শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু (০১৯)। পেশা: গার্মেন্টস-এ চাকুরি করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩০.১০.১৯৮৯, ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকাল ৭ টা
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩, সকাল ৭টা, স্থান: বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রায় মাঝিড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বয়স ৪৭ বছর। সাংসারিক কাজ করেন। মাতা: তিন বছর বয়সে মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। ৫/৬ বিঘা কৃষিজমি এবং তাতে কৃষিকাজ করে শহীদের বাবা সংসার পরিচালনা করেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু, গার্মেন্টস-এ চাকরি করতেন। মো: রবিউল ইসলাম, এইচএসসি, মহাস্থান মাহিওয়ার ডিগ্রি কলেজ, মো: রায়হান ইসলাম, দশম শ্রেণী, রায় মাঝিড়া হাইস্কুল।
নাম: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু (০১৯)। পেশা: গার্মেন্টস-এ চাকুরি করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩০.১০.১৯৮৯, ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকাল ৭ টা
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩, সকাল ৭টা, স্থান: বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রায় মাঝিড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বয়স ৪৭ বছর। সাংসারিক কাজ করেন। মাতা: তিন বছর বয়সে মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। ৫/৬ বিঘা কৃষিজমি এবং তাতে কৃষিকাজ করে শহীদের বাবা সংসার পরিচালনা করেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু, গার্মেন্টস-এ চাকরি করতেন। মো: রবিউল ইসলাম, এইচএসসি, মহাস্থান মাহিওয়ার ডিগ্রি কলেজ, মো: রায়হান ইসলাম, দশম শ্রেণী, রায় মাঝিড়া হাইস্কুল।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"২৪ বছরের টগবগে যুবক বাবু, বড় ছেলে হওয়ায় ওর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা, নতুন ঘরের আয়োজন চলছিল তোড়জোড়। কিন্তু সব ঘর ফাঁকা করে শৈশবে যে দাদীর স্নেহ থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তার পাশেই বাবু শুয়ে আছে, মাটির ঘরে, নতুন কবরে। বুকফাটা কান্নায় বাবা বলেন, 'ওর বিয়ের আয়োজন আল্লাহ করবেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া জেলার রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম সন্তান শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু। সে ১৯৮৯ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করে। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সবাই আদর করে ডাকত বাবু বলে। কিন্তু শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবুর জন্মের পরপরই একের পর এক তার ওপর নেমে আসে হৃদয়বিদারক সব আঘাত। যার আপত্য স্নেহে বড় হবেন সেই দাদী মারা যান দুই বছর বয়সে এবং মাত্র চার বছর বয়সেই জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি হারান তিনি। প্যারালাইজড ও হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়ায় তার মা জননী মারা যান। বাবা মো: মোস্তাফিজুর রহমান সাংসারিক কাজ করেন। তিনিও হার্টের রোগী। ছোট দুই ভাই একাদশ এবং দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। বড় ছেলে হিসেবে বাবু অভাব অনটনের সংসারে সকলের রুটি রোজগার এবং ছোট ভাইদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে নিজের উচ্চাশাকে বিসর্জন দেন। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে তিনি কাজ করতেন। মূলত তার উপার্জনের ওপরই টান টান করে চলতো এ সংসার।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বিশ্বনন্দিত মোফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ০৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার সকাল ৭.৩০মি. মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে তিনিও অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওবায়দুর রহমান বাবু সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পাঁজরের ডান দিকে গুলি লেগে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। শুধুমাত্র একটু পানি খেতে পেরেছিলেন এর পরপরই মারা যান তিনি। পরে একটি ভ্যানে করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মোকামতলা হাইস্কুল মাঠে মো: ওবায়দুর রহমান বাবুর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রায় ৮ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। গত শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৮), সদরের রায় মাঝিরা নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
দাদা মো: ইউনুস আলীর মতে ওবায়দুর রহমান বাবু ছেলে হিসেবে খুব ভালো ছিল। নিয়মিত নামাজ কালাম পড়তো। সর্বদা হাসিখুশি থাকতো। ওর সাথে যারা ঢাকায় ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো এমন ৭টি ছেলে আগের রাতে ঢাকায় চলে যায়। ওকে সবাই যেতে বলে কিন্তু কোনভাবেই সে যায়নি। হয়তো পরম প্রভু আল্লাহ তার জন্য সর্বোচ্চ মর্যাদার স্তর শাহাদত নির্ধারণ করেছিলেন।
বাবা মোস্তাফিজুর রহমান: ছেলের শোকে ভেঙে পড়েছেন। সে ছিল পিতার ডান হাত ও পরিবারের খুঁটি। ওকে চার বছর রেখে মা মারা যায়। তখন ওদের কষ্ট ভুলিয়ে দিতে তিনি ২য় বিয়ে করেন। সেই সৎমা ওদের নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করেছে। ২৪ বছরের টগবগে যুবক বাবু, বড় ছেলে হওয়ায় ওর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা, নতুন ঘরের আয়োজন চলছিল তোড়জোড়। কিন্তু সব ঘর ফাঁকা করে শৈশবে যে দাদীর স্নেহ থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তার পাশেই বাবু শুয়ে আছে, মাটির ঘরে, নতুন কবরে। বুকফাটা কান্নায় বাবা বলেন, 'ওর বিয়ের আয়োজন আল্লাহ করবেন।'
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু (০১৯)। পেশা: গার্মেন্টস-এ চাকুরি করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩০.১০.১৯৮৯, ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকাল ৭ টা
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩, সকাল ৭টা, স্থান: বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রায় মাঝিড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বয়স ৪৭ বছর। সাংসারিক কাজ করেন। মাতা: তিন বছর বয়সে মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। ৫/৬ বিঘা কৃষিজমি এবং তাতে কৃষিকাজ করে শহীদের বাবা সংসার পরিচালনা করেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু, গার্মেন্টস-এ চাকরি করতেন। মো: রবিউল ইসলাম, এইচএসসি, মহাস্থান মাহিওয়ার ডিগ্রি কলেজ, মো: রায়হান ইসলাম, দশম শ্রেণী, রায় মাঝিড়া হাইস্কুল।
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া জেলার রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম সন্তান শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু। সে ১৯৮৯ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করে। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সবাই আদর করে ডাকত বাবু বলে। কিন্তু শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবুর জন্মের পরপরই একের পর এক তার ওপর নেমে আসে হৃদয়বিদারক সব আঘাত। যার আপত্য স্নেহে বড় হবেন সেই দাদী মারা যান দুই বছর বয়সে এবং মাত্র চার বছর বয়সেই জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি হারান তিনি। প্যারালাইজড ও হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়ায় তার মা জননী মারা যান। বাবা মো: মোস্তাফিজুর রহমান সাংসারিক কাজ করেন। তিনিও হার্টের রোগী। ছোট দুই ভাই একাদশ এবং দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। বড় ছেলে হিসেবে বাবু অভাব অনটনের সংসারে সকলের রুটি রোজগার এবং ছোট ভাইদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে নিজের উচ্চাশাকে বিসর্জন দেন। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে তিনি কাজ করতেন। মূলত তার উপার্জনের ওপরই টান টান করে চলতো এ সংসার।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বিশ্বনন্দিত মোফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ০৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার সকাল ৭.৩০মি. মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে তিনিও অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওবায়দুর রহমান বাবু সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পাঁজরের ডান দিকে গুলি লেগে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। শুধুমাত্র একটু পানি খেতে পেরেছিলেন এর পরপরই মারা যান তিনি। পরে একটি ভ্যানে করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মোকামতলা হাইস্কুল মাঠে মো: ওবায়দুর রহমান বাবুর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রায় ৮ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। গত শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৮), সদরের রায় মাঝিরা নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
দাদা মো: ইউনুস আলীর মতে ওবায়দুর রহমান বাবু ছেলে হিসেবে খুব ভালো ছিল। নিয়মিত নামাজ কালাম পড়তো। সর্বদা হাসিখুশি থাকতো। ওর সাথে যারা ঢাকায় ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো এমন ৭টি ছেলে আগের রাতে ঢাকায় চলে যায়। ওকে সবাই যেতে বলে কিন্তু কোনভাবেই সে যায়নি। হয়তো পরম প্রভু আল্লাহ তার জন্য সর্বোচ্চ মর্যাদার স্তর শাহাদত নির্ধারণ করেছিলেন।
বাবা মোস্তাফিজুর রহমান: ছেলের শোকে ভেঙে পড়েছেন। সে ছিল পিতার ডান হাত ও পরিবারের খুঁটি। ওকে চার বছর রেখে মা মারা যায়। তখন ওদের কষ্ট ভুলিয়ে দিতে তিনি ২য় বিয়ে করেন। সেই সৎমা ওদের নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করেছে। ২৪ বছরের টগবগে যুবক বাবু, বড় ছেলে হওয়ায় ওর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা, নতুন ঘরের আয়োজন চলছিল তোড়জোড়। কিন্তু সব ঘর ফাঁকা করে শৈশবে যে দাদীর স্নেহ থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তার পাশেই বাবু শুয়ে আছে, মাটির ঘরে, নতুন কবরে। বুকফাটা কান্নায় বাবা বলেন, 'ওর বিয়ের আয়োজন আল্লাহ করবেন।'
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু (০১৯)। পেশা: গার্মেন্টস-এ চাকুরি করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৩০.১০.১৯৮৯, ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকাল ৭ টা
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩, সকাল ৭টা, স্থান: বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রায় মাঝিড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বয়স ৪৭ বছর। সাংসারিক কাজ করেন। মাতা: তিন বছর বয়সে মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। ৫/৬ বিঘা কৃষিজমি এবং তাতে কৃষিকাজ করে শহীদের বাবা সংসার পরিচালনা করেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ওবায়দুর রহমান বাবু, গার্মেন্টস-এ চাকরি করতেন। মো: রবিউল ইসলাম, এইচএসসি, মহাস্থান মাহিওয়ার ডিগ্রি কলেজ, মো: রায়হান ইসলাম, দশম শ্রেণী, রায় মাঝিড়া হাইস্কুল।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍