শহীদ শফিকুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২৫ অক্টোবর শুক্রবার সারাদেশে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, অবৈধ, আ'লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি, বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ ও মিছিল বের করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পূর্বকাশিমারি বাজার এলাকায় ১৮ দলের মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
মোঃ শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলার জয়নগর গ্রামে ২৭ এপ্রিল ১৯৬৮ জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র পিতা-মাতার ১১ জন সদস্যের বড় পরিবারে তেমন পড়ালেখা করতে পারেননি। ৬ ভাই ও ৫ বোনের মাঝে শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলাম ছিলেন দ্বিতীয়। বিশাল পরিবারের সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়, প্রতিটি কর্মসূচীতেই তারা সবাই সর্বাগ্রে থাকতেন। শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলামের তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছে। গরীব পরিবার, তিনি স'মিলের মিস্ত্রি ছিলেন। তার পিতা-মাতা এখনো বেঁচে আছেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২৫ অক্টোবর শুক্রবার সারাদেশে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, অবৈধ, আ'লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি, বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ ও মিছিল বের করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পূর্বকাশিমারি বাজার এলাকায় ১৮ দলের মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা:
স্বল্প শিক্ষিত হলেও শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলাম যে কোন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণে সর্বাগ্র থাকতেন। তার পরিবারের সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তার পিতা বলেন, আমার সব ছেলেদের আমি এ আন্দোলনে সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে বলি। তাদের একজনকে আল্লাহ কবুল করেছেন। তার ভাই বলেন, আমার ভাই শহীদ শফিকুল ইসলাম কোন কর্মসূচী বাদ দিতেন না। তার উপর ৬/৭ মামলা হওয়াতে আমরা চাইতাম তিনি যেন একটু কম বের হন। একদিন আমরা সব ভাই উনাকে না বলে দূরের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে বের হই। কিন্তু বাসে উঠে দেখি তিনি আমাদের পূর্বেই বাসে চড়ে আছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারী, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সালের মার্চ মাসে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়ার বিজিবির গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন, দুই ভাই আরিফ বিল্লাহ ও রুহুল আমিন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার পর শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শামসুর রহমান।
দুই হাজার তের সালের ২৫ অক্টোবর শুক্রবার, সারা দেশে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, অবৈধ, আ'লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি, বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত। উক্ত মিছিলে শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারী তাঁর ছেলে আবুল হাসানকে নিয়ে শামিল হন। মিছিলে তিনি শ্লোগান ধরেন এক পর্যায়ে পড়ে গিয়ে বুকে ইটের আঘাত লেগে শহীদ হন শফিকুল ইসলাম শিকারী।
শহীদের ছেলে আবুল হাসান বলেন- আমরা সাইকেলে করে মিছিলের উদ্দেশ্যে কাশিমারি নতুন বাজার পৌঁছলে আব্বু আমাকে পাশের বাড়িতে সাইকেলটা রেখে আসতে বলেন। আমি সাইকেল রেখে আসার পর দেখি আব্বুকে পাশের একটা দোকানে শোয়ানো। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে দেখলেন। ডাক্তার আব্বুকে মৃত ঘোষণা করলেন।
২৫ অক্টোবর ২০১৩, বিকেল পাঁচটায় মাদানী ইসলামিক ফাউন্ডেশন মাঠে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জয় নগরের পীর সাহেব মাওলানা নেছারউদ্দীন জানাজার ইমামতি করেন। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আপনজনদের কথা
আবুল হাসান আরো বলেন- আব্বু একেবারে নরম প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। আমরা মিছিলে যাবার আগে একসাথে বসে খেয়েছি। আমাদের বাসায় সেদিন হাঁসের মাংস রান্না হয়েছে। আব্বু গোশতের পেয়ালা আমার দিকে ঠেলে দিয়ে বললেন- আমার তো খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে, তোমরা খাও।
ওইদিনই আব্বু আমাকে নতুন সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। সকাল থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এ জন্য আমরা মিছিলে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তিনি বললেন- আমরা না গেলে কারা প্রতিবাদ করবে?
স্বল্প শিক্ষিত হলেও শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলাম যে কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে সর্বাগ্র থাকতেন। তার পরিবারের সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তার পিতা বলেন, আমার সব ছেলেদের আমি এ আন্দোলনে সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে বলি। তাদের একজনকে আল্লাহ কবুল করেছেন।
শহীদের ভাই বলেন, আমার ভাই শহীদ শফিকুল ইসলাম কোন কর্মসূচী বাদ দিতেন না। তার উপর ৬/৭টি মামলা হওয়াতে আমরা চাইতাম তিনি যেন একটু কম বের হন। একদিন আমরা সব ভাই উনাকে না বলে দূরের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে বের হই। কিন্তু বাসে উঠে দেখি তিনি আমাদের পূর্বেই বাসে চড়ে আছেন। তিনি খুবই সরল সহজ ও ভাল মানুষ ছিলেন। আল্লাহর পথে শহীদ হওয়াতে আমরা গর্বিত।
শহীদের পরিবার
শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারীর পরিবারে স্ত্রী মোসাঃ মনোয়ারা বেগম ছাড়াও রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। পরিবারের বড় সন্তান আবুল হাসানের বয়স বাইশ বছর। তিনি শ্যামনগর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী। শহীদের দ্বিতীয় সন্তান আবুল হোসেনের বয়স উনিশ বছর, এইচএসসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের তৃতীয় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে ফাতুমা খাতুন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মী, পড়ছেন নবম শ্রেণীতে। শহীদের সর্বশেষ সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনের বয়স সাত বছর।
শহীদের পরিবারে এখন উপার্জনক্ষম কোন ব্যক্তি নাই। শহীদের বড় ছেলে আবুল হাসান পড়াশুনার পাশাপাশি মুরগির খামার করে সংসারে হাল ধরার চেষ্টা করছেন।
এক নজরে শহীদ শফিকুল ইসলাম
নাম: শফিকুল ইসলাম শিকারী
পিতার নাম: মোঃ আনসার আলী শিকারী
মাতার নাম: মোসাঃ কুলসুম বিবি
স্ত্রীর নাম: মোসাঃ মনোয়ারা বেগম
ঠিকানা: গ্রাম- জয়নগর, ডাকঘর- গোবিন্দপুর থানা- শ্যামনগর, জেলা- সাতক্ষীরা
ভাই বোন: ছয় ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
সন্তান: তিন ছেলে এক মেয়ে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩, কাশিমারি নতুন বাজার
আঘাতের ধরন: মিছিলে শ্লোগান দেয়ার সময় পড়ে যান এবং বকে ইটের আঘাত পেয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২৫ অক্টোবর শুক্রবার সারাদেশে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, অবৈধ, আ'লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি, বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ ও মিছিল বের করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পূর্বকাশিমারি বাজার এলাকায় ১৮ দলের মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা:
স্বল্প শিক্ষিত হলেও শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলাম যে কোন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণে সর্বাগ্র থাকতেন। তার পরিবারের সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তার পিতা বলেন, আমার সব ছেলেদের আমি এ আন্দোলনে সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে বলি। তাদের একজনকে আল্লাহ কবুল করেছেন। তার ভাই বলেন, আমার ভাই শহীদ শফিকুল ইসলাম কোন কর্মসূচী বাদ দিতেন না। তার উপর ৬/৭ মামলা হওয়াতে আমরা চাইতাম তিনি যেন একটু কম বের হন। একদিন আমরা সব ভাই উনাকে না বলে দূরের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে বের হই। কিন্তু বাসে উঠে দেখি তিনি আমাদের পূর্বেই বাসে চড়ে আছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারী, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সালের মার্চ মাসে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়ার বিজিবির গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন, দুই ভাই আরিফ বিল্লাহ ও রুহুল আমিন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার পর শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শামসুর রহমান।
দুই হাজার তের সালের ২৫ অক্টোবর শুক্রবার, সারা দেশে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, অবৈধ, আ'লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি, বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত। উক্ত মিছিলে শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারী তাঁর ছেলে আবুল হাসানকে নিয়ে শামিল হন। মিছিলে তিনি শ্লোগান ধরেন এক পর্যায়ে পড়ে গিয়ে বুকে ইটের আঘাত লেগে শহীদ হন শফিকুল ইসলাম শিকারী।
শহীদের ছেলে আবুল হাসান বলেন- আমরা সাইকেলে করে মিছিলের উদ্দেশ্যে কাশিমারি নতুন বাজার পৌঁছলে আব্বু আমাকে পাশের বাড়িতে সাইকেলটা রেখে আসতে বলেন। আমি সাইকেল রেখে আসার পর দেখি আব্বুকে পাশের একটা দোকানে শোয়ানো। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে দেখলেন। ডাক্তার আব্বুকে মৃত ঘোষণা করলেন।
২৫ অক্টোবর ২০১৩, বিকেল পাঁচটায় মাদানী ইসলামিক ফাউন্ডেশন মাঠে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জয় নগরের পীর সাহেব মাওলানা নেছারউদ্দীন জানাজার ইমামতি করেন। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আপনজনদের কথা
আবুল হাসান আরো বলেন- আব্বু একেবারে নরম প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। আমরা মিছিলে যাবার আগে একসাথে বসে খেয়েছি। আমাদের বাসায় সেদিন হাঁসের মাংস রান্না হয়েছে। আব্বু গোশতের পেয়ালা আমার দিকে ঠেলে দিয়ে বললেন- আমার তো খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে, তোমরা খাও।
ওইদিনই আব্বু আমাকে নতুন সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। সকাল থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এ জন্য আমরা মিছিলে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তিনি বললেন- আমরা না গেলে কারা প্রতিবাদ করবে?
স্বল্প শিক্ষিত হলেও শহীদ মোঃ শফিকুল ইসলাম যে কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে সর্বাগ্র থাকতেন। তার পরিবারের সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তার পিতা বলেন, আমার সব ছেলেদের আমি এ আন্দোলনে সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে বলি। তাদের একজনকে আল্লাহ কবুল করেছেন।
শহীদের ভাই বলেন, আমার ভাই শহীদ শফিকুল ইসলাম কোন কর্মসূচী বাদ দিতেন না। তার উপর ৬/৭টি মামলা হওয়াতে আমরা চাইতাম তিনি যেন একটু কম বের হন। একদিন আমরা সব ভাই উনাকে না বলে দূরের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে বের হই। কিন্তু বাসে উঠে দেখি তিনি আমাদের পূর্বেই বাসে চড়ে আছেন। তিনি খুবই সরল সহজ ও ভাল মানুষ ছিলেন। আল্লাহর পথে শহীদ হওয়াতে আমরা গর্বিত।
শহীদের পরিবার
শহীদ শফিকুল ইসলাম শিকারীর পরিবারে স্ত্রী মোসাঃ মনোয়ারা বেগম ছাড়াও রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। পরিবারের বড় সন্তান আবুল হাসানের বয়স বাইশ বছর। তিনি শ্যামনগর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী। শহীদের দ্বিতীয় সন্তান আবুল হোসেনের বয়স উনিশ বছর, এইচএসসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের তৃতীয় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে ফাতুমা খাতুন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মী, পড়ছেন নবম শ্রেণীতে। শহীদের সর্বশেষ সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনের বয়স সাত বছর।
শহীদের পরিবারে এখন উপার্জনক্ষম কোন ব্যক্তি নাই। শহীদের বড় ছেলে আবুল হাসান পড়াশুনার পাশাপাশি মুরগির খামার করে সংসারে হাল ধরার চেষ্টা করছেন।
এক নজরে শহীদ শফিকুল ইসলাম
নাম: শফিকুল ইসলাম শিকারী
পিতার নাম: মোঃ আনসার আলী শিকারী
মাতার নাম: মোসাঃ কুলসুম বিবি
স্ত্রীর নাম: মোসাঃ মনোয়ারা বেগম
ঠিকানা: গ্রাম- জয়নগর, ডাকঘর- গোবিন্দপুর থানা- শ্যামনগর, জেলা- সাতক্ষীরা
ভাই বোন: ছয় ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
সন্তান: তিন ছেলে এক মেয়ে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩, কাশিমারি নতুন বাজার
আঘাতের ধরন: মিছিলে শ্লোগান দেয়ার সময় পড়ে যান এবং বকে ইটের আঘাত পেয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍