শহীদ মোঃ আবুবকর সিদ্দিক
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
পিতার নাম: মরহুম বাতাস মামুদ
মাতার নাম: তমিজন নেসা, বয়স: ৪৭ বছর
স্ত্রীর নাম: নিলুফা বেগম
জন্ম তারিখ: ২২ জুলাই ১৯৬৭
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- আকাশকুরী, ডাকঘর- লক্ষিচাপ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
পিতার নাম: মরহুম বাতাস মামুদ
মাতার নাম: তমিজন নেসা, বয়স: ৪৭ বছর
স্ত্রীর নাম: নিলুফা বেগম
জন্ম তারিখ: ২২ জুলাই ১৯৬৭
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- আকাশকুরী, ডাকঘর- লক্ষিচাপ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
পিতা-মাতার ১০ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট শহীদ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৭ভাই ও ৩ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকম সন্তানের মুখে দুটো খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি কোন লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে। কিশোর বয়স থেকেই তিনি ক্ষেতে-খামারে কাজ করতেন। তার পিতার নাম মোঃ বাতাস মামুদ। মাতার নাম মোছাঃ তমিজন নেসা। ৬ সন্তানের পিতা শহীদ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। তিন ছেলে তিন মেয়ে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৪ ডিসেম্বর ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। নীলফামারী থেকে ১১ কিঃ মিঃ দূরে রামগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি নেতা রব্বানীর বাড়ীতে আওয়ামী লীগের এমপি আসাদুজ্জামান নূরের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত না করে বরং জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। ফলে ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু বকর সিদ্দিক।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
একজন সাধারণ কৃষিজীবী হিসাবে সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। শাহাদাতের আগে মাঝে মাঝে বলতেন- সাঈদী সাহেব কুরআনের তাফসীর করেন, এটাই তার দোষ। আর তো কোন দোষ দেখি না তাঁর। তাঁর খারাপ কিছু হলে আমরা বসে থাকবো না।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সকালে নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ী, লক্ষ্মীচাপ, টুপামারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করতে যান। বিকেলে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে তার গাড়ি বহরে থাকা সফর সঙ্গীরা গাড়ি থামিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে সরকারি দলের সাথে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব যোগ দেয়।পুলিশ বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে সংসদ সদস্য নূরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এমপি নূরের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অক্ষত আছেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আসাদুজ্জামান নূর পুলিশ প্রহরায় শহরে প্রবেশ করেন। সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি মোটর সাইকেল ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শহীদ আবু বকর সিদ্দিকসহ পাঁচ জন সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় মারা যান। এই ঘটনায় প্রায় ৩৫/৪০ জন মারাত্মক আহত হয়। রাত ১০টায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে নিজেদেরকে রক্ষা করে।
আপনজনদের কথা
শহীদের স্ত্রী: শহীদের স্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী উল্লেখিত কর্মসূচী সফল করার জন্য বিকালের নাস্তা করে, রামগঞ্জে চলে যান। আর এজন্য শহীদের স্ত্রী আল্লাহর কাছে তার স্বামীর জন্য শহিদী মর্যাদা এবং জান্নাত কামনা করেন। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির শাহাদাতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। সন্তান সম্প্রতির লালনপালনের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে আছেন এই শহীদ পরিবার।
শহীদের গর্বিত মা: শহীদের গর্বিত মাতা কলিজার টুকরোকে হারিয়ে মর্মাহত। আল্লাহর কাছে তার জান্নাত লাভের জন্য দোয়া করেন।
শহীদের ভাই: আমি গর্বিত এজন্য যে, আমি এখন শহীদের ভাই, আমার ভাই মহান আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ায় আমার কোন আফসোস নেই। আল্লাহর কাছে ভাই হত্যার বিচার দিয়েছি।
প্রতিবেশীরা: শহীদ আবু বকর খুব ভালো মানুষ ছিল। নিয়মিত মুসল্লি, রোজাদার এবং সৎ মানুষ ছিল।
শহীদের পরিবার
শহীদ আবু বকরের সংসারে বৃদ্ধ মাতা ছাড়াও রয়েছেন শহীদের স্ত্রী নিলুফা বেগম। এ ছাড়া শহীদের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড় সন্তান মেয়ে শিউলি বিবাহিত, স্বামীর সংসারে আছেন। দ্বিতীয় সন্তান এবং পরিবারের প্রথম পুত্র সন্তান লিটন মিয়া পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখার করার পর বর্তমানে কৃষি কাজ করে সংসার নির্বাহের চেষ্টায় আছেন এবং তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তৃতীয় সন্তান মোছাঃ শিল্পী খাতুনের বয়স সতের বছর, বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে আছেন। পরিবারের চতুর্থ সন্তান লিপনের বয়স ১৫ বছর, অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। পরিবারের পঞ্চম সন্তান নূরে এলাহীর বয়স বারো বছর। আকাশকুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। পরিবারের সর্বশেষ সন্তান সুমাইয়া আকতার সিমুর বয়স ছয় বছর।
এক নজরে শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
নাম: শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
পিতার নাম: মরহুম বাতাস মামুদ
মাতার নাম: তমিজন নেসা, বয়স: ৪৭ বছর
স্ত্রীর নাম: নিলুফা বেগম
জন্ম তারিখ: ২২ জুলাই ১৯৬৭
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- আকাশকুরী, ডাকঘর- লক্ষিচাপ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৪ ডিসেম্বর ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। নীলফামারী থেকে ১১ কিঃ মিঃ দূরে রামগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি নেতা রব্বানীর বাড়ীতে আওয়ামী লীগের এমপি আসাদুজ্জামান নূরের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত না করে বরং জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। ফলে ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু বকর সিদ্দিক।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
একজন সাধারণ কৃষিজীবী হিসাবে সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। শাহাদাতের আগে মাঝে মাঝে বলতেন- সাঈদী সাহেব কুরআনের তাফসীর করেন, এটাই তার দোষ। আর তো কোন দোষ দেখি না তাঁর। তাঁর খারাপ কিছু হলে আমরা বসে থাকবো না।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সকালে নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ী, লক্ষ্মীচাপ, টুপামারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করতে যান। বিকেলে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে তার গাড়ি বহরে থাকা সফর সঙ্গীরা গাড়ি থামিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে সরকারি দলের সাথে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব যোগ দেয়।পুলিশ বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে সংসদ সদস্য নূরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এমপি নূরের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অক্ষত আছেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আসাদুজ্জামান নূর পুলিশ প্রহরায় শহরে প্রবেশ করেন। সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি মোটর সাইকেল ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শহীদ আবু বকর সিদ্দিকসহ পাঁচ জন সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় মারা যান। এই ঘটনায় প্রায় ৩৫/৪০ জন মারাত্মক আহত হয়। রাত ১০টায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে নিজেদেরকে রক্ষা করে।
আপনজনদের কথা
শহীদের স্ত্রী: শহীদের স্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী উল্লেখিত কর্মসূচী সফল করার জন্য বিকালের নাস্তা করে, রামগঞ্জে চলে যান। আর এজন্য শহীদের স্ত্রী আল্লাহর কাছে তার স্বামীর জন্য শহিদী মর্যাদা এবং জান্নাত কামনা করেন। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির শাহাদাতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। সন্তান সম্প্রতির লালনপালনের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে আছেন এই শহীদ পরিবার।
শহীদের গর্বিত মা: শহীদের গর্বিত মাতা কলিজার টুকরোকে হারিয়ে মর্মাহত। আল্লাহর কাছে তার জান্নাত লাভের জন্য দোয়া করেন।
শহীদের ভাই: আমি গর্বিত এজন্য যে, আমি এখন শহীদের ভাই, আমার ভাই মহান আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ায় আমার কোন আফসোস নেই। আল্লাহর কাছে ভাই হত্যার বিচার দিয়েছি।
প্রতিবেশীরা: শহীদ আবু বকর খুব ভালো মানুষ ছিল। নিয়মিত মুসল্লি, রোজাদার এবং সৎ মানুষ ছিল।
শহীদের পরিবার
শহীদ আবু বকরের সংসারে বৃদ্ধ মাতা ছাড়াও রয়েছেন শহীদের স্ত্রী নিলুফা বেগম। এ ছাড়া শহীদের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড় সন্তান মেয়ে শিউলি বিবাহিত, স্বামীর সংসারে আছেন। দ্বিতীয় সন্তান এবং পরিবারের প্রথম পুত্র সন্তান লিটন মিয়া পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখার করার পর বর্তমানে কৃষি কাজ করে সংসার নির্বাহের চেষ্টায় আছেন এবং তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তৃতীয় সন্তান মোছাঃ শিল্পী খাতুনের বয়স সতের বছর, বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে আছেন। পরিবারের চতুর্থ সন্তান লিপনের বয়স ১৫ বছর, অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। পরিবারের পঞ্চম সন্তান নূরে এলাহীর বয়স বারো বছর। আকাশকুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। পরিবারের সর্বশেষ সন্তান সুমাইয়া আকতার সিমুর বয়স ছয় বছর।
এক নজরে শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
নাম: শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
পিতার নাম: মরহুম বাতাস মামুদ
মাতার নাম: তমিজন নেসা, বয়স: ৪৭ বছর
স্ত্রীর নাম: নিলুফা বেগম
জন্ম তারিখ: ২২ জুলাই ১৯৬৭
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- আকাশকুরী, ডাকঘর- লক্ষিচাপ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍