হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ আবদুস সবুর সরদার
শহীদ মোঃ আবদুস সবুর সরদার

শহীদ মোঃ আবদুস সবুর সরদার

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ আঃ সবুর সরদার পরিবারের সকলকে ইসলামী আন্দোলনের পথে চলার পরামর্শ দিতেন এবং নিজে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
৩ নভেম্বর ২০১৩, রোববার সন্ধ্যায় হরতালপূর্ব মিছিল শেষে জামায়াত কর্মী সরুলিয়া গ্রামের আবদুস সবুর অন্যদের সাথে ফিরে যাচ্ছিলেন। চাচাতো ভাই মৃত আবদুল হামিদ হুজুর ছিলেন তার সাথে। এ সময় পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। রড দিয়ে মাথায় আঘাত করায় মাথার খুলি মগজে দেবে যায়। আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার ৬ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেয়ার পথে আরিচা ফেরিঘাটে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদ আবদুস সবুরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ছয় নভেম্বর সন্ধ্যায়, আগরদাড়ি আমিনিয়া কামিল মাদরাসার বলফিল্ড ময়দানে। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রিন্সিপাল আবদুল খালেক। দ্বিতীয় জানাজা সরুলিয়া হাইস্কুল মাঠে, এখানে ইমামতি করেন তৎকালীন কলারোয়া জামায়াতের আমীর মাওলানা ওমর আলী। তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভী বাড়ি হাফেজী মাদরাসার মাঠে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আবদুস সবুর ১২ অক্টোবর ১৯৭৯ সাতক্ষীরার তালা উপজেলাধীন সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত মোঃ জাকের আলী সরদার ও মাতা মৃত জরিমন নেছার সাত সন্তানের মধ্যে আবদুস সবুর ষষ্ঠ। দুই সন্তানের জনক জামায়াত কর্মী শহীদ আবদুস সবুর কৃষি কাজ করে সংসার নির্বাহ করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
০৩.১১.২০১৩ তারিখ নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে জামায়াতসহ ১৮ দল ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন তিনি। দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু ক্রমেই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে ৬.১১.২০১৩ তারিখ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন শহীদ মোঃ আঃ সবুর সরদার।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ মোঃ আঃ সবুর সরদার পরিবারের সকলকে ইসলামী আন্দোলনের পথে চলার পরামর্শ দিতেন এবং নিজে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
৩ নভেম্বর ২০১৩, রোববার সন্ধ্যায় হরতালপূর্ব মিছিল শেষে জামায়াত কর্মী সরুলিয়া গ্রামের আবদুস সবুর অন্যদের সাথে ফিরে যাচ্ছিলেন। চাচাতো ভাই মৃত আবদুল হামিদ হুজুর ছিলেন তার সাথে। এ সময় পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। রড দিয়ে মাথায় আঘাত করায় মাথার খুলি মগজে দেবে যায়। আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার ৬ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেয়ার পথে আরিচা ফেরিঘাটে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদ আবদুস সবুরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ছয় নভেম্বর সন্ধ্যায়, আগরদাড়ি আমিনিয়া কামিল মাদরাসার বলফিল্ড ময়দানে। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রিন্সিপাল আবদুল খালেক। দ্বিতীয় জানাজা সরুলিয়া হাইস্কুল মাঠে, এখানে ইমামতি করেন তৎকালীন কলারোয়া জামায়াতের আমীর মাওলানা ওমর আলী। তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভী বাড়ি হাফেজী মাদরাসার মাঠে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
স্ত্রী: আল্লাহ আমার স্বামীকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন।
বড় মেয়ে: আব্বুকে ছাড়া ভাল লাগে না। আল্লাহ আমার আব্বুকে বেহেশত দান করুন।
শহীদের মেয়ে রুকাইয়া খাতুন বলেন- আশপাশের তিন চার গ্রামের লোকেরা আব্বুকে চেনেন ভালো মানুষ হিসেবে। ফজরের পর কাজে বের হয়ে যেতেন। আমাদেরকে অনেক আদর করতেন। সবাইকেই তো একদিন মরতে হবে, আব্বু ইসলামের জন্য মরলেন- এটা ভেবে ভালো লাগে।
পরিবার
শহীদ আবদুস সবুরের দুই কন্যা। বড় মেয়ে মোসাঃ। রুকাইয়া খাতুনের বর্তমান বয়স চৌদ্দ বছর। রুকাইয়া সরুলিয়া কিয়ামিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান তিনি। শহীদের দ্বিতীয় কন্যা মোসাঃ রোকাইয়া খাতুনের বয়স নয় বছর। রোকাইয়া পড়ছে তৃতীয় শ্রেণীতে।
এক নজরে শহীদ আবদুস সবুর
নাম: শহীদ আবদুস সবুর সরদার
পিতার নাম: মৃত মোঃ জাকের আলী সরদার
মাতার নাম: মৃত জরিমন নেছা
স্ত্রীর নাম: পারভীন বেগম
জন্ম তারিখ: ১২ অক্টোবর ১৯৭৯
ঠিকানা: হোল্ডিং নং- ৪০০, ওয়ার্ড- ১, গ্রাম- সরুলিয়া, পোস্ট- সরুলিয়া পাটকেলঘাটা, উপজেলা- তালা, সাতক্ষীরা।
সাংগঠনিক মান: কর্মী
ভাইবোন: ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে ষষ্ঠ
সন্তান: দুই মেয়ে
আহত হওয়ার তারিখ ও স্থান: ০৩ নভেম্বর ২০১৩, সরুলিয়া বাজারে
আঘাতের ধরণ: পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে মাথায় রড দিয়ে আঘাত
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ৬ নভেম্বর ২০১৩, ঢাকায় নেয়ার পথে আরিচা ফেরিঘাটের কাছে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍