাদ জানার পর তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি ও সরকারি গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। রাস্তায় রাস্তায় পিকেটারদের ওপর তারা অতর্কিত গুলি চালায়। ৪ মার্চ হরতালের দিন সকাল ১১ টায় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে বিজিবি কলারোয়া ওফাপুর মোড়ে সাধারণ জনতার ওপর গুলি করে সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সাথে সাথে তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারদের অবহেলায় প্রায় বিনা চিকিৎসায় রাত ৮ টায় তিনি আল্লাহর দরবারে চলে যান। ৫ মার্চ মঙ্গলবার পোস্টমর্টেম ছাড়াই বাদ মাগরিব তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল বারী। জানাযায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায় পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদী জনতার ওপর পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। সারা দেশের মত সাতক্ষীরার কলারোয়ায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় নেমে পড়ে। গ্রামে এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, সব মহিলা পর্যন্ত মাঠে চলে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী গুণ্ডারা কলারোয়া এলাকার হরতাল পালনকারী সাধারণ মানুষের ওপর বেপরোয়া গুলি করলে তিনজন শাহাদাত বরণ করেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হলে শহীদ মো: শামসুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিলে সেখানেই তিনি শহীদ হন। এছাড়াও শতাধিক লোক আহত হয়।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদ মো: শামসুর রহমান প্রায়ই বলতেন 'সাঈদীর মতো লোক যদি মারা যায় আমাদের বেঁচে থেকে লাভকি?' সেদিন তিনি মাঠে ছিলেন। খবর পাওয়া মাত্রই মিছিলে চলে যান। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর গাজির প্ররোচনায় পুলিশ-বিজিবি জনতার ওপর হামলা করে। গোলাগুলি দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা কেউ পিছিও না-তোমরা আগু।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শামসুর রহমান (০৬৭), পেশা: কৃষি ও দিনমজুরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯ আগস্ট, ১৯৬৭। বয়স: ৪৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, সকাল ১১টা, বিজিবির গুলি বুকে লাগে।
শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩। স্থান: কলারোয়া ওফাপুর মোড়, সাতক্ষীরা। দাফন করা হয়: নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ওফাপুর, ডাকঘর: বামনখালী, থানা: কলারোয়া, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মৃত মজিবর রহমান।
মাতা: নুরুন নাহার, ৭০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজস্ব ৭ শতক জমিতে জরাজীর্ণ বাড়ি। নিজেদের কোন আবাদি জমি নেই। ছেলের দিনমজুরি ও অন্যের সহযোগিতায় পরিবার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: তাসলিমা খাতুন, স্ত্রী, বয়স ৪০ বছর, গৃহিণী। সন্তান-মো: আ: রউফ, ১৯ বছর, দিনমজুরি। মোছা: শান্তা খাতুন, ১৪ বছর, নবম শ্রেণী, বসন্তপুর দাখিল মাদ্রাসা। সুজন হোসেন, ১০ বছর, ৩য় শ্রেণী, ওফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: বিল্লাল হোসেন, দিনমজুর। শহীদ মো: শামসুর রহমান, শহীদ। মাছুরা বেগম, বয়স ৪০ বছর, বিবাহিতা। রোকেয়া বেগম, বয়স ৩৫ বছর, স্বামী পরিত্যক্তা।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শামসুর রহমান সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার ওফাপুর গ্রামে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মরহুম মজিবর রহমান ও মাতা নুরুন নাহারের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। ওফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তারপর অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি। পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। শহীদ মো: শামসুর রহমান বিবাহিত ছিলেন। তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি অতি গরিব পরিবারের সন্তান ছিলেন, অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।
শহীদ মো: শামসুর রহমান ঐ দিন বাসায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি সংবাদ পান গ্রামে বিজিবি এসেছে এবং সাধারণ মানুষকে গুলি করছে। সংবাদ জানার পর তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি ও সরকারি গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। রাস্তায় রাস্তায় পিকেটারদের ওপর তারা অতর্কিত গুলি চালায়। ৪ মার্চ হরতালের দিন সকাল ১১ টায় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে বিজিবি কলারোয়া ওফাপুর মোড়ে সাধারণ জনতার ওপর গুলি করে সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সাথে সাথে তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারদের অবহেলায় প্রায় বিনা চিকিৎসায় রাত ৮ টায় তিনি আল্লাহর দরবারে চলে যান। ৫ মার্চ মঙ্গলবার পোস্টমর্টেম ছাড়াই বাদ মাগরিব তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল বারী। জানাযায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায় পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদী জনতার ওপর পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। সারা দেশের মত সাতক্ষীরার কলারোয়ায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় নেমে পড়ে। গ্রামে এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, সব মহিলা পর্যন্ত মাঠে চলে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী গুণ্ডারা কলারোয়া এলাকার হরতাল পালনকারী সাধারণ মানুষের ওপর বেপরোয়া গুলি করলে তিনজন শাহাদাত বরণ করেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হলে শহীদ মো: শামসুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিলে সেখানেই তিনি শহীদ হন। এছাড়াও শতাধিক লোক আহত হয়।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদ মো: শামসুর রহমান প্রায়ই বলতেন 'সাঈদীর মতো লোক যদি মারা যায় আমাদের বেঁচে থেকে লাভকি?' সেদিন তিনি মাঠে ছিলেন। খবর পাওয়া মাত্রই মিছিলে চলে যান। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর গাজির প্ররোচনায় পুলিশ-বিজিবি জনতার ওপর হামলা করে। গোলাগুলি দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা কেউ পিছিও না-তোমরা আগু।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শামসুর রহমান (০৬৭), পেশা: কৃষি ও দিনমজুরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯ আগস্ট, ১৯৬৭। বয়স: ৪৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, সকাল ১১টা, বিজিবির গুলি বুকে লাগে।
শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩। স্থান: কলারোয়া ওফাপুর মোড়, সাতক্ষীরা। দাফন করা হয়: নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ওফাপুর, ডাকঘর: বামনখালী, থানা: কলারোয়া, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মৃত মজিবর রহমান।
মাতা: নুরুন নাহার, ৭০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজস্ব ৭ শতক জমিতে জরাজীর্ণ বাড়ি। নিজেদের কোন আবাদি জমি নেই। ছেলের দিনমজুরি ও অন্যের সহযোগিতায় পরিবার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: তাসলিমা খাতুন, স্ত্রী, বয়স ৪০ বছর, গৃহিণী। সন্তান-মো: আ: রউফ, ১৯ বছর, দিনমজুরি। মোছা: শান্তা খাতুন, ১৪ বছর, নবম শ্রেণী, বসন্তপুর দাখিল মাদ্রাসা। সুজন হোসেন, ১০ বছর, ৩য় শ্রেণী, ওফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: বিল্লাল হোসেন, দিনমজুর। শহীদ মো: শামসুর রহমান, শহীদ। মাছুরা বেগম, বয়স ৪০ বছর, বিবাহিতা। রোকেয়া বেগম, বয়স ৩৫ বছর, স্বামী পরিত্যক্তা।