হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন
শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন

শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২০১৩ সালের ৩রা জানুয়ারী দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শহীদ কামাল উদ্দীন। মিছিল থেকে ফেরার পথে অতর্কিতে পেছন থেকে ইট দিয়ে আঘাত করে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপর তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ করে দেয়া হয়। ছয়দিন বাসায় থাকার পর ৯ জানুয়ারী ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ হলে আবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তারগণ তাকে খুলনা হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনা হাসপাতালে নেয়ার পর জানা যায়, ইটের আঘাতে তার মস্তিষ্কের পর্দা ফেটে গেছে। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারী তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন ১৯৫২ সালের ১২ই মে সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত রহমত উল্লাহ ও মাতা গোলাপজানের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। শহীদ কামাল উদ্দীন ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলার আগরদাড়ী এক নং ওয়ার্ডের সভাপতি। সাংগঠনিক মানে তিনি রুকন ছিলেন। শাহাদাত কালে স্ত্রী মোসাঃ আলেয়া বেগম এবং তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২০১৩ সালের ৩রা জানুয়ারী দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শহীদ কামাল উদ্দীন। মিছিল থেকে ফেরার পথে অতর্কিতে পেছন থেকে ইট দিয়ে আঘাত করে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপর তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ করে দেয়া হয়। ছয়দিন বাসায় থাকার পর ৯ জানুয়ারী ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ হলে আবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তারগণ তাকে খুলনা হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনা হাসপাতালে নেয়ার পর জানা যায়, ইটের আঘাতে তার মস্তিষ্কের পর্দা ফেটে গেছে। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারী তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সালের ৩রা জানুয়ারী দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শহীদ কামাল উদ্দীন। মিছিল থেকে ফেরার পথে অতর্কিতে পেছন থেকে ইট দিয়ে আঘাত করে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপর তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ করে দেয়া হয়। ছয়দিন বাসায় থাকার পর ৯ জানুয়ারী ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ হলে আবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তারগণ তাকে খুলনা হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনা হাসপাতালে নেয়ার পর জানা যায়, ইটের আঘাতে তার মস্তিষ্কের পর্দা ফেটে গেছে। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারী তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
জানাজা ও দাফন:
সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল খালেকের ইমামতিতে বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদি পরিবারে শহীদের স্ত্রী আলেয়া বেগম ছাড়াও রয়েছে শহীদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। শহীদের বড় ছেলে ইয়ারুল ইসলামের বয়স ৩৫ বছর। তিনি মুদি ব্যবসায় জড়িত। এক ছেলেকে নিয়ে শহীদের পরিবার সামলে রাখছেন। শহীদের দ্বিতীয় সন্তান সেলিনা বেগম তাঁর এক মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। পরিবারের তৃতীয় সন্তান হারুনুর রশিদের সেলুনের ব্যবসা। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। চতুর্থ সন্তান জুবাইদা সুলতানারও এক ছেলে এক মেয়ে, তিনিও থাকেন স্বামীর সংসারে। শহীদি পরিবারের পঞ্চম সন্তান আবদুল্লাহ আল গালিব বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি সদস্য, দায়িত্ব পালন করছেন সাতক্ষীরা শহর শাখার সেক্রেটারী হিসেবে। শহীদ কামাল উদ্দীনের সর্বশেষ সন্তান ফারহানা।
এক নজরে শহীদ কামাল উদ্দীন গাইন-
নাম: কামাল উদ্দীন গাইন
পিতার নাম: মৃত রহমত উল্লাহ
মাতা: মৃত গোলাপজান
জন্ম তারিখ: ১২ মে, ১৯৫২
স্ত্রীর নাম: মোছাঃ আলেয়া বেগম, বয়স: ৬০ বছর, পেশা- গৃহিণী
ঠিকানা: গ্রাম- আগরদাড়ি, পোস্ট- আগরদাড়ি মাদরাসা সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা
সাংগঠনিক মান: রুকন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: আগরদাড়ি ১নং ওয়ার্ড সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার তারিখ: ৩ জানুয়ারি ২০১৩
আঘাতের ধরণ: মাথায় ইটের আঘাত
শাহাদাতের তারিখ: ৯ জানুয়ারি ২০১৯, খুলনা সরকারী হাসপাতাল

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍