হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আফাজ উদ্দীন
শহীদ আফাজ উদ্দীন

শহীদ আফাজ উদ্দীন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ আফাজ উদ্দীন
নাম: আফাজ উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত ছইদালী তরফদার
মাতার নাম: আয়েশা খাতুন, বয়স আনুমানিক ১০০ বছর
স্ত্রীর নাম: আছিয়া বেগম, বয়স ৫০, পেশা: গৃহিণী
ঠিকানা: গ্রাম- রামেশ্বরপুর পশ্চিম তেজো পাড়া, গাবতলী, বগুড়া।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক
শাহাদাতের স্থান ও তারিখ: বগুড়া মাটিডালি হাইস্কুল মাঠ, ৩রা মার্চ ২০১৩
ভাই-বোন: ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার বড়
সন্তান: ৩ ছেলে ৩ মেয়ে

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আফাজ উদ্দীন বগুড়ার জেলার গাবতলী থানাধীন রামেশ্বরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত ছইদালী তরফদার ও শতবর্ষ বয়সী মাতা আয়েশা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে আফাজউদ্দীন সবার বড়। পেশায় নাইটগার্ড আফাজ উদ্দীন ৩ ছেলে ও ৩ কন্যার জনক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক। ২০১৩ সালের ৩রা মার্চ তিনি বগুড়ার মাটিডালি হাইস্কুল মাঠে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩রা মার্চ সকাল আটটার দিকে মাটিডালিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে স্থানীয় মুসল্লীদের উদ্যোগে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে শামিল ছিলেন শহীদ আফাজউদ্দীনও। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হঠাৎ করেই পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। এ সময় শহীদ আফাজ উদ্দীনের কিডনীতে গুলি লেগে তিনি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শহীদের পরিবার
শহীদ আফাজ উদ্দীনের সংসারে বর্তমানে শতবর্ষ বয়সী মা আয়েশা খাতুন, স্ত্রী আছিয়া বেগম ও ছয় সন্তান রয়েছে। স্ত্রী আছিয়া বেগমের বয়স পঞ্চাশ। আর সন্তানদের মধ্যে সবার বড় লাইজিনা বেগম তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকেন স্বামীর সংসারে। দ্বিতীয় সন্তান ও পরিবারের বড় ছেলে মতিয়ার রহমান পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, তার রয়েছে দুইটি ছেলে। পরিবারের তৃতীয় সন্তান রুলি বেগম রয়েছেন স্বামীর সংসারে, তার রয়েছে ৩টি ছেলে। চতুর্থ সন্তান আবদুল খালেক প্রবাসী, এখানে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। পরিবারের পঞ্চম সন্তান আবদুস সালেক বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত, তাঁর রয়েছে একটি ছেলে। পরিবারের সর্বশেষ সন্তান লাভলি বেগমের রয়েছে ২টি মেয়ে, তিনিও থাকেন স্বামীর সংসারে। শহীদের স্ত্রী আছিয়া বেগম থাকেন পঞ্চম সন্তান আবদুস সালেকের সাথে।
ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ:
২০১৩ সালের ৩রা মার্চ সকাল আটটার দিকে মাটিডালিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে স্থানীয় মুসল্লীদের উদ্যোগে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে শামিল ছিলেন শহীদ আফাজউদ্দীনও। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হঠাৎ করেই পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। এ সময় শহীদ আফাজ উদ্দীনের কিডনীতে গুলি লেগে তিনি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
৩ মার্চ মধ্যরাতের পর গ্রামগঞ্জে সাঈদীকে চাঁদে দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাঈদীভক্ত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফজর নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ গ্রাম থেকে শহরের দিকে ছুটতে থাকে। জেলার শাহজাহানপুর, মোকামতলা, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া, গাবতলীতে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহজাহানপুরে আব্দুল্লাহ আল কাফি, আছিয়া বেওয়া (আকলিমা), মুনজিলা বেওয়া, রাজেনা খাতুন, মোকামতলায় জিয়াউর রহমান, ওবায়দুর রহমান, সহিদ মিয়া, দুলু মিয়া, আফাজ উদ্দিন এবং বগুড়া শহরে আলমগীর হোসেন, টিটু রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদল নিহত হয়। পরবর্তীতে গুলীবিদ্ধ সেলিম হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ছাড়া ১৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় কমপক্ষে দুই শতাধিক। অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে।
বগুড়া জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নিন্দা
বগুড়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার ও সেক্রেটারি অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন বলেন, তৌহিদী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততা না থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ মার্চের পর সারা জেলায় গ্রেফতারের নামে গণ হয়রানি করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা জামায়াত-শিবির কর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তল্লাশির নামে লুটপাট ও ভাংচুর চালায়। গ্রেফতার আতংকে সাধারণ মানুষ বাড়ীঘর ছেড়ে ফসলের মাঠ এবং ঝোপ-ঝাড়ে রাত কাটাতে বাধ্য হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এতগুলো তাজাপ্রাণ ঝরে গেলেও উল্টো জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেয়া হয়। মামলার এজাহারে জামায়াত-শিবির নেতাদের নাম দিতে বাধ্য করা হয় নিহতের স্বজনদের। অথচ প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে নিহতের স্বজনরা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। ৩ মার্চের ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্র শিবির কোনভাবেই সম্পৃক্ত না থাকলেও পুরো একটি বছর সমগ্র জেলাব্যাপী জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিরামহীন অভিযান চালানো হয়েছে। নিরাপরাধ শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর পাশাপাশি হয়রানির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষও। আমরা এই নির্মম, লোমহর্ষক, বর্বর এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ওই দিনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সাথে তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। যারা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পঙ্গু হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা কামনা করছি। একই সাথে এই গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিবাদ ও কর্মসূচী
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য, বগুড়া শহর শাখার তৎকালীন সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেল ও সেক্রেটারি রেজাউল করিম ২০১৩ সালের ৩ মার্চ নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ-র‍্যাবের নির্বিচার গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত ও বহু মানুষ আহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, "বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালে সাজানো মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের পর ২০১৩ সালের ৩ মার্চ আল্লামা সাঈদীর প্রতি ভালোবাসার টানে মধ্যরাত থেকে বগুড়ার প্রতিটি গ্রামগঞ্জ থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সের মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। নির্বিচার গুলির সামনে বুক উঁচিয়ে আল্লামা সাঈদীর মুক্তি জানায়। নিরাপত্তা বাহিনী তৌহিদী জনতার সেই আবেগ বুলেটের আঘাতে থামিয়ে দিতে চেয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের নির্বিচার গণহত্যায় প্রাণহারায় কমপেক্ষ ১৩ জন। ১৯জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বৃষ্টির মত গুলি বর্ষণে গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শহরের বাইরে মোকামতলা ও শাহজাহানপুরে নিরস্ত্র তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ দমনে সেদিন নিরাপত্তা বাহিনীর রণসজ্জা বিবেকবান প্রতিটি নাগরিককে স্তব্ধ করেছে। এই নির্মম গণহত্যার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উল্টো অর্ধ শতাধিক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় কয়েক'শ নেতা-কর্মী। পুলিশের গুলিতে নিহত হলেও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিতে নিহতের স্বজনদের বাধ্য করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই ৩ মার্চের ঘটনার সাথে ইসলামী ছাত্রশিবির কোনভাবেই জড়িত ছিল না। বরং শিবির নেতৃবৃন্দ বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষকে নিবৃত করার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। আমরা এই রক্তাক্ত ঘটনার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা এই নির্মম, লোমহর্ষক, বর্বর গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ওই দিনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সাথে তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। যারা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পঙ্গু হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা কামনা করছি। একই সাথে এই গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এক নজরে শহীদ আফাজ উদ্দীন
নাম: আফাজ উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত ছইদালী তরফদার
মাতার নাম: আয়েশা খাতুন, বয়স আনুমানিক ১০০ বছর
স্ত্রীর নাম: আছিয়া বেগম, বয়স ৫০, পেশা: গৃহিণী
ঠিকানা: গ্রাম- রামেশ্বরপুর পশ্চিম তেজো পাড়া, গাবতলী, বগুড়া।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক
শাহাদাতের স্থান ও তারিখ: বগুড়া মাটিডালি হাইস্কুল মাঠ, ৩রা মার্চ ২০১৩
ভাই-বোন: ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার বড়
সন্তান: ৩ ছেলে ৩ মেয়ে