শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন (০২৫)। পেশা: প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ইং ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.।
শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০ মি. স্থান: বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবিয়ার মোড় এলাকায়। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কলাকোপা, ডাকঘর: কলাকোপা, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আনসার আলী প্রামাণিক (অসুস্থ), ৬০ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: খাতেমুন, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের একটি ঘর, যৌথ পরিবার। নিজেদের ১ বিঘার মতো কৃষিজমি আছে। ছেলেদের সহযোগিতায় সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. মো: ঈসমাইল, টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন ২. মোছা: ছবিকা, বিবাহিতা, স্বামীঃ মো: জহুরুল, কৃষিকাজ, ৩. মো: লিটন, ড্রাইভিং আব্দুল মোনায়েম লিঃ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৪. মো: আলমগীর হোসেন (শহীদ), প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ইং ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.।
শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০ মি. স্থান: বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবিয়ার মোড় এলাকায়। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কলাকোপা, ডাকঘর: কলাকোপা, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আনসার আলী প্রামাণিক (অসুস্থ), ৬০ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: খাতেমুন, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের একটি ঘর, যৌথ পরিবার। নিজেদের ১ বিঘার মতো কৃষিজমি আছে। ছেলেদের সহযোগিতায় সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. মো: ঈসমাইল, টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন ২. মোছা: ছবিকা, বিবাহিতা, স্বামীঃ মো: জহুরুল, কৃষিকাজ, ৩. মো: লিটন, ড্রাইভিং আব্দুল মোনায়েম লিঃ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৪. মো: আলমগীর হোসেন (শহীদ), প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"মা আজো হঠাৎ করে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন 'তোমরা কি কেউ আমার ছেলেরে আইনবার দিবার পারবা? সন্তানহারা মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কে এই প্রশ্নের উত্তর দেবে?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন ১৯৯৬ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার কলাকোপা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট, ভাইবোনদের আদরের ছোট ভাই। শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন দয়রামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক/দাখিল (এ-) গ্রেডে পাষ করে বগুড়া শহরে নোবেল প্যারামেডিকেলে ভর্তি হন। বড় ভাই মো: ঈসমাইল একটি টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন, অন্য ভাই মো: লিটন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ড্রাইভারের কাজ করে। বোন মোছা: ছবিকা আক্তার বিবাহিতা। তার স্বামী মো: জহুরুল ইসলাম একজন দিনমজুর। ৬০ বছর বয়সী বাবা মো: আনসার আলী প্রামাণিক কৃষি কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন ছিলেন ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সাথীপ্রার্থী।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন
বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা দেয়ার পর তৌহিদি জনতা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল ও প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। শহীদ মো: আলামগীর হোসেন ৩ মার্চ সকাল ৭.৩০ টায় তৌহিদি জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। সেখানে জালেমদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয় এবং শন্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও প্রতিবাদ করেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে ৭.৩০ মিনিটে বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবের মোড় এলাকায় শহীদ মো: আলামগীর হোসেনকে র্যাব সরাসরি গুলি করলে তিনি গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। পুলিশ লাশ নিয়ে যায়, আটকে রাখে অতঃপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পোস্টমর্টেম করার পর ৪ই মার্চ সকাল ১১ টায় প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর লাশ হস্তান্তর করে। কলাবোনা আতবজান মেমোরিয়াল হাইস্কুল মাঠে শহীদের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মাকসুদুর রহমান। এতে প্রায় দেড় হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। ৩. শহীদের আপনজনদের কথা
মা-বাবার আর্তি: ছেলে হিসেবে শহীদ মো: আলামগীর হোসেন যথেষ্ট ভদ্র ছিলেন। তিনি সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। যথেষ্ট আদবের সাথে চলতেন। নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন ও ইসলামের নিয়ম-কানুন মেনে চলতেন। গ্রামে সবাই তাকে খুব ভালোবাসত। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে গ্রামে দুস্থদের সেবা করবেন। দরিদ্র মা-বাবার দুঃখ কষ্ট লাঘব করবেন। কিন্তু স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেট তার সে স্বপ্নকে অঙ্কুরেই শেষ করে দেয়। মা আজো হঠাৎ করে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন "তোমরা কি কেউ আমার ছেলেরে আইনবার দিবার পারবা"? সন্তানহারা মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কে এই প্রশ্নের উত্তর দেবে? সাড়ে তিন বছর আগে দাদার মৃত্যু হয়েছে। পাশে বাবার কবরের জন্য জায়গা রাখা ছিল। সবার আদরের আলমগীর সকল কিছুতেই সবাইকে ছাড় দিলেও, আজকে কী হল কাউকে সে কোন ছাড়ই দিল না। বড় সকল ভাইবোনতো দূরের কথা এমনকি মা এবং ৬০ বছর বয়সী পিতাকে পেছনে ফেলে দাদার পার্শ্বে কবরের সেই দামি জায়গাটা কেড়ে নিল সে। তাই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ শতবর্ষী দাদার কবরের পাশে শুয়ে আছেন সর্বকনিষ্ঠ ১৭ বছরের আলমগীর।
বড় ভাই: আমার ভাই সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতো। নিয়মিত নামাজ আদায় করতো। কাউকে দেখলেই আগে সালাম দিত। কখনো করো সাথে ঝগড়া করতো না। ইসলামী রীতি-নীতি পালনে আমাদের তিন ভাইয়ের মাঝে সে ছিল বেশি অগ্রসর।
মেজো ভাইয়ের কথা: মেজো ভাই এর সাথে শহীদ আলমগীরের কথা হয়েছিল যে, আমার লেখাপড়ার খরচ
তুমি বহন করবে। আর আমি পড়ালেখা শেষ করে তোমার টাকা পরিশোধ করব। অন্যথায় জমি দিয়ে দেব। তার সাথীদের কথা: শাহাদাতের সপ্তাহ খানেক আগে শহীদ আলমগীরসহ ওর ৪-৫ বন্ধু গাইবান্ধা বেড়াতে গিয়েছিল। রাস্তায় তাদের নসিমন গাড়িটি এক্সিডেন্ট করায় সবাই কম বেশি আহত হয়, কিন্তু তার কিছুই হয়নি। আজ সেই বন্ধুরা কাঁদেন, আল্লাহ কি এভাবেই তাকে চূড়ান্ত কোরবানির জন্য অন্যদের ভেতর থেকে বাছাই করে আলাদা রেখেছিলেন? ঘটনার দিন ভোরে দায়িত্বশীলরা তাকে তাড়া দিচ্ছে দ্রুত মিছিলে যেতে হবে: শহীদ আলমগীর ধীরস্থিরভাবে বলেছিল; আমার গোছল জরুরি, তাই গোছল করেই যাব। শাহাদাতের প্রস্তুতি নিয়েই যাব। সঙ্গীরা কাঁদেন সত্যি আল্লাহ তার প্রত্যাশাকে কিভাবে কানায় কানায় পূর্ণতা দিয়েছেন।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল:
নাম: শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন (০২৫)। পেশা: প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ইং ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.।
শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০ মি. স্থান: বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবিয়ার মোড় এলাকায়। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কলাকোপা, ডাকঘর: কলাকোপা, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আনসার আলী প্রামাণিক (অসুস্থ), ৬০ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: খাতেমুন, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের একটি ঘর, যৌথ পরিবার। নিজেদের ১ বিঘার মতো কৃষিজমি আছে। ছেলেদের সহযোগিতায় সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. মো: ঈসমাইল, টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন ২. মোছা: ছবিকা, বিবাহিতা, স্বামীঃ মো: জহুরুল, কৃষিকাজ, ৩. মো: লিটন, ড্রাইভিং আব্দুল মোনায়েম লিঃ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৪. মো: আলমগীর হোসেন (শহীদ), প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন ১৯৯৬ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার কলাকোপা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট, ভাইবোনদের আদরের ছোট ভাই। শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন দয়রামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক/দাখিল (এ-) গ্রেডে পাষ করে বগুড়া শহরে নোবেল প্যারামেডিকেলে ভর্তি হন। বড় ভাই মো: ঈসমাইল একটি টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন, অন্য ভাই মো: লিটন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ড্রাইভারের কাজ করে। বোন মোছা: ছবিকা আক্তার বিবাহিতা। তার স্বামী মো: জহুরুল ইসলাম একজন দিনমজুর। ৬০ বছর বয়সী বাবা মো: আনসার আলী প্রামাণিক কৃষি কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন ছিলেন ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সাথীপ্রার্থী।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন
বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা দেয়ার পর তৌহিদি জনতা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল ও প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। শহীদ মো: আলামগীর হোসেন ৩ মার্চ সকাল ৭.৩০ টায় তৌহিদি জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। সেখানে জালেমদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয় এবং শন্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও প্রতিবাদ করেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে ৭.৩০ মিনিটে বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবের মোড় এলাকায় শহীদ মো: আলামগীর হোসেনকে র্যাব সরাসরি গুলি করলে তিনি গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। পুলিশ লাশ নিয়ে যায়, আটকে রাখে অতঃপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পোস্টমর্টেম করার পর ৪ই মার্চ সকাল ১১ টায় প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর লাশ হস্তান্তর করে। কলাবোনা আতবজান মেমোরিয়াল হাইস্কুল মাঠে শহীদের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মাকসুদুর রহমান। এতে প্রায় দেড় হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। ৩. শহীদের আপনজনদের কথা
মা-বাবার আর্তি: ছেলে হিসেবে শহীদ মো: আলামগীর হোসেন যথেষ্ট ভদ্র ছিলেন। তিনি সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। যথেষ্ট আদবের সাথে চলতেন। নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন ও ইসলামের নিয়ম-কানুন মেনে চলতেন। গ্রামে সবাই তাকে খুব ভালোবাসত। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে গ্রামে দুস্থদের সেবা করবেন। দরিদ্র মা-বাবার দুঃখ কষ্ট লাঘব করবেন। কিন্তু স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেট তার সে স্বপ্নকে অঙ্কুরেই শেষ করে দেয়। মা আজো হঠাৎ করে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন "তোমরা কি কেউ আমার ছেলেরে আইনবার দিবার পারবা"? সন্তানহারা মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কে এই প্রশ্নের উত্তর দেবে? সাড়ে তিন বছর আগে দাদার মৃত্যু হয়েছে। পাশে বাবার কবরের জন্য জায়গা রাখা ছিল। সবার আদরের আলমগীর সকল কিছুতেই সবাইকে ছাড় দিলেও, আজকে কী হল কাউকে সে কোন ছাড়ই দিল না। বড় সকল ভাইবোনতো দূরের কথা এমনকি মা এবং ৬০ বছর বয়সী পিতাকে পেছনে ফেলে দাদার পার্শ্বে কবরের সেই দামি জায়গাটা কেড়ে নিল সে। তাই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ শতবর্ষী দাদার কবরের পাশে শুয়ে আছেন সর্বকনিষ্ঠ ১৭ বছরের আলমগীর।
বড় ভাই: আমার ভাই সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতো। নিয়মিত নামাজ আদায় করতো। কাউকে দেখলেই আগে সালাম দিত। কখনো করো সাথে ঝগড়া করতো না। ইসলামী রীতি-নীতি পালনে আমাদের তিন ভাইয়ের মাঝে সে ছিল বেশি অগ্রসর।
মেজো ভাইয়ের কথা: মেজো ভাই এর সাথে শহীদ আলমগীরের কথা হয়েছিল যে, আমার লেখাপড়ার খরচ
তুমি বহন করবে। আর আমি পড়ালেখা শেষ করে তোমার টাকা পরিশোধ করব। অন্যথায় জমি দিয়ে দেব। তার সাথীদের কথা: শাহাদাতের সপ্তাহ খানেক আগে শহীদ আলমগীরসহ ওর ৪-৫ বন্ধু গাইবান্ধা বেড়াতে গিয়েছিল। রাস্তায় তাদের নসিমন গাড়িটি এক্সিডেন্ট করায় সবাই কম বেশি আহত হয়, কিন্তু তার কিছুই হয়নি। আজ সেই বন্ধুরা কাঁদেন, আল্লাহ কি এভাবেই তাকে চূড়ান্ত কোরবানির জন্য অন্যদের ভেতর থেকে বাছাই করে আলাদা রেখেছিলেন? ঘটনার দিন ভোরে দায়িত্বশীলরা তাকে তাড়া দিচ্ছে দ্রুত মিছিলে যেতে হবে: শহীদ আলমগীর ধীরস্থিরভাবে বলেছিল; আমার গোছল জরুরি, তাই গোছল করেই যাব। শাহাদাতের প্রস্তুতি নিয়েই যাব। সঙ্গীরা কাঁদেন সত্যি আল্লাহ তার প্রত্যাশাকে কিভাবে কানায় কানায় পূর্ণতা দিয়েছেন।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল:
নাম: শহীদ মো: আলমগীর হোসাইন (০২৫)। পেশা: প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ইং ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০মি.।
শাহাদাতের তারিখ: ৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ০৮.৩০ মি. স্থান: বগুড়া ইসলামী হাসপাতালের কাছে ইয়াকুবিয়ার মোড় এলাকায়। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কলাকোপা, ডাকঘর: কলাকোপা, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া।
পিতা: মো: আনসার আলী প্রামাণিক (অসুস্থ), ৬০ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: খাতেমুন, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের একটি ঘর, যৌথ পরিবার। নিজেদের ১ বিঘার মতো কৃষিজমি আছে। ছেলেদের সহযোগিতায় সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: ১. মো: ঈসমাইল, টেকনিক্যাল কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন ২. মোছা: ছবিকা, বিবাহিতা, স্বামীঃ মো: জহুরুল, কৃষিকাজ, ৩. মো: লিটন, ড্রাইভিং আব্দুল মোনায়েম লিঃ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৪. মো: আলমগীর হোসেন (শহীদ), প্যারামেডিকেলে পড়তেন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍