হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মহিদুল ইসলাম
শহীদ মহিদুল ইসলাম

শহীদ মহিদুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মহিদুল ইসলাম
পিতার নাম: মরহুম আনোয়ার হোসেন
মাতার নাম: মনোয়ারা বেগম, বয়স: ৫২, পেশা: গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ১৭ মার্চ ১৯৮৮
ঠিকানা: গ্রাম: সুখধন, ডাকঘর- রামগঞ্জ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
ভাই-বোন: চার ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
গ্রেফতার হওয়ার তারিখ: ১৪ জানুয়ারি ২০১৪, টাঙ্গাইল
শাহাদাতের তারিখ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
শাহাদাতের স্থান: বগুড়ার মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়
জানাজা: পুলিশের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে জানাজা

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মহিদুল ইসলাম ১৯৮৮ সালের ১৭ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আনোয়ার হোসেন ও মাতা মনোয়ারা বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে তিনি গ্রামীণ ফোন কাস্টমার কেয়ারে কর্মরত ছিলেন। চাকুরীতে যোগদানের এক মাস পরেই গ্রেফতার হন। শহীদের নিজেদের বাড়ী নাই, মামার জমিতে বাড়ী তুলে থাকতেন। বাবা অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন, বলা যায় তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শহিদ মহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ও রাজশাহীর বিনোদপুর শাখার সভাপতি।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে তৎকালীন এমপি আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার আগ থেকেই শহীদ মহিদুল ইসলাম ময়মনসিংহে অবস্থিত তার খালার বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু তারপরও ঐ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ২০১৩ সালের ১৪ই জানুয়ারি টাংগাইল থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় দেড়মাস নিখোঁজ থাকার পর তাকে বগুড়ায় দাফন করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করে। পুলিশ আরো জানায় ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহিদুলের গুলিবিদ্ধ লাশ বগুড়ার শিবগঞ্জে পাওয়া যায় এবং ২ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত নামা হিসেবে ঠনঠনিয়া ভাই পাগলা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের পূর্বে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শাহাদাতের তামান্না ছিল তার মনে সদা জাগ্রত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার পাশাপাশি তার নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও তাফসীর মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াতী কাজ করতেন। এসব কারণে তিনি এলাকায় মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। একই কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় তার লজিং বাড়ি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ী, লক্ষ্মীচাপ, টুপামারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করতে যান। বিকেলে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে তার গাড়ি বহরে থাকা সফর সঙ্গীরা গাড়ি থামিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে সরকারি দলের সাথে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব যোগ দেয়।
পুলিশ বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে সংসদ সদস্য নূরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এমপি নূরের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অক্ষত আছেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আসাদুজ্জামান নূর পুলিশ প্রহরায় শহরে প্রবেশ করেন। সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি মোটর সাইকেল ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জামায়াত কর্মী আবু বকর সিদ্দিক ও টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলমসহ পাঁচ জন সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় মারা যান। এই ঘটনায় প্রায় ৩৫/৪০ জন মারাত্মক আহত হয়। রাত ১০টায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে নিজেদেরকে রক্ষা করে।
ওই ঘটনায় নিহত টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলমের ভাই রাশেদ আলম চৌধুরী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার ৯ নম্বর আসামি ছিলেন মহিদুল। ওই ঘটনার পর থেকে মহিদুল ও তার বন্ধু আতিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় দেবীডুবা ইউনিয়নে আতিকের বন্ধু বাবুল খানের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে ১৩ জানুয়ারি রাতে কয়েকজন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে মহিদুল ও আতিককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এরপর তাঁরা বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়ে তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বগুড়া মোকামতলা রহবল বাজারের উত্তর পাশে একটি উঁচু জমি থেকে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের সনাক্ত না হওয়ায় ময়না তদন্ত শেষে সেদিনই অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে বগুড়া আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাকে দাফন করা হয়েছিল। সে সময় লাশের ছবি তুলে বিভিন্ন থানায় প্রেরণ করা হয়।
৪ মার্চ ২০১৪, মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ লাশের একটি ছবি মহিদুলের পরিবারকে দেখিয়ে বলেন- এই ছেলেটির লাশ গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার মোকামতলায় পাওয়া গেছে। পরে তার পরিচয় না পেয়ে তাকে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। লাশের ছবিটি দেখে মহিদুলের পরিবার শহিদ মহিদুলকে সনাক্ত করেন।
আপনজনদের কথা
শাহাদাতের সংবাদ পাওয়ার পর তার মা বলেছেন, আমি যেমন আমার ছেলেকে পছন্দ করি তেমনি আল্লাহ আমার ছেলেকে পছন্দ করেছেন। তার মা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তার মায়ের সেবা করার জন্য তিনি। মাঝে মাঝে দায়িত্বশীলের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসতেন। তার বড় বোন বলেন- একদিন বাড়ীর পাশে মক্তব ঘরে। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলে আমরা সেখানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে আমার মা ভাল হয় না কেন? সেদিনের কথা মনে হলে মা শুধু অঝোর নয়নে কাঁদেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
"নীলফামারীতে এমপি নূরের গাড়িবহরে হামলা মামলার নিখোঁজ আসামি রাবি শিবির নেতা মহিদুল ইসলামের লাশ মিলেছে বগুড়ায় শিরোনামে গণমাধ্যমে নিম্মোক্ত খবর প্রচারিত হয়-
বগুড়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফনের এক মাস তিনদিন পর নীলফামারী সদর থানায় পাঠানো লাশের ছবি দেখে নিখোঁজ শিবির নেতা মহিদুলের লাশ শনাক্ত করেছে পরিবারের সদস্যরা। গত ১লা ফেব্রুয়ারি বগুড়া আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা হিসেবে মহিদুলের লাশ দাফন করেছিল। নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের কক্ষারি আনোয়ার হোসেন ছেলে মহিদুল। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ছিল। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা সদরের রামগঞ্জ বাজারে এমপি আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা ও আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকর্মী হত্যার মামলার নয় নম্বর আসামি ছিলেন মহিদুল।
মহিদুল ইসলামের খালা মমেনা বেগম, মামী রাশেদা খানম, বড় বোন আম্বিয়া ও আফরোজা বেগম জানান, ওই ঘটনার পর থেকে মহিদুল ও তার বন্ধু আতিক টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দেবীডুবা গ্রামে সাথিয়া স্কুলের নিকটবর্তী আতিকের আত্মীয় বাবুল খানের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল।
এদিকে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে মহিদুল ও আতিককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর ২০ জানুয়ারি আতিকের রক্তাক্ত লাশ নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাওয়া গেলেও এতোদিন মহিদুলের কোন সন্ধান মিলেনি। তারা আরো জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ লাশের একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, এই ছেলেটির লাশ গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার মোকামতলায় পাওয়া যায়। পরে তার কোনো পরিচয় না পেয়ে তাকে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। ছবিটি দেখে আমরা সেটি মহিদুলের বলে শনাক্ত করি।
বগুড়া মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক সানোয়ার হোসেন জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া মোকামতলা রহবল বাজারের উত্তর পাশে একটি উঁচু জমি থেকে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার বাম পাশে কানের ওপরে গুলি ঢুকে তা ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। অনেক অনুসন্ধানের পরেও কেউ শনাক্ত করতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে বগুড়া আঞ্জুমানে মফিদুল তাকে দাফন করে। দেশের সব থানায় লাশের ছবিসহ ম্যাসেজ দেয়ার পরে মঙ্গলবার জানা গেল তার বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার সুখধন গ্রামে। নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাবুল আকতার জানান, ছবি দেখে মহিদুল ইসলামের পরিবারের লোকজন তাকে শনাক্ত করেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা সদরের রামগঞ্জ বাজারে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা এবং পরে আওয়ামী-পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসী সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চার জনসহ পাঁচজন নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও নিহত কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ আলম চৌধুরীর ভাই রাশেদ আলম চৌধুরী বাদী হয়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত খোরশেদ আলম চৌধুরীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলার নয় নম্বর আসামি ছিল শিবির নেতা মহিদুল।
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৫ মার্চ ২০১৪, বুধবার
নূরের গাড়িবহরে হামলার মামলা: নিখোঁজ আসামি শিবির নেতা মহিদুলের লাশ পাওয়া গেল বগুড়ায়। বগুড়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফনের এক মাস তিন দিন পর নীলফামারী সদর থানায় পাঠানো লাশের ছবি দেখে নিখোঁজ শিবির নেতা মহিদুলের লাশ শনাক্ত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের উদ্যোগে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মহিদুলের লাশ দাফন করা হয়। তিনি গত বছর ১৪ ডিসেম্বর জেলার রামগঞ্জ বাজারে বর্তমান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা ও আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকর্মী হত্যার মামলার ৯ নম্বর আসামি ছিলেন।
নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের কারি আনোয়ার হোসেনের ছেলে মহিদুল। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ছিলেন। মহিদুল ইসলামের খালা মমেনা বেগম, মামী রাশেদা খানম, বড় বোন আম্বিয়া ও আফরোজা বেগম জানান, রামগঞ্জ বাজারে ওই ঘটনার পর থেকে মহিদুল ও তার বন্ধু আতিক টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দেবিডুবা গ্রামে সাথিয়া স্কুলের কাছে আতিকের আত্মীয় বাবুল খানের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। এ দিকে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে মহিদুল ও আতিককে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। গ্রেফতারের পর ২০ জানুয়ারি আতিকের রক্তাক্ত লাশ নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাওয়া গেলেও এত দিন মহিদুলের কোনো সন্ধান মেলেনি। তারা জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ লাশের একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, এই ছেলেটির লাশ গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার মোকামতলায় পাওয়া যায়। পরে তার কোনো পরিচয় না পেয়ে তাকে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। ছবিটি দেখে আমরা সেটি মহিদুলের বলে শনাক্ত করি।
বগুড়া মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সানোয়ার হোসেন জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি মোকামতলা রহবল বাজারের উত্তর পাশে একটি উঁচু জমি থেকে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার বাম পাশে কানের ওপরে গুলি ঢুকে তা ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। অনেক অনুসন্ধানের পরও কেউ শনাক্ত করতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে বগুড়া আঞ্জুমানে মুফিদুল তাকে দাফন করে। দেশের সব থানায় লাশের ছবিসহ ম্যাসেজ দেয়ার পরে মঙ্গলবার জানা যায়, তার বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ গ্রামে। নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাবুল আকতার জানান, ছবি দেখে মহিদুলের পরিবারের লোকজন তাকে শনাক্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা সদরের রামগঞ্জ বাজারে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের এমপি সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা এবং পরে আওয়ামী লীগ-পুলিশের সাথে ১৮ দলের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি ও নিহত কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ আলম চৌধুরীর ভাই রাশেদ আলম চৌধুরী বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। খোরশেদ চৌধুরীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলার ৯ নম্বর আসামি ছিলেন মহিদুল।
ছাত্রশিবিরের নিন্দা
শুম হওয়ার ৫০ দিন পর সাবেক শিবির নেতা মহিদুল ইসলামের লাশের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এক প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, শিবির নেতা মহিদুল ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতারের পর হত্যা করে এ হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করতে নাটক সাজিয়েছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহিদুল ইসলামের হত্যাকাণ্ড এ সত্যকে আবারো তুলে ধরেছে। সরকার ছাত্র-জনতার চলমান আন্দোলন দমনে কতটা নৃশংস হয়ে উঠেছে; তা ধারাবাহিক বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। মহিদুলসহ নিলফামারীর ঘটনায় তালিকাভুক্ত আসামি তিনজনকে এ পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যা শিকার হতে হয়েছে।
তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু মহিদুলকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে নাটক সাজিয়েছে। ফলে তার পরিবার লাশ দাফনেরও সুযোগ পায়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত মহিদুলকে গ্রেফতার ও পরে তাকে হত্যার বিষয়টি সচেতন দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার। অবৈধ সরকারের বর্তমান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর যে এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছেন, তাও পরিষ্কার।
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ শান্তিপ্রিয় সব মানুষই সোচ্চার হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। দেশের দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিককে এখনই এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান শিবিরের এ দুই নেতা। তা না হলে দেশে আইনের শাসনের বিলুপ্তি ঘটবে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মহিদুলসহ বর্তমান সরকারের আমলে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পারিবারিক অবস্থা
শহীদ পরিবারে সবার বড় সন্তান আম্বিয়া বেগম শহীদের বড় বোন। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তিনি থাকেন স্বামীর সংসারে। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান শহীদ নিজে। তৃতীয় সন্তান শহিদুল ইসলামের বর্তমান বয়স ছাব্বিশ বছর। তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিলেন বর্তমানে কর্মজীবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। চতুর্থ সন্তান আফরোজা তার বড় বোনের মতো এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। পঞ্চম সন্তান আরিফাও এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরামুল পরিবারের ষষ্ঠ সন্তান, তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী। পরিবারের সবার ছোট মোজহারুল ইসলাম বর্তমানে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি কর্মী।
এক নজরে শহীদ মহিদুল ইসলাম
নাম: শহীদ মহিদুল ইসলাম
পিতার নাম: মরহুম আনোয়ার হোসেন
মাতার নাম: মনোয়ারা বেগম, বয়স: ৫২, পেশা: গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ১৭ মার্চ ১৯৮৮
ঠিকানা: গ্রাম: সুখধন, ডাকঘর- রামগঞ্জ, থানা ও জেলা- নীলফামারী
ভাই-বোন: চার ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
গ্রেফতার হওয়ার তারিখ: ১৪ জানুয়ারি ২০১৪, টাঙ্গাইল
শাহাদাতের তারিখ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
শাহাদাতের স্থান: বগুড়ার মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়
জানাজা: পুলিশের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে জানাজা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍