হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবুল কালাম আজাদ
শহীদ আবুল কালাম আজাদ

শহীদ আবুল কালাম আজাদ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদের মা লতিফা বেগম: আমার কালামের মতো মানুষ ছিল না। কেউ খারাপ বলতে পারতো না। মেয়েরা
পুকুরে গোসল করে, তাই পর্দা খেলাপ হবার ভয়ে পুকুরে গোসল করতো না। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে। সারাদিন সংগঠনের কাজ নিয়ে থাকতো। ঠিকমতো জামাকাপড় দিতে পারিনি, অনেক কষ্ট করেছে সে। মাঝে মাঝে মানুষের সাথে মাঠে কাজ করতো।
পিতা: দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাব। আমি শহীদের পিতা হিসাবে গর্বিত।
বড় বোন: আমার ভাই ইসলামী আন্দোলন করতো এই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন, আমীন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আবুল কালাম ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় থানাধীন দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের মাঝের পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আকবর আলী ও মাতা লতিফা খাতুনের নয় সন্তানের মধ্যে আবুল কালাম সবার ছোট। তিনি শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন দেবহাটা থানার সেক্রেটারী হিসেবে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২৪ জানুয়ারী ২০১৪, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে অবস্থান করার পর দুপুরে মায়ের সাথে দেখা করতে আসেন শহীদ মোঃ আবুল কালাম। দেখা করে তখনই ফিরে যেতে চান তিনি। কিন্তু মা আবদার করেন দুপুরে খাওয়ার জন্য। দুপুরে খাওয়া অবস্থায় যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পঁচিশ তারিখ সকালে মা এবং বোন দেবহাটা থানায় যেয়ে সকালের নাস্তা দিয়ে আসেন। এর আগে ২৪ তারিখ সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় শিবির নেতা আবুল কালাম গ্রেফতারের নিউজ প্রচার হয়। এতোকিছু উপেক্ষা করে ২৬ জানুয়ারী ভোর ৫:৩০টায় শহীদের এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে যৌথবাহিনী। তার বুকে ও বাম হাতে গুলির চিহ্ন ছিল। সকাল ১০টায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পোস্টমার্টেমের পর দুপুর ১২ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ আবুল কালাম আজাদ সাংগঠনিক কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন। তিনি বন্ধুদের দাওয়াত দিতেন এবং বলতেন আল্লাহর পথে জীবন দিয়ে হলেও ইসলামী আন্দোলনের কাজকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশে অবস্থিত এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২৪ জানুয়ারী ২০১৪, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে অবস্থান করার পর দুপুরে মায়ের সাথে দেখা করতে আসেন শহীদ মোঃ আবুল কালাম। দেখা করে তখনই ফিরে যেতে চান তিনি। কিন্তু মা আবদার করেন দুপুরে খাওয়ার জন্য। দুপুরে খাওয়া অবস্থায় যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পঁচিশ তারিখ সকালে মা এবং বোন দেবহাটা থানায় যেয়ে সকালের নাস্তা দিয়ে আসেন। এর আগে ২৪ তারিখ সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় শিবির নেতা আবুল কালাম গ্রেফতারের নিউজ প্রচার হয়। এতোকিছু উপেক্ষা করে ২৬ জানুয়ারী ভোর ৫:৩০টায় শহীদের এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে যৌথবাহিনী। তার বুকে ও বাম হাতে গুলির চিহ্ন ছিল। সকাল ১০টায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পোস্টমর্টেমের পর দুপুর ১২ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
২৬ জানুয়ারি রাত আটটায় বাড়ির পাশে কুলিয়া মাঝের পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান শহীদের ভাগ্নে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী সাদিকুল ইসলাম। জানাজা শেষে মাঝেরপাড়া জামে মসজিদ কবরস্থানে শহীদ আবুল কালামকে সমাহিত করা হয়। শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদের মা লতিফা বেগম: আমার কালামের মতো মানুষ ছিল না। কেউ খারাপ বলতে পারতো না। মেয়েরা
পুকুরে গোসল করে, তাই পর্দা খেলাপ হবার ভয়ে পুকুরে গোসল করতো না। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে। সারাদিন সংগঠনের কাজ নিয়ে থাকতো। ঠিকমতো জামাকাপড় দিতে পারিনি, অনেক কষ্ট করেছে সে। মাঝে মাঝে মানুষের সাথে মাঠে কাজ করতো।
পিতা: দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাব। আমি শহীদের পিতা হিসাবে গর্বিত।
বড় বোন: আমার ভাই ইসলামী আন্দোলন করতো এই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন, আমীন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৬ জানুয়ারি ২০১৪, দৈনিক প্রথম আলো 'সাতক্ষীরায় 'বন্দুকযুদ্ধে' শিবিরের দুই নেতা নিহত' শিরোনামে
নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় আজ রোববার ভোরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' শিবিরের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাসের দাবি, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার নারকেলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবিরের উপজেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম (২২) ও শিবিরের সদস্য মারুফ হোসেন ওরফে ছোট (২৫)।
পরিবারের পক্ষ থেকে কালামের রাজনৈতিক পরিচয় ও পদের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মারুফের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী।
এক নজরে শহীদ আবুল কালাম
পুরোনাম: শহীদ মোঃ আবুল কালাম
পিতার নাম: আকবর আলী গাজী
মাতার নাম: লতিফা বেগম
জন্ম তারিখ: অক্টোবর ১০, ১৯৯৪
ভাই বোন: ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার ছোট
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রামঃ দক্ষিন কুলিয়া, ইউনিয়নঃ সখিপুর, উপজেলাঃ দেবহাটা, জেলাঃ সাতক্ষীরা
সাংগঠনিক মান: সদস্য
সাংগঠনিক দায়িত্ব: বংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের থানা সেক্রেটারী, দেবহাটা
সর্বশেষ পড়ালেখা: ১ম বর্ষ (অর্থনীতি), সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ।
শাহাদাতের স্থান: ধোপডাঙ্গা, সখিপুর এলাকায় ভোর ৫.৩০ টায় যৌথ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍