হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মারুফ হোসেন
শহীদ মারুফ হোসেন

শহীদ মারুফ হোসেন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৫.০১.১৪ তারিখে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় যৌথবাহিনী শহীদ মোঃ মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করে সারাদিন আসামী ধরার নামে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। ২৬.০১.১৪ তারিখে ভোর ৫ টায় সরকারের কিলিং মিশনের অংশ হিসাবে তারা মোঃ মারুফ হোসেনকে নারিকেলি গ্রামে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বুকে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মারুফ হোসেন ছোট সাতক্ষীরার দেবহাটা থানাধীন কুলিয়া গাঙাটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি কুলিয়া বাজারে মুদির ব্যবসা করতেন। পিতা আশরাফুল আলম ও মাতা আছিয়া বিবির আট সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। এজন্য সবাই তাকে ছোট বলেই ডাকতো। শহীদ মারুফ হোসেন ছোট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। শাহাদাত কালে তিনি মাত্র দশ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রেখে যান।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২৫.০১.১৪ তারিখে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় যৌথবাহিনী শহীদ মোঃ মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করে সারাদিন আসামী ধরার নামে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। ২৬.০১.১৪ তারিখে ভোর ৫ টায় সরকারের কিলিং মিশনের অংশ হিসাবে তারা মোঃ মারুফ হোসেনকে নারিকেলি গ্রামে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বুকে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ ছিলেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
২৪ জানুয়ারী ২০১৪, শহীদ মারুফ হোসেন ছোটকে শশুড়বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
পরে তাকে নিয়ে দেবহাটা উপজেলার উত্তর শাখার সেক্রেটারী আবুল কালামের বাড়িতে অভিযান চালায় তারা। সেখান থেকে তারা আবুল কালামকেও গ্রেফতার করে। ২৪ তারিখ সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় শিবির নেতা আবুল কালাম ও মারুফ হোসেন ছোটকে গ্রেফতারের নিউজ প্রচার হয়। এতোকিছু উপেক্ষা করে ২৬ জানুয়ারী ভোর ৫:৩০টায় শহীদের এলাকায় নিয়ে আবুল কালাম ও মারুফ হোসেন ছোটকে গুলি করে হত্যা করে যৌথবাহিনী।
শহীদের প্রথম জানাজা ২৬ জানুয়ারি আসরের নামাজের পর শহীদের শশুড়বাড়ি এল্লারচরে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা শহীদের মাগরিবের নামাজের পর বাড়ির পাশে বলফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শহীদের আপন জনদের কথা:
পিতা: আল্লাহ আমার সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন।
বড় ভাই: আমার ভাইকে ইসলামী আন্দোলন করার কারণে হত্যা করা হয়েছে। তার কুরবানীর মাধ্যমে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোক।
শহীদের পরিবার
শহীদ মারুফ হোসেন ছোটর স্ত্রী তাসলিমা বেগমের বয়স মাত্র বিশ বছর। শহীদের একমাত্র সন্তান তামিমার বর্তমান বয়স ছয় বছর। তামিমাকে নিয়ে শহীদের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকেন। ভাই-বোনদের মধ্যে শহীদের বড় ভাই জাকির হোসেন রাজমিস্ত্রী, শহীদের বোন মাসুরা খাতুন এক ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে স্বামীর সংসারে আছে। শহীদের অপর বোন মাশকুরা খাতুন ও এক মেয়ে নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। শহীদের আরেক বড় ভাই মাগফুর হোসেন জামায়াত কর্মী, তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী। শহীদ মারুফ হোসেন আরেক বোন সুমাইয়া খাতুন এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। শহীদের অপর বোন রীমাও এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে তার স্বামীর সাথে থাকেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৬ জানুয়ারি ২০১৪, দৈনিক প্রথম আলো 'সাতক্ষীরায় 'বন্দুকযুদ্ধে' শিবিরের দুই নেতা নিহত' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় আজ রোববার ভোরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' শিবিরের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাসের দাবি, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার নারকেলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবিরের উপজেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম ও শিবিরের সদস্য মারুফ হোসেন ওরফে ছোট।
পরিবারের পক্ষ থেকে কালামের রাজনৈতিক পরিচয় ও পদের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মারুফের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী।
ওসি তারক বিশ্বাসের ভাষ্য, গতকাল শনিবার ভোরে কালাম ও মারুফকে দেবহাটার কুলিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের নিয়ে গতকাল দিবাগত রাতে যৌথ বাহিনী অভিযানে নামে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শেষে আজ ভোরে নারকেলি গ্রামের জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পৌঁছে যৌথ বাহিনী। এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যৌথ বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ওই দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে ৫০টি গুলি ও ১৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। যৌথ বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় কালাম ও মারুফ গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌহিদুজ্জামান তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
এক নজরে শহীদ মারুফ হোসেন ছোট
পুরোনাম: শহীদ মারুফ হোসেন ছোট
পিতার নাম: আশরাফুল আলম, বয়স: ৬৫, পেশা: কৃষি
মাতার নাম: আছিয়া বিবি, বয়স: ৫২, পেশা: গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: তাসলিমা বেগম, বয়স ২০ বছর, পিতার বাড়িতে থাকেন
ভাই বোন: চার ভাই চার বোনের মধ্যে সবার ছোট
সন্তান: এক মেয়ে (শাহাদাতকালে বয়স ছিল ১০ মাস)
স্থায়ী ঠিকানা: কারী সাহেবের বাড়ী, গ্রাম- কুলিয়া গাঙাটি পাড়া পোস্ট- গুরুগ্রাম, থানা- দেবহাটা, জেলা- সাতক্ষীরা
গ্রেফতার হওয়ার তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০১৪
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ২৬ জানুয়ারি ২০১৪, বাড়ির পাশে গুলি করে হত্যা করে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍