হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ সিরাজুল ইসলাম সরদার
শহীদ সিরাজুল ইসলাম সরদার

শহীদ সিরাজুল ইসলাম সরদার

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮.৪.২০১৪ তারিখ বেলা সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে দেবহাটা থানা পুলিশ সিরাজুল ইসলাম সরদারের বাড়িতে যায়। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে প্রিজনভ্যানে তোলে। তার ছোট ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করে বলে আমার বাবারে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ। তাদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। এরপর আর থানায় তার সাথে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে পাতনার বিলের গুচ্ছগ্রামের কেওড়াতলা নামকস্থানে ফেলে বুকের ডান পাশে গুলি করে। তিনি ঘটনাস্থলেই।
এক নজরে শহীদ মো. সিরজুল ইসলাম
নাম: মোঃ সিরাজুল ইসলাম
পিতার নাম: মৃত বাবর আলী
মাতার নাম: ছবিরন বিবি
স্ত্রীর নাম: মনোয়ারা খাতুন
ঠিকানা: সখীপুর, চিনেডাঙ্গা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
ভাই বোন: একমাত্র সন্তান
সন্তান: ১ ছেলে ২ মেয়ে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আটকের দিন: ২৮ এপ্রিল, নিজ বাড়িতে থেকে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০১৪ ফজরের সময়, গুলি করে হত্যা

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার চিনেডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত বাবর আলী ও মাতা ছবিরন বিবির একমাত্র ছেলে। জামায়াত কর্মী শহীদ সিরাজুল ইসলাম পেশায় একজন তরকারী বিক্রেতা ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২৮.৪.২০১৪ তারিখ বেলা সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে দেবহাটা থানা পুলিশ সিরাজুল ইসলাম সরদারের বাড়িতে যায়। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে প্রিজনভ্যানে তোলে। তার ছোট ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করে বলে আমার বাবারে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ। তাদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। এরপর আর থানায় তার সাথে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে পাতনার বিলের গুচ্ছগ্রামের কেওড়াতলা নামকস্থানে ফেলে বুকের ডান পাশে গুলি করে। তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা এ জনপদকে নিয়ে বাতিলের ষড়যন্ত্রও যেন নির্ভেদ্য। তথাকথিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী হায়েনাদের নখরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। কালিগঞ্জে শহীদ আলী মোস্তফার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ জনপদের শহীদি মিছিলের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এ মিছিলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হক, শামসুর রহমান, রুহুল আমিন মোড়ল, শেখ রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান খান রেজা, শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান, হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, আলী মোস্তফা, ইকবাল হাসান তুহিন, আবু হানিফ ছোটনসহ আরো অনেকে।
২০১৩ সাল থেকে পুরো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উত্তাল ছিল। মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ নানা রকম কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করে অবৈধ সরকারের অন্যায্য বিচারেরও। এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরাও। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে প্রতিদিন রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন জনপদে রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো পুলিশ-বিজিবি ও স্থানীয় আওয়ামী-যুবলীগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর-লুটপাট ছাড়া নারীদের নির্যাতন ও জামায়াত শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা ছিল তখনকার প্রতিদিনের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। যদিও জাহেলী মিডিয়া সংবাদ পাল্টে দিয়ে এসব ঘটনায় বরাবর ভিলেন হিসেবে উপস্থিত করতো জামায়াত-শিবিরকেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভিযান চালায় পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এসময় পুলিশ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে অভিযানের নামে জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার করে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় পুলিশ অনেককে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করেছে।
আটাশ এপ্রিল ২০১৪, সোমবার। অন্যান্য দিনের মতো শহিদ সিরাজুল ইসলাম দুপুরের খাবার গ্রহণের পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে দেবহাটা থানা পুলিশ সখীপুর ইউনিয়নের চিনেডাঙ্গায় শহীদ সিরাজুল ইসলাম সরদারের বাড়িতে যায়। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে প্রিজনভ্যানে তোলে। তার ছোট ছেলে ও মেয়েরা কান্নাকাটি করে বলে আমার বাবারে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ। তাদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। এরপর আর থানায় তার সাথে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি।
মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে পাতনার বিলের গুচ্ছগ্রামের কেওড়াতলা নামকস্থানে ফেলে বুকের ডান পাশে গুলি করে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ বিভিন্ন মিডিয়াতে ফোন করে প্রচার করে বন্দুকযুদ্ধের সময় জামায়াত নেতা নিহত।
তার একটি ছেলে ও দুইটি মেয়ে মেয়েটি তৃতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া একমাত্র পুত্র সন্তান। সংসারেরও সংসারটি কাঁচা তরকারি ফেরী করে সিরাজুল ইসলাম চিনেডাঙ্গা গ্রামের মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে। রয়েছে। যার মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেটি দশম শ্রেণীতে ও করে। তিনি তিন ভাই-বোনের মধ্যে সকলের বড়। আর পিতা-মাতার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে গঠিত বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করলো বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তার বৃদ্ধ মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পাশে বসে থাকা বাকরুদ্ধ সিরাজুলের স্ত্রী বললো, হে আল্লাহ তার সাথে কেন আমাকেও নিয়ে গেলে না। আমি এখন এই অবস্থায় সংসারটি কিভাবে চালাবো! আমার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার কি হবে। হে আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে যারা হত্যা করলো, তাদের বিচার তুমি করো। পৃথিবীতে আমাদের কেউ নেই। তুমিই একমাত্র ভরসা। তোমার হাতে আমার স্বামীকে তুলে দিলাম। তুমি তার শাহাদাত কবুল কর বলে মূর্ছা যায়। আর বাচ্চা দু'টি তো কাঁদতে কাঁদতে গলা ভেঙে ফেলেছে। তাদের এখন আর কান্নার অবস্থা নেই। শুধুমাত্র মানুষদের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকছে।
সিরাজুলের লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিরাজুলের কফিনটি বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারীতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার পিতা বাবুর আলী সরদারের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। সন্তানদের বিবরণ:
মোঃ মনিরুল ইসলাম ছাত্র, ১ম বর্ষ, কে বি এ কলেজ, সখিপুর, সাতক্ষীরা।
মোছাঃ ফাতিমা খাতুন, বিবাহিত
মোছাঃ শামিমা খাতুন, ১ম শ্রেণী
এক নজরে শহীদ মো. সিরজুল ইসলাম
নাম: মোঃ সিরাজুল ইসলাম
পিতার নাম: মৃত বাবর আলী
মাতার নাম: ছবিরন বিবি
স্ত্রীর নাম: মনোয়ারা খাতুন
ঠিকানা: সখীপুর, চিনেডাঙ্গা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা
ভাই বোন: একমাত্র সন্তান
সন্তান: ১ ছেলে ২ মেয়ে
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আটকের দিন: ২৮ এপ্রিল, নিজ বাড়িতে থেকে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০১৪ ফজরের সময়, গুলি করে হত্যা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍