হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রামানিক
শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রামানিক

শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রামানিক

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রামানিক (০২১)। পেশা: কৃষি কাজ করতেন।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৭ সাল ২৫ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩। জানাজা নামাজ পড়ান জনাব ফরিদ উদ্দিন প্রামানিক এবং জানাজায় প্রায় ৩-৪ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পার আছলাই, ডাকঘর: মোকামতলা, থানা: শিবগঞ্জ, বগুড়া।
পিতা: মোঃ লুৎফর রহমান প্রমানিক বয়স: ৮০ বছর, খুব অসুস্থ।
মাতা: মোসাঃ সুফিয়া বেগম, বয়স: ৭০ বছর, গৃহিণী।
ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। সামান্য জমি-জমা আছে তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। শহীদের পিতা কৃষি কাজ করে সংসার চালান।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: জিয়াউর রহমান (শহীদ), কৃষিকাজ, মো: শফি আলম (কৃষি কাজ) রুহুল আমীন (কৃষি কাজ), জহুরা, গৃহিণী, রহিমা, গৃহিণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"কয়েকদিন যাবৎই মা-চাচী-মুরুব্বিদের শহীদ জিয়া বলে আসছিল, 'সাঈদীর জন্য যদি জীবন দেয়া লাগে তবু তা দিব। হয়তো এ কারণেই সেদিন ঘুম থেকে উঠে সর্বাগ্রেই সে হাজির হয়েছিল মোকামতলায়। কলিজার বিনিময়ে জীবনের স্থায়ী মোকাম জান্নাত কিনতে।"
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পারআছলাই গ্রামের পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে ছোট সন্তান শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রমানিক ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো: লুৎফুর রহমান প্রমানিক কৃষি ও সাংসারিক কাজ করেন। এখন মারাত্মকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত। অভাব অনটনের কারণে ৩ ভাই ২ বোনের সংসারে কেউই পড়ালেখা করতে পারেননি। জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই পিতার সাথে সাংসারিক কাজকর্মে ও ক্ষেত-খামারের কাজে সময় দিতে হয়েছে। তিনি জন্মগতভাবেই কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাই বাপ-মা বিয়ে দিলেও সে সংসার টিকেনি। অভাব-সমস্যা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সত্যবাদী। এ কারণে তার প্রতি সাধারণের অতিরিক্ত ভালবাসা ছিল। তিনি যেখানেই বসতেন সেখানে অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে যেত।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার ভোর রাতে বাসা থেকে বেরিয়ে মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিলে যান। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে মোকামতলা বন্দরে চারজন মারা যায় এবং প্রায় ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। একটি গুলি এসে মো: জিয়াউর রহমান-এর বুকে লাগে এবং সেখানেই মাটিতে পড়ে যান। গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন তিনি।
বাড়ির পাশে আম ও কাঁঠালের বাগানে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং ওখানেই তাকে দাফন করা হয়। এ জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব ফরিদ উদ্দীন প্রমানিক। এক হাজার লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনের স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮), সদরের রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৪. শহীদের স্বজনদের কান্না
এলাকাবাসীর মতে মোঃ জিয়াউর রহমান খুব ভালো ছেলে ছিলেন। তার মত শান্ত, ভদ্র একটি ছেলেকে কেন চলে যেতে হলো এটাই তাদের প্রশ্ন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়তো আর রমজান মাসে আসরের পর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ডাকতো মসজিদে যেতে। সেই স্মৃতি স্মরণ করে সর্বকণিষ্ঠ সন্তানকে হারিয়ে ৭৫ বছর বয়েসী হৃদরোগী বাবা এখন কেঁদে জার জার।
তার আপন চাচা বাদল প্রামানিক গত ২ বছর যাবৎ ইউপি মেম্বার। তাকে নির্বাচিত করতে সে যারপরনাই চেষ্টা করেছে। তাই তার সাথেই ছিল জনদরদি শহীদ জিয়ার বেশি সখ্য। তাকে রসিকতা করে বলতো, 'আপনাকে ভোট দিনু, আমাক কি দিলু?' কয়েকদিন যাবৎই মা-চাচী মুরুব্বিদের শহীদ জিয়া বলে আসছিল, 'সাঈদীর জন্য যদি জীবন দেওয়া লাগে তবু তা দেব"। হয়তো এ কারণেই ঘুম থেকে উঠে সর্বাগ্রেই সে হাজির হয়েছিল মোকামতলায়। কলিজার বিনিময়ে জীবনের স্থায়ী মোকাম জান্নাত কিনতে। ৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: জিয়াউর রহমান প্রামানিক (০২১)। পেশা: কৃষি কাজ করতেন।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৭ সাল ২৫ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩। জানাজা নামাজ পড়ান জনাব ফরিদ উদ্দিন প্রামানিক এবং জানাজায় প্রায় ৩-৪ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পার আছলাই, ডাকঘর: মোকামতলা, থানা: শিবগঞ্জ, বগুড়া।
পিতা: মোঃ লুৎফর রহমান প্রমানিক বয়স: ৮০ বছর, খুব অসুস্থ।
মাতা: মোসাঃ সুফিয়া বেগম, বয়স: ৭০ বছর, গৃহিণী।
ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনশেড মাটির একটি ঘর। সামান্য জমি-জমা আছে তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। শহীদের পিতা কৃষি কাজ করে সংসার চালান।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: জিয়াউর রহমান (শহীদ), কৃষিকাজ, মো: শফি আলম (কৃষি কাজ) রুহুল আমীন (কৃষি কাজ), জহুরা, গৃহিণী, রহিমা, গৃহিণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍