হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: রুহুল আমিন
শহীদ মো: রুহুল আমিন

শহীদ মো: রুহুল আমিন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রতিবেশীরা: রুহুল আমিন প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে দিনমজুর হলেও তার জমির মালিক আবু তালেব সর্দারের সাথে তার চুক্তি ছিল এমন, যখনই মিছিল বা প্রোগ্রামের ডাক আসবে তিনি সেখানে চলে যাবেন। সেদিনও খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে ওজু করে লুঙ্গির নিচে প্যান্ট পরেন যাতে কিছু হলে বেপর্দা না হয়ে যান। যাওয়ার সময় ভাবীকে বলেন, 'মরতেই হবে তাই শহীদ হয়েই মরতে চাই,।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"যাওয়ার সময় ভাবীকে বলেন, 'মরতে যেহেতু একদিন হবেই তাই শহীদ হয়েই মরতে চাই। সাইকেলটা মেরামতের জন্য দোকানে রেখে তাকে ১০ টাকা দিয়ে বলেন, আমি ফেরত না আসলে ছেলের কাছে সাইকেলটা দিয়ে দিও। মিষ্টির দোকানে যেখানে প্রায়ই মিষ্টি খেতেন, বলেন 'দু-একটি টাকা পেলে আল্লাহর ওয়ান্তে মাফ করে দিও।' গুলি লাগার পর তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে হাত তুলে কালেমা পড়েন এবং দোয়া ও মোনাজাত করে ধীরে ধীরে শাহাদাতের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: রুহুল আমিন, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার কামারালি গ্রামে ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আঃ রহিম মোড়ল ও মাতা মরহুমা আছিরন নেছার দশ সন্তানের মধ্যে শহীদ মো: রুহুল আমিন ষষ্ঠ। কামারালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তারপর অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি। পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। শহীদ মো: রুহুল আমিন, বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান আছে। অতি গরিব পরিবারের সন্তান ছিলেন, অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় এবং মাওলানা সাঈদী ভক্তদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরায়ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি ও সরাকারি গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। রাস্তায় রাস্তায় পিকেটারদের ওপর তারা অতর্কিত গুলি চালায়। কলারোয়ার কামারালি এলাকায় সাধারণ সাঈদী ভক্তদের মাঝে বিজিবি অতর্কিত গুলি চালায়।
আল্লামা সাঈদী সাহেবের ওপর দেয়া ফাঁসির রায় মেনে নিতে পারেননি। তাই শতাব্দীর সবচেয়ে গর্হিত মিথ্যা রায়ের বিরুদ্ধে ৪ মার্চ ২০১৩ ইং জামায়াতের ডাকা হরতালে যখন বিজিবি বাধা দিচ্ছিল তখন তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করছিলেন। কাজ ছেড়ে বাড়িতে এসে অজু করে তার পরিবারের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে দুই ভাই বেরিয়ে পড়েন মিছিলে। মিছিল উফাপুর প্রাইমারি স্কুলের প্রাঙ্গণে পাকা রাস্তার ওপর এসে পৌঁছালে সকাল ১১টার দিকে সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে বিজিবি গুলি করে। এতে তার ডান পাঁজরে গুলি লেগে বাম পাঁজর দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করলে সেখানে তিনি শাহাদৎ বরণ করেন। ৪ মার্চ সোমবার পোস্টমর্টেম ছাড়াই বিকাল পাঁচায়টায় আসর বাদ দুই ভাইয়ের একসাথে জানাযা ও দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন শহীদদের সেজোভাই মাওলানা হাসানুজ্জামান। জানাযায় প্রায় ২৫ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় এবং মাওলানা সাঈদী ভক্তদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ৩-৪ মার্চ ২০১৩ ইং সারাদেশে হরতাল পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশের মত সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ও তৌহিদী জনতা ও হাজার হাজার সাঈদী ভক্ত সাধারাণ মানুষ পিকেটিং করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ হরতালে সরকার পুলিশ, বিজিবি ও সরকারি গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। তারা কলারোয়া এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে শহীদ মো: রুহুল আমিনসহ তিন জন শাহাদাত বরণ করেন এবং শতাধিক লোক আহত হয়।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
প্রতিবেশীরা: রুহুল আমিন প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে দিনমজুর হলেও তার জমির মালিক আবু তালেব সর্দারের সাথে তার চুক্তি ছিল এমন, যখনই মিছিল বা প্রোগ্রামের ডাক আসবে তিনি সেখানে চলে যাবেন। সেদিনও খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে ওজু করে লুঙ্গির নিচে প্যান্ট পরেন যাতে কিছু হলে বেপর্দা না হয়ে যান। যাওয়ার সময় ভাবীকে বলেন, 'মরতেই হবে তাই শহীদ হয়েই মরতে চাই,।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রুহুল আমিন (০৬৮)। পেশা: কৃষি ও দিনমজুরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৮ মার্চ ১৯৭১, বয়স ৪২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, বিজিবির গুলি তার ডান পাঁজরে লেগে বাম পাঁজর দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩। স্থান: উফাপুর, কলারোয়া, সাতক্ষীরা। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কামারালি, ডাকঘর: কামারালি, থানা: কলারোয়া, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মৃত আঃ রহিম মোড়ল।
মাতা: মৃত আছিরন নেছা।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থাঃ ৩ শতক জমির ওপর জরাজীর্ণ বাড়ি। নিজেদের কোন আবাদি জমি নেই, অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী-মুঞ্জু আরা বেগম, বয়স ৩৬ বছর, গৃহিণী। সন্তান- মোছা: রোকেয়া খাতুন, বয়স ১৯ বছর, বিবাহিতা। আল আমিন, বয়স ১৫ বছর, দশম শ্রেণী, কামারালি দাখিল মাদ্রাসা। হাবিবুল্লাহ, বয়স ১৩ বছর, ৭ম শ্রেণী, কামারালি দাখিল মাদ্রাসা।
ভাই-বোনের বিবরণ: ছবুরুননেসা, বিবাহিতা। মো: মিজানুর রহমান, সহকারী মৌলভী, কামারালি দাখিল মাদ্রাসা। মোঃ আঃ মজিদ, দিনমজুর। মো: হাসানুজ্জামান, দিনমজুর। মো: আবুল হোসেন, সেকশন অফিসার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। শহীদ রুহুল আমিন। শহীদ আরিফ বিল্লাহ। কুলসুম খাতুন, বিবাহিতা। আব্দুল্লাহ আল মামুন, দিনমজুর। ফাতেমা খাতুন, বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍