হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম
শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম

শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মাওলানা মো. আব্দুস ছালাম, ১৯৮১ সালে রাজবাড়ীর বারলাহুরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক নিবেদিতপ্রাণ আলেম ও সমাজসেবক। ঝিনাইদহের আরাফপুর জামে মসজিদের খতিব এবং কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবে ছিলেন মানুষের আস্থার ঠিকানা। ভোরের আলো ফোটার আগেই দান-সদকা করা, মানুষের দোয়া চাওয়া ও ইসলামের দাওয়াতে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর দৈনন্দিন সাধনা।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জুমার নামাজের পর আল্লাহ ও রাসুল ﷺ–কে অবমাননার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি কিন্তু ফেরার পথে অতর্কিত হামলায় প্রাণ দেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষের এই সাহসী কণ্ঠ। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে শোকাহত করে। তার রেখে যাওয়া আদর্শ আজও মানুষের মাঝে জাগিয়ে রাখে প্রতিবাদের শক্তি ও ঈমানের অটল প্রেরণা।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম
রাজবাড়ি
"শাহাদাতের দিন সকালে ফকির মিসকিনদের নগদ অর্থ প্রদান করেন এবং তাদের কাছে দোয়া চান এবং জুমার নামাজে যাবার পথে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। জুমার নামাজ শেষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কটূক্তি করায় ব্লগারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অংশগ্রহণ করেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম রাজবাড়ী সদরের বারলাহুরিয়া গ্রামে ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও মাতা মমতাজ বেগমের পাঁচ ছেলের ভেতর অন্যতম। তিনি ঝিনাইদহ এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ও কামিল মাদ্রাসার একজন সুদক্ষ প্রভাষক ছিলেন। তার দ্বারা এলাকার সকল প্রকার ইসলামিক কাজ সংঘটিত হত এবং তিনি সব সময় মানুষের বিপদ আপদে পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২২ ফেব্রুয়ারি বাদ জুমা ইসলামী সমমনা তৌহিদি জনতার ডাকে সারা বাংলাদেশে আল্লাহ ও রাসূল (সঃ) কে কটূক্তি করায় দেশজুড়ে প্রতিবাদে ঝিনাইদহ কামিল মাদ্রাসা থেকে শহীদ আব্দুস ছালাম অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ শেষে ফেরার পথে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা পিছন থেকে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে শহীদ করে।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
৫ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন মিডিয়ার জরিপ আসতেছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের না ভোট দেখুন। তখন তিনি বন্ধুদের মেসেজ লিখাইলেন। বেতনের টাকা সংসারে খরচের পর বাকি টাকা দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করে দিতেন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
শাহাদাতের দিন সকালে ফকির মিসকিনদের নগদ অর্থ প্রদান করেন এবং তাদের কাছে দোয়া চান এবং জুমার নামাজে যাবার পথে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। জুমার নামাজ শেষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কটূক্তি করায় ব্লগারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হলে পিছন থেকে আওয়ামী সন্ত্রসীরা হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করে এবং শহীদ করে। পরের দিনের দৈনিক পত্রিকাসমূহে এ বিষয়ে নিউজ আসে। দৈনিক আমার দেশ, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩তে নিউজ করে। ঝিনাইদহ সদরের আরাফপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুস ছালাম নিহত
রাসূল (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে গণবিস্ফোরণ:
গাইবান্ধায় নিহত ৩ সিলেটে ১ ঝিনাইদহে ১. সারাদেশে আহত ৪ হাজার, কাল দেশব্যাপী হরতাল: বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশের হাজার রাউন্ড গুলি।
স্টাফ রিপোর্টার:
ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতার গর্জন শুনেছে বাংলাদেশ। আল্লাহ ও রাসুলপ্রেমী লাখো জনতার বিক্ষোভে গতকাল সারা দেশ ছিল উত্তাল। ধর্মদ্রোহী নাস্তিক, মুরতাদদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠা ইসলামী জনতার মহাজাগরণ দমাতে উন্মত্ত হামলা চালায় পুলিশ, র‍্যাব ও শাসকদলের ক্যাডারবাহিনী। এতে শহীদ হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। রাজধানীসহ সারা দেশের চার লক্ষাধিক মসজিদ থেকে বিক্ষোভের কর্মসূচি চলাকালে বিনা উসকানিতে পুলিশ ও সরকারদলীয়রা হামলা চালায়। এতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ব্যাপক সহিংসতায় কয়েক হাজার মুসল্লি আহত হয়েছেন। নিরস্ত্র মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে হাজার হাজার রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়েছে পুলিশ। নির্দয় নির্যাতন করে আটক করেছে শত শত মুসল্লিকে। কর্মসূচি ঠেকাতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বহু মসজিদ। কর্মসূচিতে বাধা ও পাঁচ প্রতিবাদী মুসল্লিকে হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী দলগুলো রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
ঝিনাইদহে খতিব নিহত:
ঝিনাইদহে গতকাল জুমার নামাজের পর ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষে আবদুস ছালাম নামে এক মাদরাসা শিক্ষক ও জামে মসজিদের খতিব নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ সাংবাদিকসহ অর্ধশত মানুষ। নিহত আবদুস ছালাম ঝিনাইদহ শহরের আলিয়া মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ও আরাফপুর জামে মসজিদের খতিব। তিনি রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন মুসল্লিরা। সেখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। পরে শহরের শেরেবাংলা সড়কে নতুন হাটের রাস্তায় জামায়াত ও ইসলামী সমমনা দলগুলো ওলামা-মাশায়েখদের ব্যানারে মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। তারপরও তারা মিছিল চালিয়ে গেলে সরকার সমর্থক ক্যাডাররা হামলা চালায়। উভয় পক্ষ ব্যাপক ইটপাটকেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় ঝিনাইদহ হাটের রাস্তায় হামদর্দ চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে আবদুস ছালামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। এসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে রাস্তার ওপর পড়ে যান। তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ আল মামুন মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
মাওলানা আব্দুস ছালাম যেমন ছিলেন অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী, তেমনি শিক্ষায় চরম পারদর্শী। পরিবারের সকল ছেলের মধ্যে তিনি অতুলনীয়। মহল্লার সকল শ্রেণীর লোকের সাথে তার ছিল গভীর ভালোবাসা।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম (১১১)।
পেশা: মসজিদের ইমাম ও কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০১.১৯৮১।
আহত হওয়ার তারিখ: ২২.০২.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২২,০২,২০১৩ দুপুর ২.১০ তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
স্থান: ঘটনাস্থলে।
দাফন করা হয়: পারিবারিক গোরস্থান দাফন করা হয়।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-বারলাহুরিয়া, ডাকঘর-মাটিপাড়া, থানা-রাজবাড়ী, জেলা-রাজবাড়ী।
পিতা: আব্দুল মজিদ বিশ্বাস।
মাতা: মমতাজ বেগম।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। আসলে বাড়ির অবস্থা ও আয়ের উৎস বলতে যা বুঝায় সেটা বর্তমান অবস্থায় তার পরিবারের জন্য প্রযোজ্য নয়।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: তানিয়া খাতুন। ছেলে: আব্দুল্লাহ নোমান-প্লে শ্রেণী। আব্দুল্লাহ নাবিল-
ভাই-বোনের বিবরণ: আব্দুল খালেক বিশ্বাস-ব্যবসা। ঈসমাঈল বিশ্বাস-কৃষি। ইউছুফ বিশ্বাস-৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী, মাদ্রাসায়। আব্দুস ছালাম বিশ্বাস-শহীদ। আব্দুল জলিল বিশ্বাস-ব্যবসা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍