শহীদ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো: মুজাহিদুল ইসলাম (০৫০)। পেশা: তিনি একজন কৃষক হলেও কষ্টকরে পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব এবং এর মক্তব চালাতেন। এতে যথাক্রমে ২৩০০ এবং ১০০০ টাকা পেতেন। এ সামান্য আয়ে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৭ইং ৪৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা, স্থান: শহীদ মো: মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। জানাজা পড়ান শহীদের দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। এ জানাজায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মহিযালবাড়ি, ডাকঘর: মহিষালবাড়ি, ইউনিয়ন: মহিষালবাড়ি, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।
পিতা: মৃত সিদ্দিক মোল্লা।
মাতা: মোমেনা বেগম।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: ১ম ছেলে: ওয়াহিদুল ইসলাম, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ২য় ছেলে। মাসুদুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণী পড়ে, ৩য় ছেলে: রেজওয়ানুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণী, ১ম মেয়ে: নাঈমা খাতুন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, ২য় মেয়ে: সায়েমা খাতুন, ৩য় শ্রেণীতে পড়ে, ৪র্থ ছেলে। জাবির, শিশু শ্রেণীতে পড়ে।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৭ইং ৪৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা, স্থান: শহীদ মো: মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। জানাজা পড়ান শহীদের দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। এ জানাজায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মহিযালবাড়ি, ডাকঘর: মহিষালবাড়ি, ইউনিয়ন: মহিষালবাড়ি, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।
পিতা: মৃত সিদ্দিক মোল্লা।
মাতা: মোমেনা বেগম।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: ১ম ছেলে: ওয়াহিদুল ইসলাম, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ২য় ছেলে। মাসুদুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণী পড়ে, ৩য় ছেলে: রেজওয়ানুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণী, ১ম মেয়ে: নাঈমা খাতুন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, ২য় মেয়ে: সায়েমা খাতুন, ৩য় শ্রেণীতে পড়ে, ৪র্থ ছেলে। জাবির, শিশু শ্রেণীতে পড়ে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"আদরের ছোট মেয়ে সায়েমা বললো, 'আব্বা যায়েন না, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের হাসি হেসে, মেয়েকে সান্ত্বনা দিলেন, 'না মা, ধরবে না। পুলিশ তার আত্মবিশ্বাসের মর্যাদা। দিয়েছে। ৬ বছরের জাবির আর ৮ বছরের সায়েমাসহ ৫ সন্তানের জনককে তারা ধরে নিয়ে যায়নি বরং যে দুটি কানে আঙুল দিয়ে তিনি স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত আজান দিতেন বুলেট দিয়ে সে দুটি কান এ-ফোঁড় ওফোঁড় করে করে নিষ্প্রাণ দেহটি রেখে গেছে।... ৬ বছরের জাবিরকে মাঝে মাঝেই পাওয়া যায় না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায় বাবার কবরের পাশে। কি কথা বলতে চায় অবুঝ ছেলেটা বাবাকে?"
১. শহীদের পরিচিতি
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি গ্রামে শহীদ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ১৯৬৭ইং সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সিদ্দিক মোল্লা ও মা মোমেনা বেগমের তিনি ছিলেন চতুর্থ সন্তান। ৪৬ বছর বয়সী মুজাহিদুল ইসলাম ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। মূলত পেশায় তিনি একজন কৃষক হলেও কষ্ট করে পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব এবং এর মক্তব চালাতেন। এতে যথাক্রমে ২৩০০ এবং ১০০০ টাকা পেতেন। এ সামান্য আয়ে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এত কিছুর পরও তিনি ছেলে-মেয়েদেরকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাইতো ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী এ মানুষটি তার সন্তানদেরকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের ঘাতক বুলেট তার এ স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দেয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে যায় এবং পরিবারটিও পড়ে যায় কঠিন এক পরীক্ষায়।
২. মুয়াজ্জিনের শির সবার উপরে
দিনটি ছিল ৩ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবৈধ ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। সারাদেশের মত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও হরতাল সফল করার লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং হয়। তৌহিদি জনতা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে ব্যাপক লাঠি চার্জ করে এবং প্রচুর পরিমাণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এভাবে রামনগর এলাকায় তৌহিদি জনতাকে রাস্তা থেকে সরাতে না পেরে পুলিশ পিছু হটে। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে বিজিবি যোগ দিলে সংঘর্ষে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এতে পুলিশ-বিজিবি যৌথভাবে জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় শত শত লোক গুলিবিদ্ধ হন। এমনকি শহীদ মোঃ মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। জানাযায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। জানাযা পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলেও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
৩. নির্বিচার গুলিতে গোদাগাড়ী রণক্ষেত্র
পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ খবর এসেছে যেমন: দৈনিক আমার দেশ, ৪ মার্চ ২০১৩, 'নির্বিচার গুলিতে গোদাগাড়ী রণক্ষেত্র, নিহত ২' শিরোনামে নিউজ করে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ-বিজিবির নির্বিচার গুলিতে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৫ জন। আহত হযেছে শতাধিক ব্যক্তি। গুলিবিদ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পুলিশের ৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ দাবি করেছে। জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে সকাল ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোদাগাড়ী বালিয়াঘাটা থেকে রাজাবাড়ি পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করলে পৌরসভা এলাকার ডাইংপাড়া সিনেমা হলের মোড়ে নির্বিচারে পুলিশ-বিজিবি গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
পুলিশ-বিজিবির গুলিতে নিহতরা হলেন গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ি হাট জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) ও সরাংপুর দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রশিবিরকর্মী রফিকুল ইসলাম (১৪)। নিহত জামায়াতকর্মী মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম মহিশালবাড়ি গ্রামের মৃত সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ও রাফিকুল ইসলাম ভগবন্তপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। বিকালে মহিষালবাড়ি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিহত মোয়াজ্জিন মুজাহিদুল ইসলামের জানাজা শেষে মহিষালবাড়ি গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
৪. আব্বা যায়েন না, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে
২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদী সাহেবের রায়ের পর তিনি সন্তানদের নিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন। এমন সময় তার স্ত্রী বলে উঠলো, 'আজকে কত মানুষ যে মরবে? তিনি বলেছিলেন, 'যার ভাগ্যে মরণ আছে সেই মরবে। মাত্র তিনদিন পর ৩ মার্চ তিনিই যে হবেন সেই মহীয়ান ত্যাগের নায়ক এ কথা কী কেউ বুঝতে পেরেছিল? ঘটনার দিন ফজরের নামাজে ইমামতি শেষে তিনি শাহাদাতের জন্য দীর্ঘ দোয়া করলেন: ঘনিষ্ঠজনেরা বললো, 'কি ব্যাপার তুমি কি আজকে মরবে নাকি? তিনি বলেছিলেন, 'আল্লাহ যা ভাগ্যে রেখেছেন তাই হবে। বাড়ি থেকে তিনি যখন প্রোগ্রামে যাচ্ছেন আদরের ছোট মেয়ে সায়েমা বললো, 'আব্বা যায়েন না, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের হাসি হেসে, (কারণ তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, মসজিদের মোয়াজ্জিন) মেয়েকে সান্ত্বনা দিলেন, 'না- মা, ধরবে না। পুলিশ তার আত্মবিশ্বাসের মর্যাদা। দিয়েছে। ৬ বছরের জাবির আর ৮ বছরের সায়েমাসহ ৫ সন্তানের জনককে তারা ধরে নিয়ে যায়নি বরং যে দুটি কানে আঙুল দিয়ে তিনি স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত আজান দিতেন বুলেট দিয়ে সে দুটি কান এফোর ওফোর করে নিষ্প্রাণ দেহটি রেখে গেছে।
৬ বছরের জাবিরকে মাঝে মাঝেই পাওয়া যায় না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়, বাবার কবরের পাশে। কি কথা বলতে চায় অবুঝ ছেলেটা বাবাকে?
২য় ছেলে, ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া মাসুদুল ইসলাম। এই বয়সেই সে বাবার জানাজা পড়িয়েছে। এখন আব্বার মক্তবের কাজটি করে সংসারকে সহযোগিতা করে। এজন্যেই কি বাবাকে সে বারবার স্বপ্নে দেখে। লাজুক ছেলেটি বলতে চায় না শুধু লিখে রাখে সে সব স্বপ্নের কথা। একটি স্বপ্ন এমন। তার বাবার কবরটি অনেক বড় বিশাল এক ঘরের মতো হয়ে গেল। আশপাশের অনেক মানুষ উৎসুক হয়ে তাকে দেখতে গেল। হঠাৎ সেই কবরে কাফনে আবৃত শায়িতাবস্থায় শহীদ পিতার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি বললেন, 'কেন আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিলে? আমার মত যারা জীবন দিবে আল্লাহ সবাইকে শহীদের মর্যাদা দেবেন। সবাই অবাক হয়ে দেখলাম তার চেহারা, শরীর অবিকল আগের মতোই আছে। আর কী সুতীব্র এক জান্নাতি সুঘ্রাণ আসছে আমাদের সবার নাকে। এর পর ঘুম ভেঙে যায় মাসুদের সে আব্বার দায়িত্ব পালনে মসজিদে আজান দিতে চলে গেল।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
আধা পাকা তিন রুমের একটি ঘর এবং ২৫ কাঠার মতো জমি-জমা আছে।।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: মুজাহিদুল ইসলাম (০৫০)। পেশা: তিনি একজন কৃষক হলেও কষ্টকরে পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব এবং এর মক্তব চালাতেন। এতে যথাক্রমে ২৩০০ এবং ১০০০ টাকা পেতেন। এ সামান্য আয়ে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৭ইং ৪৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা, স্থান: শহীদ মো: মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। জানাজা পড়ান শহীদের দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। এ জানাজায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মহিযালবাড়ি, ডাকঘর: মহিষালবাড়ি, ইউনিয়ন: মহিষালবাড়ি, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।
পিতা: মৃত সিদ্দিক মোল্লা।
মাতা: মোমেনা বেগম।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: ১ম ছেলে: ওয়াহিদুল ইসলাম, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ২য় ছেলে। মাসুদুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণী পড়ে, ৩য় ছেলে: রেজওয়ানুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণী, ১ম মেয়ে: নাঈমা খাতুন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, ২য় মেয়ে: সায়েমা খাতুন, ৩য় শ্রেণীতে পড়ে, ৪র্থ ছেলে। জাবির, শিশু শ্রেণীতে পড়ে।
১. শহীদের পরিচিতি
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি গ্রামে শহীদ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ১৯৬৭ইং সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সিদ্দিক মোল্লা ও মা মোমেনা বেগমের তিনি ছিলেন চতুর্থ সন্তান। ৪৬ বছর বয়সী মুজাহিদুল ইসলাম ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। মূলত পেশায় তিনি একজন কৃষক হলেও কষ্ট করে পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব এবং এর মক্তব চালাতেন। এতে যথাক্রমে ২৩০০ এবং ১০০০ টাকা পেতেন। এ সামান্য আয়ে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এত কিছুর পরও তিনি ছেলে-মেয়েদেরকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাইতো ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী এ মানুষটি তার সন্তানদেরকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের ঘাতক বুলেট তার এ স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দেয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে যায় এবং পরিবারটিও পড়ে যায় কঠিন এক পরীক্ষায়।
২. মুয়াজ্জিনের শির সবার উপরে
দিনটি ছিল ৩ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবৈধ ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। সারাদেশের মত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও হরতাল সফল করার লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং হয়। তৌহিদি জনতা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে ব্যাপক লাঠি চার্জ করে এবং প্রচুর পরিমাণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এভাবে রামনগর এলাকায় তৌহিদি জনতাকে রাস্তা থেকে সরাতে না পেরে পুলিশ পিছু হটে। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে বিজিবি যোগ দিলে সংঘর্ষে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এতে পুলিশ-বিজিবি যৌথভাবে জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় শত শত লোক গুলিবিদ্ধ হন। এমনকি শহীদ মোঃ মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। জানাযায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। জানাযা পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলেও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
৩. নির্বিচার গুলিতে গোদাগাড়ী রণক্ষেত্র
পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ খবর এসেছে যেমন: দৈনিক আমার দেশ, ৪ মার্চ ২০১৩, 'নির্বিচার গুলিতে গোদাগাড়ী রণক্ষেত্র, নিহত ২' শিরোনামে নিউজ করে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ-বিজিবির নির্বিচার গুলিতে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৫ জন। আহত হযেছে শতাধিক ব্যক্তি। গুলিবিদ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পুলিশের ৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ দাবি করেছে। জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে সকাল ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোদাগাড়ী বালিয়াঘাটা থেকে রাজাবাড়ি পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করলে পৌরসভা এলাকার ডাইংপাড়া সিনেমা হলের মোড়ে নির্বিচারে পুলিশ-বিজিবি গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
পুলিশ-বিজিবির গুলিতে নিহতরা হলেন গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ি হাট জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) ও সরাংপুর দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রশিবিরকর্মী রফিকুল ইসলাম (১৪)। নিহত জামায়াতকর্মী মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম মহিশালবাড়ি গ্রামের মৃত সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ও রাফিকুল ইসলাম ভগবন্তপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। বিকালে মহিষালবাড়ি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিহত মোয়াজ্জিন মুজাহিদুল ইসলামের জানাজা শেষে মহিষালবাড়ি গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
৪. আব্বা যায়েন না, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে
২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদী সাহেবের রায়ের পর তিনি সন্তানদের নিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন। এমন সময় তার স্ত্রী বলে উঠলো, 'আজকে কত মানুষ যে মরবে? তিনি বলেছিলেন, 'যার ভাগ্যে মরণ আছে সেই মরবে। মাত্র তিনদিন পর ৩ মার্চ তিনিই যে হবেন সেই মহীয়ান ত্যাগের নায়ক এ কথা কী কেউ বুঝতে পেরেছিল? ঘটনার দিন ফজরের নামাজে ইমামতি শেষে তিনি শাহাদাতের জন্য দীর্ঘ দোয়া করলেন: ঘনিষ্ঠজনেরা বললো, 'কি ব্যাপার তুমি কি আজকে মরবে নাকি? তিনি বলেছিলেন, 'আল্লাহ যা ভাগ্যে রেখেছেন তাই হবে। বাড়ি থেকে তিনি যখন প্রোগ্রামে যাচ্ছেন আদরের ছোট মেয়ে সায়েমা বললো, 'আব্বা যায়েন না, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের হাসি হেসে, (কারণ তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, মসজিদের মোয়াজ্জিন) মেয়েকে সান্ত্বনা দিলেন, 'না- মা, ধরবে না। পুলিশ তার আত্মবিশ্বাসের মর্যাদা। দিয়েছে। ৬ বছরের জাবির আর ৮ বছরের সায়েমাসহ ৫ সন্তানের জনককে তারা ধরে নিয়ে যায়নি বরং যে দুটি কানে আঙুল দিয়ে তিনি স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত আজান দিতেন বুলেট দিয়ে সে দুটি কান এফোর ওফোর করে নিষ্প্রাণ দেহটি রেখে গেছে।
৬ বছরের জাবিরকে মাঝে মাঝেই পাওয়া যায় না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়, বাবার কবরের পাশে। কি কথা বলতে চায় অবুঝ ছেলেটা বাবাকে?
২য় ছেলে, ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া মাসুদুল ইসলাম। এই বয়সেই সে বাবার জানাজা পড়িয়েছে। এখন আব্বার মক্তবের কাজটি করে সংসারকে সহযোগিতা করে। এজন্যেই কি বাবাকে সে বারবার স্বপ্নে দেখে। লাজুক ছেলেটি বলতে চায় না শুধু লিখে রাখে সে সব স্বপ্নের কথা। একটি স্বপ্ন এমন। তার বাবার কবরটি অনেক বড় বিশাল এক ঘরের মতো হয়ে গেল। আশপাশের অনেক মানুষ উৎসুক হয়ে তাকে দেখতে গেল। হঠাৎ সেই কবরে কাফনে আবৃত শায়িতাবস্থায় শহীদ পিতার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি বললেন, 'কেন আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিলে? আমার মত যারা জীবন দিবে আল্লাহ সবাইকে শহীদের মর্যাদা দেবেন। সবাই অবাক হয়ে দেখলাম তার চেহারা, শরীর অবিকল আগের মতোই আছে। আর কী সুতীব্র এক জান্নাতি সুঘ্রাণ আসছে আমাদের সবার নাকে। এর পর ঘুম ভেঙে যায় মাসুদের সে আব্বার দায়িত্ব পালনে মসজিদে আজান দিতে চলে গেল।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
আধা পাকা তিন রুমের একটি ঘর এবং ২৫ কাঠার মতো জমি-জমা আছে।।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: মুজাহিদুল ইসলাম (০৫০)। পেশা: তিনি একজন কৃষক হলেও কষ্টকরে পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব এবং এর মক্তব চালাতেন। এতে যথাক্রমে ২৩০০ এবং ১০০০ টাকা পেতেন। এ সামান্য আয়ে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৭ইং ৪৭ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা।
শাহাদাতের তারিখ: ০৩ মার্চ ২০১৩ সকাল ১০টা, স্থান: শহীদ মো: মুজাহিদ আলী রাস্তা ছেড়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ-বিজিবি সেখানেই তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। জানাজা পড়ান শহীদের দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাসুদুল ইসলাম। এ জানাজায় প্রায় ৭ হাজার লোক উপস্থিত ছিল। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মহিযালবাড়ি, ডাকঘর: মহিষালবাড়ি, ইউনিয়ন: মহিষালবাড়ি, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।
পিতা: মৃত সিদ্দিক মোল্লা।
মাতা: মোমেনা বেগম।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: ১ম ছেলে: ওয়াহিদুল ইসলাম, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ২য় ছেলে। মাসুদুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণী পড়ে, ৩য় ছেলে: রেজওয়ানুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণী, ১ম মেয়ে: নাঈমা খাতুন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, ২য় মেয়ে: সায়েমা খাতুন, ৩য় শ্রেণীতে পড়ে, ৪র্থ ছেলে। জাবির, শিশু শ্রেণীতে পড়ে।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍