হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল
শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল

শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল, ১ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে গাজীপুরের যোগীতলা গ্রামে জন্ম নেওয়া এক স্বপ্নবান তরুণ, যিনি ছাত্রজীবনেই আদর্শ ও সাহসিকতার জন্য পরিচিতি পান। আজিম উদ্দিন কলেজের মেধাবী এই ছাত্র সংগঠনের সাথী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সামনে থেকেছেন। ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং ১১ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। আন্দোলনের ঝড়ো দিনে তার অদম্য সাহস, নেতৃত্ব ও প্রতিবাদী কণ্ঠ আজও গাজীপুরের তরুণ প্রজন্মকে আলোড়িত করে। তার রক্তে লেখা এই ত্যাগের ইতিহাস সংগঠনকে দিয়েছে শক্তি—আর রেখে গেছে এক অনন্ত প্রেরণার মশাল।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল
গাজীপুর-২
শহীদের পরিচিতি
শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল ১৯৮৮ সালের ০১ জানুয়ারি গাজীপুরের সদর উপজেলার যুগীতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম নাসির উদ্দীন ও মাতার নাম ফুলমতি বেগম। তিনি আজিম উদ্দিন কলেজের মেধাবী ছাত্র ও সংগঠনের সাথী ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
তিনি গাজীপুর মহানগরের যোগীতলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১১ মার্চ চিকিৎসাধীন। অবস্থায় হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।
গাজীপুরের অলংকার
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর বলেন- আলহামদুলিল্লাহ, গাজীপুর মহানগরে আজ ইসলামী আন্দোলনের মজবুত অবস্থান। এর পেছনে রয়েছে কিছু দরদী মানুষের সীমাহীন ত্যাগ ও কুরবানি। কিছু সুনিপুণ কারিগর তাদের শরীর থেকে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরিয়ে তৈরি করেছেন তাওহীদের এই সুরম্য প্রাসাদ। আর এই শহীদি প্রাসাদের অলংকার হলো নির্ভিক সাহসী দুইজন মানুষ। এই প্রাসাদের প্রেরণা হলো তাদের দেহের বিন্দু বিন্দু রক্ত। একজন গাজীপুর মহানগর বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ রুহুল আমিন, অন্যজন মহানগরী ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ ফরিদ আহমেদ মন্ডল।
বাইশ বছরের টগবগে তাজা তরুণ ফরিদ আহমেদ মন্ডলের কথা তার সাথীরা আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবে। বাতিলের বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে সামনের কাতার ছাড়া কখনো পেছনে দেখা যায়নি তাকে। অন্যায়ের প্রতিবাদে গর্জে ওঠা ছিলো তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। নিজের আগামী জীবনের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের চেয়ে প্রিয় সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের গুরুত্ব ছিল তার কাছে অধিক প্রিয়। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিজের কাঁধে তুলে নিতেন। জানাযার নামাযে তার দায়িত্বশীল ও সাথীদের বুকফাটা কান্নার রোল দেখে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারি, তাদের হৃদয় কতটা জয় করে নিয়েছিল শহীদ ফরিদ। পাগলপ্রায় পিতা-মাতার নির্বাক দৃষ্টি, স্বজনদের করুণ আহাজারি বলে দিচ্ছিল পরিবার পরিজনের কত প্রিয় ছিল এই তরুণ। আসলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই তার জন্য কাল হলো। তার প্রতিবাদী কণ্ঠকে সহ্য করতে পারেনি অপশক্তি। তাই মানবসমাজের কাঁট এই কাপুরুষগুলো ফরিদ আহমেদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিতে তাকে হত্যার মত জঘণ্য পথই বেছে নেয়। এরা জানে না একজন ফরিদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিলেই সত্যের মশাল নিভে যায় না, প্রতিবাদের মিছিল থেমে যায় না। বরং শহীদের প্রতি ফোটা রক্ত প্রেরণার বাতিঘর হয়ে দীন কায়েমের কাফেলাকে আরো বেশি উজ্জীবিত ও বেগবান করে। শহীদ ফরিদের সাথীরাও দৃপ্ত শপথ নিয়েছে, তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ গাজীপুরের মাটিতে ইনশাআল্লাহ সুসম্পন্ন করবেই তারা। শহীদ রুহুল আমিন এবং শহীদ ফরিদ আহমেদের রক্ত কিয়ামত পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরের ইসলামী আন্দোলনকে সাহস, শক্তি ও প্রেরণা যোগাবে।
শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না
শহিদী মৃত্যুর খোশ নসীব সবার হয় না। এই সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আলাহ তাঁর কিছু প্রিয় বান্দাকে বাছাই করে নেন। যারা থাকে দীন কায়েমের আন্দোলনের জন্য নিবেদিত প্রাণ। যারা হয় রুহুল আমিন ও ফরিদ আহমেদের মত অকুতোভয় নির্ভীক। যাদের হিম্মত ধ্বসিয়ে দেয় তাগুতের প্রাসাদ। আলাহ আমাদের মাঝ থেকে এরকম দুইজন যোগ্য মানুষকেই বাছাই করেছেন। যাদের রক্তাক্ত দেহ কিয়ামতের ময়দানে তাদের ত্যাগ ও কুরবানির সাক্ষ্য বহন করবে। বিনা হিসেবে প্রভু তাদের ডেকে নিবেন জান্নাতের মেহমান বানিয়ে।
এক নজরে শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল
পুরোনাম: শহীদ ফরিদ আহমদ মণ্ডল
পিতা: নাসির উদ্দীন
মাতা: ফুলমতি বেগম
জন্ম তারিখ: জানুয়ারি ১, ১৯৮৮
ভাই বোন: ৪ ভাই
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: যোগীতলা, থানা: গাজীপুর সদর, জেলা: গাজীপুর
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: এইচ এস সি
শাহাদাতের স্থান: ব্রাক অফিসের পাশে