হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীন
শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীন

শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীন
পিতার নাম: আবুল কাশেম, পেশা: কৃষি
মাতার নাম: আম্বিয়া খাতুন, বয়স: ৫৪
জন্ম তারিখ: ১৯৮১
ঠিকানা: গ্রাম- দক্ষিণ কাজিরহাট ডাঙ্গাপাড়া, ডাকঘর- জলঢাকা থানা- জলঢাকা, জেলা নীলফামারী
আহত হওয়ার তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩
আহতের ধরণ: তল পেটে কিডনী বরাবর গুলি লেগে শহীদ
শাহাদাতের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩, বিকাল ৪টা ৩০

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দিন ১৯৮১ সালে নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানাধীন দক্ষিণ কাজিরহাট ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবুল কাশেম, মাতার নাম আম্বিয়া খাতুন। পিতা-মাতার আট সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। শহীদ মোসলেম উদ্দিন একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
সেদিন ছিল ২৫ অক্টোবর রোজ শুক্রবার। জুমার নামাজ নিজ মসজিদের পড়ে বাড়ীতে দুপুরের খাবার খেয়ে পূর্ব ঘোষিত প্রোগ্রাম জলঢাকা শহরের অদূরে পেট্রোল পাম্পে জড় হন। শহীদের বাড়ী থেকে পেট্রোল পাম্পের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রায় দশ হাজার মানুষের একটি মিছিল অংশগ্রহণ করে যখন জলঢাকা শহরের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখন জলঢাকা বাসস্ট্যান্ডের কাছে পুলিশ বাধা প্রদান করে। মিছিলটি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে যেতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিচার্জ করে গুলিবর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শহীদ মোসলেম উদ্দীনের কিডনি বরাবর গুলি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পরেন। এমতাবস্থায় পুলিশ সেখান থেকে চলে গেলে শহীদ মোসলেম উদ্দিনসহ আরও আটজন গুলিবিদ্ধ ও তেইশ জন আহত হয়। একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে শহীদ মোসলেম উদ্দীনকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছে ডাক্তার দেখা মাত্র শহীদ মোসলেম উদ্দীনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২৫ অক্টোবর শহীদ মোসলেম উদ্দীন এলাকার সমবয়সী যুবকদের নিকট জলঢাকা মিছিলে যোগদানের জন্য আহবান জানান। এক পর্যায়ে বাড়ীতে তার স্ত্রী মিছিলে যাওয়ার কথা জানতে পারলে স্বামীকে মৃদুভাবে না যাওয়া ও সাবধান থাকার কথা বললে শহীদ মোসলেম উদ্দীন স্ত্রীকে বলেন যে, আমি শহীদ হতে চাই তুমি আমাকে বাধা দিও না।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
২৫ অক্টোবর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীতে প্রায় দশ হাজার তৌহিদী জনতার একটি মিছিল সংঘবদ্ধ হয়। উক্ত মিছিলে পুলিশ ও দুর্বৃত্তরা সকলে মিলে শান্তিপূর্ণ মিছিলে আক্রমণ করে। এতে মোসলেম উদ্দীন শহীদ হন এবং আট জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আপনজনদের কথা
শহীদের পিতা মোঃ আবুল কাশেম বলেন যে, আমার অভাবের সংসারে উপার্জন করা ছেলে চলে যাওয়াতে আমি ও এতিম বাচ্চাদের নিয়ে কিভাবে দিন কাটাবো তাহা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে আমি এজন্য গর্বিত যে আমার ছেলে আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণ করেছেন। আল্লাহ যেন আমার ছেলের শাহাদাত কবুল করেন।
শহীদের ভাই ও বোনরা জানান- শহীদের ভাই বোন হিসেবে আল্লাহ যেন আমাদেরকে কবুল করেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
রাজনৈতিক সহিংসতায় সারাদেশে নিহত ৭: রাইজিংবিডি ডটকম, ঢাকা, ২৬ অক্টোবর
সারাদেশেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিলো ২৫ অক্টোবর ঘিরে। এদিন ঢাকায় ছিল ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ। ঢাকার বাইরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় একই দিন।
বিরোধীজোটের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ হয়। এতে ৭ জন নিহত হন। এছাড়া পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।
নিহত সাতজনের মধ্যে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৩, কক্সবাজারে চকরিয়ায় ২, নীলফামারীর জলঢাকায় ১ এবং সাতক্ষীরায় রয়েছেন ১ জন।
নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে র‍্যাব, পুলিশের ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় মোসলেম উদ্দিন (৩২) নামে এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ নেতাকর্মী।
নিহত মোসলেম জলঢাকা পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া কাজীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ১: প্রিয় ডটকম, ২৫ অক্টোবর ২০১৩
নীলফামারীর জলঢাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে র‍্যাব, পুলিশের ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় মোসলেম উদ্দিন (৩২) নামে এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে জলঢাকা পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মোসলেম জলঢাকা পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া কাজীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা। এ ঘটনার পর গোটা উপজেলায় পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে র‍্যাবের টহলের পাশাপাশি রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে জলঢাকা পৌরসভার পেট্রোল পাম্প চত্ত্বরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা জমায়েত হয়ে মিছিল বের করে। মিছিল নিয়ে তারা শহরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ৫ পুলিশ, এক সাংবাদিকসহ জামায়াত-শিবিরের অন্তত ১৪ জন আহত হন। উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল গণি জানান, সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াতের ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও আহত হন অন্তত ১০জন। গুলিবিদ্ধ শিবিরকর্মী মোসলেমকে রংপুর ইসলামিক কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীনের পরিবারের বড় সন্তান মনিরা আক্তার মিলার বয়স পাঁচ বছর। বর্তমানে সরকারী প্রাইমারী স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। দ্বিতীয় সন্তান মোঃ সামসুদ্দোহা শিমুলের বয়স তিন বছর।
শহীদের ভাই-বোনদের মধ্যে শহীদের বড় ভাই মোঃ আইয়ুব আলী নির্মাণ শ্রমিকের বয়স পয়ত্রিশ বছর। পরিবারে দ্বিতীয় শহীদ নিজে। শহীদ মোসলেম উদ্দীনের ছোট ভাই মোঃ মশিউর রহমানের বয়স আটাশ বছর, তিনি গার্মেন্টস শ্রমিক। শহীদের ছোট বোন রুবিনা আক্তার আছেন স্বামীর সংসারে। শহীদের অপর বোন হামিদা বানুও স্বামীর সংসারে আছেন। শহীদ মোসলেম উদ্দীনের ছোট দুই বোন সুমি আক্তার ও মাসুমা আক্তার এখনও অবিবাহিত।
এক নজরে শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দীন
নাম: শহীদ মোঃ মোসলেম উদ্দিন
পিতার নাম: আবুল কাশেম, পেশা: কৃষি
মাতার নাম: আম্বিয়া খাতুন, বয়স: ৫৪
জন্ম তারিখ: ১৯৮১
ঠিকানা: গ্রাম- দক্ষিণ কাজিরহাট ডাঙ্গাপাড়া, ডাকঘর- জলঢাকা থানা- জলঢাকা, জেলা নীলফামারী
আহত হওয়ার তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩
আহতের ধরণ: তল পেটে কিডনী বরাবর গুলি লেগে শহীদ
শাহাদাতের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১৩, বিকাল ৪টা ৩০

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍