শহীদ আরিজুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ আরিজুলকে হারিয়ে শহীদের মা রোকেয়া খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি অসুস্থ। শহীদের পিতা মোঃ সবেদ সরদারের বয়স ৫৯ বছর। তিনি কৃষি কাজ করে সংসারের হাল ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। শহীদের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম জামায়াতের কর্মী। তরকারির ব্যবসা করে ২ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার নির্বাহ করেন। শহীদ আরিজুলের বড় বোন রাবেয়া খাতুন মানসিক রোগী। বয়স তেত্রিশ বছর। মানসিক রোগের কারণেই বিবাহ হয়নি। শহীদের ভাই তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতের কর্মী। এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার নির্বাহ করেন কৃষি কাজ করে। শহীদের বড় বোন রিজিয়া বেগম থাকেন স্বামীর সংসারে, তারও রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। পরিবারে পঞ্চম সন্তান শহীদ আরিজুল। তাঁর ছোট ভাই মফিজুল বর্তমানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তিনিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আরিজুল ইসলাম, পিতা: মোঃ ছপেদ আলী সরদার, গ্রাম: গরানবাড়িয়া, পোঃ- শিমুলিয়া, থানা: দেবহাটা, জেলা: সাতক্ষীরা। তিনি দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী এবং ওয়ার্ড সভাপতি।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
টানা অবরোধের ৫ম দিন ৩ই ডিসেম্বর গরাণবাড়ীয়া মোড়ের দিকে বিজিবি অনবরত গুলি করতে করতে আসে। রাস্তার লোকজন দায়িত্বশীলের পরামর্শে দূরে সরে পড়ে। তখন শহীদ আরিজুল ইসলামও শোনেন যে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জনগণ স্বতস্ফূর্ত ভাবে প্রতিরোধ করার জন্য যখন বেরিয়ে আসলে তাদের সাথে তখন শহীদ আরিজুল ইসলাম রাস্তার পাশে প্রতিরোধের জন্য মাথা উঁচু করলেই একটা গুলি এসে গলার সামনে লেগে গলার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
৩ ডিসেম্বর ২০১৩। সকাল আটটা। অত্যাচারী শাসকের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবিতে ১৮ দলের টানা এক সপ্তাহের আবরোধের ৫ম দিন শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলছিল। লোকজন জড়ো হয়ে অবরোধের পক্ষে অবস্থান নেয়। এই সময় র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে প্রতিরোধ করার জন্য যখন বেরিয়ে আসে তখন শহীদ আরিজুল ইসলামও সকলের সাথে অবস্থান নেন এবং রাস্তার পাশে প্রতিরোধের জন্য মাথা উঁচু করলেই একটা গুলি এসে গলার সামনে লাগে এবং গলার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই শহাদাত বরণ করেন।
শহীদ আরিজুলকে হত্যার পর যৌথ বাহিনী শহীদের লাশ ঘিরে রাখে। শহীদের পিতা অন্যান্য সন্তানদের নিয়ে কান্নাকাটি করার পর লাশ রেখে যায়। পরে আসরের নামাজের পর গরানবাড়িয়া মাঠে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার ইমামতি করেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তের মাস পরে আবার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করে পুলিশ।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদ আরিজুলকে হারিয়ে শহীদের মা রোকেয়া খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি অসুস্থ। শহীদের পিতা মোঃ সবেদ সরদারের বয়স ৫৯ বছর। তিনি কৃষি কাজ করে সংসারের হাল ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। শহীদের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম জামায়াতের কর্মী। তরকারির ব্যবসা করে ২ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার নির্বাহ করেন। শহীদ আরিজুলের বড় বোন রাবেয়া খাতুন মানসিক রোগী। বয়স তেত্রিশ বছর। মানসিক রোগের কারণেই বিবাহ হয়নি। শহীদের ভাই তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতের কর্মী। এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার নির্বাহ করেন কৃষি কাজ করে। শহীদের বড় বোন রিজিয়া বেগম থাকেন স্বামীর সংসারে, তারও রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। পরিবারে পঞ্চম সন্তান শহীদ আরিজুল। তাঁর ছোট ভাই মফিজুল বর্তমানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তিনিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
০৩ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই শিবিরকর্মী নিহত' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
১৮ দলের ডাকা অবরোধের চতুর্থ দিন মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী হোসেন আলি ও স্কুল ছাত্র আরিজুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও সাতজন।
নিহত শিবির কর্মী হোসেন আলি গাজিরহাটের আতাপুর গ্রামের ফজর আলির ছেলে। অপরদিকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরিজুল ইসলাম দেবহাটার গরাণবাড়িয়া গ্রামের ছফেদ আলির ছেলে বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান। তবে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশের গুলিতে আহত শিবিরকর্মীরা হলেন আরিফুল ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, মিয়ারাজ আলি, রবিউল ইসলাম, আবদুর রশীদ। এরা সবাই ভাড়াসিমলা, দাদপুর, চালতেবাড়িয়া ও সখিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সকালে কালিগঞ্জের ভাড়াসিমলায় ও দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়ে পুলিশ ও যৌথবাহিনী গত রাত থেকে অবরোধের জন্য রাস্তায় ফেলে রাখা গাছের গুড়ি সরানোর চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গুলি ছুড়লে অবরোধকারীরা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
এদিকে জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলছে। আশাশুনির প্রতাপনগর কলেজ অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক নজরে শহীদ মোঃ আরিজুল ইসলাম
পুরোনাম: শহীদ মোঃ আরিজুল ইসলাম
পিতার নাম: ছফেদ আলী
মাতা: রোকেয়া খাতুন
জন্ম তারিখ: ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৮
ভাই বোন: চার ভাই দুই বোনের মধ্যে পঞ্চম
স্থায়ী ঠিকানা: সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার গরানবাড়িয়া গ্র
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ওয়ার্ড সভাপতি
সর্বশেষ পড়ালেখা: দাখিল পরীক্ষার্থী
শাহাদাতের স্থান: সাতক্ষীরা গোরানবাড়িয়া মোড়ে
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
টানা অবরোধের ৫ম দিন ৩ই ডিসেম্বর গরাণবাড়ীয়া মোড়ের দিকে বিজিবি অনবরত গুলি করতে করতে আসে। রাস্তার লোকজন দায়িত্বশীলের পরামর্শে দূরে সরে পড়ে। তখন শহীদ আরিজুল ইসলামও শোনেন যে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জনগণ স্বতস্ফূর্ত ভাবে প্রতিরোধ করার জন্য যখন বেরিয়ে আসলে তাদের সাথে তখন শহীদ আরিজুল ইসলাম রাস্তার পাশে প্রতিরোধের জন্য মাথা উঁচু করলেই একটা গুলি এসে গলার সামনে লেগে গলার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
৩ ডিসেম্বর ২০১৩। সকাল আটটা। অত্যাচারী শাসকের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবিতে ১৮ দলের টানা এক সপ্তাহের আবরোধের ৫ম দিন শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলছিল। লোকজন জড়ো হয়ে অবরোধের পক্ষে অবস্থান নেয়। এই সময় র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে প্রতিরোধ করার জন্য যখন বেরিয়ে আসে তখন শহীদ আরিজুল ইসলামও সকলের সাথে অবস্থান নেন এবং রাস্তার পাশে প্রতিরোধের জন্য মাথা উঁচু করলেই একটা গুলি এসে গলার সামনে লাগে এবং গলার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই শহাদাত বরণ করেন।
শহীদ আরিজুলকে হত্যার পর যৌথ বাহিনী শহীদের লাশ ঘিরে রাখে। শহীদের পিতা অন্যান্য সন্তানদের নিয়ে কান্নাকাটি করার পর লাশ রেখে যায়। পরে আসরের নামাজের পর গরানবাড়িয়া মাঠে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার ইমামতি করেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তের মাস পরে আবার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করে পুলিশ।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদ আরিজুলকে হারিয়ে শহীদের মা রোকেয়া খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি অসুস্থ। শহীদের পিতা মোঃ সবেদ সরদারের বয়স ৫৯ বছর। তিনি কৃষি কাজ করে সংসারের হাল ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। শহীদের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম জামায়াতের কর্মী। তরকারির ব্যবসা করে ২ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার নির্বাহ করেন। শহীদ আরিজুলের বড় বোন রাবেয়া খাতুন মানসিক রোগী। বয়স তেত্রিশ বছর। মানসিক রোগের কারণেই বিবাহ হয়নি। শহীদের ভাই তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতের কর্মী। এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার নির্বাহ করেন কৃষি কাজ করে। শহীদের বড় বোন রিজিয়া বেগম থাকেন স্বামীর সংসারে, তারও রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। পরিবারে পঞ্চম সন্তান শহীদ আরিজুল। তাঁর ছোট ভাই মফিজুল বর্তমানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তিনিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
০৩ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই শিবিরকর্মী নিহত' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
১৮ দলের ডাকা অবরোধের চতুর্থ দিন মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী হোসেন আলি ও স্কুল ছাত্র আরিজুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও সাতজন।
নিহত শিবির কর্মী হোসেন আলি গাজিরহাটের আতাপুর গ্রামের ফজর আলির ছেলে। অপরদিকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরিজুল ইসলাম দেবহাটার গরাণবাড়িয়া গ্রামের ছফেদ আলির ছেলে বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান। তবে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশের গুলিতে আহত শিবিরকর্মীরা হলেন আরিফুল ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, মিয়ারাজ আলি, রবিউল ইসলাম, আবদুর রশীদ। এরা সবাই ভাড়াসিমলা, দাদপুর, চালতেবাড়িয়া ও সখিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সকালে কালিগঞ্জের ভাড়াসিমলায় ও দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়ে পুলিশ ও যৌথবাহিনী গত রাত থেকে অবরোধের জন্য রাস্তায় ফেলে রাখা গাছের গুড়ি সরানোর চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গুলি ছুড়লে অবরোধকারীরা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
এদিকে জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলছে। আশাশুনির প্রতাপনগর কলেজ অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক নজরে শহীদ মোঃ আরিজুল ইসলাম
পুরোনাম: শহীদ মোঃ আরিজুল ইসলাম
পিতার নাম: ছফেদ আলী
মাতা: রোকেয়া খাতুন
জন্ম তারিখ: ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৮
ভাই বোন: চার ভাই দুই বোনের মধ্যে পঞ্চম
স্থায়ী ঠিকানা: সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার গরানবাড়িয়া গ্র
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ওয়ার্ড সভাপতি
সর্বশেষ পড়ালেখা: দাখিল পরীক্ষার্থী
শাহাদাতের স্থান: সাতক্ষীরা গোরানবাড়িয়া মোড়ে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍