হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল (নও মুসলিম)
শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল (নও মুসলিম)

শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল (নও মুসলিম)

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল (০২৪)। পেশা: এসএসসি পাস, কাপড়ের দোকানে চাকরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ইং, বয়স ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.। শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩, সকাল ০৮.৩০মি.। জানাজা নামাজ পড়ান তার ফুফা এবং নামাজ শেষে দাফন করা হয় বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কৃষ্ণচন্দ্র মোকামতলা, ডাকঘর: নগুয়া হাট, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া। বর্তমানে যোগাযোগের ঠিকানা: জয়পুর পাড়া (বিসিক শিল্প পাড়া) বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: আলতাফ হোসেন। ৪২ বছর, বেকার।
মাতা: আয়েশা আক্তার, ৩৫ বছর গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজস্ব কোন ঘরবাড়ি নাই। ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ঘর ভাড়া মাসে ৩০০০ টাকা। নিজেদের কোন কৃষিজমি নেই। ৪/৫ হাজার টাকা মাসিক আয়। শহীদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাইই ছিল আয়ের মূল উৎস। বাবা সামান্য টুকিটাকি কাজ করেন (দিনমজুর)
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. আব্দুল্লাহ আল মামুন (শহীদ), ২. রাবেয়া বুশরা বৃষ্টি, বগুড়া মহিলা কলেজ, অনার্স ১ম বর্ষ, ইংরেজি ৩. জান্নাতুল ফেরদৌস, বগুড়া মহিলা কলেজ, অনার্স ১ম বর্ষ, ইংরেজি।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"শহীদের পোষা ৪০-৪৫ টি বাজুড়িকা পাখি মাঝেমাঝেই একযোগে আর্তচিৎকার শুরু করে। আর কোনভাবেই থামতে চায় না। যেন তাদের মনিব মামুনকে হারিয়ে মহান প্রভুর কাছে প্রচণ্ড কান্নায় ফরিয়াদ জানায়। কে দেবে ওদের সান্তনা?"
১. শহীদের পরিচিতি
মা-বাবার ৩ সন্তানের একমাত্র ছেলে সন্তান শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (বাদল) ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ইং সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার কৃষ্ণচন্দ্রপুর মোকামতলা গ্রামে এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তারা ১৯৮৯ সালে সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করেন। শহীদ বাদলের নানী এক হিন্দু সম্ভ্রান্ত বংশীয় মহিলা হয়েও ইসলামের প্রতি যথেষ্ট অনুরাগী ছিলেন। নিজ ধর্মের কোন পুজা-পার্বণে যোগ দিতেন না বরং মুসলিমদের অনুষ্ঠানমালা দূর থেকে আগ্রহের সাথে লক্ষ করতেন। তিনি মারা যাওয়ার আগে বলে যান তার লাশ যেন পুড়ানো না হয়। কিন্তু সমাজ তার কথা মানতে চায়নি পুড়ানোর আয়োজনও। করা হয়েছিল কিন্তু টানা তিনদিন অঝোর ধারায় বৃষ্টি হওয়ায় সেটি তারা পারেননি। অবশেষে তিনদিন পর পরিবারের লোকজন তার লাশ মাটিতে পুঁতে রাখে। শহীদ বাদলের মা আয়েশা আক্তার তার নিজের মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
শহীদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল আটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি এবং ২০১২ সালে এস এস সি (এ) পাস করেন। বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যায়নরত ছিলেন। বোন রাবেয়া বুশরা বৃষ্টি (২৩) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (২১) বগুড়া মহিলা কলেজে ইংরেজি ১ম বর্ষে পড়েন। বাবা আলতাফ হোসেন (৪২) ঢাকায় সামান্য টুকিটাকি কাজ করেন। যার আয় দিয়ে তিনি পরিবারকে তেমন সহযোগিতা করতে পারেন না। শহীদ মামুন-এর ওপরই মূলত নির্ভরশীল ছিল তার পরিবার। মা-বাবার অভাবী সংসারে জোগান দিতে তিনি নূর গার্মেন্টস এর কাপড়ের দোকানে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কাজ করে মাসে হাজার পাঁচেক টাকা পেতেন। এতশত ব্যস্ততার পরও তিনি প্রতি শুক্রবারে ক্লাস করতেন। নিজে অত্যন্ত মিতব্যয়ী ছিলেন। কষ্ট করে চলতেন, মা-বাবাকে বুঝতে দিতেন না। তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ছিলেন। ইসলামের প্রতি অতি অনুরাগী ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তেন। মা আজো স্বপ্নে দেখেন তার ছেলে মামুন টুপি, পাঞ্জাবি পরে ইসলামের খেদমতে বের হচ্ছে; মাকে বলছে আপনি থাকেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা দেয়ার পর তৌহিদি জনতা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল ও প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩ মার্চ সকাল ৮ টায় কোরআনের ডাকে সাড়া দিয়ে জালেমদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের জমায়েতে শরিক হন এবং শন্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও প্রতিবাদ করেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের মধ্যে জয়পুর পাড়া এলাকায় মূলরোডে ৮.৩০ মিনিটে শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর বুকের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা সেকান্দার আলী। জানাযায় প্রায় দুই হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. শহীদের আপনজনদের কথা
মহীয়সী মা আয়েশা আক্তার বলেন, "আমার একমাত্র ছেলে মামুনকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছিলাম। সে খুব ভাল ছিল। সকলের সাথে ভাল ব্যবহার করতো। কিন্তু আজ আমার বুক খালি করে চলে গেল। অভাবের কারণে ছেলেটি পড়ালেখার পাশাপাশি কাপড়ের দোকানে চাকরি নেয়। মূলত: তার উপার্জনের ওপরই সংসারটি চলতো। আল্লাহই ভাল জানেন এখন কী হবে?"
বোনদের আহাজারি: পিঠাপিঠি দু বোন রাবেয়া বুশরা বৃষ্টি (২৩) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (২১) খুব মেধাবী ছাত্রী। তারা বগুড়া মহিলা কলেজে ইংরেজি ১ম বর্ষে পড়েন। একমাত্র ভাই মামুন ছিল তাদের প্রেরণার জ্যোতি। তাকে হারিয়ে তারা স্তব্ধ হয়ে গেছে। কে তাদের বড় ভাইয়ের মতো ছায়া দেবে। প্রেরণার জ্যোতি হয়ে পথ দেখাবে।
পাখিদের আর্তচিৎকার: শহীদ মামুনের অনেক সখের একটি ছিল পাখি পোষা। শহীদের পোষা ৪০/৪৫ টি বাজুড়িকা পাখি মাঝেমাঝেই একযোগে আর্তচিৎকার শুরু করে। আর কোনভাবেই থামতেই চায় না। যেন তাদের মনিব মামুনকে হারিয়ে মহান প্রভুর কাছে প্রচণ্ড কান্নায় ফরিয়াদ জানায়। কে দেবে ওদের সান্ত্বনা ?
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল (০২৪)। পেশা: এসএসসি পাস, কাপড়ের দোকানে চাকরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ইং, বয়স ২৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.। শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩, সকাল ০৮.৩০মি.। জানাজা নামাজ পড়ান তার ফুফা এবং নামাজ শেষে দাফন করা হয় বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কৃষ্ণচন্দ্র মোকামতলা, ডাকঘর: নগুয়া হাট, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া। বর্তমানে যোগাযোগের ঠিকানা: জয়পুর পাড়া (বিসিক শিল্প পাড়া) বগুড়া সদর, বগুড়া।
পিতা: আলতাফ হোসেন। ৪২ বছর, বেকার।
মাতা: আয়েশা আক্তার, ৩৫ বছর গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজস্ব কোন ঘরবাড়ি নাই। ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ঘর ভাড়া মাসে ৩০০০ টাকা। নিজেদের কোন কৃষিজমি নেই। ৪/৫ হাজার টাকা মাসিক আয়। শহীদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাইই ছিল আয়ের মূল উৎস। বাবা সামান্য টুকিটাকি কাজ করেন (দিনমজুর)
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. আব্দুল্লাহ আল মামুন (শহীদ), ২. রাবেয়া বুশরা বৃষ্টি, বগুড়া মহিলা কলেজ, অনার্স ১ম বর্ষ, ইংরেজি ৩. জান্নাতুল ফেরদৌস, বগুড়া মহিলা কলেজ, অনার্স ১ম বর্ষ, ইংরেজি।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍