হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: দুলু মিয়া
শহীদ মো: দুলু মিয়া

শহীদ মো: দুলু মিয়া

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: দুলু মিয়া (০২২)। পেশা ডাবের ব্যবসা করতেন।
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৪৫ বছর আনুমানিক। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, সকাল ৮.৩০ মিনিটে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। জানাজা নামাজ পড়ান মো: আনোয়ার হোসেন। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মুরাদপুর, ডাকঘর: মোকামতলা, থানা: শিবগঞ্জ, বগুড়া।
পিতা: মৃত আলহাজ্ব দবির উদ্দীন মোল্লাহ। ইন্তেকালের তারিখ: ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে। বয়স হয়েছিল প্রায় ১১৬ বছর।
মাতা: মোসা: সাঈতুন বিবি বয়স ৯০, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের তৈরি ১টি ঘর। নিজেদের মাত্র ৪ শতাংশ কৃষিজমি আছে। ভাই-বোনের সহযোগিতায় সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: সাহিদা বেগম বয়স-৩৫ বছর, মেয়ে: মোসাঃ দুলালী আক্তার, বিবাহিতা, ছেলে: মো: শাওন, মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"দু মাস আগে পিতা আলহাজ্ব দবিরউদ্দীন মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন ১১৬ বছর বয়সে। পাশের নতুন কবরে তৃতীয় ছেলে দুলু ৪৩ বছরেই শেষ শয়ানে শায়িত। মা সাঈতুন বিবি ৯০ বছরের জীর্ণ শরীর নিয়ে দুটি কবরের পাশে দাঁড়ান। প্রতিদিন তার ক্ষীণ চোখের নোনা জলে আঁচল সিক্ত করেন। আর থাকেন অপেক্ষায় প্রভুর শেষ ডাকের। আদরের কন্যা দুলালী ও ১০ বছরের ছেলে শাওন 'বাবা' বলে আর কেউ সাড়া দিবে না। ৩৫ বছরেই বিধবার উপাধি নিয়ে স্ত্রী সাহিদা বেগম এতিম সন্তানদের নিয়ে যেন এক অনিশ্চিত সাগরে পাড়ি জমালেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের আলহাজ্ব মরহুম দবিরউদ্দীন মোল্লার চার ছেলের ভেতর তৃতীয় ছেলে শহীদ মো: দুলু মিয়া ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শহীদ মো: দুলু মিয়া দুই সন্তানের জনক। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মোকামতলা বাজারে তিনি ডাবের ব্যবসা করে দিনে ১০০-৫০ টাকা উপার্জন করতেন। এ দিয়েই তার অভাবের সংসার চলতো। অভাব এ সংসারে তাই আদরের মেয়ে দুলালীকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। মেয়ে দুলালী আক্তারকে বিয়ে দিয়ে একমাত্র ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছিলেন। আর ছেলে শাওনকে নিয়েই বুনছিলেন ভবিষ্যৎ স্বপ্নের জাল। চেয়েছিলেন একমাত্র ছেলেকে শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তাইতো তিনি তাকে মাদ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের ঘাতক বুলেট তার সে স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দেয়।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে ছিল সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল। এ হরতালের সমর্থনে মিছিলের উদ্দেশ্যে সকালে ফজরের সময় বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। মিছিলে ঘাতক পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে মোকামতলা বন্দরে চারজন মারা যায় এবং প্রায় ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সকাল ৭,২০ টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তিনি প্রায় অধিকাংশ সময় নামাজের ভঙ্গিতে দু হাত বুকের সাথে বেঁধে রাখতেন। সেদিনও তাই ছিল। হঠাৎ একটি বুলেট তার বাম হাত ছিদ্র করে বুকের মাঝখানে ঢুকে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রথমে টিএমসি হসপিটাল অতঃপর শহীদ জিয়া হসপিটালে নেওয়ার পথে মাটিডালি এলাকায় সকাল ৮.৩০ টার দিকে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ঐ দিনই তার বাড়িতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আনোয়ার হোসেন। জানাযায় এক হাজার লোক উপস্থিত ছিল। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার; বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। আল্লামা সাঈদী ভক্ত লাখো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে একদিনে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে এক শিশু এবং ৩ জন নারীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি খবর প্রকাশ হয়। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। গত শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্য দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। ফুটফুটে চাঁদের গায়ে ভেসে ওঠে একটি ছায়া। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদী এই বিশ্বাস গেঁথে যায় সবার মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা এবং বৃদ্ধরা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। ফজরের নামাযের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামায শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরেই হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এ সময় পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। শহরতলির সাবগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে স্লিপার তুলে ফেলে। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ মার্চ ২০১৩ তারিখ রবিবার মোকামতলা বন্দরে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা হাজার হাজার জনতা আশপাশের গ্রাম থেকে মোকামতলা বন্দরে জড়ো হতে থাকে। তারা ফজরের নামায শেষে মিছিল নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি চালায়। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। নিহতরা হলেন গাবতলী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু (৪০), শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮), সদরের রায় মাঝিড়া নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ওবাইদুর রহমান বাবু (২৫) ও সাহাপুর গ্রামের আজাদুলের ছেলে শহিদ (১৪)।
মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন জনতার ওপর গুলির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে তা বলতে পারেননি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের আপনজনরা জানান যে, শহীদের একমাত্র ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিন্তু সংসার চালানোর এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানোর মত কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি ছিলেন ৪ ভাইয়ের ভেতর তৃতীয় কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র। তার খুব সমাজসেবী মানসিকতা ছিল। তিনি ছিলেন আলিমউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। কমপক্ষে দিনে ২ বার যেতেন মাদ্রাসার খোঁজ নেওয়ার জন্য। নিজের কষ্টের টাকায় শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের চা-নাস্তা করাতেন। ইউপি মেম্বার পদে একবার নির্বাচন করেছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষদেরও প্রত্যাশা ছিল তাকে সামনে মেম্বার বানাবেন।
দু. মাস আগে পিতা আলহাজ্ব দবিরউদ্দীন মোল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন ১১৬ বছর বয়সে। পাশের নতুন কবরে তৃতীয় ছেলে দুলু ৪৩ বছরেই শেষ শয়ানে শায়িত। মা সাঈতুন বিবি ৯০ বছরের জীর্ণ শরীর নিয়ে দুটি কবরের পাশে দাঁড়ান। প্রতিদিন তার ক্ষীণ চোখের নোনা জলে আঁচল সিক্ত করেন। আর থাকেন অপেক্ষায় প্রভুর শেষ ডাকের। আদরের কন্যা দুলালী ও ১০ বছরের ছেলে শাওন 'বাবা' বললো আর কেউ সাড়া দেবে না। ৩৫ বছরেই বিধবার উপাধি নিয়ে স্ত্রী সাহিদা বেগম এতিম সন্তানদের নিয়ে যেন এক অনিশ্চিত সাগরে পাড়ি জমালেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: দুলু মিয়া (০২২)। পেশা ডাবের ব্যবসা করতেন।
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ৪৫ বছর আনুমানিক। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, সকাল ৮.৩০ মিনিটে, স্থান: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। জানাজা নামাজ পড়ান মো: আনোয়ার হোসেন। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মুরাদপুর, ডাকঘর: মোকামতলা, থানা: শিবগঞ্জ, বগুড়া।
পিতা: মৃত আলহাজ্ব দবির উদ্দীন মোল্লাহ। ইন্তেকালের তারিখ: ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে। বয়স হয়েছিল প্রায় ১১৬ বছর।
মাতা: মোসা: সাঈতুন বিবি বয়স ৯০, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের তৈরি ১টি ঘর। নিজেদের মাত্র ৪ শতাংশ কৃষিজমি আছে। ভাই-বোনের সহযোগিতায় সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: সাহিদা বেগম বয়স-৩৫ বছর, মেয়ে: মোসাঃ দুলালী আক্তার, বিবাহিতা, ছেলে: মো: শাওন, মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍