শহীদ মোঃ নাজিম উদ্দীন মোল্লা
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ১৯৮৫ সালে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামে জন্ম নেওয়া এক নম্র, পরিশ্রমী ও দায়বদ্ধ তরুণ। অভাবের সংসারে বড় হয়ে হলেও তিনি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তারুণ্যেই পরিবারের প্রয়োজনে চার বছর তিনি দুবাই ছিলেন অতঃপর দেশে ফিরে মাত্র দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন। নাজিমের স্ত্রী শারমিন এখন বাবার বাড়িতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩ নাজিম সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল। নবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং সেদিনই শাহাদাত বরণ করেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে নাজিম ছিলেন তাদের ভরসা, স্বপ্ন ও আগামীর প্রতিশ্রুতি যার অবর্তমানে ভেঙে যায় একটি দরিদ্র পরিবারের জীবনসমগ্র। তবু তার সাহস, প্রতিবাদী মনোভাব ও নিষ্ঠা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে আপনজনদের হৃদয়ে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা
মানিকগঞ্জ-8
১. পরিচিতি
পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ও একমাত্র ছেলে সন্তান শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা ১৯৮৫ইং সনে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল নামক গ্রামে জন্যগ্রহণ করেন। অভাবের সংসারে পিতা-মাতা সন্তানদের দু'মুঠো ভাতের যোগান দিতে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। তবু নাজিম উদ্দীন মোল্লা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। অতঃপর পিতার সাথে তাকেও ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। তারুণ্যেই পরিবারের প্রয়োজনে চার বছর তিনি দুবাই ছিলেন অতঃপর দেশে ফিরে মাত্র দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন। নাজিমের স্ত্রী শারমিন এখন বাবার বাড়িতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাজিম সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ফ্লাইটের চারদিন আগে পুলিশের বর্বরতায় প্রাণ হারান। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
২. নবী (সা) এর ভালোবাসায় যেভাবে তিনি চলে গেলেন
দিনটি ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সেদিন ছিল ইসলাম ও রাসূলকে (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে ইসলামী দলসমূহের ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতালের সমর্থনে সারাদেশের মত মানিকগঞ্জের গোবিন্দল বাজারের ব্যাপক মিছিল ও পিকেটিং হয়। কারো ফোন পেয়ে স্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও তিনি সেই মিছিলে শামিলের জন্য বের হয়ে যান। পুলিশ তৌহিদী জনতার উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা এ ঘটনায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন। নাজিমের বোন সালমা জানান, ঘটনার দিন পুলিশ খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে। সিংগাইর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (মিঠু) ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন কাউন্সিলর জানান, পুলিশ নাজিম উদ্দিনকে আটক করে রাখে। ঘটনা শেষে চলে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করে ফেলে গেছে। হঠাৎ মা একটি ফোন পান- "মা আমার গুলি লাগছে। ঢাকায় নিয়ে যান...।" আহতাবস্থায় এই ছিল নাজিমের মায়ের কাছে শেষ আর্তি। অতঃপর তাকে সিংগাইর হাসপাতালে নেয়ার পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখে। যার ফলে বিনা চিকিৎসায় সেখানেই শাহাদাতের অমিয় সুধ্য পান করেন। তাইতো: নাজিম মোল্লার মায়ের আহাজারি, আমি কই বাবা তুমি কই যাও, মা আমি আহি, আর আছে নাই, আমার বাবায় চিকিৎসার অভাবে মরছে, এত টাকা থাহার পরও বাবারে চিকিৎসা করাইতে পারি নাই।' এভাবেই মাতম তুলে কাঁদছেন গোবিন্দল গ্রামে নিহত নাজিম মোল্লার মা রাজিয়া বেগম। একজন শহীদ হিসেবে কোন প্রকার গোছল ছাড়াই সেই রক্তাক্ত কাপড়েই তাকে দাফন করা হয়।
৩. আমার সম্পত্তি হারিয়ে গেছে
নাজিম মোল্লার বাবা আড়ত ব্যবসায়ী মজনু মোল্লা আজ যেন সত্যি মজনু (পাগল) হয়ে গেছেন। হু হু করে কাঁদেন আর বলেন, "আমার বংশের বাতি দেওয়ার কেউ রইলো না।" সবার ছোট্ট বোন ৪র্থ শ্রেণির নাজমা বলে-ভাইয়া আমাকে গত রাতেও পড়াইছে, আর বলেছে 'তোমাকে ডাক্তার হতে হবে'। শাহাদাতের পর বড়বোন স্বপ্নে দেখেছে 'নাজিম ভাল হয়ে বাড়িতে এসেছে আর বলছে-আমি ভাল হয়ে গেছি।' মা স্বপ্নে দেখে 'নাজিম ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি গায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় আর তিনি দৌড় দিয়ে তাকে ধরতে গেছেন।' নাজিম মারা যাওয়ার ১৪ দিনের মাথায় তার দাদি কাজেরুন্নেছা নাতির শোকে মারা গেছেন। বাবা মজনু মোল্লার আশংকা ওর মা রাজিয়া বেগম যে ভাবে শুধু কাঁদে আর বলে 'আমার সম্পত্তি হারিয়ে গেছে' সেও হয়তো বেশি দিন বাঁচবে না। ১/২ বছরের ভেতরই মনে হয় মারা যাবে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা (০৫৭)
বয়স: ২৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৪.০২.২০১৩, শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০২.২০১৩, সকাল ১০-১১টা।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গোবিন্দল, ইউনিয়ন: সিঙ্গাইর পৌরসভা, উপজেলা: সিঙ্গাইর, জেলা: মানিকগঞ্জ।
পিতার নাম, বয়স ও পেশা: মো: মজনু মোল্লা, ৫৫ বছর, ঢাকার গাবতলীতে ডাব নারিকেলের আড়তদারি ব্যবসা।
মায়ের নাম, বয়স ও পেশা। রাজিয়া বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ৯ শতক জায়গার উপর পুরাতন টিনের ছোট একটি ঘর, খুবই দরিদ্র। নিজেদের কোন জমি-জমা নেই।
ভাই-বোনের বিবরণ: সালমা (৩০) গৃহিণী। আছমা (২৮) গৃহিণী, মমতাজ (২৩) গৃহিণী, নাজমা বেগম (৮) ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।
মানিকগঞ্জ-8
১. পরিচিতি
পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ও একমাত্র ছেলে সন্তান শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা ১৯৮৫ইং সনে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল নামক গ্রামে জন্যগ্রহণ করেন। অভাবের সংসারে পিতা-মাতা সন্তানদের দু'মুঠো ভাতের যোগান দিতে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। তবু নাজিম উদ্দীন মোল্লা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। অতঃপর পিতার সাথে তাকেও ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। তারুণ্যেই পরিবারের প্রয়োজনে চার বছর তিনি দুবাই ছিলেন অতঃপর দেশে ফিরে মাত্র দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন। নাজিমের স্ত্রী শারমিন এখন বাবার বাড়িতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাজিম সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ফ্লাইটের চারদিন আগে পুলিশের বর্বরতায় প্রাণ হারান। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
২. নবী (সা) এর ভালোবাসায় যেভাবে তিনি চলে গেলেন
দিনটি ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সেদিন ছিল ইসলাম ও রাসূলকে (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে ইসলামী দলসমূহের ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতালের সমর্থনে সারাদেশের মত মানিকগঞ্জের গোবিন্দল বাজারের ব্যাপক মিছিল ও পিকেটিং হয়। কারো ফোন পেয়ে স্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও তিনি সেই মিছিলে শামিলের জন্য বের হয়ে যান। পুলিশ তৌহিদী জনতার উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা এ ঘটনায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন। নাজিমের বোন সালমা জানান, ঘটনার দিন পুলিশ খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে। সিংগাইর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (মিঠু) ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন কাউন্সিলর জানান, পুলিশ নাজিম উদ্দিনকে আটক করে রাখে। ঘটনা শেষে চলে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করে ফেলে গেছে। হঠাৎ মা একটি ফোন পান- "মা আমার গুলি লাগছে। ঢাকায় নিয়ে যান...।" আহতাবস্থায় এই ছিল নাজিমের মায়ের কাছে শেষ আর্তি। অতঃপর তাকে সিংগাইর হাসপাতালে নেয়ার পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখে। যার ফলে বিনা চিকিৎসায় সেখানেই শাহাদাতের অমিয় সুধ্য পান করেন। তাইতো: নাজিম মোল্লার মায়ের আহাজারি, আমি কই বাবা তুমি কই যাও, মা আমি আহি, আর আছে নাই, আমার বাবায় চিকিৎসার অভাবে মরছে, এত টাকা থাহার পরও বাবারে চিকিৎসা করাইতে পারি নাই।' এভাবেই মাতম তুলে কাঁদছেন গোবিন্দল গ্রামে নিহত নাজিম মোল্লার মা রাজিয়া বেগম। একজন শহীদ হিসেবে কোন প্রকার গোছল ছাড়াই সেই রক্তাক্ত কাপড়েই তাকে দাফন করা হয়।
৩. আমার সম্পত্তি হারিয়ে গেছে
নাজিম মোল্লার বাবা আড়ত ব্যবসায়ী মজনু মোল্লা আজ যেন সত্যি মজনু (পাগল) হয়ে গেছেন। হু হু করে কাঁদেন আর বলেন, "আমার বংশের বাতি দেওয়ার কেউ রইলো না।" সবার ছোট্ট বোন ৪র্থ শ্রেণির নাজমা বলে-ভাইয়া আমাকে গত রাতেও পড়াইছে, আর বলেছে 'তোমাকে ডাক্তার হতে হবে'। শাহাদাতের পর বড়বোন স্বপ্নে দেখেছে 'নাজিম ভাল হয়ে বাড়িতে এসেছে আর বলছে-আমি ভাল হয়ে গেছি।' মা স্বপ্নে দেখে 'নাজিম ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি গায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় আর তিনি দৌড় দিয়ে তাকে ধরতে গেছেন।' নাজিম মারা যাওয়ার ১৪ দিনের মাথায় তার দাদি কাজেরুন্নেছা নাতির শোকে মারা গেছেন। বাবা মজনু মোল্লার আশংকা ওর মা রাজিয়া বেগম যে ভাবে শুধু কাঁদে আর বলে 'আমার সম্পত্তি হারিয়ে গেছে' সেও হয়তো বেশি দিন বাঁচবে না। ১/২ বছরের ভেতরই মনে হয় মারা যাবে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: নাজিম উদ্দীন মোল্লা (০৫৭)
বয়স: ২৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৪.০২.২০১৩, শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০২.২০১৩, সকাল ১০-১১টা।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গোবিন্দল, ইউনিয়ন: সিঙ্গাইর পৌরসভা, উপজেলা: সিঙ্গাইর, জেলা: মানিকগঞ্জ।
পিতার নাম, বয়স ও পেশা: মো: মজনু মোল্লা, ৫৫ বছর, ঢাকার গাবতলীতে ডাব নারিকেলের আড়তদারি ব্যবসা।
মায়ের নাম, বয়স ও পেশা। রাজিয়া বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ৯ শতক জায়গার উপর পুরাতন টিনের ছোট একটি ঘর, খুবই দরিদ্র। নিজেদের কোন জমি-জমা নেই।
ভাই-বোনের বিবরণ: সালমা (৩০) গৃহিণী। আছমা (২৮) গৃহিণী, মমতাজ (২৩) গৃহিণী, নাজমা বেগম (৮) ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍