শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার রঘুরামপুর গ্রামে ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ নূর ইসলাম গাজী ও মাতা মোছা: সালেহা খাতুনের অতি আদরের সন্তান ছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। বর্গাজমি চাষ, দিনমজুরি ইত্যাদির মাধ্যমে চলতো তার সংসার। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী রুহুল আমিন ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। সারাক্ষণ দাওয়াতী কাজে ব্যস্ত থাকায় সংসারে প্রায় সময় অভাব লেগে থাকতো।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"শহীদের গর্বিত পিতা বলেন, 'আমার ছেলে শহীদ হোক এবং আমিও শহীদ হই এ কামনা করতাম। শহীদের মাতা বলেন, সন্তানের মৃত্যু প্রত্যেক মায়ের কাছে অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু শহীদের মা হতে পেরে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহ আমার সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, সংগঠনের কাজে যেয়ে যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমার বাচ্চাগুলোকে এই আদর্শে মানুষ করে তুলো। সমস্যা হলে আমাদের ভাইদেরকে বলবে ও ধৈর্য ধারণ করবে। আল্লাহ রহম করবেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার রঘুরামপুর গ্রামে ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ নূর ইসলাম গাজী ও মাতা মোছা: সালেহা খাতুনের অতি আদরের সন্তান ছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। বর্গাজমি চাষ, দিনমজুরি ইত্যাদির মাধ্যমে চলতো তার সংসার। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী রুহুল আমিন ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। সারাক্ষণ দাওয়াতী কাজে ব্যস্ত থাকায় সংসারে প্রায় সময় অভাব লেগে থাকতো।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৬ জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়-এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ রুহুল আমিন কর্মীদেরকে বলতেন, এ কঠিন পরিস্থতিতে আমাদেরকে চাল-ডাল কালেকশন করে নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। আমার ইউনিয়নে প্রতিটি ঘরে ঘরে দ্বীনের কাজ করতে হবে। যেখান থেকেই ডাক দেই সেখান থেকেই দ্বীনের আওয়াজ ভেসে আসে। তার অধস্তনদের সাথে কাজ করার সময় প্রায়ই এ কথাগুলো বলতেন। রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, সংগঠনের কাজে যেয়ে যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমার বাচ্চাগুলোকে এই আদর্শে মানুষ করে তুলো। সমস্যা হলে আমাদের ভাইদেরকে বলবে ও ধৈর্য ধারণ করবে। আল্লাহ রহম করবেন। ৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিল চলাকালীন পুলিশ গুলি চালায়, সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১৭ জুলাই, ২০১৩ প্রতিবেদন প্রকাশ করে;
সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলি দু'জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত
আবু সাইদ বিশ্বাস/কাজী আল মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ছোড়া গুলিতে উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের নুরুল আমিন গাজীর ছেলে জামায়াত কর্মী রহুল আমিন ও বাজার গ্রামের আফসার উদ্দীনের ছেলে কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের মেধাবী ছাত্র শিবিরের সাথী আরিফ বিল্লাহ নিহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরো ২০ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী। আহতরা হলেন- উপজেলার ভদ্রখালি গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ওসমান গণি, একই গ্রামের খলিল, পুটেশেখের ছেলে সামসুর রহমান, আফতাব উদ্দীন, গড়ের হাটের শিবির কর্মী নাজমুল হুদা, জামায়াত কর্মী আঃ রহমান, আমিনুর রহমান ও শিবির কর্মী শরিফুজ্জামান, মমিনুর রহমান, আব্দুস সামাদ, সালাম, কামরুল, আহসান, আব্দুর রহিম, সোয়েল, আকরাম, ওসমান গণি ও আবু বক্কর সিদ্দিকী। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে সংঘর্ষে তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছে। আহতরা হলেন এসআই নকিব ওয়াইজুল, সোহরার হোসেন ও কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীন। কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতালের পিকেটিং করার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়কে পিকেটিং করছিল শত শত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসী। এসময় পিকেটাররা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে হরতালের সমর্থনে শ্লোগান দেয়। তারা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবি করেন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ পিকেটারদের বাধা দেয়। পিকেটাররাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম গুলির নির্দেশ দিলে পুলিশ পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। পুলিশের গুলিতে আরিফুজ্জামান শহীদ এবং রুহুল আমিন নিহত হন। পুলিশ তাদের লাশ নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এসময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম জানান, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এসময় পিকেটাররা কয়েকটি ককটেলও নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দুই এসআই সোহরাব হোসেন, নকিব এবং কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনসহ ৮ পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা শতাধিক রাউন্ড শটগান ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছোড়ে।
কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সড়কে ফেলে রাখা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি অপসারণের সময় জামায়াত-শিবির কর্মিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই এলাহি জানান, ঘটনাস্থলে আসার আগেই সংঘর্ষ হয়েছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পাউখালীসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আ'লীগ নেতা রুহুল আমিন ভেদড় পরিকল্পিতভাবে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে।পরে স্থানীয় মসজিদ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। শিবিরের জেলা সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের শহীদ করে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না। প্রয়োজনে হাজারো মানুষ শহীদ হবে তারপরও সরকারের ইসলামবিরোধী চক্রান্ত সফল হতে দেয়া হবে না।
শহীদ আরিফ বিল্লাহর গর্বিত পিতা মাস্টার আফসার উদ্দীন জানাযাপূর্ব আলোচনায় বলেন, আমার কোল থেকে এ জালিম সরকারের পেটুয়া বাহিনী আদুরে ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদের মা রাফিজা বেগম বলেন, আমার রোজাদার ছেলের বুক যারা ঝাঁঝরা করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমার অপর ছেলেকেও আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। আমি শহীদের মা হতে পেরে গর্বিত। এসময় উপস্থিত শত শত নারী ও পুরুষের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে শহীদদের নিজ নিজ গ্রামে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত পিতা বলেন-আমার ছেলে শহীদ হোক এবং আমিও শহীদ হই-এ কামনা করতাম। শহীদের মাতা বলেন-সন্তানের মৃত্যু প্রত্যেক মায়ের কাছে অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু শহীদের মা হতে পেরে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহ আমার সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। বৃদ্ধা দাদী বলেন-অভাবি সংসার হলেও রুহুল আমিন আমাদের সবার প্রতি খেয়াল রাখত। আমার নাতি শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিল। রুহুল আমিনের স্ত্রী বলেন, তিনি প্রায়ই শাহাদাতের কথা বলতেন এবং আমরা ধৈর্য ধারণ করি ও আল্লাহর পথে সবসময় থাকি একথা বলতেন।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী (১২৪)। পেশা: দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫/০১/১৯৭৯, ৩৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৬/০৭/১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ১৬/০৭/১৩ সকাল ৯ টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রঘুরামপুর, ডাকঘর: রতনপুর, থানা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মোঃ নূর ইসলাম গাজী, কৃষি।
মাতা: মোছাঃ সালেহা খাতুন, ৫৫ বছর প্রায়, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: খড়ের ছাউনি কাঁচা মাটির তৈরি একটি ছোট্ট ঘর। দ্বীনি ভাইয়ের সহযোগিতা একমাত্র আয়ের উৎস।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: ফরিদা বেগম, মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, রাকিবুল হাসান, ১ম শ্রেণী, মুজাহিদ হোসাইন, ৮ মাস বয়স।
ভাই- বোনের বিবরণ: কুদ্দুস গাজী, কৃষি শ্রমিক। নূর মোহাম্মদ গাজী, কৃষি শ্রমিক। জি এম আহম্মদ আলী, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নাসিমা খাতুন, গৃহিণী
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার রঘুরামপুর গ্রামে ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ নূর ইসলাম গাজী ও মাতা মোছা: সালেহা খাতুনের অতি আদরের সন্তান ছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। বর্গাজমি চাষ, দিনমজুরি ইত্যাদির মাধ্যমে চলতো তার সংসার। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী রুহুল আমিন ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। সারাক্ষণ দাওয়াতী কাজে ব্যস্ত থাকায় সংসারে প্রায় সময় অভাব লেগে থাকতো।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৬ জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়-এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ রুহুল আমিন কর্মীদেরকে বলতেন, এ কঠিন পরিস্থতিতে আমাদেরকে চাল-ডাল কালেকশন করে নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। আমার ইউনিয়নে প্রতিটি ঘরে ঘরে দ্বীনের কাজ করতে হবে। যেখান থেকেই ডাক দেই সেখান থেকেই দ্বীনের আওয়াজ ভেসে আসে। তার অধস্তনদের সাথে কাজ করার সময় প্রায়ই এ কথাগুলো বলতেন। রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, সংগঠনের কাজে যেয়ে যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমার বাচ্চাগুলোকে এই আদর্শে মানুষ করে তুলো। সমস্যা হলে আমাদের ভাইদেরকে বলবে ও ধৈর্য ধারণ করবে। আল্লাহ রহম করবেন। ৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিল চলাকালীন পুলিশ গুলি চালায়, সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১৭ জুলাই, ২০১৩ প্রতিবেদন প্রকাশ করে;
সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলি দু'জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত
আবু সাইদ বিশ্বাস/কাজী আল মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ছোড়া গুলিতে উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের নুরুল আমিন গাজীর ছেলে জামায়াত কর্মী রহুল আমিন ও বাজার গ্রামের আফসার উদ্দীনের ছেলে কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের মেধাবী ছাত্র শিবিরের সাথী আরিফ বিল্লাহ নিহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরো ২০ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী। আহতরা হলেন- উপজেলার ভদ্রখালি গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ওসমান গণি, একই গ্রামের খলিল, পুটেশেখের ছেলে সামসুর রহমান, আফতাব উদ্দীন, গড়ের হাটের শিবির কর্মী নাজমুল হুদা, জামায়াত কর্মী আঃ রহমান, আমিনুর রহমান ও শিবির কর্মী শরিফুজ্জামান, মমিনুর রহমান, আব্দুস সামাদ, সালাম, কামরুল, আহসান, আব্দুর রহিম, সোয়েল, আকরাম, ওসমান গণি ও আবু বক্কর সিদ্দিকী। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে সংঘর্ষে তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছে। আহতরা হলেন এসআই নকিব ওয়াইজুল, সোহরার হোসেন ও কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীন। কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতালের পিকেটিং করার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়কে পিকেটিং করছিল শত শত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসী। এসময় পিকেটাররা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে হরতালের সমর্থনে শ্লোগান দেয়। তারা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবি করেন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ পিকেটারদের বাধা দেয়। পিকেটাররাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম গুলির নির্দেশ দিলে পুলিশ পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। পুলিশের গুলিতে আরিফুজ্জামান শহীদ এবং রুহুল আমিন নিহত হন। পুলিশ তাদের লাশ নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এসময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম জানান, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এসময় পিকেটাররা কয়েকটি ককটেলও নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দুই এসআই সোহরাব হোসেন, নকিব এবং কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনসহ ৮ পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা শতাধিক রাউন্ড শটগান ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছোড়ে।
কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সড়কে ফেলে রাখা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি অপসারণের সময় জামায়াত-শিবির কর্মিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই এলাহি জানান, ঘটনাস্থলে আসার আগেই সংঘর্ষ হয়েছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পাউখালীসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আ'লীগ নেতা রুহুল আমিন ভেদড় পরিকল্পিতভাবে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে।পরে স্থানীয় মসজিদ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। শিবিরের জেলা সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের শহীদ করে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না। প্রয়োজনে হাজারো মানুষ শহীদ হবে তারপরও সরকারের ইসলামবিরোধী চক্রান্ত সফল হতে দেয়া হবে না।
শহীদ আরিফ বিল্লাহর গর্বিত পিতা মাস্টার আফসার উদ্দীন জানাযাপূর্ব আলোচনায় বলেন, আমার কোল থেকে এ জালিম সরকারের পেটুয়া বাহিনী আদুরে ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদের মা রাফিজা বেগম বলেন, আমার রোজাদার ছেলের বুক যারা ঝাঁঝরা করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমার অপর ছেলেকেও আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। আমি শহীদের মা হতে পেরে গর্বিত। এসময় উপস্থিত শত শত নারী ও পুরুষের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে শহীদদের নিজ নিজ গ্রামে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত পিতা বলেন-আমার ছেলে শহীদ হোক এবং আমিও শহীদ হই-এ কামনা করতাম। শহীদের মাতা বলেন-সন্তানের মৃত্যু প্রত্যেক মায়ের কাছে অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু শহীদের মা হতে পেরে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহ আমার সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। বৃদ্ধা দাদী বলেন-অভাবি সংসার হলেও রুহুল আমিন আমাদের সবার প্রতি খেয়াল রাখত। আমার নাতি শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিল। রুহুল আমিনের স্ত্রী বলেন, তিনি প্রায়ই শাহাদাতের কথা বলতেন এবং আমরা ধৈর্য ধারণ করি ও আল্লাহর পথে সবসময় থাকি একথা বলতেন।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রুহুল আমিন গাজী (১২৪)। পেশা: দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫/০১/১৯৭৯, ৩৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৬/০৭/১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ১৬/০৭/১৩ সকাল ৯ টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রঘুরামপুর, ডাকঘর: রতনপুর, থানা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: মোঃ নূর ইসলাম গাজী, কৃষি।
মাতা: মোছাঃ সালেহা খাতুন, ৫৫ বছর প্রায়, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: খড়ের ছাউনি কাঁচা মাটির তৈরি একটি ছোট্ট ঘর। দ্বীনি ভাইয়ের সহযোগিতা একমাত্র আয়ের উৎস।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: ফরিদা বেগম, মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, রাকিবুল হাসান, ১ম শ্রেণী, মুজাহিদ হোসাইন, ৮ মাস বয়স।
ভাই- বোনের বিবরণ: কুদ্দুস গাজী, কৃষি শ্রমিক। নূর মোহাম্মদ গাজী, কৃষি শ্রমিক। জি এম আহম্মদ আলী, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নাসিমা খাতুন, গৃহিণী
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍