হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম
শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম

শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম (০১৫)।
সাংগঠনিকমান: সাথী উপশাখা সভাপতি।
পেশা: দাখিল পরীক্ষার্থী, গোলাম রহমান আলিম মাদ্রাসায়।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৮ মে ১৯৯৪। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১২।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১২ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গোয়ালডিহি, ডাকঘর: গোয়ালডিহি, ইউনিয়ন: ১ নং খোড়াগাছ, উপজেলা: খানসামা, জেলা: দিনাজপুর।
পিতা: মাওলানা মো: আতাউর রহমান সরকার বয়স: ৫৬ বছর, সহকারী মৌলভী বাজার দরগাহ মাদ্রাসা।
মাতা: শেফালী বেগম, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শফিউল আলম, নীলফামারী ইপিজেড এ কর্মরত। নাজমুস সাফাত, জুয়েলারি ব্যবসা, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ২০১৩, শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম, আরিফুল হাসান আরাফাত, নবম শ্রেণী, আবু নাসের মো: আব্দুজ জাহের, চতুর্থ শ্রেণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"দায়িত্বশীলকে বলেছিল, 'বাবার আন্দোলন করবে বাবা, আমারটা আমি। আমাকে সর্বদা সামনে রাখবেন।' ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেনকে শাহাদাতের ১৫-২০ দিন আগে সে বলেছিল, দাদা দোয়া করবেন, আমিতো মনে হয় শহীদ হবো। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দিবেন।' এলাকার বাজারের লোকেরা তাকে গণ্ডগোলের কথা বলে মিছিলে যেতে না করলে সে তার উত্তরে বলেছিল, আপনারা দেখবেন আগামীকাল আমি শহীদ হবো ইনশাআল্লাহ।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। পিতা মাওলানা আতাউর রহমান সরকার ও মাতা শেফালী বেগমের ছয় ছেলে সন্তানের মধ্যে সে ছিল চতুর্থ। মোজাহিদ দক্ষিণ গোয়ালডিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে ৫ম শ্রেণী সমাপ্ত করার পর গোলাম রহমান আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সেখান থেকে সে ২০১৩ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল। সে খেলাধুলাসহ সকল সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বেশ পারদর্শী ছিল। এছাড়াও সে একজন ভাল বক্তা, আবৃত্তিকার এবং একজন ভাল ক্রিকেটার হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। উপজেলা পর্যায়ে সে ১৫-১৬টি পুরস্কার পেয়েছিল। সে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিল এবং প্লান বাজার উপশাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল। তার পিতা মাওলানা মো: আতাউর রহমান সরকার খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর। সে ছিলেন নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তার চরিত্রে বহুবিধ গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সমাহার ঘটেছিল। কিন্তু কে জানতো স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বুলেটের আঘাতে এ উদীয়মান তরুণের জীবনপ্রদীপ শুরুতেই নিভে যাবে?
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে বাড়িতে সারাদিন পারিবারিক আলু লাগানোর কাজ করে বিকালে আসরের নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে ৩ কি. মি. দূরে রানীর বন্দরে যায়। পরের দিন জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে হরতালের সমর্থনে বাদ মাগরিব মিছিল হয়। রানীর বন্দর হাইওয়েতে মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা মোকাবেলা করে মিছিল সামনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি করলে মোজাহিদ সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার মাথার ডান কানের লতি বরাবর বুলেট ঢুকে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিন ৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহাদাতের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর লাশ প্রশাসন হস্তান্তর করলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ দিনই রাত ৮টায় বাড়ির পশ্চিম পাশের ধানক্ষেতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন শহীদের গর্বিত পিতা মাওলানা আতাউর রহমান সরকার। স্থানীয় লোকদের ধারণা জানাযায় প্রায় লক্ষাধিক লোক উপস্থিত হয় এবং শহীদের জন্য দোয়া করে।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ বাদ মাগরিব রানীর বন্দর নামক স্থানে পরের দিন ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা মোকাবেলা করে মিছিল সামনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে গুলি করে। মাগরিবের পরে ঘটনা শুরু হয়ে তা ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে রূপ নেয়। জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে মিছিল শুরু হলেও এলাকার স্থানীয় জনগণ এতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চার-পাঁচ হাজার লোক অংশগ্রহণ করে। ঘটনা চলাকালীন পুলিশ বাজারের সমস্ত লাইট ভেঙে ফেলে। ফলে পুরো রানীর বন্দরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ৩ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে ১৫/২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর আসে পরের দিনকার জাতীয় পত্রিকাসমূহেঃ ৪ ও ৫ ডিসেম্বর, ২০১২ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় খবর আসে:
দিনাজপুর: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই শিবির কর্মীর নাম মুজাহিদ (১৮)। নিহতের পিতা আতাউর রহমান খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পাগলা পীর নামক স্থানে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে থানার ওসি এবং পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত পুলিশ শতাধিক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
দিনাজপুরে হরতাল চলছে, শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে: শিবিরকর্মী মুজাহিদুল ইসলাম পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় আজ বুধবার পালিত হচ্ছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। ইসলামী ছাত্রশিবির এই হরতালের ডাক দেয়। এদিকে গতকাল রাতে শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামের লাশ তার গ্রামের বাড়ি খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামে আসলে এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। রাতেই স্থানীয় গোয়ালডিহি গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
৪. ও ৫ ডিসেম্বর, ২০১২ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় খবর আসে;
দিনাজপুরে পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মীর শাহাদাৎবরণ
দিনাজপুর অফিস: আজকের হরতালের সমর্থনে দিনাজপুরের রানীরবন্দরে জামায়াতের মিছিলে পুলিশের গুলিতে এক শিবিরকর্মী শাহাদাৎবরণ করেছেন। নিহত শিবিরকর্মীর নাম মুজাহিদুল ইসলাম (২৫)। এ সময় আরো ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে যখন সমাপ্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পুলিশ বিনা উস্কানিতে জামায়াত কর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও অসংখ্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়। সেখান থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকার দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু'ধারে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে থাকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সংঘর্ষ চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই এলাকার বিদ্যুতের লাইন অফ করে দেয়া হয়। এরপর অন্ধকারের মধ্যেই চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে দিনাজপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায়
থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আজও দিনাজপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
শহীদ মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে গভীর শোকাবহ পরিবেশে শহীদ মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাজীপাড়া নিজ গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত মুজাহিদের পিতা জামায়াতে ইসলামীর খানসামা উপজেলা আমীর মাওলানা আতাউর রহমানের ইমামতিতে জানাযায় অংশ নেন চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্জ আফতাব উদ্দীন মোল্লা, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মোঃ মাইনুল ইসলাম, দিনাজপুর শহর শিবির সভাপতি মতিউর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিএনপিসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও এতে যোগ দেন। গতকাল সন্ধ্যায় মুজাহিদের গ্রামের বাড়িতে লাশ এসে পৌঁছালে এক হৃদয়-বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মুজাহিদের লাশ একনজর দেখার জন্য সেখানে হাজার হাজার মানুষ দিনভর অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। জানাযায় ছিল ওই গ্রামের স্মরণকালের মানুষের উপস্থিতি। সকাল গড়াতেই হাজীপাড়া গ্রাম লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জানাযা বেলা ৩টায় হবার কথা থাকলেও পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সময়মত না দেয়ায় জানাযা বিলম্বিত হয়। পরিবারের অভিযোগ- নিহত শিবির কর্মী মুজাহিদুল ইসলামের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতেও টালবাহানা করেছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভমিছিলে পুলিশের অতর্কিত হামলা ও গুলিতে মুজাহিদুল ইসলাম শাহাদাৎ বরণ করে। গুলাতে আহত অবস্থায় মুজাহিদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রাত ৯টায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর পরই স্বজনরা লাশ ফেরতের জন্য দাবি জানায়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং দিব-দিচ্ছি করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ ফেরত পায়নি স্বজনরা। মৃত্যুর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় মুজাহিদুল ইসলামের লাশ দেয়া হলে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামে নেয়া হয়। পরে গোসল ও জানাযা শেষে দাফন কাজ সমাপ্ত করা হয়।
জানায্যপূর্ব সমাবেশে নিহত মুজাহিদুল ইসলামের পিতা ও খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে মৃত্যুবরণ করায় সে শহীদ হয়েছে। তিনি বলেন, একজন শহীদের পিতা হিসেবে আমি আজ গর্বিত। এই হত্যাকান্ডের জন্য আল্লাহর কাছে বিচার প্রার্থনা করছি।
গত সোমবার সন্ধ্যায় রাণীরবন্দর সুইহারী বাজারে জামায়াত-শিবির হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সহকারী কমিশনার মোঃ নিজাম উদ্দীন আহমদের নির্দেশে ২১ রাউন্ড টিয়ারশেল, ৭৩ রাউন্ড শটগানের গুলি, ২৫ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। এতে জামায়াত-শিবির ও জনতাসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খানসামা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আতাউর রহমানের পুত্র ও গোলাম রহমান শাহ আলিম মাদরাসার মেধাবী ছাত্র দাখিল পরীক্ষার্থী মুজাহিদ (২০) রাত ৯টায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হয়। সেই সাথে পুরো এলাকাজুড়ে মানুষের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে গোলাম রহমান শাহ আলিম মাদরাসার ছাত্ররা শোকে নির্বাক হয়ে গেছে। শিক্ষকসহ এলাকার সকল মানুষ এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। ওই গ্রামসহ পুরো এলাকায় এখন চলছে শোকের মাতম।৪. দাদা দোয়া করবেন, আমিতো মনে হয় শহীদ হবো
আগেরদিন ২ ডিসেম্বর, ২০১৩ সাথী বৈঠকে এসেছিল সরাসরি আলুক্ষেত থেকে কাজ করে। দায়িত্বশীলের কাছে সে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে বলে। তার পিতাতো উপজেলা আমীর অনেক কাজ করছে এ প্রসঙ্গে আলোচনা আসলে সে বলে, 'বাবার আন্দোলন করবে বাবা আমারটা আমি। আমাকে সর্বদা আগে রাখবেন।' ৬নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেনকে শাহাদাতের ১৫-২০ দিন আগে সে বলেছিল, 'দাদা দোয়া করবেন, আমিতো মনে হয় শহীদ হবো। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দিবেন।' তার এলাকার বাজারের লোকেরা তাকে গণ্ডগোলের কথা বলে মিছিলে যেতে না করলে সে তার উত্তরে বলেছিল, আপনারা দেখবেন আগামীকাল আমি শহীদ হবো ইনশাআল্লাহ। আর নাম পত্রিকার হেডলাইনে দেখবেন। সত্যিই সে জাতীয় পত্রিকার হেডলাইন হয়েই বিদায় নিল। তার আচার-ব্যবহারে এলাকার মানুষ ছিল মুগ্ধ। তাকে হারিয়ে সকল মানুষ বেদনার্ত।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
টিনশেড বাড়ি, নিজেদের কৃষি জমি আছে
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম (০১৫)।
সাংগঠনিকমান: সাথী উপশাখা সভাপতি।
পেশা: দাখিল পরীক্ষার্থী, গোলাম রহমান আলিম মাদ্রাসায়।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৮ মে ১৯৯৪। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১২।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১২ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গোয়ালডিহি, ডাকঘর: গোয়ালডিহি, ইউনিয়ন: ১ নং খোড়াগাছ, উপজেলা: খানসামা, জেলা: দিনাজপুর।
পিতা: মাওলানা মো: আতাউর রহমান সরকার বয়স: ৫৬ বছর, সহকারী মৌলভী বাজার দরগাহ মাদ্রাসা।
মাতা: শেফালী বেগম, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শফিউল আলম, নীলফামারী ইপিজেড এ কর্মরত। নাজমুস সাফাত, জুয়েলারি ব্যবসা, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ২০১৩, শহীদ মো: মোজাহিদুল ইসলাম, আরিফুল হাসান আরাফাত, নবম শ্রেণী, আবু নাসের মো: আব্দুজ জাহের, চতুর্থ শ্রেণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍