হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মাওলানা মোঃ মমতাজ আলী
শহীদ মাওলানা মোঃ মমতাজ আলী

শহীদ মাওলানা মোঃ মমতাজ আলী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ মমতাজ আলী
পিতার নাম: মৃত হাসিম উদ্দিন
মাতার নাম: মৃত মফিজুন্নেসা
ঠিকানা: গ্রাম- গাবরোল, ডাকঘর- রথের বাজার থানা- জলঢাকা, জেলা- নীলফামারী
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পেটে ও হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ
শাহাদাতের তারিখ: ৫ই জানুয়ারি ২০১৪, সকাল ৯টা

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মাওলানা মোঃ মমতাজ আলী ১৯৬৮ সালে জলঢাকা থানার গাবরোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। পিতা মরহুম হাছিম উদ্দিন, ইউনিয়ন কৈমারী, ডাকঘর- রথের বাজার, নীলফামারী। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন ০৫ জানুয়ারী ২০১৪ইং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এই অবৈধ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শহীদ মমতাজ আলী বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। ভোট গ্রহণের দিন সকাল নয়টায় তিনি বালাপাড়া কাছারি ভোট সেন্টারের পাশে পুকুর পাড়ে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ভোট সেন্টারের ভিতরে থাকা পুলিশ অতর্কিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে তিনি হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন এবং পুনরায় গুলি করলে তিনি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। তিনি কালেমা পড়তে পড়তে ছেলেকে ডেকে বলেন, "আমার পেটে গুলি লেগেছে, আমি হয়তো এখনই শহীদ হয়ে যাব, তোমরা ধৈর্যধারণ করবে এবং আমার জন্য দোয়া করবে।" এভাবেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ মাওলানা মমতাজ আলী এলাকার সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। নিজে ইসলামের অনুসারী ছিলেন এবং অন্যদেরকেও ইসলামী আমল আকিদার কথা সর্বদাই বলতেন। তিনি সর্বদা হকের পক্ষে মানুষকে আহ্বান করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী সরকার ক্ষমমতায় এসেই এদেশ থেকে ইসলামকে নির্মূলের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে পরিকল্পিতভাবে কারারুদ্ধ করে তথাকথিত ট্রাইবুনালে প্রহসনের বিচার করে ফাঁসির রায় দেয়। জালিম সরকারের পদত্যাগ, নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দেশ উত্তাল হয়ে উঠে। ইতিমধ্যে সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন ৫ জানুয়ারি ২০১৪ ইং তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। ফলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এই অবৈধ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শহীদ মমতাজ আলী বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে। ভোট গ্রহণের দিন সকাল নয়টায় তিনি বালাপাড়া কাছারী ভোট সেন্টারের পাশে পুকুর পাড়ে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ভোট সেন্টারের ভেতরে থাকা পুলিশ অতর্কিত ভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করলে তিনি হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন এবং পুনরায় গুলি করলে তিনি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। তিনি তখন আল্লাহু আকবর বলে তাকবির দিতে থাকেন এবং কালেমা পড়তে পড়তে ছেলেকে ডেকে বলেন, আমি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছি, আমি হয়তো এখনই শহীদ হয়ে যাব, তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে এবং আমার জন্য দোয়া করবে। এভাবেই শাহাদাত বরণ করে শহীদ মমতাজ আলী। ছেলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে সবাইকে পিতার মৃত্যুর কথা জানান। শহীদের ছোট্ট ছেলে এবারে পঞ্চম শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছেন। তাকে নির্বাক বলে মনে হল। বাবার মৃত্যুতে ছেলে-মেয়েকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই।
আপনজনদের কথা
শহীদের স্ত্রী উম্মে কুলসুম বলেন- আল্লাহ যেন আমার স্বামীকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন, আমীন। আপনারা দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাকে ও আমার ছেলে-মেয়েদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।
পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মাওলানা মোঃ মমতাজ আলীর পরিবারে একমাত্র অভিভাবক শহীদের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বয়স চল্লিশ বছর। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে সবার বড় বিলকিস বানু থাকেন স্বামীর সংসারে। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান তাহেরা বানুর বয়স ২২ বছর, ফাজিল পাস করেছেন। পরিবারের তৃতীয় সন্তান এবং বড় ছেলে সাদেকুজ্জামান হেলাল এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের সবার ছোট সন্তান সাইফুল ইসলাম জালাল বর্তমানে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে।
এক নজরে শহীদ মোঃ মমতাজ আলী
নাম: মাওলানা মোঃ মমতাজ আলী
পিতার নাম: মৃত হাসিম উদ্দিন
মাতার নাম: মৃত মফিজুন্নেসা
ঠিকানা: গ্রাম- গাবরোল, ডাকঘর- রথের বাজার থানা- জলঢাকা, জেলা- নীলফামারী
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পেটে ও হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ
শাহাদাতের তারিখ: ৫ই জানুয়ারি ২০১৪, সকাল ৯টা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍