হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মিজানুর রহমান
শহীদ মিজানুর রহমান

শহীদ মিজানুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মিজানুর রহমান (১২৩)। পেশা: পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০৫.৮৫, ২৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.১৩, বুকের বাম পাশে আঘাত।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১.০১.১৩ দুপুর ১২টা, স্থান: কুমিল্লা। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: উত্তর মানিক নগর, ডাকঘর: যাহাপুর, থানা: তিতাস, জেলা: কুমিল্লা।
পিতা: মো: আবুল কালাম, ৬০ বছর, কৃষি।
মাতা: রেজিয়া বেগম, ৫০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের বেড়া ও উপরে টিন দেয়া একটি ঘর আছে। সামান্য জমি আছে। বর্তমানে শহীদের বিধবা স্ত্রী ও পুত্র বগুড়ার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে কুমিল্লায় নিজেদের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারে আয় রোজগার করার কেউ নেই।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: মোছা: হালিমা বেগম, ২৪ বছর। একমাত্র সন্তান মো: রবিউল ইসলাম রিহান, ৪ বছর, নার্সারি, চাইল্ড হেভেন কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
ভাই-বোনের বিবরণ: মোছা: ডলি আক্তার, বিবাহিতা, গৃহিণী। মো: মিজানুর রহমান, শহীদ। মোছা: সালমা আক্তার, বিবাহিতা, গৃহিণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"শহীদের পিতা বলেন: আমার পুত্র মিজানুর রহমান ছিল খুবই সহজ সরল ও শান্ত প্রকৃতির। সে কারো সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ করতো না। সমাজের সবাই তাকে খুব ভালবাসতো। আমি শহীদের পিতা হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি।"
১. শহীদের পরিচিতি
মিজানুর রহমান কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার উত্তর মানিকনগর গ্রামে ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: আবুল কালাম এবং মাতা মোছা: রেজিয়া বেগমের ৩ সন্তানের মধ্যে ২য় ছিলেন মো: মিজানুর রহমান। নিজ জেলা কুমিল্লা হলেও তিনি বগুড়াতে পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা করে দিনাতিপাত করতেন। বাবা-মার আশা ছিল তিনি অনেক বড় হবেন। দেশ ও দশের খেদমত করবেন। তিনি সমাজের সকল ইসলামী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি স্ত্রী সালেহা বেগম এবং পুত্র মো: শিহাবকে দুনিয়ার বুকে এতিম করে পৃথিবী ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল চলাকালে দুপুর ১২টায় আওয়ামী বাকশালীদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন মিজানুর রহমান
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি ইসলামী আন্দোলনের একজন সৈনিক ছিলেন। তিনি মানুষের জন্য বিনা স্বার্থে কাজ করতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সক্রিয়। তার সামনে কোন অন্যায় হোক এটা তিনি চাননি।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
হরতাল চলাকালে পিকেটিং করার সময় প্রথমে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে আওয়ামী বাকশালী গুন্ডাবাহিনী যোগ দিয়ে জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা চালায়। জামায়াত কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পুলিশ ও গুন্ডারা পালিয়ে যায়। কিন্তু পুনরায় তারা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে হামলা চালালে বাকশালীদের রামদার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। পরের দিনের জাতীয় দৈনিকসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ লিখে:
শিবির কর্মীদের ওপর র‍্যাব-পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণ
বগুড়ায় র‍্যাব-পুলিশের গুলি ও ছাত্রলীগের হামলায় জামায়াত ও শিবিরের ৩ নেতা-কর্মী নিহত বগুড়ায় হরতাল চলাকালে ছাত্রলীগের ছুরিকাঘাতে নিহত জামায়াত কর্মী মিজান ও শিবির নেতা আবু রুহানী এবং পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা আবদুল্লাহ-সংগ্রাম
বগুড়া অফিস: বগুড়ায় হরতাল চলাকালে
ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলা এবং র‍্যাব-পুলিশের গুলিতে ৩ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। র‍্যাব-পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অর্ধ শতাধিক শিবিরকর্মী। প্রতিবাদে শনিবার বগুড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত। শহরজুড়ে তীব্র উত্তেজনা এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শহরতলির সাবগ্রাম বাজারে ছাত্রলীগের কর্মীরা মিজানুর রহমান (৩০), সাখাওয়াত হোসেন ও আব্দুল কাদের নামের তিন জামায়াত ও শিবির কর্মীকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। হাসপাতালে নেয়ার পর জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান মারা যান। গুরুতর আহত শিবির কর্মী সাখাওয়াত ও সাব্বির প্রামাণিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, তিন জামায়াত ও শিবির নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হাজার হাজার নেতা-কর্মী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা বেলা দুইটার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সাতমাথায় প্রবেশ করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এসময় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীদের ঠেকাতে বৃষ্টির মত টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ জামায়াত-শিবির কর্মীদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এতে জামায়াত ও শিবিরের অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
এ ঘটনার পর শহরের কামারগাড়ীতে একটি ছাত্রাবাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এর কিছুক্ষণ পর বিপুল সংখ্যক র‍্যাব-পুলিশ শিবির অধ্যুষিত জামিলনগরে অভিযান চালালে শিবির কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ শিবির কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তির পর আব্দুল্লাহ ও শরিফ নামের আরও দুই শিবিরকর্মী মারা যান। গুরুতর আহত শিবির কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গেলে পুলিশ কমপক্ষে ২০ শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।
জামায়াতের মিছিলে হামলার কথা অস্বীকার করে বগুড়া সদর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ জানান, পুলিশ নিজেদের রক্ষা করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের পিতার কথা: আমার পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান ছিল খুবই সহজ সরল ও শান্ত প্রকৃতির। সে সমাজের কারো সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ করতো না। সমাজের সবাই তাকে খুব ভালবাসতো। আমার পুত্র শাহাদাত বরণ করায় এবং আমি শহীদের পিতা হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি। ৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মিজানুর রহমান (১২৩)। পেশা: পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০৫.৮৫, ২৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১.০১.১৩, বুকের বাম পাশে আঘাত।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১.০১.১৩ দুপুর ১২টা, স্থান: কুমিল্লা। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: উত্তর মানিক নগর, ডাকঘর: যাহাপুর, থানা: তিতাস, জেলা: কুমিল্লা।
পিতা: মো: আবুল কালাম, ৬০ বছর, কৃষি।
মাতা: রেজিয়া বেগম, ৫০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের বেড়া ও উপরে টিন দেয়া একটি ঘর আছে। সামান্য জমি আছে। বর্তমানে শহীদের বিধবা স্ত্রী ও পুত্র বগুড়ার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে কুমিল্লায় নিজেদের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারে আয় রোজগার করার কেউ নেই।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: মোছা: হালিমা বেগম, ২৪ বছর। একমাত্র সন্তান মো: রবিউল ইসলাম রিহান, ৪ বছর, নার্সারি, চাইল্ড হেভেন কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
ভাই-বোনের বিবরণ: মোছা: ডলি আক্তার, বিবাহিতা, গৃহিণী। মো: মিজানুর রহমান, শহীদ। মোছা: সালমা আক্তার, বিবাহিতা, গৃহিণী।