শহীদ মো: সাবেত আলী
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো: সাবেত আলী (১০৫)। পেশা। দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০৯.১৯৫৭। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
= শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, স্থান: পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় অবস্থায় পুলিশ গুলি করে
এবং সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-সুজাবাদ দইপাড়া, ইউনিয়ন- মাঝিড়া, ডাকঘর-মাদলা, থানা-শাহজাহানপুর,
জেলা-বগুড়া।পিতা: মনির উদ্দিন, মরহুম।
মাতা: খাতেমন বিবি, মরহুম।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘরের চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে ছনের ছাউনি। কোন কৃষিজমি নেই। স্ত্রীর ইটভাটার মজুরি দিয়ে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন্নাহার, মেয়ে: মোছা: রানী খাতুন-বিবাহিত, রুনা খাতুন-বিবাহিত, আছিয়া- ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। শাফিয়া খাতুন-১৬ বছর, জনি মিয়া।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: খাদেম আলী-কৃষক, মো: আবেদ আলী-গার্মেন্টস, মোছা: ফুলেরা-গৃহিণী, আবিরন-গৃহিণী, মোছা: খুকিয়া-গৃহিণী, মোছা: আবিরন-গৃহিণী, মোছা: হালিমা-গৃহিণী,
মোছা: বেগুনি-গৃহিণী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০৯.১৯৫৭। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
= শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, স্থান: পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় অবস্থায় পুলিশ গুলি করে
এবং সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-সুজাবাদ দইপাড়া, ইউনিয়ন- মাঝিড়া, ডাকঘর-মাদলা, থানা-শাহজাহানপুর,
জেলা-বগুড়া।পিতা: মনির উদ্দিন, মরহুম।
মাতা: খাতেমন বিবি, মরহুম।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘরের চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে ছনের ছাউনি। কোন কৃষিজমি নেই। স্ত্রীর ইটভাটার মজুরি দিয়ে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন্নাহার, মেয়ে: মোছা: রানী খাতুন-বিবাহিত, রুনা খাতুন-বিবাহিত, আছিয়া- ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। শাফিয়া খাতুন-১৬ বছর, জনি মিয়া।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: খাদেম আলী-কৃষক, মো: আবেদ আলী-গার্মেন্টস, মোছা: ফুলেরা-গৃহিণী, আবিরন-গৃহিণী, মোছা: খুকিয়া-গৃহিণী, মোছা: আবিরন-গৃহিণী, মোছা: হালিমা-গৃহিণী,
মোছা: বেগুনি-গৃহিণী।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"ঘোরতর সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত বগুড়ার স্থানীয় প্রভাবশালী দৈনিক করতোয়া ৪ মার্চ ২০১৩, 'বগুড়ায় গুলিতে নিহত ১২' শীর্ষক রিপোর্ট করে কিভাবে চাঁদে সাঈদী সাহেবকে দেখার বিষয়টি প্রচারিত হয় এবং এতে কোন সংগঠনের ইন্ধন ছিল না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের অভিব্যক্তি।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: সাবেত আলী বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার সুজাবাদ দইপাড়া গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুম পিতা মনির উদ্দিন ও মাতা খাতেমন বিবি'র আট সন্তানের মধ্যে সাবেত আলী দ্বিতীয়। দরিদ্র পিতা-মাতা তাকে ছোট বেলায় তেমন পড়া-লেখার ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই বয়স হওয়ার পর থেকে তিনি দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। ০৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে তিনি দিনমজুরির জন্য কাজে গিয়েছিলেন। মাঠ থেকে মিছিলের আওয়াজ শুনে তিনি মিছিলে যান। পুলিশ মিছিলে বাধা প্রদান করলে তিনি এক বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন সেখানে পুলিশ তাকে ধরে সরাসরি বুকে গুলি করে এবং তিনি শহীদ হন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসির অল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ড দেওয়ার পর তৌহিদী জনতা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল ও প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া সাঈদী সাহেবকে চাঁদে দেখা গিয়েছিল মর্মে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তিনিও সেই মিছিলে শামিল হন। পুলিশ বাধা প্রদান করলে তিনি এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে সেখানে পুলিশ তাকে ধরে সরাসরি বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ রবিবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব-এর মুক্তির দাবি ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। হরতালের সমর্থনে ভোর রাত থেকেই বগুড়ার হাজার হাজার ইসলামপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এবং হরতালের সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। পুলিশ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ভাবে শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সে মিছিলে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে অনেকেই শাহাদাত বরণ করেন। তাদের একজন ছিলেন শহীদ সাবেত আলী। বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ।
ঘোরতর সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্থানীয় প্রভাবশালী দৈনিক সাতমাথা রিপোর্ট করে কিভাবে চাঁদে সাইদী সাহেবকে দেখার বিষয়টি প্রচারিত হয় এবং এতে কোন সংগঠনের ইন্ধন ছিল না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের অভিব্যক্তি। ৪ মার্চ ২০১৩, 'বগুড়ায় গুলিতে নিহত ১২' শিরোনামে সাতমাথার রিপোর্ট:
'গত শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি গুজব রটে যায় শনিবার সকালে। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্যটি দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। চাঁদের গায়ে থাকা ছায়া দেখে সেটি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বলে অনেকে বিশ্বাস করতে থাকেন। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদীর এই বিশ্বাস গেঁথে যায় অনেকের মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পাড়া মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ফজরের নামাজের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের উপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামাজ শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জামায়াত-শিবির নেতা কর্মিরা আসা জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।'
শুধু শাহজাহানপুর থানার ঘটনাস্থলেই মহিলাসহ ৩ জন এবং বগুড়া সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক মহিলাসহ ২ জন নিহত হন। আহত হয় ৩ পুলিশসহ প্রায় ২০ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে বগুড়া সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা হলেন উপজেলার সাজাপুর পশ্চিমপাড়ার মেহরাজের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৪৫), ডোমনপুকুর গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম (৩৮), ডোমনপুকুর নতুনপাড়ার মৃত মনছের আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৫০), আমরুল গ্রামের জাফর আলীর ছেলে আব্দুল কাছির (৪০) এবং ডোমনপুকুর নয়াপাড়ার রকিবের ছেলে আব্দুর রহমান (৬০)। এ ঘটনার পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে দুই প্লাটুন সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে রক্ষা ও পরিবেশ শান্ত রাখতে থানার দু'পাশে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এদিকে, দুপুর দেড়টা থেকে উপজেলা সদর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবতৎ থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম নুরুল ইসলাম জানান, সেনা মোতায়েন নয়, থানা পুলিশকে রক্ষা করতেই সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: সাবেত আলী (১০৫)। পেশা। দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০৯.১৯৫৭। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
= শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, স্থান: পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় অবস্থায় পুলিশ গুলি করে
এবং সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-সুজাবাদ দইপাড়া, ইউনিয়ন- মাঝিড়া, ডাকঘর-মাদলা, থানা-শাহজাহানপুর,
জেলা-বগুড়া।পিতা: মনির উদ্দিন, মরহুম।
মাতা: খাতেমন বিবি, মরহুম।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘরের চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে ছনের ছাউনি। কোন কৃষিজমি নেই। স্ত্রীর ইটভাটার মজুরি দিয়ে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন্নাহার, মেয়ে: মোছা: রানী খাতুন-বিবাহিত, রুনা খাতুন-বিবাহিত, আছিয়া- ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। শাফিয়া খাতুন-১৬ বছর, জনি মিয়া।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: খাদেম আলী-কৃষক, মো: আবেদ আলী-গার্মেন্টস, মোছা: ফুলেরা-গৃহিণী, আবিরন-গৃহিণী, মোছা: খুকিয়া-গৃহিণী, মোছা: আবিরন-গৃহিণী, মোছা: হালিমা-গৃহিণী,
মোছা: বেগুনি-গৃহিণী।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: সাবেত আলী বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার সুজাবাদ দইপাড়া গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুম পিতা মনির উদ্দিন ও মাতা খাতেমন বিবি'র আট সন্তানের মধ্যে সাবেত আলী দ্বিতীয়। দরিদ্র পিতা-মাতা তাকে ছোট বেলায় তেমন পড়া-লেখার ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই বয়স হওয়ার পর থেকে তিনি দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। ০৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে তিনি দিনমজুরির জন্য কাজে গিয়েছিলেন। মাঠ থেকে মিছিলের আওয়াজ শুনে তিনি মিছিলে যান। পুলিশ মিছিলে বাধা প্রদান করলে তিনি এক বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন সেখানে পুলিশ তাকে ধরে সরাসরি বুকে গুলি করে এবং তিনি শহীদ হন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসির অল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ড দেওয়ার পর তৌহিদী জনতা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল ও প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া সাঈদী সাহেবকে চাঁদে দেখা গিয়েছিল মর্মে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তিনিও সেই মিছিলে শামিল হন। পুলিশ বাধা প্রদান করলে তিনি এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে সেখানে পুলিশ তাকে ধরে সরাসরি বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ মার্চ রবিবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব-এর মুক্তির দাবি ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। হরতালের সমর্থনে ভোর রাত থেকেই বগুড়ার হাজার হাজার ইসলামপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এবং হরতালের সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। পুলিশ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ভাবে শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সে মিছিলে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে অনেকেই শাহাদাত বরণ করেন। তাদের একজন ছিলেন শহীদ সাবেত আলী। বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বগুড়ার সর্বস্তরের জনতা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ।
ঘোরতর সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্থানীয় প্রভাবশালী দৈনিক সাতমাথা রিপোর্ট করে কিভাবে চাঁদে সাইদী সাহেবকে দেখার বিষয়টি প্রচারিত হয় এবং এতে কোন সংগঠনের ইন্ধন ছিল না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের অভিব্যক্তি। ৪ মার্চ ২০১৩, 'বগুড়ায় গুলিতে নিহত ১২' শিরোনামে সাতমাথার রিপোর্ট:
'গত শুক্রবার শেষ রাতে আকাশে চাঁদের গায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি দেখা গেছে এমন একটি গুজব রটে যায় শনিবার সকালে। বাতাসের বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শনিবার দিবাগত রাতে আবারও দৃশ্যটি দেখার আগ্রহ জাগে অনেকেরই। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে রাত দুইটার দিকে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। চাঁদের গায়ে থাকা ছায়া দেখে সেটি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বলে অনেকে বিশ্বাস করতে থাকেন। ওই ছায়ার মানুষটিই আল্লামা সাঈদীর এই বিশ্বাস গেঁথে যায় অনেকের মনে। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পাড়া মহল্লায় শুরু হয় মিছিল। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ফজরের নামাজের পূর্বেই হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের উপর অবস্থান নেয়। তারা গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফজরের নামাজ শেষে লোকজন স্রোতের মত রাজপথে নামতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে জেলার প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জামায়াত-শিবির নেতা কর্মিরা আসা জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।'
শুধু শাহজাহানপুর থানার ঘটনাস্থলেই মহিলাসহ ৩ জন এবং বগুড়া সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক মহিলাসহ ২ জন নিহত হন। আহত হয় ৩ পুলিশসহ প্রায় ২০ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে বগুড়া সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা হলেন উপজেলার সাজাপুর পশ্চিমপাড়ার মেহরাজের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৪৫), ডোমনপুকুর গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম (৩৮), ডোমনপুকুর নতুনপাড়ার মৃত মনছের আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৫০), আমরুল গ্রামের জাফর আলীর ছেলে আব্দুল কাছির (৪০) এবং ডোমনপুকুর নয়াপাড়ার রকিবের ছেলে আব্দুর রহমান (৬০)। এ ঘটনার পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে দুই প্লাটুন সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে রক্ষা ও পরিবেশ শান্ত রাখতে থানার দু'পাশে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এদিকে, দুপুর দেড়টা থেকে উপজেলা সদর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবতৎ থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম নুরুল ইসলাম জানান, সেনা মোতায়েন নয়, থানা পুলিশকে রক্ষা করতেই সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: সাবেত আলী (১০৫)। পেশা। দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০৯.১৯৫৭। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০৩.২০১৩।
= শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩, স্থান: পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় অবস্থায় পুলিশ গুলি করে
এবং সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-সুজাবাদ দইপাড়া, ইউনিয়ন- মাঝিড়া, ডাকঘর-মাদলা, থানা-শাহজাহানপুর,
জেলা-বগুড়া।পিতা: মনির উদ্দিন, মরহুম।
মাতা: খাতেমন বিবি, মরহুম।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘরের চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে ছনের ছাউনি। কোন কৃষিজমি নেই। স্ত্রীর ইটভাটার মজুরি দিয়ে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন্নাহার, মেয়ে: মোছা: রানী খাতুন-বিবাহিত, রুনা খাতুন-বিবাহিত, আছিয়া- ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। শাফিয়া খাতুন-১৬ বছর, জনি মিয়া।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: খাদেম আলী-কৃষক, মো: আবেদ আলী-গার্মেন্টস, মোছা: ফুলেরা-গৃহিণী, আবিরন-গৃহিণী, মোছা: খুকিয়া-গৃহিণী, মোছা: আবিরন-গৃহিণী, মোছা: হালিমা-গৃহিণী,
মোছা: বেগুনি-গৃহিণী।