শহীদ মোঃ আকতার আলী
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশের এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ আকতার আলী ১২.০৪.১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার উত্তর কুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তার পিতার নাম মৃত ফজলে রহমান এবং মাতার নাম মোছাঃ সালেহা বেগম। তিনি ব্যবসা করতেন এবং জামায়াতের কর্মী ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
শহীদ আকতার আলী 'ভাজা' ও 'ঠোঙা' বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২.০৫.২০১৪ তারিখ শুক্রবার আছরের নামাজের পর কুলিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঠোঙা বিক্রির টাকা ও ঠোঙা সাপ্লাই দেয়ার জন্য সে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিস কোম্পানীর মোড়ে যান। কাজ শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি'র বাড়ির সামনে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার শহীদুল্লাহ গাজীর নেতৃত্বে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তার কাছে জিজ্ঞাসা করে- তুই জামায়াত করিস? সে প্রশ্নের জবাব না দিলে তাকে মুখ ধরে ও চোখ বেঁধে মোটর সাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে "যা খাওয়ার খেয়ে নে, কাল তোর জানাযা ও দাফন হবে। তুই জামায়াত করিস, তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই" বলে পিটিয়েছে। পরে সে মারা গেলে রাতে তার লাশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং মিডিয়াকর্মীদের ফোন করে জানায়, আকতার হোসেন নামের এক জামায়াত কর্মীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশের এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
২০১৪ সালের ২ মে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আওয়ামী ক্যাডাররা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিসের মোড়ে পৈচাশিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াতকর্মী আকতার আলীকে। এসময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যবসার টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে গেছে। পরে তারা পুলিশের কাছে ফোন করে জানায়- গণপিটুনিতে এক জামায়াত কর্মী মারা গেছে। তার লাশ নিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে রাখে। পরে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করতে চাইলে তারা ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। পুলিশ নিরুপায় হয়ে বিকেলে লাশের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে।
আক্তারের ছোট ভাই মোক্তার আলী বলেন, আমার ভাই ২০১৪ সালের ০২ মে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চাঁদপুর মোড়ের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করে বের হলে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ গাজীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন লোক তাঁকে মারপিট করতে করতে ধরে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে জানতে পারি ভাইয়ের লাশ দেবহাটা থানায় আছে। মোক্তার আলী আরো বলেন, আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল গণি জানান, তাঁর পারিবারিক মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর আক্তারকে ধরে নিয়ে যায় শহীদুল্লাহ গাজীসহ কয়েকজন।
শহীদের আপনজনদের কথা:
স্ত্রী: আমার স্বামী নিরাপরাধ, শুধু ইসলামের কথা বলার জন্য সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
ছেলে: আমার আব্বা ইসলামের জন্য শহীদ হয়েছেন। আমরাও আল্লাহর দ্বীনের জন্য শহীদ হতে চাই।
পরিবার
শহীদ আকতার আলীর দুইজন স্ত্রী। বড় স্ত্রী রমিসা বেগমের বয়স চল্লিশ বছর। তিনি থাকে শহীদের মা সালেহা খাতুনের সাথে। রমিসা বেগমের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে আসাদুল ইসলাম, তারা দুইজনেই দোকানের কর্মচারী। মেয়ে সালমার বয়স বর্তমানে এগারো বছর। সে পড়ে
চতুর্থ শ্রেণীতে।
শহীদ আকতার আলীর ছোট স্ত্রী সালেহার বয়সও চল্লিশ বছর। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি থাকেন আলাদা বাড়িতে। তাঁর সাথে তার আগের স্বামীর ছেলে ও ছেলের বউ থাকেন। সালেহার বড় ছেলে আলাউদ্দীনের বয়স তের বছর। পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। ছোট ছেলে মহিউদ্দীনের বয়স সাত বছর। পড়ে প্রথম শ্রেণীতে।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
০৩ মে ২০১৪, সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে জামায়াত কর্মী নিহত' শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে নিম্নোক্ত খবর প্রচারিত হয়-
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাতে আক্তার হোসেন (৪৬) নামের জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
আক্তার হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। তিনি কুলিয়া গ্রামের বজলে রহমানের ছেলে।
নিহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই মোক্তার আলীর ভাষ্য, গতকাল রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর মোড়ের একটি মসজিদে তাঁর ভাই এশার নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ২০-৩০ জন লোক তাঁকে ধরে মারধর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাঁকে সখীপুর এলাকায় নিয়ে আবার মারধর করা হয়। রাত ১১টার পর তিনি তাঁর ভাইয়ের আর কোনো খবর পাননি। আজ সকালে শুনতে পান তাঁর ভাই মারা গেছেন। লাশ দেবহাটা থানা চত্বরে রাখা আছে।
মোক্তার আলীর ভাষ্য, আবু রায়হান হত্যার সঙ্গে তাঁর ভাই জড়িত নন। তাঁকে সন্দেহ করা হয়। তবে তাঁর ভাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, গতকাল রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর এলাকা থেকে আকতার আলীকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এক নজরে শহীদ আকতার আলী
নাম: আকতার আলী
পিতার নাম: মৃত বজলুর রহমান
মাতার নাম: সালেহা খাতুন, শহীদের প্রথম স্ত্রীর সাথে থাকেন
জন্ম তারিখ: ১২.০৪.১৯৭০ ইং
স্ত্রীর নাম: প্রথম স্ত্রী রমিসা বেগম, বয়স: ৪০ বছর, পেশা: গৃহিণী;
দ্বিতীয় স্ত্রী: সালেহা, বয়স: ৪০, পেশা: গৃহিণী
ঠিকানা: গ্রাম- উত্তর কুলিয়া, ডাকঘর- গুরুগ্রাম, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
সন্তান: প্রথম স্ত্রীর: দুই ছেলে এক মেয়ে, দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মে ২০১৪, পারুলিয়া দিঘীর পাড় চাঁদপুর ডেলটা ফিশের মোড়
আঘাতের ধরণ: পিটিয়ে হত্যা
আঘাতকারী: আওয়ামী লীগ
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
শহীদ আকতার আলী 'ভাজা' ও 'ঠোঙা' বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২.০৫.২০১৪ তারিখ শুক্রবার আছরের নামাজের পর কুলিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঠোঙা বিক্রির টাকা ও ঠোঙা সাপ্লাই দেয়ার জন্য সে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিস কোম্পানীর মোড়ে যান। কাজ শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি'র বাড়ির সামনে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার শহীদুল্লাহ গাজীর নেতৃত্বে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তার কাছে জিজ্ঞাসা করে- তুই জামায়াত করিস? সে প্রশ্নের জবাব না দিলে তাকে মুখ ধরে ও চোখ বেঁধে মোটর সাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে "যা খাওয়ার খেয়ে নে, কাল তোর জানাযা ও দাফন হবে। তুই জামায়াত করিস, তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই" বলে পিটিয়েছে। পরে সে মারা গেলে রাতে তার লাশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং মিডিয়াকর্মীদের ফোন করে জানায়, আকতার হোসেন নামের এক জামায়াত কর্মীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশের এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
২০১৪ সালের ২ মে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আওয়ামী ক্যাডাররা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিসের মোড়ে পৈচাশিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াতকর্মী আকতার আলীকে। এসময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যবসার টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে গেছে। পরে তারা পুলিশের কাছে ফোন করে জানায়- গণপিটুনিতে এক জামায়াত কর্মী মারা গেছে। তার লাশ নিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে রাখে। পরে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করতে চাইলে তারা ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। পুলিশ নিরুপায় হয়ে বিকেলে লাশের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে।
আক্তারের ছোট ভাই মোক্তার আলী বলেন, আমার ভাই ২০১৪ সালের ০২ মে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চাঁদপুর মোড়ের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করে বের হলে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ গাজীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন লোক তাঁকে মারপিট করতে করতে ধরে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে জানতে পারি ভাইয়ের লাশ দেবহাটা থানায় আছে। মোক্তার আলী আরো বলেন, আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল গণি জানান, তাঁর পারিবারিক মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর আক্তারকে ধরে নিয়ে যায় শহীদুল্লাহ গাজীসহ কয়েকজন।
শহীদের আপনজনদের কথা:
স্ত্রী: আমার স্বামী নিরাপরাধ, শুধু ইসলামের কথা বলার জন্য সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
ছেলে: আমার আব্বা ইসলামের জন্য শহীদ হয়েছেন। আমরাও আল্লাহর দ্বীনের জন্য শহীদ হতে চাই।
পরিবার
শহীদ আকতার আলীর দুইজন স্ত্রী। বড় স্ত্রী রমিসা বেগমের বয়স চল্লিশ বছর। তিনি থাকে শহীদের মা সালেহা খাতুনের সাথে। রমিসা বেগমের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে আসাদুল ইসলাম, তারা দুইজনেই দোকানের কর্মচারী। মেয়ে সালমার বয়স বর্তমানে এগারো বছর। সে পড়ে
চতুর্থ শ্রেণীতে।
শহীদ আকতার আলীর ছোট স্ত্রী সালেহার বয়সও চল্লিশ বছর। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি থাকেন আলাদা বাড়িতে। তাঁর সাথে তার আগের স্বামীর ছেলে ও ছেলের বউ থাকেন। সালেহার বড় ছেলে আলাউদ্দীনের বয়স তের বছর। পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। ছোট ছেলে মহিউদ্দীনের বয়স সাত বছর। পড়ে প্রথম শ্রেণীতে।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
০৩ মে ২০১৪, সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে জামায়াত কর্মী নিহত' শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে নিম্নোক্ত খবর প্রচারিত হয়-
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাতে আক্তার হোসেন (৪৬) নামের জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
আক্তার হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। তিনি কুলিয়া গ্রামের বজলে রহমানের ছেলে।
নিহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই মোক্তার আলীর ভাষ্য, গতকাল রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর মোড়ের একটি মসজিদে তাঁর ভাই এশার নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ২০-৩০ জন লোক তাঁকে ধরে মারধর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাঁকে সখীপুর এলাকায় নিয়ে আবার মারধর করা হয়। রাত ১১টার পর তিনি তাঁর ভাইয়ের আর কোনো খবর পাননি। আজ সকালে শুনতে পান তাঁর ভাই মারা গেছেন। লাশ দেবহাটা থানা চত্বরে রাখা আছে।
মোক্তার আলীর ভাষ্য, আবু রায়হান হত্যার সঙ্গে তাঁর ভাই জড়িত নন। তাঁকে সন্দেহ করা হয়। তবে তাঁর ভাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, গতকাল রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর এলাকা থেকে আকতার আলীকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এক নজরে শহীদ আকতার আলী
নাম: আকতার আলী
পিতার নাম: মৃত বজলুর রহমান
মাতার নাম: সালেহা খাতুন, শহীদের প্রথম স্ত্রীর সাথে থাকেন
জন্ম তারিখ: ১২.০৪.১৯৭০ ইং
স্ত্রীর নাম: প্রথম স্ত্রী রমিসা বেগম, বয়স: ৪০ বছর, পেশা: গৃহিণী;
দ্বিতীয় স্ত্রী: সালেহা, বয়স: ৪০, পেশা: গৃহিণী
ঠিকানা: গ্রাম- উত্তর কুলিয়া, ডাকঘর- গুরুগ্রাম, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
সন্তান: প্রথম স্ত্রীর: দুই ছেলে এক মেয়ে, দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মে ২০১৪, পারুলিয়া দিঘীর পাড় চাঁদপুর ডেলটা ফিশের মোড়
আঘাতের ধরণ: পিটিয়ে হত্যা
আঘাতকারী: আওয়ামী লীগ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍