হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ হাফিজুল ইসলাম
শহীদ মোঃ হাফিজুল ইসলাম

শহীদ মোঃ হাফিজুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, সকালে বাঁশ কেটে ভাতিজাদের জন্য দোলনা তৈরি করেন শহীদ হাফিজুল ইসলাম। তারপর ভ্যান নিয়ে ঝাউডাঙা যান। তখন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিছিল শুরু হয় চলমান গুম-হত্যার প্রতিবাদে। মিছিল কিছুদূর যেতেই পুলিশ অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে শহীদ হাফিজুল ইসলামের নাক দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার তালু দিয়ে বের হয়ে যায়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ হাফিজুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙা এলাকার লোকমান দফাদার ও আছিয়া খাতুনের আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর। পেশায় তিনি একজন ভ্যান চালক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের মিছিলের সময় পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন হাফিজুল ইসলাম।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, সকালে বাঁশ কেটে ভাতিজাদের জন্য দোলনা তৈরি করেন শহীদ হাফিজুল ইসলাম। তারপর ভ্যান নিয়ে ঝাউডাঙা যান। তখন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিছিল শুরু হয় চলমান গুম-হত্যার প্রতিবাদে। মিছিল কিছুদূর যেতেই পুলিশ অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে শহীদ হাফিজুল ইসলামের নাক দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার তালু দিয়ে বের হয়ে যায়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের তাণ্ডবে একটি অশান্ত ও বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা। এখানের নির্যাতিত মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ আর উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে বসতবাড়িহারা মানুষের সংখ্যা। গ্রেফতার ও হামলা-মামলার আতঙ্ক তাড়া করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। রাতের অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষশূন্য গ্রামগুলোতে অজানা আতঙ্কে বাস করছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা। যৌথবাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের ঘরবাড়িতে আগুন, ভাঙচুর-লুটপাট চালাচ্ছে। খুন-জখম তো নিত্যদিনের ঘটনা। এর সাথে বাড়ছে নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যাও। হামলা-মামলার পর এবার যৌথবাহিনী অভিযানের মধ্যে আওয়ামী লীগের তাণ্ডবের কারণে ঘরহারা হাজার হাজার মানুষ বাড়ি-ঘরে ফিরতে পারছে না। একদিকে মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষদের এলাকা ছাড়া করছে আর অন্যদিকে এসব পুরুষ শূন্য বাড়িতে আওয়ামী লীগ আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। সন্ধ্যার পরেই গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে নারী-শিশুদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেও এগিয়ে আসার কেউ নেই। এভাবেই সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগের নৃশংসতায় বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে। মিডিয়ার রহস্যজনক ভূমিকা ও মানবাধিকার কর্মীদের একচোখা মনোভাবের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্যাতিতরা।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, সকালে বাঁশ কেটে ভাতিজাদের জন্য দোলনা তৈরি করেন শহীদ হাফিজুল ইসলাম। তারপর ভ্যান নিয়ে ঝাউডাঙা যান। তখন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিছিল শুরু হয় চলমান গুম-হত্যার প্রতিবাদে। মিছিল কিছুদূর যেতেই পুলিশ অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে শহীদ হাফিজুল ইসলামের নাক দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার তালু দিয়ে বের হয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথীপ্রার্থী ও ঝাউডাঙা স্কুল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রানা পারভেজ বলেন- হাফিজ ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাক চেপে ধরে আমার স্কুলের সামনে এসে আমাকে খুঁজে বের করলেন। আমি দেখলাম স্রোতের মতো রক্ত বের হচ্ছে। তখন আমি তাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম। তিনি কিছুদূর আমার সাথে হেটে গেলেন। তারপর বসে পড়লেন। আমি তখন কোলে করে উনাকে নিয়ে হাসপাতাল গেলাম। ঝাউডাঙা ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় পর্যন্ত উঠার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বললেন ডাক্তার নাই। তারা ফেরত পাঠালেন। তখন আমি সেখান থেকে বের হয়ে একটা ভ্যান খুঁজে বের করলাম। তাকে ভ্যানে শুইয়ে দিলাম। ততক্ষণে হাফিজুল ইসলামের মুখ দিয়ে গ্যাজলা বের হতে শুরু করেছে। আমি ঝাউডাঙা স্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে যেতে নিতি মারা যান। তখন তাকে বাসার দিকে ফেরত নিয়ে আসি। লাশ বাড়িতে আনার পর আধা ঘন্টা পরে পুলিশ এসে পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ নিয়ে যেতে চাইলো। সবাই বুঝিয়ে শুনিয়ে বলার পর পুলিশ চলে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার এসে লাশ নিয়ে যায়। পরের দিন সকাল দশটায় ঝাউডাঙা সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদের পিতা লোকমান দফাদার বলেন- আমার সবগুলো সন্তানের মধ্যে হাফিজুল ছিল সবার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এলাকার সব মানুষের প্রিয় ছিল।
এক নজরে শহীদ মো. হাফিজুল ইসলাম
নাম: মোঃ হাফিজুল ইসলাম
পিতার নাম: লোকমান দফাদার, বয়স: ৭০ বছর, পেশা: কৃষি
মাতার নাম: আছিয়া খাতুন, বয়স ৫৫ বছর, পেশা গৃহিণী
ঠিকানা: গোবিন্দকাঠি, ওয়ার্ড # ৪, ১১ নং ক্যাউডাঙা সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা
ভাই বোন: পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে পঞ্চম
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
পেশা: ভ্যান চালক
শাহাদাতের তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ঝাউডাঙা ভ্যান স্ট্যান্ড

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍