শহীদ আনারুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারী শহীদ আনারুল ইসলাম মাঠে কাজ করছেন। সকাল আটটার দিকে সাদা পোশাকের পুলিশ এসে রেকি করে গেছে। আশপাশের মানুষজন শহীদ আনারুলকে বলেন- এরা কিন্তু পুলিশের লোক, আপনি সরে যান। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। সকাল নয়টা আঠারো মিনিটে মোটর সাইকেল যোগে দুইপাশের রাস্তা দিয়ে পুলিশ আসে। রাস্তায় সাইকেল রেখে তারা জমিতে নেমেই এলোপাথারি গুলি করতে শুরু করে। শহীদ আনারুলের একশো গজ দূরে ছিলেন তাঁর ভাই জামায়াত রুকন ও নোয়াপাড়া পশ্চিম শাখা সভাপতি রবিউল ইসলাম। তাঁর ভাই চিৎকার করে তাকে দৌড়াতে বলেন। তখন শহীদ আনারুল ইসলাম দৌড়ানো শুরু করে। তাঁর পেছনে পেছনে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করতে করতে দৌড়াতে লাগলো। চারদিকে বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঠে কাদা-পানি। শহীদ আনারুল দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানিতে নেমে গেলো। ততক্ষণে শক্তিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তখন আনারুল দুই হাত তুলে সারেন্ডার করলো। পুলিশ সদস্যরা জামার কলার ধরে টেনে হিচড়ে তাকে রাস্তায় আনলো। তারপর জোয়ারের বিলের পানির কলের পাশে এনে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আনারুল ইসলাম ১৯৮৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানাধীন দক্ষিণ নংলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আবদুল হান্নান গাজী ও মাতা খোদেজা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও দেবহাটা আট নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১৪.০১.১৪ তারিখ সকাল ৯ টায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় নাংলা-জগন্নাথপুর নিজস্ব মাছের ঘের থেকে দেবহাটা থানার ওসি সহ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে রাস্তায় উপর এনে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করলে তার হাটু ও পায়ের নিচের অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তিনি মারাত্মক আহত হয়ে বেহুঁশ হয়ে যান। পুলিশ তার সারা শরীরে বুটজুতা দিয়ে আঘাত করে। বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণের শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন শহীদ মোঃ আনারুল ইসলাম।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি প্রায়ই বলতেন- বাংলার জমিনে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাব। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বন্দি থাকবে আর আমরা বাইরে আরামে জীবন কাটাবো তা হতে পারে না। নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করে আনবো।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারী শহীদ আনারুল ইসলাম মাঠে কাজ করছেন। সকাল আটটার দিকে সাদা পোশাকের পুলিশ এসে রেকি করে গেছে। আশপাশের মানুষজন শহীদ আনারুলকে বলেন- এরা কিন্তু পুলিশের লোক, আপনি সরে যান। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। সকাল নয়টা আঠারো মিনিটে মোটর সাইকেল যোগে দুইপাশের রাস্তা দিয়ে পুলিশ আসে। রাস্তায় সাইকেল রেখে তারা জমিতে নেমেই এলোপাথারি গুলি করতে শুরু করে। শহীদ আনারুলের একশো গজ দূরে ছিলেন তাঁর ভাই জামায়াত রুকন ও নোয়াপাড়া পশ্চিম শাখা সভাপতি রবিউল ইসলাম। তাঁর ভাই চিৎকার করে তাকে দৌড়াতে বলেন। তখন শহীদ আনারুল ইসলাম দৌড়ানো শুরু করে। তাঁর পেছনে পেছনে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করতে করতে দৌড়াতে লাগলো। চারদিকে বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঠে কাদা-পানি। শহীদ আনারুল দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানিতে নেমে গেলো। ততক্ষণে শক্তিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তখন আনারুল দুই হাত তুলে সারেন্ডার করলো। পুলিশ সদস্যরা জামার কলার ধরে টেনে হিচড়ে তাকে রাস্তায় আনলো। তারপর জোয়ারের বিলের পানির কলের পাশে এনে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
শহিদের পিতা আবদুল হান্নান গাজী বলেন- আমি তখন রাস্তায়, গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে যাচ্ছি। একজন বললো ওদিকে যেয়ো না তোমার ছেলেকে গুলি করেছে, তোমাকেও করতে পারে। তারপরও আমি গেলাম। গিয়ে দেখি হাঁটুতে গুলি করেছে। চার হাতপা ধরে আলুর বস্তার মতো আনারুলকে তারা গাড়িতে ছুড়ে মারলো। এরপর তারা তাকে মারতে মারতে, লাথি দিতে দিতে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।
আনোয়ারুল ইসলাম গুলিতে নিহত হবার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এলাকার হিন্দু মুসলিম নর-নারী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে শহীদের বাড়িতে এসে ভীড় জমাতে থাকে। তারা এ নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
১৪ জানুয়ারি রাত আটটায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে শহীদ আনারুলের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। রাত নয়টায় মোশাররফ স্যারের আম বাগানে নোয়াপাড়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল আবদুল হামিদের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
ওহিদুজ্জামান অপু এবং শহিদুজ্জামান লিপু নামে শহিদ আনারুল ইসলামের দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। শহীদের পরিবারে পিতা আব্দুল হান্নান গাজী ও মাতা খোদেজা বেগম ছাড়াও রয়েছেন একভাই ও একবোন। শহীদের ছোট ভাই রবিউল ইসলামের বয়স তেত্রিশ বছর। বর্তমানে ব্যবসা করছেন। এবং রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও নোয়াপাড়া পশ্চিম ওয়ার্ডের সভাপতি। শহীদের ছোট বোন তানিয়া পারভীনের বয়স তের বছর, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে সে।
শহীদ আনারুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন- কী অপরাধে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হলো? আমি কার কাছে জানাবো বিয়ের দশ বছরের মাথায় বিধবা হওয়ার কথা? আমার দু'পুত্রের পিতৃহারা হওয়ার বিয়োগ ব্যথা? আমার স্বামী কখনো মারামারি বা গোলযোগে জড়িত ছিল না। সে কখনো বোমা বা অস্ত্র দেখেনি। অথচ যৌথবাহিনী তাঁকে সেই অপরাধে অপরাধী বানিয়ে হত্যা করলো।
তিনি আরো বলেন- আমার স্বামী ইসলামী আন্দোলন করতেন এই অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেন।
শহীদের মা খোদেজা বেগম আহাজারী করতে করতে বলেন- বিনা অপরাধে আমার ছেলে আনোয়ারুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন- আমার এ আর্তনাদ আল্লাহর আরশে পৌঁছাবে কি? যারা ষড়যন্ত্র করে আমার বুক খালি করে দিয়েছে, তাদের বিচার আল্লাহর কাছে রইলো। তিনিই বিচার করবেন।
পিতা: আমার ছেলে ইসলামের জন্য জীবন দিয়েছে। শহীদের পিতা হিসাবে আমি গর্বিত।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ
তাসলিমা বেগম, স্ত্রী, বয়স- ২৫ বছর, গৃহিণী
মোঃ ওহিদু জ্জামান অপু, বয়স- ৮বছর, ৩য় শ্রেণী
মোঃ শহিদু জামান দিপু, বয়স- ৩ বছর, শিশু
এক নজরে শহীদ আনারুল ইসলাম
পুরোনাম: শহীদ আনারুল ইসলাম
পিতার নাম: আবদুল হান্নান গাজী, বয়স: ৬০, পেশা- ব্যবসা
মাতার নাম: খোদেজা খাতুন, বয়স: ৫২, পেশা- গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: তাসলিমা খাতুন, বয়স ৩০, পেশা গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ১৬ জানুয়ারি ১৯৮৭
ভাই বোন: ২ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড়।
সন্তান: ২ পুত্র
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দক্ষিণ নংলা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
সাংগঠনিক মান: রুকন, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি, দেবহাটা
শাহাদাতের স্থান: নংলা বাজার, দেহহাটা, সাতক্ষীরা
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১৪.০১.১৪ তারিখ সকাল ৯ টায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় নাংলা-জগন্নাথপুর নিজস্ব মাছের ঘের থেকে দেবহাটা থানার ওসি সহ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে রাস্তায় উপর এনে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করলে তার হাটু ও পায়ের নিচের অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তিনি মারাত্মক আহত হয়ে বেহুঁশ হয়ে যান। পুলিশ তার সারা শরীরে বুটজুতা দিয়ে আঘাত করে। বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণের শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন শহীদ মোঃ আনারুল ইসলাম।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি প্রায়ই বলতেন- বাংলার জমিনে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাব। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বন্দি থাকবে আর আমরা বাইরে আরামে জীবন কাটাবো তা হতে পারে না। নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করে আনবো।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারী শহীদ আনারুল ইসলাম মাঠে কাজ করছেন। সকাল আটটার দিকে সাদা পোশাকের পুলিশ এসে রেকি করে গেছে। আশপাশের মানুষজন শহীদ আনারুলকে বলেন- এরা কিন্তু পুলিশের লোক, আপনি সরে যান। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। সকাল নয়টা আঠারো মিনিটে মোটর সাইকেল যোগে দুইপাশের রাস্তা দিয়ে পুলিশ আসে। রাস্তায় সাইকেল রেখে তারা জমিতে নেমেই এলোপাথারি গুলি করতে শুরু করে। শহীদ আনারুলের একশো গজ দূরে ছিলেন তাঁর ভাই জামায়াত রুকন ও নোয়াপাড়া পশ্চিম শাখা সভাপতি রবিউল ইসলাম। তাঁর ভাই চিৎকার করে তাকে দৌড়াতে বলেন। তখন শহীদ আনারুল ইসলাম দৌড়ানো শুরু করে। তাঁর পেছনে পেছনে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করতে করতে দৌড়াতে লাগলো। চারদিকে বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঠে কাদা-পানি। শহীদ আনারুল দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানিতে নেমে গেলো। ততক্ষণে শক্তিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তখন আনারুল দুই হাত তুলে সারেন্ডার করলো। পুলিশ সদস্যরা জামার কলার ধরে টেনে হিচড়ে তাকে রাস্তায় আনলো। তারপর জোয়ারের বিলের পানির কলের পাশে এনে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
শহিদের পিতা আবদুল হান্নান গাজী বলেন- আমি তখন রাস্তায়, গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে যাচ্ছি। একজন বললো ওদিকে যেয়ো না তোমার ছেলেকে গুলি করেছে, তোমাকেও করতে পারে। তারপরও আমি গেলাম। গিয়ে দেখি হাঁটুতে গুলি করেছে। চার হাতপা ধরে আলুর বস্তার মতো আনারুলকে তারা গাড়িতে ছুড়ে মারলো। এরপর তারা তাকে মারতে মারতে, লাথি দিতে দিতে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।
আনোয়ারুল ইসলাম গুলিতে নিহত হবার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এলাকার হিন্দু মুসলিম নর-নারী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে শহীদের বাড়িতে এসে ভীড় জমাতে থাকে। তারা এ নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
১৪ জানুয়ারি রাত আটটায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে শহীদ আনারুলের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। রাত নয়টায় মোশাররফ স্যারের আম বাগানে নোয়াপাড়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল আবদুল হামিদের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
ওহিদুজ্জামান অপু এবং শহিদুজ্জামান লিপু নামে শহিদ আনারুল ইসলামের দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। শহীদের পরিবারে পিতা আব্দুল হান্নান গাজী ও মাতা খোদেজা বেগম ছাড়াও রয়েছেন একভাই ও একবোন। শহীদের ছোট ভাই রবিউল ইসলামের বয়স তেত্রিশ বছর। বর্তমানে ব্যবসা করছেন। এবং রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও নোয়াপাড়া পশ্চিম ওয়ার্ডের সভাপতি। শহীদের ছোট বোন তানিয়া পারভীনের বয়স তের বছর, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে সে।
শহীদ আনারুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন- কী অপরাধে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হলো? আমি কার কাছে জানাবো বিয়ের দশ বছরের মাথায় বিধবা হওয়ার কথা? আমার দু'পুত্রের পিতৃহারা হওয়ার বিয়োগ ব্যথা? আমার স্বামী কখনো মারামারি বা গোলযোগে জড়িত ছিল না। সে কখনো বোমা বা অস্ত্র দেখেনি। অথচ যৌথবাহিনী তাঁকে সেই অপরাধে অপরাধী বানিয়ে হত্যা করলো।
তিনি আরো বলেন- আমার স্বামী ইসলামী আন্দোলন করতেন এই অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেন।
শহীদের মা খোদেজা বেগম আহাজারী করতে করতে বলেন- বিনা অপরাধে আমার ছেলে আনোয়ারুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন- আমার এ আর্তনাদ আল্লাহর আরশে পৌঁছাবে কি? যারা ষড়যন্ত্র করে আমার বুক খালি করে দিয়েছে, তাদের বিচার আল্লাহর কাছে রইলো। তিনিই বিচার করবেন।
পিতা: আমার ছেলে ইসলামের জন্য জীবন দিয়েছে। শহীদের পিতা হিসাবে আমি গর্বিত।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ
তাসলিমা বেগম, স্ত্রী, বয়স- ২৫ বছর, গৃহিণী
মোঃ ওহিদু জ্জামান অপু, বয়স- ৮বছর, ৩য় শ্রেণী
মোঃ শহিদু জামান দিপু, বয়স- ৩ বছর, শিশু
এক নজরে শহীদ আনারুল ইসলাম
পুরোনাম: শহীদ আনারুল ইসলাম
পিতার নাম: আবদুল হান্নান গাজী, বয়স: ৬০, পেশা- ব্যবসা
মাতার নাম: খোদেজা খাতুন, বয়স: ৫২, পেশা- গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: তাসলিমা খাতুন, বয়স ৩০, পেশা গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ১৬ জানুয়ারি ১৯৮৭
ভাই বোন: ২ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড়।
সন্তান: ২ পুত্র
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দক্ষিণ নংলা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
সাংগঠনিক মান: রুকন, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি, দেবহাটা
শাহাদাতের স্থান: নংলা বাজার, দেহহাটা, সাতক্ষীরা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍