হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ হাফেজ মোঃ হোসেন আলী
শহীদ হাফেজ মোঃ হোসেন আলী

শহীদ হাফেজ মোঃ হোসেন আলী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আওয়ামী জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জামায়াত সহ ১৮ দল ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য জনগণ রাজপথে নেমে আসে। ০৩.১২.২০১৩ তারিখ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ মোড়ে জনতা অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য অবস্থান করলে সরকারের পেটুয়া র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হলে জনগণ স্বতস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শহীদ হোসেন আলী এই প্রতিরোধ মিছিলে অংশ নিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটা গুলি এসে তার বুকের ডান পাশে লাগে এবং বুকের ভিতরে ঢুকে যায়, তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। দ্রুত তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকল সাথীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

হাফেজ মোঃ হোসেন আলী সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার সখিপুর গ্রামে ১০.১০.২০০১ ইং তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ ফজর আলী ও মাতা সুফিয়া খাতুনের তিন ছেলে এক মেয়ের সংসারে শহীদ হোসেন আলী সবার ছোট। পিতা-মাতার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বড় আলেম হিসাবে গড়ে তোলা। আট পারা হাফেজ পর্যন্ত হেফজ করেছিলেন কিন্তু সম্পূর্ণ করতে পারলেন না। কিন্তু সরকারের ঘাতক বাহিনী তাকে হত্যা করল।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
আওয়ামী জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জামায়াত সহ ১৮ দল ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য জনগণ রাজপথে নেমে আসে। ০৩.১২.২০১৩ তারিখ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ মোড়ে জনতা অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য অবস্থান করলে সরকারের পেটুয়া র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হলে জনগণ স্বতস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শহীদ হোসেন আলী এই প্রতিরোধ মিছিলে অংশ নিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটা গুলি এসে তার বুকের ডান পাশে লাগে এবং বুকের ভিতরে ঢুকে যায়, তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। দ্রুত তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকল সাথীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদের মা ঘটনার দুই দিন পূর্বে স্বপ্ন দেখেন যে হোসেন আলী অনেকের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু হঠাৎ করে সে পড়ে গেল। শহীদের চাচী স্বপ্নে দেখেন সে বাচ্চাদের নিয়ে একটি সুন্দর জায়গায় খেলা করছে। তিনি ছিলেন শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিবেদিত কর্মী
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জামায়াত সহ ১৮ দল ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য জনগণ রাজপথে নেমে আসে। ২০১৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর ফজরের নামাজের পর শহীদের বাড়ী থেকে এক কিলোমিটার দূরে খানবাদুর আহছানুল্লাহ কলেজ মোড়ে জনতা অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য অবস্থান করলে সরকারের পেটুয়া র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। তখন মাইকে ঘোষণা শুনে তিনিও প্রতিরোধ মিছিলে অংশ নেন। হঠাৎ একটা গুলি এসে তার বুকের ডান পাশে লাগে এবং বুকের ভিতরে ঢুকে মেরুদণ্ড বিদ্ধ করে। তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং ডাক্তারের কাছে নেয়া হলে কিছুক্ষণ পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
জানাজা ও দাফন:
শাহাদাতের দিন বিকেল চারটার দিকে রাজাশাদের মসজিদ আঙ্গিনায় শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াত আমীর রবিউর বাশার। জানাজা শেষে তাকে মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। দাফনের তের মাস পরে পোস্টমর্টেমের জন্য পুনরায় লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদ হোসেন আলীর মমতাময়ী মা সুফিয়া বেগম বলেন- আল্লাহ যেন আমার সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করেন এবং শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
শহীদের পিতা ফজর আলী গাজী বলেন- আল্লাহ যেন আমার ছেলের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশকে জুলুম বাজ সরকারের কবল থেকে রক্ষা করেন এবং এদেশে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন। আমাদের প্রিয় সন্তানের জন্য আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
০৩ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে দুই শিবিরকর্মী নিহত' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
১৮ দলের ডাকা অবরোধের চতুর্থ দিন মঙ্গলাবার সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী হোসেন আলি ও স্কুল ছাত্র আরিজুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও। সাতজন।
নিহত শিবির কর্মী হোসেন আলি গাজিরহাটের আতাপুর গ্রামের ফজর আলির ছেলে। অপরদিকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরিজুল ইসলাম দেবহাটার গরানবেড়িয়া গ্রামের ছফেদ আলির ছেলে বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান। তবে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
পুলিশের গুলিতে আহত শিবিরকর্মীরা হলেন আরিফুল ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, মিয়ারাজ আলি, রবিউল ইসলাম, আবদুর রশীদ। এরা সবাই ভাড়াসিমলা, দাদপুর, চালতেবাড়িয়া ও সখিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সকালে কালিগঞ্জের ভাড়াসিমলায় ও দেবহাটার সখিপুরে পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়ে পুলিশ ও যৌথবাহিনী গত রাত থেকে অবরোধের জন্য রাস্তায় ফেলে রাখা গাছের গুড়ি সরানোর চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গুলি ছুড়লে অবরোধকারীরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
এদিকে জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলছে। আশাশুনির প্রতাপনগর কলেজ অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক নজরে শহীদ শহীদ হোসেন আলী
পুরোনাম: শহীদ হোসেন আলী
পিতা: মোঃ ফজর আলী
মাতা: সুফিয়া খাতুন
জন্ম তারিখ: অক্টোবর ১০, ২০০১
ভাই বোন: চার ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ
স্থায়ী ঠিকানা: সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রাম
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সর্বশেষ পড়ালেখা: পারুলিয়া কওমিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার (৮ পারা হেফজ সম্পূর্ণ)
শাহাদাতের স্থানs: সাতক্ষীরা সখিপুর খানবাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ মোড়ে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍