শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"শহীদ আরিফের গর্বিত পিতা মাস্টার আফসার উদ্দীন জানাযা পূর্ব আলোচনায় বলেন, আমার কোল থেকে এ জালিম সরকারের পেটুয়া বাহিনী আদুরে ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদের মা রাফিজা বেগম বলেন, আমার রোজাদার ছেলের বুক যারা ঝাঁঝরা করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমার অপর ছেলেকেও আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। আমি শহীদের মা হতে পেরে গর্বিত। এসময় উপস্থিত শত শত নারী ও পুরুষের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার বাজার গ্রামে ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ আফতাবউদ্দীন মাতা: মোছাঃ রাফেজা আক্তারের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড় সন্তান। কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফুজ্জামান। মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাথী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সাথী হিসেবে তিনি সংগঠনের কাজকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতেন। এলাকার ছাত্রদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানের জন্য তিনি সদা পেরেশান থাকতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
শহীদ আরিফ তার দয়িত্বশীলের সাথে একান্তে বলতেন, 'একবিন্দু রক্ত থাকতে রাজপথ ছাড়ব না। প্রয়োজনে একে একে শহীদ হবো।'
১৬ জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড় মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ রুহুল আমিন সে জায়গাতেই শাহাদাত বরণ করেন। তখন শহীদ আরিফের পিতা তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে চান। শহীদ আরিফ হাত ছিনিয়ে নিয়ে বলেন, আমাদের ভাইকে রেখে আমি ময়দান ছাড়তে চাই না। তিনি শহীদ রুহুল আমিন-এর রক্তাক্ত দেহের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই গুলিবিদ্ধ হন।
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়-এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিল চলাকালীন পুলিশ গুলি চালায় সেখানেই আমাদের ভাইয়েরা শাহাদাত বরণ করেন।
পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১৭ জুলাই, ২০১৩ প্রতিবেদন প্রকাশ করে;
সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলি, দু'জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত
আবু সাইদ বিশ্বাস/কাজী আল মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াত-শিবির কর্মী
নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ছোড়া গুলিতে উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের নুরুল আমিন গাজীর ছেলে জামায়াত কর্মী রহুল আমীন ও বাজার গ্রামের আফসার উদ্দীনের ছেলে কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের মেধাবী ছাত্র শিবিরের সাথী আরিফ বিল্লাহ নিহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরো ২০ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী। আহতরা হলেন- উপজেলার ভদ্রখালি গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ওসমান গণি, একই গ্রামের খলিল, পুটেশেখের ছেলে সামসুর রহমান, আফতাব উদ্দীন, গড়ের হাটের শিবির কর্মী নাজমুল হুদা, জামায়াত কর্মী আঃ রহমান, আমিনুর রহমান ও শিবির কর্মী শরিফুজ্জামান, মমিনুর রহমান, আব্দুস সামাদ, সালাম, কামরুল, আহসান, আব্দুর রহিম, সোয়েল, আকরাম, ওসমান গণি ও আবু বক্কর সিদ্দিকী। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে সংঘর্ষে তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন এসআই নকিব ওয়াইজুল, সোহরার হোসেন ও কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীন। কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতালের পিকেটিং করার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়কে পিকেটিং করছিল শত শত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসী। এসময় পিকেটাররা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে হরতালের সমর্থনে স্পোগান দেয়। তারা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবি করেন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ পিকেটারদের বাধা দেয়। পিকেটাররাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম গুলির নির্দেশ দিলে পুলিশ পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। পুলিশের গুলিতে আরিফুজ্জামান শহীদ এবং রুহুল আমিন নিহত হন। পুলিশ তাদের লাশ নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এসময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম জানান, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এসময় পিকেটাররা কয়েকটি ককটেলও নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দুই এসআই সোহরাব হোসেন, নকিব এবং কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনসহ ৮ পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা শতাধিক রাউন্ড শটগান ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছোঁড়ে।
কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সড়কে ফেলে রাখা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি অপসারণের সময় জামায়াত-শিবির পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই এলাহি জানান, ঘটনাস্থলে আসার আগেই সংঘর্ষ হয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পাউখালীসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আ'লীগ নেতা রুহুল আমিন ভেদড় পরিকল্পিতভাবে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে। পরে স্থানীয় মসজিদ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ আরিফ বিল্লাহর গর্বিত পিতা মাস্টার আফসার উদ্দীন জানাযা পূর্ব আলোচনায় বলেন, আমার কোল থেকে এ জালিম সরকারের পেটুয়া বাহিনী আমার আদুরে ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদের মা রাফিজা বেগম বলেন, আমার রোজাদার ছেলের বুক যারা ঝাঁঝরা করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমার অপর ছেলেকেও আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। আমি শহীদের মা হতে পেরে গর্বিত। এসময় উপস্থিত শত শত নারী ও পুরুষের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে শহীদদের নিজ গ্রামে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
জানাজা পূর্ব সমাবেশে শহীদের গর্বিত পিতা বলেন-আমার ছেলে শহীদ হওয়ায় আমি গর্বিত। আমিও একই মিছিলে ছিলাম। আমার সামনেই আমার ছেলে শহীদ হলো কিন্তু আমি শহীদ হতে পারলাম না। শাহাদাত সবার ভাগ্যে জোটে না। নিজে শহীদ হতে পারিনি। শহীদের পিতা হয়েছি। এ কাফেলা এগিয়ে নিতে আমার সন্তান রক্ত দিয়ে বুঝিয়ে গেল বাবা তোমাকেও একাজ করতে হবে। শহীদের মাতা বলেন-আমার ছেলে আল্লাহর পথে দায়ীর কাজ করার জন্য শাহাদাত বরণ করল। এতে আমি ব্যথিত নই বরং গর্বিত। আমিও যেন দ্বীনের কাজ করতে করতে রক্ত মাখা দেহ নিয়ে আমার সন্তান ও খাব্বাব, খুবাইবের মত রক্ত মাখা দেহ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে পারি। আমাকে যারা সান্তনা দিতে সময় ব্যয় করছেন এটি না করে বরং সে সময়টি দ্বীনের পথে কাজে লাগান। শহীদের দাদা বলেন বৃদ্ধ বয়সে নাতির লাশ আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। কিন্তু এই ভেবে সান্ত্বনা পাচ্ছি আমার পরিবারের সবচেয়ে ভদ্র, নম্র ছেলেটি আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান (১২৫)। পেশা: দশম শ্রেণীর ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩১/১২/১৯৯৫, ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৬/০৭/১৩
শাহাদাতের তারিখ: ১৬/০৭/১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বাজারগ্রাম, ডাকঘর: কালিগঞ্জ, থানা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: শেখ আফতাবউদ্দীন, শিক্ষকতা, বয়স: ৪৩
মাতা: মোছা: রাফেজা আক্তার, ৩৫, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পুরাতন ২ তলা বিল্ডিং। শিক্ষকতা ও সামান্য জমিজমা।
ভাই-বোনের বিবরণ: শেখ শরিফুজ্জামান (১৫), ছাত্র ৮ম। আফরোজা আফরিন (১২), ছাত্রী ৭ম। আফছানা ইয়াসমিন (১০), ছাত্রী ৫ম।
১. শহীদের পরিচিতি
শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার বাজার গ্রামে ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ আফতাবউদ্দীন মাতা: মোছাঃ রাফেজা আক্তারের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড় সন্তান। কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফুজ্জামান। মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাথী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সাথী হিসেবে তিনি সংগঠনের কাজকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতেন। এলাকার ছাত্রদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানের জন্য তিনি সদা পেরেশান থাকতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
শহীদ আরিফ তার দয়িত্বশীলের সাথে একান্তে বলতেন, 'একবিন্দু রক্ত থাকতে রাজপথ ছাড়ব না। প্রয়োজনে একে একে শহীদ হবো।'
১৬ জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড় মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ রুহুল আমিন সে জায়গাতেই শাহাদাত বরণ করেন। তখন শহীদ আরিফের পিতা তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে চান। শহীদ আরিফ হাত ছিনিয়ে নিয়ে বলেন, আমাদের ভাইকে রেখে আমি ময়দান ছাড়তে চাই না। তিনি শহীদ রুহুল আমিন-এর রক্তাক্ত দেহের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই গুলিবিদ্ধ হন।
বর্ষীয়ান জননেতা ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়-এর প্রতিবাদে হরতালে পিকেটিং অবস্থায় মিছিল চলাকালীন পুলিশ গুলি চালায় সেখানেই আমাদের ভাইয়েরা শাহাদাত বরণ করেন।
পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১৭ জুলাই, ২০১৩ প্রতিবেদন প্রকাশ করে;
সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলি, দু'জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত
আবু সাইদ বিশ্বাস/কাজী আল মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াত-শিবির কর্মী
নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ছোড়া গুলিতে উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের নুরুল আমিন গাজীর ছেলে জামায়াত কর্মী রহুল আমীন ও বাজার গ্রামের আফসার উদ্দীনের ছেলে কালিগঞ্জ পাইলট স্কুলের মেধাবী ছাত্র শিবিরের সাথী আরিফ বিল্লাহ নিহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরো ২০ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী। আহতরা হলেন- উপজেলার ভদ্রখালি গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ওসমান গণি, একই গ্রামের খলিল, পুটেশেখের ছেলে সামসুর রহমান, আফতাব উদ্দীন, গড়ের হাটের শিবির কর্মী নাজমুল হুদা, জামায়াত কর্মী আঃ রহমান, আমিনুর রহমান ও শিবির কর্মী শরিফুজ্জামান, মমিনুর রহমান, আব্দুস সামাদ, সালাম, কামরুল, আহসান, আব্দুর রহিম, সোয়েল, আকরাম, ওসমান গণি ও আবু বক্কর সিদ্দিকী। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে সংঘর্ষে তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন এসআই নকিব ওয়াইজুল, সোহরার হোসেন ও কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীন। কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতালের পিকেটিং করার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়কে পিকেটিং করছিল শত শত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসী। এসময় পিকেটাররা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে হরতালের সমর্থনে স্পোগান দেয়। তারা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবি করেন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ পিকেটারদের বাধা দেয়। পিকেটাররাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম গুলির নির্দেশ দিলে পুলিশ পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। পুলিশের গুলিতে আরিফুজ্জামান শহীদ এবং রুহুল আমিন নিহত হন। পুলিশ তাদের লাশ নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এসময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আযম জানান, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাউখালীতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এসময় পিকেটাররা কয়েকটি ককটেলও নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দুই এসআই সোহরাব হোসেন, নকিব এবং কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীনসহ ৮ পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা শতাধিক রাউন্ড শটগান ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছোঁড়ে।
কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সড়কে ফেলে রাখা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি অপসারণের সময় জামায়াত-শিবির পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই এলাহি জানান, ঘটনাস্থলে আসার আগেই সংঘর্ষ হয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পাউখালীসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আ'লীগ নেতা রুহুল আমিন ভেদড় পরিকল্পিতভাবে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে। পরে স্থানীয় মসজিদ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ আরিফ বিল্লাহর গর্বিত পিতা মাস্টার আফসার উদ্দীন জানাযা পূর্ব আলোচনায় বলেন, আমার কোল থেকে এ জালিম সরকারের পেটুয়া বাহিনী আমার আদুরে ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদের মা রাফিজা বেগম বলেন, আমার রোজাদার ছেলের বুক যারা ঝাঁঝরা করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমার অপর ছেলেকেও আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। আমি শহীদের মা হতে পেরে গর্বিত। এসময় উপস্থিত শত শত নারী ও পুরুষের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে শহীদদের নিজ গ্রামে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
জানাজা পূর্ব সমাবেশে শহীদের গর্বিত পিতা বলেন-আমার ছেলে শহীদ হওয়ায় আমি গর্বিত। আমিও একই মিছিলে ছিলাম। আমার সামনেই আমার ছেলে শহীদ হলো কিন্তু আমি শহীদ হতে পারলাম না। শাহাদাত সবার ভাগ্যে জোটে না। নিজে শহীদ হতে পারিনি। শহীদের পিতা হয়েছি। এ কাফেলা এগিয়ে নিতে আমার সন্তান রক্ত দিয়ে বুঝিয়ে গেল বাবা তোমাকেও একাজ করতে হবে। শহীদের মাতা বলেন-আমার ছেলে আল্লাহর পথে দায়ীর কাজ করার জন্য শাহাদাত বরণ করল। এতে আমি ব্যথিত নই বরং গর্বিত। আমিও যেন দ্বীনের কাজ করতে করতে রক্ত মাখা দেহ নিয়ে আমার সন্তান ও খাব্বাব, খুবাইবের মত রক্ত মাখা দেহ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে পারি। আমাকে যারা সান্তনা দিতে সময় ব্যয় করছেন এটি না করে বরং সে সময়টি দ্বীনের পথে কাজে লাগান। শহীদের দাদা বলেন বৃদ্ধ বয়সে নাতির লাশ আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। কিন্তু এই ভেবে সান্ত্বনা পাচ্ছি আমার পরিবারের সবচেয়ে ভদ্র, নম্র ছেলেটি আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান (১২৫)। পেশা: দশম শ্রেণীর ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩১/১২/১৯৯৫, ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৬/০৭/১৩
শাহাদাতের তারিখ: ১৬/০৭/১৩ সকাল ৯টা। স্থান: সার্কিট হাউজ মোড়। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বাজারগ্রাম, ডাকঘর: কালিগঞ্জ, থানা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা।
পিতা: শেখ আফতাবউদ্দীন, শিক্ষকতা, বয়স: ৪৩
মাতা: মোছা: রাফেজা আক্তার, ৩৫, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পুরাতন ২ তলা বিল্ডিং। শিক্ষকতা ও সামান্য জমিজমা।
ভাই-বোনের বিবরণ: শেখ শরিফুজ্জামান (১৫), ছাত্র ৮ম। আফরোজা আফরিন (১২), ছাত্রী ৭ম। আফছানা ইয়াসমিন (১০), ছাত্রী ৫ম।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍