হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু
শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু

শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদম: আবু শাহীন রঞ্জু
পিতার নাম: মৃত আরশেদ আলী
মাতার নাম: মৃত আমেনা
জন্ম তারিখ: ১৯৭২
ঠিকানা: গ্রাম- নারিবাড়ি, পোস্ট ও থানা- গুরুদাসপুর, জেলা-নাটোর
স্ত্রীর নাম: রহিমা, বয়স- ৪০, পেশা- গৃহিণী
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: উপজেলা সেক্রেটারী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের কারণ: আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের সংবাদ শুনে হার্টস্ট্রোক করে হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু ১৯৭২ সালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা সদরের নারিবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। পিতা মৃত আরশেদ আলী ও মাতা মৃত আমেনা বেগমের চার ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে আবু শাহীন রঞ্জু সবার ছোট। পেশায় ব্যবসায়ী রঞ্জু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। শাহাদাত কালে তিনি একছেলে ও এক মেয়ে ছাড়াও চল্লিশ বছর বয়সী এক স্ত্রী রেখে যান।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
২০১৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার রিভিউ আপীলের আবেদন খারিজ হয়ে যাবার খবর শুনে হার্ট স্ট্রোক করে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১০ সালের ১৩ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের প্রধান গেট থেকে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ট্রাইব্যুনালে তদন্তকারী সংস্থার এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট আব্দুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক রাখার আদেশ দেয়া হয়।
২০১২ সালের ৭মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৫মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ মামলাটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
২০১২ সালের গত ২৮মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগের ঘটনায় চার্জ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৩ জুলাই কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন এবং আসামী পক্ষে ছয় জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে।
২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
২০১৩ সালের ৩১ মার্চ প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ গঠন করা হয় আপিল আবেদন শুনানির জন্য। ১ এপ্রিল থেকে শুনানি শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয় কাদের মোল্লাকে। ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। এরপরই শুরু হয়ে যায় ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি।
সরকারের নির্দেশে ১০ ডিসেম্বর রাতেই আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সরকারের দুইজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সাংবাদিক সম্মেলন করে। কিন্তু ফাঁসি কার্যকরের মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে চেম্বার বিচারপতি ফাঁসি কার্যকর পরদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করে আদেশ দেন। ১১ডিসেম্বর সকালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুরু হয় রিভিউ আবেদনের শুনানি। এ ছাড়া আসামীপক্ষ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোরও আবেদন করে। রিভিউ আবেদন চলবে কি চলবে না এ বিষয়ে ১১ ডিসেম্বর শুনানি শেষে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করায় ফাঁসি স্থগিতাদেশও বহাল থাকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
১২ ডিসেম্বর সকালে আবার শুরু হয় রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি। শুনানি শেষে ১২টা ৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ঘোষণা করেন আবেদন ডিসমিসড। এই রায়ের খবর পেয়ে শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু নিজ বাড়িতে হার্টস্ট্রোক করেন। তারপর তাকে গুরুদাসপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
পরিবার:
শাহাদাতকালে তিনি রোকাইয়া ও তানভীর আহমেদ নাহিদ নামের দুই সন্তান রেখে যান। শহীদের বড় সন্তান রোকাইয়ার বয়স আঠারো বছর। তিনি বর্তমানে বিবাহিত। শহীদের একমাত্র ছেলে তানভীর আহমেদ নাহিদ বর্তমানে নবম শ্রেণীতে পড়ছে। শহীদের স্ত্রী রহিমা ছেলেকে আগলে শহীদের সংসার সামলে রেখেছেন। শহীদ আবু শাহীন রঞ্জুর জানাজা ১২ ডিসেম্বর বাদ জোহর মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। শহীদের বড় ভাই বেলাল হোসেন জানাজায় ইমামতি করেন।
এক নজরে শহীদ আবু শাহীন রঞ্জু
শহীদম: আবু শাহীন রঞ্জু
পিতার নাম: মৃত আরশেদ আলী
মাতার নাম: মৃত আমেনা
জন্ম তারিখ: ১৯৭২
ঠিকানা: গ্রাম- নারিবাড়ি, পোস্ট ও থানা- গুরুদাসপুর, জেলা-নাটোর
স্ত্রীর নাম: রহিমা, বয়স- ৪০, পেশা- গৃহিণী
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: উপজেলা সেক্রেটারী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের কারণ: আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের সংবাদ শুনে হার্টস্ট্রোক করে হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍