হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ শহীদুল ইসলাম শানা
শহীদ শহীদুল ইসলাম শানা

শহীদ শহীদুল ইসলাম শানা

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী। এ কারণে তার নামে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। এ জন্য তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সেদিন ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বাঘারপাড়ায় তার মামা শশুড়ের বাড়িতে আত্মোগোপনে ছিলেন। মামা শশুড়ের আড়ত ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন এমন সময় পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার রাত তিনটার দিকে যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণারে নিয়ে তাঁর গলায় বুকে ও তলপেটে গুলি করে হত্যা করে। এরপর পুলিশ তার লাশ যশোরের শার্শা থানায় রেখে আসে।

এক নজরে শহীদ শহীদুল ইসলাম
নাম: শহীদুল ইসলাম
পিতার নাম: মৃত নূর আলী শানা
মাতার নাম: জয়তুন নেসা, বয়স: ৬৫
স্ত্রীর নাম: খাইরুননেসা পিয়া, বয়স: ৩২, গৃহিণী:

ঠিকানা: গ্রাম- কাশিমপুর, ইউনিয়ন- আগরদাড়ি, থানা- সদর, সাতক্ষীরা
ভাই বোন: সাত ভাই এক বোন
সন্তান: নিঃসন্তান
সাংগঠনিক মান: কর্মী
শাহাদাতের তারিখ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণার

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ শহীদুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলার আগরদাড়ির নূর আলী শানা ও জয়তুন নেসার পুত্র। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলার আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুল খালেকে ভাগ্নে ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহীদুল ইসলামকে যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণারে গুলি করে হত্যা করে আওয়ামী আজ্ঞাবাহী খুনি পুলিশ সদস্যরা। শাহাদাতকালে তাঁর বয়স ছিল আটত্রিশ বছর।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
শহীদ শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী। এ কারণে তার নামে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। এ জন্য তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সেদিন ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বাঘারপাড়ায় তার মামা শশুড়ের বাড়িতে আত্মোগোপনে ছিলেন। মামা শশুড়ের আড়ত ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন এমন সময় পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার রাত তিনটার দিকে যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণারে নিয়ে তাঁর গলায় বুকে ও তলপেটে গুলি করে হত্যা করে। এরপর পুলিশ তার লাশ যশোরের শার্শা থানায় রেখে আসে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলী করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
শহীদ শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী। এ কারণে তার নামে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। এ জন্য তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সেদিন ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বাঘারপাড়ায় তার মামা শশুড়ের বাড়িতে আত্মোগোপনে ছিলেন। মামা শশুড়ের আড়ত ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন এমন সময় পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাকে প্রথমে বাঘারপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়। শহীদের পরিবারের সাথে তারা ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকার জন্য দরকষাকষি করে। একপর্যায়ে তারা ত্রিশ হাজার টাকা চাইলে শহীদের পরিবার টাকা দেয়। এরপর তাকে বাঘারপাড়া থানায় নিয়ে যায়। সেখানে শহীদের স্ত্রী খাইরুননেসাকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে বিদায় করে। বলেন পরদিন বৃহস্পতিবার দুইটায় আসতে। বৃহস্পতিবার দুইটায় যাওয়ার পর ওসি গোলাম কিবরিয়া শহীদ শহীদুল ইসলামকে নিয়ে বের হবার সময় শহীদুল ইসলামের স্ত্রীকে একই মাহেন্দ্রোতে তুলে নেন। এবং কিছুদূর যাবার পর মিনিট বিশেক পর স্ত্রীকে নামিয়ে দিয়ে শহীদুল ইসলামকে নিয়ে যান। এরপর শুক্রবার রাত তিনটার দিকে যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণারে নিয়ে তাঁর গলায় বুকে ও তলপেটে গুলি করে হত্যা করে। এরপর পুলিশ তার লাশ যশোরের শার্শা থানায় রেখে আসে।
শহীদ শহীদুল ইসলামের জানাজা শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাশিমপুর সরকারি প্রাইমারী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
গণমাধ্যমে "যশোরে 'বন্দুকযুদ্ধে' জামায়াত কর্মী নিহত" শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচারিত হয়-
যশোরে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' শহিদুল ইসলাম নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের রামনগর পিকনিক কর্নার এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী শানার ছেলে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের রামনগর পিকনিক কর্নার এলাকায় একটি সাদা মাইক্রোবাসকে চ্যালেঞ্জ করে পুলিশের একটি দল। তিনি দাবি করেন, এসময় মাইক্রোবাস থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ ও গুলি ছোঁড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এসময় শহিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এক নজরে শহীদ শহীদুল ইসলাম
নাম: শহীদুল ইসলাম
পিতার নাম: মৃত নূর আলী শানা
মাতার নাম: জয়তুন নেসা, বয়স: ৬৫
স্ত্রীর নাম: খাইরুননেসা পিয়া, বয়স: ৩২, গৃহিণী:

ঠিকানা: গ্রাম- কাশিমপুর, ইউনিয়ন- আগরদাড়ি, থানা- সদর, সাতক্ষীরা
ভাই বোন: সাত ভাই এক বোন
সন্তান: নিঃসন্তান
সাংগঠনিক মান: কর্মী
শাহাদাতের তারিখ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, যশোর রামনগর পিকনিক কর্ণার