শহীদ মো: সেলিম হাসান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
৩ মার্চ রবিবার মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব-এর মুক্তির দাবি ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়।
নাম: শহীদ মো: সেলিম হাসান (০১৮)।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক ছিলেন।
পেশা: মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৫ সাল, বয়স ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ' ২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫ মার্চ ২০১৩ ফজরের আগ মুহূর্তে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতাল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
নাম: শহীদ মো: সেলিম হাসান (০১৮)।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক ছিলেন।
পেশা: মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৫ সাল, বয়স ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ' ২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫ মার্চ ২০১৩ ফজরের আগ মুহূর্তে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতাল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"হাতে কলিজার টুকরা সন্তানের ছবি নিয়ে বাবা-মা নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। হায়! হলুদ সরিষাক্ষেতে লাল জ্যাকেট গায় তাদের হাসিমাখা ছেলেটি আর কোন দিন আসবে না। হ্যাঁ, সে চিরতরে শাহাদাতের রক্ত লাল পোশাক পরে চলে গেছে। আর তাদের পরিবারের সবার চোখে কি এখন ভাসবে শুধুই সরিষার ফুল?"
১. শহীদের পরিচিতি
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জেলা বগুড়ার শহরতলির বানদিঘা, হাফুনিয়াপাড়ার এক অতি দরিদ্র পরিবারে শহীদ মো: সেলিম প্রমাণিক ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ৩য়। বাবা পঞ্চাশোর্ধ্ব দুদু মিয়া একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। এর ভেতরও উপায় নেই, সপ্তাহে ২/৩ দিন কাঠের কাজ করতে হয় তাকে। তবুও তার সেই যৎসামান্য আয়ে সন্তানদের মুখে দু'মুঠো খাবার তুলে দেওয়া তার জন্য সম্ভব হতো না। তাই প্রচণ্ড আকাঙক্ষা থাকলেও শহীদ সেলিম ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে আর পড়ালেখায় সামনে এগুতে পারেননি। পিতা-মাতা ও ৩ ভাই ২ বোনের সংসারে মাত্র ১৮ বছরের এ যুবকটি বড় ছেলে হিসেবে দরিদ্র পিতা-মাতার একমাত্র ভরসা ছিল। অন্যদিকে বড় বোনটাও বোবা এবং মানসিক প্রতিবন্ধী। তাইতো বড় ছেলে হিসেবে শহীদ মো: সেলিম হাসানকেই একটি টেইলার্সে দর্জির কাজ করে সংসারের সকলের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করতে হতো। এই বৃহৎ ও সমস্যা জর্জরিত সংসারটি পুরোটাই নির্ভর করতো তার সপ্তাহে ৫০০-৬০০ টাকা রোজগারের ওপর। এমনকি যদি কোনদিন তার কাজ না হতো তাহলে সেদিন ঘরের সবাই না খেয়ে থাকতো। কিন্তু একটি বুলেট থামিয়ে দিল সেই কর্মঠ ও পরিবারের একমাত্র খুঁটি যুবকটিকে। কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দিল অসহায় মা-বাবা, প্রতিবন্ধী বোন আর ছোটদেরকে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩ মার্চ রবিবার মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব-এর মুক্তির দাবি ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়।
সংসার ও ঈমানের দাবি দুটিকে সমন্বয় করতে গিয়ে শহীদ সেলিম আগের সারারাত বসে কাজ করে রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান।
ভোর রাত থেকেই বগুড়ার হাজার হাজার ইসলামপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং হরতালের সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। পুলিশ অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সে মিছিলে গুলি চালায়।
সেলিম সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সামনের দিকে পেটে নাভির নিচে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। স্থানীয় জনসাধারণ তাকে আহত অবস্থায় কাছাকাছি এক বাড়িতে নিয়ে যায়। আহত অবস্থায় সেলিম দুই ঘণ্টা চিকিৎসাবিহীন থাকে এবং তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। স্থানীয় কোন ক্লিনিক তাকে ভর্তি করেনি এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে অনেক কৌশলে একটি ভ্যানে করে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। মেডিক্যালে যে সকল পুরুষ আহতদের সাথে যায় এরকম ৩৪ জনকে পুলিশ মারধর করে এবং গ্রেফতার করে। সেলিম পানি ও ভাত খাওয়ার জন্য বার বার চিৎকার করে ও ছটফট করতে থাকে। কিন্তু তাকে পানি ও খাবার এনে দেয়ার মতো তখন আর কেউ ছিল না। শুধু তার অসহায় মা নির্বাক তাকিয়ে থাকেন এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি পিপাসার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছটফট করতে করতে ৫ মার্চ ২০১৩ তারিখে ফজরের ঠিক আগ মুহুর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলা'মিনের ডাকে সাড়া দিয়ে এ পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরবিদায় নেন।
তারা চারজন একত্রে মিছিলে যান, যার মধ্যে দুইজন শাহাদাত বরণ করেন। এর পর পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং পোস্টমার্টেম শেষে লাশ হস্তান্তর করে। লাশ হস্তান্তরের সময় কিছু কাগজে পুলিশ স্বাক্ষর রেখে দেয়। তারা খুব একটা শিক্ষিত না হওয়ার কারণে কিসের কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছে তা তারা বলতে পারেনি। বগুড়া সদরের শিকারপুর কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শহীদ সেলিম হাসানের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। আসরের সময় এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব কাজী আবুল বাশার। প্রায় ১০ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত মা: শহীদের গর্বিত মা তার কলিজার টুকরোকে হারিয়ে একেবারে বাকরুদ্ধ। তার প্রশ্ন শান্ত-ভদ্র সেলিম কী অপরাধ করেছে? কেন তাকে আজ চলে যেতে হয়েছে? এখন এ সংসারের দায়িত্ব কে নেবে? কে চুলোর ঐ হাঁড়িতে চালের ব্যবস্থা করবে?
পাশের বাড়ির মর্জিনা ভাবির মতে: সেলিম ছিলেন খুবই নম্র, ভদ্র এবং নিরীহ প্রকৃতির। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ।
শহীদের ছোট ভাই সোহেল ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিন্তু সংসার চালানোর কোন ব্যবস্থা নেই।
বর্তমানে শহীদ মো: সেলিম এর অসুস্থ মা রেহেনা বিড়ির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান। হাতে কলিজার টুকরা সন্তানের ছবি নিয়ে বাবা-মা নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। হায়! হলুদ সরিষাক্ষেতে লাল জ্যাকেট গায়ে তাদের হাসি মাখা ছেলেটি আর কোন দিন আসবে না। হ্যাঁ, সে চিরতরে শাহাদাতের রক্ত লাল পোশাক পরে চলে গেছে। আর তাদের পরিবারের সবার চোখে কি এখন ভাসবে শুধই সরিষার ফুল?
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: সেলিম হাসান (০১৮)।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক ছিলেন।
পেশা: মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৫ সাল, বয়স ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ' ২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫ মার্চ ২০১৩ ফজরের আগ মুহূর্তে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতাল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
১. শহীদের পরিচিতি
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জেলা বগুড়ার শহরতলির বানদিঘা, হাফুনিয়াপাড়ার এক অতি দরিদ্র পরিবারে শহীদ মো: সেলিম প্রমাণিক ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ৩য়। বাবা পঞ্চাশোর্ধ্ব দুদু মিয়া একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। এর ভেতরও উপায় নেই, সপ্তাহে ২/৩ দিন কাঠের কাজ করতে হয় তাকে। তবুও তার সেই যৎসামান্য আয়ে সন্তানদের মুখে দু'মুঠো খাবার তুলে দেওয়া তার জন্য সম্ভব হতো না। তাই প্রচণ্ড আকাঙক্ষা থাকলেও শহীদ সেলিম ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে আর পড়ালেখায় সামনে এগুতে পারেননি। পিতা-মাতা ও ৩ ভাই ২ বোনের সংসারে মাত্র ১৮ বছরের এ যুবকটি বড় ছেলে হিসেবে দরিদ্র পিতা-মাতার একমাত্র ভরসা ছিল। অন্যদিকে বড় বোনটাও বোবা এবং মানসিক প্রতিবন্ধী। তাইতো বড় ছেলে হিসেবে শহীদ মো: সেলিম হাসানকেই একটি টেইলার্সে দর্জির কাজ করে সংসারের সকলের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করতে হতো। এই বৃহৎ ও সমস্যা জর্জরিত সংসারটি পুরোটাই নির্ভর করতো তার সপ্তাহে ৫০০-৬০০ টাকা রোজগারের ওপর। এমনকি যদি কোনদিন তার কাজ না হতো তাহলে সেদিন ঘরের সবাই না খেয়ে থাকতো। কিন্তু একটি বুলেট থামিয়ে দিল সেই কর্মঠ ও পরিবারের একমাত্র খুঁটি যুবকটিকে। কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দিল অসহায় মা-বাবা, প্রতিবন্ধী বোন আর ছোটদেরকে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩ মার্চ রবিবার মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব-এর মুক্তির দাবি ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়।
সংসার ও ঈমানের দাবি দুটিকে সমন্বয় করতে গিয়ে শহীদ সেলিম আগের সারারাত বসে কাজ করে রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান।
ভোর রাত থেকেই বগুড়ার হাজার হাজার ইসলামপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং হরতালের সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। পুলিশ অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সে মিছিলে গুলি চালায়।
সেলিম সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সামনের দিকে পেটে নাভির নিচে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। স্থানীয় জনসাধারণ তাকে আহত অবস্থায় কাছাকাছি এক বাড়িতে নিয়ে যায়। আহত অবস্থায় সেলিম দুই ঘণ্টা চিকিৎসাবিহীন থাকে এবং তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। স্থানীয় কোন ক্লিনিক তাকে ভর্তি করেনি এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে অনেক কৌশলে একটি ভ্যানে করে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। মেডিক্যালে যে সকল পুরুষ আহতদের সাথে যায় এরকম ৩৪ জনকে পুলিশ মারধর করে এবং গ্রেফতার করে। সেলিম পানি ও ভাত খাওয়ার জন্য বার বার চিৎকার করে ও ছটফট করতে থাকে। কিন্তু তাকে পানি ও খাবার এনে দেয়ার মতো তখন আর কেউ ছিল না। শুধু তার অসহায় মা নির্বাক তাকিয়ে থাকেন এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি পিপাসার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছটফট করতে করতে ৫ মার্চ ২০১৩ তারিখে ফজরের ঠিক আগ মুহুর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলা'মিনের ডাকে সাড়া দিয়ে এ পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরবিদায় নেন।
তারা চারজন একত্রে মিছিলে যান, যার মধ্যে দুইজন শাহাদাত বরণ করেন। এর পর পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং পোস্টমার্টেম শেষে লাশ হস্তান্তর করে। লাশ হস্তান্তরের সময় কিছু কাগজে পুলিশ স্বাক্ষর রেখে দেয়। তারা খুব একটা শিক্ষিত না হওয়ার কারণে কিসের কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছে তা তারা বলতে পারেনি। বগুড়া সদরের শিকারপুর কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শহীদ সেলিম হাসানের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। আসরের সময় এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব কাজী আবুল বাশার। প্রায় ১০ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত মা: শহীদের গর্বিত মা তার কলিজার টুকরোকে হারিয়ে একেবারে বাকরুদ্ধ। তার প্রশ্ন শান্ত-ভদ্র সেলিম কী অপরাধ করেছে? কেন তাকে আজ চলে যেতে হয়েছে? এখন এ সংসারের দায়িত্ব কে নেবে? কে চুলোর ঐ হাঁড়িতে চালের ব্যবস্থা করবে?
পাশের বাড়ির মর্জিনা ভাবির মতে: সেলিম ছিলেন খুবই নম্র, ভদ্র এবং নিরীহ প্রকৃতির। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ।
শহীদের ছোট ভাই সোহেল ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিন্তু সংসার চালানোর কোন ব্যবস্থা নেই।
বর্তমানে শহীদ মো: সেলিম এর অসুস্থ মা রেহেনা বিড়ির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান। হাতে কলিজার টুকরা সন্তানের ছবি নিয়ে বাবা-মা নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। হায়! হলুদ সরিষাক্ষেতে লাল জ্যাকেট গায়ে তাদের হাসি মাখা ছেলেটি আর কোন দিন আসবে না। হ্যাঁ, সে চিরতরে শাহাদাতের রক্ত লাল পোশাক পরে চলে গেছে। আর তাদের পরিবারের সবার চোখে কি এখন ভাসবে শুধই সরিষার ফুল?
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: সেলিম হাসান (০১৮)।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক ছিলেন।
পেশা: মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৫ সাল, বয়স ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ' ২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫ মার্চ ২০১৩ ফজরের আগ মুহূর্তে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতাল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍