শহীদ মো: আব্দুশ শহিদুর রহমান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার ভোররাত ৪টায় বাসা থেকে বেরিয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান। রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। মো: শহিদুর রহমান সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। দুই সিনায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। পরে তাকে সকাল ৮ টায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শাহাপুর উত্তর পাড়ায় মো: শহিদুর রহমানের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব মাওলানা মহির উদ্দিন। ১ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুশ শহিদুর রহমান (০২০)। পেশা: কৃষি ও ইটভাটায় কাজ করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৯ সাল ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকালে, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শাহাপুর রূপসী উত্তরপাড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, থানা: গাবতলী। জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আজাদুল হক, ৪৫ বছর, রিকশাচালক।
মাতা: শাহানা বেগম বয়স: ৩৫ বছর, কাজ করেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। নিজেদের কোন জমিজমা নেই। কৃষিকাজ এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।
ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুশ শহিদুর রহমান (০২০)। পেশা: কৃষি ও ইটভাটায় কাজ করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৯ সাল ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকালে, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শাহাপুর রূপসী উত্তরপাড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, থানা: গাবতলী। জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আজাদুল হক, ৪৫ বছর, রিকশাচালক।
মাতা: শাহানা বেগম বয়স: ৩৫ বছর, কাজ করেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। নিজেদের কোন জমিজমা নেই। কৃষিকাজ এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"ভোর রাতে মাকে ডেকে বলে, 'আমি কোরআনের জন্য শহীদ হতে গেলাম। ছোটবেলায় বড় করেছে যে নানী আবেগতাড়িত হয়ে সে যেতে নিষেধ করে বলে, 'যদি কিছু হয়, শহীদ উত্তরে বলেছিল, 'কিছু হলে হবে। আমার নামও শহিদ কামও শহীদ"
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া গাবতলি উপজেলার শাহাপুর গ্রামে শহীদ মো: আব্দুশ শহিদ ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। বাবা মো: আজাদুল হক হতদরিদ্র এক রিকশাচালক। মা শাহানা বেগম সাংসারিক কাজ করেন। তার ৩-৪ বছর বয়সে বাবা এবং মা আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে শহীদ মোঃ শহিদুর রহমান প্রথমে নানুবাড়ি অতঃপর মায়ের সাথেই থাকতেন। মায়ের ২য় বিয়ে হয়েছিল ইটভাটার শ্রমিক আমজাদ হোসেনের সাথে। সৎপিতা ভাটায় কাজ করে মাসে ৩৩০০ টাকা পেতেন। শহীদ হত-দরিদ্র এ পরিবারের বাবা-মাকে সহযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। ও কৃষি কাজ বা ইটভাটায় কাজ করে সৎপিতা ও মায়ের সাথে অভাবের সংসারটা টেনে নিচ্ছিল। বাসায় থাকার তেমন জায়গা ছিল না তাই সে অধিকাংশ সময় বিলের ওপর তৈরি টঙে থাকতেন। তার বিয়ের জন্য দেখাদেখি চলছিল, মায়ের পাত্রী পছন্দও হয়েছিল। শহীদ আবেগভরে নতুন বৌয়ের জন্য চাদর, চুড়ি, নাকের ফুল, কানের দুল কিনেছিল।
২. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
৩ ফেব্রুয়ারি ১৩ তারিখ ভোর রাতে মাকে ডেকে বলে, 'আমি কোরআনের জন্য শহীদ হতে গেলাম। ছোটবেলায় বড় করেছে যে নানী আবেগতাড়িত হয়ে সে যেতে নিষেধ করে বলে, 'যদি কিছু হয়, শহিদ উত্তরে বলেছিল, 'কিছু হলে হবে। আমার নামও শহিদ কামও শহীদ"। তার সাথে ছিল মামা রফিকুল ইসলাম। ৪.৪৯ টায় বাবাকে মোবাইলে মোকামতলায় আসতে নিষেধ করে। তখন বাবা বলে, 'তুই কুঠি? শহীদ বলে, 'আমি মোকামতলায় মিছিলে আতছি। বাবা বলে,-তুই আমাক কচ্ছু তুইতো নিজেই মিছিলে গেছু"। সকাল ৮ টায় সেই শহীদ লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।
৩. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার ভোররাত ৪টায় বাসা থেকে বেরিয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান। রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। মো: শহিদুর রহমান সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। দুই সিনায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। পরে তাকে সকাল ৮ টায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শাহাপুর উত্তর পাড়ায় মো: শহিদুর রহমানের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব মাওলানা মহির উদ্দিন। ১ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৮), সদরের রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
এলাকাবাসীর মতে মো: শহিদুর রহমান খুব ভালো ছিলেন। ইসলামের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কৃষিকাজ করে এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুশ শহিদুর রহমান (০২০)। পেশা: কৃষি ও ইটভাটায় কাজ করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৯ সাল ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকালে, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শাহাপুর রূপসী উত্তরপাড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, থানা: গাবতলী। জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আজাদুল হক, ৪৫ বছর, রিকশাচালক।
মাতা: শাহানা বেগম বয়স: ৩৫ বছর, কাজ করেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। নিজেদের কোন জমিজমা নেই। কৃষিকাজ এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া গাবতলি উপজেলার শাহাপুর গ্রামে শহীদ মো: আব্দুশ শহিদ ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। বাবা মো: আজাদুল হক হতদরিদ্র এক রিকশাচালক। মা শাহানা বেগম সাংসারিক কাজ করেন। তার ৩-৪ বছর বয়সে বাবা এবং মা আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে শহীদ মোঃ শহিদুর রহমান প্রথমে নানুবাড়ি অতঃপর মায়ের সাথেই থাকতেন। মায়ের ২য় বিয়ে হয়েছিল ইটভাটার শ্রমিক আমজাদ হোসেনের সাথে। সৎপিতা ভাটায় কাজ করে মাসে ৩৩০০ টাকা পেতেন। শহীদ হত-দরিদ্র এ পরিবারের বাবা-মাকে সহযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। ও কৃষি কাজ বা ইটভাটায় কাজ করে সৎপিতা ও মায়ের সাথে অভাবের সংসারটা টেনে নিচ্ছিল। বাসায় থাকার তেমন জায়গা ছিল না তাই সে অধিকাংশ সময় বিলের ওপর তৈরি টঙে থাকতেন। তার বিয়ের জন্য দেখাদেখি চলছিল, মায়ের পাত্রী পছন্দও হয়েছিল। শহীদ আবেগভরে নতুন বৌয়ের জন্য চাদর, চুড়ি, নাকের ফুল, কানের দুল কিনেছিল।
২. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
৩ ফেব্রুয়ারি ১৩ তারিখ ভোর রাতে মাকে ডেকে বলে, 'আমি কোরআনের জন্য শহীদ হতে গেলাম। ছোটবেলায় বড় করেছে যে নানী আবেগতাড়িত হয়ে সে যেতে নিষেধ করে বলে, 'যদি কিছু হয়, শহিদ উত্তরে বলেছিল, 'কিছু হলে হবে। আমার নামও শহিদ কামও শহীদ"। তার সাথে ছিল মামা রফিকুল ইসলাম। ৪.৪৯ টায় বাবাকে মোবাইলে মোকামতলায় আসতে নিষেধ করে। তখন বাবা বলে, 'তুই কুঠি? শহীদ বলে, 'আমি মোকামতলায় মিছিলে আতছি। বাবা বলে,-তুই আমাক কচ্ছু তুইতো নিজেই মিছিলে গেছু"। সকাল ৮ টায় সেই শহীদ লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।
৩. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার ভোররাত ৪টায় বাসা থেকে বেরিয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান। রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। মো: শহিদুর রহমান সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। দুই সিনায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। পরে তাকে সকাল ৮ টায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শাহাপুর উত্তর পাড়ায় মো: শহিদুর রহমানের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব মাওলানা মহির উদ্দিন। ১ হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৮), সদরের রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
এলাকাবাসীর মতে মো: শহিদুর রহমান খুব ভালো ছিলেন। ইসলামের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কৃষিকাজ করে এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুশ শহিদুর রহমান (০২০)। পেশা: কৃষি ও ইটভাটায় কাজ করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৯ সাল ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩ সকালে, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শাহাপুর রূপসী উত্তরপাড়া, ডাকঘর: ভবানিগঞ্জ, থানা: গাবতলী। জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আজাদুল হক, ৪৫ বছর, রিকশাচালক।
মাতা: শাহানা বেগম বয়স: ৩৫ বছর, কাজ করেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। নিজেদের কোন জমিজমা নেই। কৃষিকাজ এবং ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালাতেন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍