শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (০৯২)। পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সাংগঠনিক মান: সাথী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৬.০৪.১৯৯৫, ১৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন, স্থান: জামিলনগর মসজিদ। দাফন করা হয়: জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আদর্শপাড়া, ডাকঘর: কালাই, উপজেলা: কালাই, জেলা: জয়পুরহাট।
পিতা: মো. আব্দুল আখের। ৪৫ বছর, ছোট কাঁচামালের দোকান।
মাতা: মোছা: অলেদা বিবি, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন, মো: আব্দুল গফুর, নবম শ্রেণী, ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল, দিলরুবা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, ব্রাক স্কুল।
সাংগঠনিক মান: সাথী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৬.০৪.১৯৯৫, ১৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন, স্থান: জামিলনগর মসজিদ। দাফন করা হয়: জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আদর্শপাড়া, ডাকঘর: কালাই, উপজেলা: কালাই, জেলা: জয়পুরহাট।
পিতা: মো. আব্দুল আখের। ৪৫ বছর, ছোট কাঁচামালের দোকান।
মাতা: মোছা: অলেদা বিবি, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন, মো: আব্দুল গফুর, নবম শ্রেণী, ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল, দিলরুবা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, ব্রাক স্কুল।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"তার প্রচণ্ড স্বপ্ন ছিল, আমি বড় প্রকৌশলী হয়ে পরিবারের সকল অভাব দূর করব। কিন্তু হায়! পরিবারের স্বপ্ন পুরণে বগুড়ার প্রশাসন হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল্লাহর হাতে কোন প্রকৌশলীর সার্টিফিকেট দিতে পারেনি বদলে। বাবা-মায়ের কাছে দিয়েছে তার কফিনবন্ধ নিষ্প্রাণদেহ এবং একটি ডেথ সার্টিফিকেট।"
১. শহীদের পরিচিতি
জয়পুরহাট কালাই উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামে শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আখের ও মাতা অলেদা বিবির তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান ছিল সে। দাদা তার নিজের নাতির নাম রেখেছিলেন তার নিজের এবং ওর বাবা, মায়ের নামের সাথে মিল করে। ২ ভাই ১ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা অনেক কষ্টে সন্তানদের পড়ালেখা করার ব্যবস্থা করেছিলেন। ছোটছেলে মো: আব্দুল গফুর নবম এবং ছোটমেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ ২০১১ সালে কালাই এম. ইউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। তার জীবনে একজন আদর্শ প্রকৌশলী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল। তাই অনেক বাধা ডিঙিয়ে পড়াশোনা শুরু করে ছিলেন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১ জানুয়ারি' ২০১৩ তারিখে শহীদ আবু রুহানিকে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল শেষে সবার সঙ্গে তিনিও নিজ ছাত্রাবাসে ফিরছিলেন। তিনি জামিলনগর পৌছে তৎসংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করে সেখানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে আজিজুল হক কলেজ গেটের দিক থেকে অতর্কিতভাবে পুলিশ, র্যাব গুলি করতে করতে জামিলনগর মসজিদের দিকে আসতে থাকে। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই শিবিরের কর্মী আব্দুল্লাহ র্যাবের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শিবিরের আরও অনেক নেতাকর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়। আব্দুল্লাহকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন। শহীদের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন ৭৫ বছর বয়েসী শহীদের গর্বিত নানা মো: আবুল কালাম। প্রায় ৭ হাজার মানুষ জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩১ জানুয়ারি ২০১৩। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল। সারা দেশের মতো বগুড়াতেও হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়। এ মিছিলে প্রায় সাত হাজার লোক উপস্থিত ছিল। জামায়াত-শিবির তথা ইসলামপন্থীদের মোকাবেলায় ঘোরতর সরকার সমর্থক দৈনিক প্রথম আলো পর্যন্ত ছাত্রলীগের বর্বরতার বিষয়ে ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ "বগুড়ায় ১৫ মিনিটে দুজন নিহত:" শিরোনামে রিপোর্ট করে: "প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি মহিলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। শিবিরের নেতা আবু রুহানিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই সংঘর্ষে আহত হন শিবিরের আরও তিনকর্মী।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার ১৫ মিনিট পর বেলা পৌনে একটার দিকে শহরের সাবগ্রামে দ্বিতীয় বাইপাসে ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। তখন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবসায়ী মিজানুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁকে জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।"
১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংগ্রাম লিখে; এর কিছুক্ষণ পর বিপুল সংখ্যক র্যাব-পুলিশ শিবির অধ্যুষিত
জামিলনগরে অভিযান চালালে শিবির কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ শিবির কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তির পর আব্দুল্লাহ ও শরিফ নামের আরও দুই শিবিরকর্মী মারা যায়। গুরুতর আহত শিবির কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গেলে পুলিশ কমপক্ষে ২০ শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত পিতা: শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুনের গর্বিত পিতা আব্দুল আখের বলেন, আব্দুল্লাহ ছিল খুবই অমায়িক ছেলে। আব্দুল্লাহর নামটিই ছিল অন্যরকম; সে নিজের নামেরই এক জীবন্ত প্রতীক ছিল। সে খুব আনুগত্যশীল কর্মী এবং সে একজন ভালো ছাত্র ছিল। অনেক সময়ই ব্যবসায়ের কাজে সহায়তা করত।
শহীদের দাদা: ৮৫ বছর বয়সী আজিজার রহমান শহীদের দাদা। তিনি বলেন, সে আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসত। সে আমার প্রিয় নাতি বলে আমি গর্বিত। তার অনেক স্মৃতি আমার চোখে ভেসে আসে। তাকে আমি কখনও ভুলতে পারব না। সে মেসে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিল আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন ভালো প্রকৌশলী হতে পারি। তার প্রচণ্ড স্বপ্ন ছিল, আমি বড় প্রকৌশলী হয়ে পরিবারের সকল অভাব দূর করব। কিন্তু হায়! পরিবারের স্বপ্ন পূরণে বগুড়ার প্রশাসন হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল্লাহর হাতে কোন প্রকৌশলীর সার্টিফিকেট দিতে পারেনি, বদলে বাবা মায়ের কাছে দিয়েছে তার কফিনবদ্ধ নিষ্প্রাণদেহ এবং একটি ডেথ সার্টিফিকেট।
শহীদের আম্মা: মায়ের সাথে সন্তানের সবচেয়ে বেশি কথা হয়। আব্দুল্লাহও মাকে ফোন করে ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার বলেছিল কাল ৩০ জানুয়ারি বুধবার সে বাড়ি আসবে। আবার বুধবার সকালে ফোন দিয়ে বললো কাল ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হরতাল শেষে আসবে। সেদিন রাত ৯টায় ফোন এলো কিন্তু সে ফোন করেনি সঙ্গীরা করেছে। আব্দুল্লাহ আর আসবে না। মা ভাবলো তার ছেলে কি কোন রাগ করেছে? সঙ্গীরা দ্বিধা ঝেড়ে বললো, 'না আব্দুল্লাহ আল্লাহর কাছে চলে গেছে।,
আব্দুল্লাহর ৮০ ছুঁই ছুঁই বছরের দাদা, দাদী সত্তরোর্ধ্ব নানা, নানী এবং বাবা, মা তিন চাচা-চাচী এক ফুফা-ফুপি এবং সকল ভাইবোনই বেঁচে আছে। চাচাতো ভাইবোনদের ভেতরও সে চতুর্থ। কিন্তু জান্নাতের মালা গাঁথতে মাত্র ১৮ বছর বয়সী তার জীবন-ফুলটিই পরম প্রভু সর্বাগ্রে নিয়েছেন।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
১০ শতকের ওপর একটি বসতবাড়ি। টিনশেড ২টি রুম। নিজেদের এক বিঘা কৃষিজমি আছে। কিছু জমি থেকে আয় এবং তিনি কাঁচামালের ছোট ব্যবসা করেন, তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। ৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (০৯২)। পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সাংগঠনিক মান: সাথী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৬.০৪.১৯৯৫, ১৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন, স্থান: জামিলনগর মসজিদ। দাফন করা হয়: জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আদর্শপাড়া, ডাকঘর: কালাই, উপজেলা: কালাই, জেলা: জয়পুরহাট।
পিতা: মো. আব্দুল আখের। ৪৫ বছর, ছোট কাঁচামালের দোকান।
মাতা: মোছা: অলেদা বিবি, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন, মো: আব্দুল গফুর, নবম শ্রেণী, ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল, দিলরুবা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, ব্রাক স্কুল।
১. শহীদের পরিচিতি
জয়পুরহাট কালাই উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামে শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আখের ও মাতা অলেদা বিবির তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান ছিল সে। দাদা তার নিজের নাতির নাম রেখেছিলেন তার নিজের এবং ওর বাবা, মায়ের নামের সাথে মিল করে। ২ ভাই ১ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা অনেক কষ্টে সন্তানদের পড়ালেখা করার ব্যবস্থা করেছিলেন। ছোটছেলে মো: আব্দুল গফুর নবম এবং ছোটমেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ ২০১১ সালে কালাই এম. ইউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। তার জীবনে একজন আদর্শ প্রকৌশলী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল। তাই অনেক বাধা ডিঙিয়ে পড়াশোনা শুরু করে ছিলেন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১ জানুয়ারি' ২০১৩ তারিখে শহীদ আবু রুহানিকে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল শেষে সবার সঙ্গে তিনিও নিজ ছাত্রাবাসে ফিরছিলেন। তিনি জামিলনগর পৌছে তৎসংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করে সেখানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে আজিজুল হক কলেজ গেটের দিক থেকে অতর্কিতভাবে পুলিশ, র্যাব গুলি করতে করতে জামিলনগর মসজিদের দিকে আসতে থাকে। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই শিবিরের কর্মী আব্দুল্লাহ র্যাবের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শিবিরের আরও অনেক নেতাকর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়। আব্দুল্লাহকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন। শহীদের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন ৭৫ বছর বয়েসী শহীদের গর্বিত নানা মো: আবুল কালাম। প্রায় ৭ হাজার মানুষ জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩১ জানুয়ারি ২০১৩। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল। সারা দেশের মতো বগুড়াতেও হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়। এ মিছিলে প্রায় সাত হাজার লোক উপস্থিত ছিল। জামায়াত-শিবির তথা ইসলামপন্থীদের মোকাবেলায় ঘোরতর সরকার সমর্থক দৈনিক প্রথম আলো পর্যন্ত ছাত্রলীগের বর্বরতার বিষয়ে ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ "বগুড়ায় ১৫ মিনিটে দুজন নিহত:" শিরোনামে রিপোর্ট করে: "প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি মহিলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। শিবিরের নেতা আবু রুহানিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই সংঘর্ষে আহত হন শিবিরের আরও তিনকর্মী।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার ১৫ মিনিট পর বেলা পৌনে একটার দিকে শহরের সাবগ্রামে দ্বিতীয় বাইপাসে ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। তখন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবসায়ী মিজানুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁকে জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।"
১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংগ্রাম লিখে; এর কিছুক্ষণ পর বিপুল সংখ্যক র্যাব-পুলিশ শিবির অধ্যুষিত
জামিলনগরে অভিযান চালালে শিবির কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ শিবির কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তির পর আব্দুল্লাহ ও শরিফ নামের আরও দুই শিবিরকর্মী মারা যায়। গুরুতর আহত শিবির কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গেলে পুলিশ কমপক্ষে ২০ শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত পিতা: শহীদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুনের গর্বিত পিতা আব্দুল আখের বলেন, আব্দুল্লাহ ছিল খুবই অমায়িক ছেলে। আব্দুল্লাহর নামটিই ছিল অন্যরকম; সে নিজের নামেরই এক জীবন্ত প্রতীক ছিল। সে খুব আনুগত্যশীল কর্মী এবং সে একজন ভালো ছাত্র ছিল। অনেক সময়ই ব্যবসায়ের কাজে সহায়তা করত।
শহীদের দাদা: ৮৫ বছর বয়সী আজিজার রহমান শহীদের দাদা। তিনি বলেন, সে আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসত। সে আমার প্রিয় নাতি বলে আমি গর্বিত। তার অনেক স্মৃতি আমার চোখে ভেসে আসে। তাকে আমি কখনও ভুলতে পারব না। সে মেসে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিল আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন ভালো প্রকৌশলী হতে পারি। তার প্রচণ্ড স্বপ্ন ছিল, আমি বড় প্রকৌশলী হয়ে পরিবারের সকল অভাব দূর করব। কিন্তু হায়! পরিবারের স্বপ্ন পূরণে বগুড়ার প্রশাসন হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল্লাহর হাতে কোন প্রকৌশলীর সার্টিফিকেট দিতে পারেনি, বদলে বাবা মায়ের কাছে দিয়েছে তার কফিনবদ্ধ নিষ্প্রাণদেহ এবং একটি ডেথ সার্টিফিকেট।
শহীদের আম্মা: মায়ের সাথে সন্তানের সবচেয়ে বেশি কথা হয়। আব্দুল্লাহও মাকে ফোন করে ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার বলেছিল কাল ৩০ জানুয়ারি বুধবার সে বাড়ি আসবে। আবার বুধবার সকালে ফোন দিয়ে বললো কাল ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হরতাল শেষে আসবে। সেদিন রাত ৯টায় ফোন এলো কিন্তু সে ফোন করেনি সঙ্গীরা করেছে। আব্দুল্লাহ আর আসবে না। মা ভাবলো তার ছেলে কি কোন রাগ করেছে? সঙ্গীরা দ্বিধা ঝেড়ে বললো, 'না আব্দুল্লাহ আল্লাহর কাছে চলে গেছে।,
আব্দুল্লাহর ৮০ ছুঁই ছুঁই বছরের দাদা, দাদী সত্তরোর্ধ্ব নানা, নানী এবং বাবা, মা তিন চাচা-চাচী এক ফুফা-ফুপি এবং সকল ভাইবোনই বেঁচে আছে। চাচাতো ভাইবোনদের ভেতরও সে চতুর্থ। কিন্তু জান্নাতের মালা গাঁথতে মাত্র ১৮ বছর বয়সী তার জীবন-ফুলটিই পরম প্রভু সর্বাগ্রে নিয়েছেন।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
১০ শতকের ওপর একটি বসতবাড়ি। টিনশেড ২টি রুম। নিজেদের এক বিঘা কৃষিজমি আছে। কিছু জমি থেকে আয় এবং তিনি কাঁচামালের ছোট ব্যবসা করেন, তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। ৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (০৯২)। পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সাংগঠনিক মান: সাথী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৬.০৪.১৯৯৫, ১৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন, স্থান: জামিলনগর মসজিদ। দাফন করা হয়: জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আদর্শপাড়া, ডাকঘর: কালাই, উপজেলা: কালাই, জেলা: জয়পুরহাট।
পিতা: মো. আব্দুল আখের। ৪৫ বছর, ছোট কাঁচামালের দোকান।
মাতা: মোছা: অলেদা বিবি, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, পেশা: বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন, মো: আব্দুল গফুর, নবম শ্রেণী, ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল, দিলরুবা খাতুন, ৫ম শ্রেণী, ব্রাক স্কুল।