শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত (১০০)। পেশা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১.১২.১৯৮৪, বয়স ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১২.০৫.২০১৩ইং রাত ৩টা ৩০ মি:
শাহাদাতের তারিখ: ১২.০৫.১৩ইং, স্থান: রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রসফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। দাফন করা হয়। কাজল্য সাকোপাড়া গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-কাজলা, ডাকঘর- কাজলা, থানা-মতিহার, জেলা-রাজশাহী।
পিতা: মো: আখতারুজ্জামান মানু, অবসর প্রাপ্ত।
মাতা: মোছাঃ সাবিহা বেগম, বয়স প্রায় ৫৬ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: সংসারের অবস্থা ভাল না। আয়ের কোন উৎস নাই। একজন মাত্র ভাই আছে, সে পেশায় একজন নবীন এ্যাডভোকেট। সংসারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। ছোট ভাইয়ের উপর সংসারের সমস্ত ভার এখন। ভাই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। বর্তমানে বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক টাকা ঋণ আছে। শহীদ শাহাদাত সংসারের ৭০% খরচ যোগান দিতেন।
* স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী। রিনা খাতুন রেসমী। ছেলে। আরেফিন আহমেদ সাইমুম এবং বয়স তার ৪ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ। ভাই: হাসানুল বান্না, নবীন এ্যাডভোকেট। বোন। মোছা মুনিরা খাতুন, বি.এ অনার্স। বোন: মোছা রুহ আফজাহ (সাথী), গৃহিণী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১.১২.১৯৮৪, বয়স ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১২.০৫.২০১৩ইং রাত ৩টা ৩০ মি:
শাহাদাতের তারিখ: ১২.০৫.১৩ইং, স্থান: রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রসফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। দাফন করা হয়। কাজল্য সাকোপাড়া গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-কাজলা, ডাকঘর- কাজলা, থানা-মতিহার, জেলা-রাজশাহী।
পিতা: মো: আখতারুজ্জামান মানু, অবসর প্রাপ্ত।
মাতা: মোছাঃ সাবিহা বেগম, বয়স প্রায় ৫৬ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: সংসারের অবস্থা ভাল না। আয়ের কোন উৎস নাই। একজন মাত্র ভাই আছে, সে পেশায় একজন নবীন এ্যাডভোকেট। সংসারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। ছোট ভাইয়ের উপর সংসারের সমস্ত ভার এখন। ভাই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। বর্তমানে বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক টাকা ঋণ আছে। শহীদ শাহাদাত সংসারের ৭০% খরচ যোগান দিতেন।
* স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী। রিনা খাতুন রেসমী। ছেলে। আরেফিন আহমেদ সাইমুম এবং বয়স তার ৪ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ। ভাই: হাসানুল বান্না, নবীন এ্যাডভোকেট। বোন। মোছা মুনিরা খাতুন, বি.এ অনার্স। বোন: মোছা রুহ আফজাহ (সাথী), গৃহিণী।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"শোকাহত পরিবারের সদস্যরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না নিহত হয়েছে শাহাদাত। বিশেষ করে শাহাদাতের ৫ বছরের সন্তান আরেফিন আরাফাত সাইমুম অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সকলের দিকে। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক-হতবিহবল হয়ে গেছেন শাহাদাতের স্ত্রী। একই সাথে কথা আর কান্নার মাঝে ভেঙে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা গ্রামে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: আখতারুজ্জামান মানু ও মাতা মোছা: সাবিহা বেগমের চার ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। অসচ্ছল পরিবারে তেমন পড়ালেখা করেননি। কর্মজীবনেও ভাল কিছু করতেন না। বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল কিনে বিক্রি করতেন। কাটাখালী আদর্শ কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। চারিত্রিক মাধুর্যে নিজেকে সাজাতে ২০১১ সালে সাথী শপথ নেন শাহাদাত। ইসলামের বিধান পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার নমুনা হিসেবে বিয়ে করেন তিনি। সাইমুম নামে ৪ বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে তার।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
গত ৩ মে, ২০১৩ ইং বাসা থেকে সাংগঠনিক কাজে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ৪ মে ২০১৩, ঢাকায় ১৮ দলের মহাসমাবেশে যোগদান করতে। ৪ মে দুপুর থেকে বিকালের সময়ে ঢাকা মিরপুর-২, মধ্যমনিপুর, ৭০৭ নম্বর বাসা থেকে র্যাব-২ এর হাতে আটক হন। এরপর ১২ মে, ২০১৩ তাকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে রাত ৩টার সময় রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রস ফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
সমস্ত মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন। তাকে এলাকায় সমস্ত মানুষ খুবই ভালবাসত। তার মনের মধ্যে সব সময় শাহাদাতের তামান্না ছিল। বলতেন, 'আমি তো শহীদ হয়ে যাব। সংগী সাথীদের বলতেন, 'হয়ত কোনদিন আমাকে দেখতে পাবে আমি শহীদ হয়ে পড়ে আছি এবং আমার লাশের ছবিসহ পোস্টার বের হবে। তখন তোমরা আমাকে সেই পোস্টারে দেখতে পাবে।'৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ: ২০১০ সালে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১ বছর জেলে ছিলেন। সেই সময় তাকে একবার ক্রস ফায়ারের চেষ্টা করা হয়েছিল। জেল থেকে বের হয়ে তিনি আবারও সংগঠনের সাথে সক্রিয় হন। বিরোধীদলীয় লোকেরা সবসময় তার পিছনে গোয়েন্দার মতই লেগে থাকত। তার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা দিয়েছিল, তাই দীর্ঘ ৫ বছর বাড়িতে থাকতে পারতেন না। পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হত খুব কম। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অনেক নিষেধ করতো। সে উত্তরে বলতেন "ভয় কিসের একদিন তো মরতে হবেই, না হয় আমি শহীদ হয়ে গেলাম। আল্লাহ মনে হয় আমাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেছেন। আর বলতেন তোমরা ভয় করবে না। আল্লাহ তো আছেন, আমার কিছু হলে আল্লাহ তোমাদের মদদ দেবেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় হবার পর থেকে তিনি খুব উতলা হয়ে যান। মাকে বলে গেছেন "মা এবার তো আর ঘরে বসে থাকা যায় না সাঈদী সাহেবকে ফাঁসি দিবে আর আমি ঘরে বসে থাকবো। আমি তো এখন বদলা নিব, আমাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না, আমি শহীদ হয়ে যাব।
পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে। ১৩ মে' ১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
র্যাবের দাবি: এনকাউন্টারে নিহত। পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
নিখোঁজের ৯ দিন পর রাজশাহীতে শিবিরকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
রাজশাহী: (বামে) নিহত শিবিরকর্মী শাহাদাতের লাশ ও (ডানে) শিশুপুত্রসহ পরিবারের আহাজারি-সংগ্রাম
হাসান ইলিয়াছ তানিম, রাবি: আটক হওয়ার ১ দিন পর গতকাল রোববার ভোর সোয়া ৫টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বেজার মাঠ এলাকার আমজাদের মোড় থেকে শিবিরকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিবিরকর্মীর নাম আব্দুল্লাহ উমর নাসিফ (শাহাদাত)।
নিহত শাহাদাত রাজশাহী নগরীর কাজলা এলাকার আকতারুজ্জামান মানুর পুত্র ও কাটাখালী আদর্শ কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। তিনি ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী ও ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। রোববার সকালে মতিহার থানা পুলিশ শাহাদতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শাহাদাতের লাশ উদ্ধারের খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, নির্মম নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এ সরকারের আদালতে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় কোন মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন তার পিতা। তার প্রত্যাশা, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহ করবেন।
র্যাবের দাবি
রাজশাহী র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরের বেতার মাঠ এলাকায় র্যাবের এনকাউন্টারে শাহাদাত হোসেন নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে। রোববার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে র্যাব একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৬টি ককটেল এবং ৩ বোতল পেট্রোল উদ্ধার করেছে। রাজশাহী র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান সাংবাদিকদের জানান, আজ (রোববার) হরতালে নাশকতার জন্য শিবিরকর্মীরা বিনোদপুর বেতার কলোনি মাঠে গোপন বৈঠক করছিলো। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় শিবিরকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। জবাবে র্যাবও পাল্টা গুলি চালালে পিছু হটে শিবিরকর্মীরা। পরে ঘটনাস্থলে শিবিরকর্মী শাহাদত হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। র্যাব-৫ এর অধিনায়ক আরো জানান, নিহত শাহাদত হোসেন রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি মহানগরীতে নাশকতার সৃষ্টির জন্য শিবিরকর্মীদের ককটেল সরবরাহ করতেন।
পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্য
পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ৪ মে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা যায় শাহাদাত। সমাবেশ শেষে সে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকার মিরপুরে তার বন্ধুর বাসায় যায়। বন্ধুর বাসা থেকে কোন অভিযোগ ছাড়াই ৪ মে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ ঘটনার পর শাহাদাতকে র্যাব সদস্যরা আদালতে হাজির না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাবের সংশ্লিষ্ট দফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিন্তু কোথাও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। শাহাদাতের চাচাতো ভাই মোয়াজ্জেম জানান, 'র্যাব সদস্যরা তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসছে এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল (শনিবার) আমরা র্যাব-৫ এর সদর দফতরে যোগাযোগ করি। তবে সেখান থেকে আমাদের জানানো হয় শাহাদাত নামের কাউকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়নি।' শাহাদাতের পিতা ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি আকতারুজ্জামান মানু জানান, 'লোক মারফত খবর পেয়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিনোদপুরের রেডিও সেন্টারের এক কোণে গিয়ে দেখি রক্ত মাখা কাপড়ে আমার ছেলেটা গড়ে আছে। আমি গিয়ে জড়িয়ে ধরতেই আমাকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা সরিয়ে দেয় এবং তারা লাশ তুলে নিয়ে চলে যায়। তার পিতার দাবি সেখানে লাশ পড়ে ছিল সেখানে কোন অতিরিক্ত রক্ত নাই, তাই সেখানে তাকে গুলি করা হয়নি। অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে এনে রাখা হয়েছিল। লাশ রেখে পুলিশই পাহারা দিচ্ছিল আমার উপস্থিতির পরেই তাকে আবার পুলিশ নিয়ে চলে গেছে।' এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোর ৪টার দিকে র্যাব সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর র্যাবের পক্ষ থেকে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারকে ফোন করে বলা হয় নিহতের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য। খবর শুনে কমিশনার আনসার আলী সেখানে উপস্থিত হলে র্যাবই আবার তাকে স্থান ত্যাগ করতে বলে। এ সময় কমিশনার লাশ না নিয়েই চলে আসেন।
এলাকায় শোকের ছায়া
শাহাদাতের মৃত্যুর সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার আত্মীয় স্বজনেরা জমায়েত হতে থাকেন তার বাড়িতে। তবে বেলা ১টা পর্যন্ত বাড়িতে লাশ দাফনের বিষয় নিয়েও অনিশ্চয়তার মাঝে ছিল পরিবার ও স্বজনরা। বার বার মেডিকেল কলেজ ও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেও লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছিল না কেউ। তবে তার পিতা বলেন, পুলিশ-র্যাব মিলে নাকি লাশ দাফন করবে এমন তথ্য তাকে দেয়া হয়। তার পিতার দাবি, 'আমি আমার আত্মীয় স্বজন নিয়ে লাশ দাফন করবো এতটুকু প্রত্যাশা আমি এই সরকারের কাছে করছি।' অন্যদিকে, শোকাহত পরিবারের সদস্যরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না নিহত হয়েছে শাহাদাত। বিশেষ করে শাহাদাতের ৪ বছরের সন্তান আরেফিন আরাফাত সাইমুম অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সকলের দিকে। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক-হতবিহবল হয়ে গেছেন শাহাদাতের স্ত্রী। একই সাথে কথা আর কান্নার মাঝে ভেঙে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা। আর বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত তথ্যেও অনেকটা হতভম্ব হয়েছে স্বজনরা। বন্দুকযুদ্ধ প্রসঙ্গে স্বজনদের বক্তব্য বন্দুকযুদ্ধ থেকে পুলিশ আর কাউকে গ্রেফতার বা আহত করতে পারেনি। ভোর সাড়ে তিনটার সময় পেট্রোল ও ককটেল নিয়ে সাজানো নাটকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। সকালে পড়ে খাকা মরদেহ দেখে এলাকাবাসীর মন্তব্য 'শাহাদাতের শরীরে গুলি, রক্তের দাগ, অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন বলে দেয় হত্যাকাণ্ড অনেক আগেই ঘটানো হয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থলে (মাটিতে) রক্তের তেমন দাগও নেই। হত্যাকান্ডের পর এখানে এনে এনকাউন্টারটি সাজানো হয়েছে'।
১৪ মে'১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
৪ মে ঢাকা থেকে আটক করে রাজশাহীতে নিয়ে হত্যার তীব্র নিন্দা শিবির নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা
করা হয়েছে-শিবির সেক্রেটারি জেনারেল।
ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথী শিবির নেতা নাসিফ শাহাদাতকে র্যাব কর্তৃক এনকাউন্টারের নামে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক প্রতিবাদ বার্তায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জববার বলেন, গত ৪ মে ১৮ দলের সমাবেশে আসার পথে ঢাকা মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাকে র্যাব-৫ এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারিবারিকভাবে তার সন্ধান নিতে গেলে র্যাব-২, র্যাব-৫, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা কার্যালয়ে খোঁজ করা হলে তারা এ ঘটনা অস্বীকার করে। এরপর নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। তার লাশে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে র্যাব প্রচার করেছে তার সাথে নাকি পিস্তল, গুলি ও ককটেল পাওয়া গেছে। সুতরাং এটা যে পরিকল্পিত বর্বর হত্যাকাণ্ড তাতে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার গণহত্যা, হামলা, মামলা, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাতেও ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন র্যাব দিয়ে শিবির নেতা-কর্মীদের কম, হত্যা শুরু করেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের ভাই বলেন, 'আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি এবং দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার ভাইকে শহীদী মর্যাদা দেন এবং তাকে জান্নাতবাসী করুক। আমরা আপনজনরা গর্বিত এ জন্য যে আল্লাহ আমাদের পরিবারকে শহীদ পরিবার করেছেন। আমার ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত (১০০)। পেশা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১.১২.১৯৮৪, বয়স ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১২.০৫.২০১৩ইং রাত ৩টা ৩০ মি:
শাহাদাতের তারিখ: ১২.০৫.১৩ইং, স্থান: রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রসফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। দাফন করা হয়। কাজল্য সাকোপাড়া গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-কাজলা, ডাকঘর- কাজলা, থানা-মতিহার, জেলা-রাজশাহী।
পিতা: মো: আখতারুজ্জামান মানু, অবসর প্রাপ্ত।
মাতা: মোছাঃ সাবিহা বেগম, বয়স প্রায় ৫৬ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: সংসারের অবস্থা ভাল না। আয়ের কোন উৎস নাই। একজন মাত্র ভাই আছে, সে পেশায় একজন নবীন এ্যাডভোকেট। সংসারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। ছোট ভাইয়ের উপর সংসারের সমস্ত ভার এখন। ভাই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। বর্তমানে বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক টাকা ঋণ আছে। শহীদ শাহাদাত সংসারের ৭০% খরচ যোগান দিতেন।
* স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী। রিনা খাতুন রেসমী। ছেলে। আরেফিন আহমেদ সাইমুম এবং বয়স তার ৪ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ। ভাই: হাসানুল বান্না, নবীন এ্যাডভোকেট। বোন। মোছা মুনিরা খাতুন, বি.এ অনার্স। বোন: মোছা রুহ আফজাহ (সাথী), গৃহিণী।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা গ্রামে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: আখতারুজ্জামান মানু ও মাতা মোছা: সাবিহা বেগমের চার ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। অসচ্ছল পরিবারে তেমন পড়ালেখা করেননি। কর্মজীবনেও ভাল কিছু করতেন না। বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল কিনে বিক্রি করতেন। কাটাখালী আদর্শ কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। চারিত্রিক মাধুর্যে নিজেকে সাজাতে ২০১১ সালে সাথী শপথ নেন শাহাদাত। ইসলামের বিধান পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার নমুনা হিসেবে বিয়ে করেন তিনি। সাইমুম নামে ৪ বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে তার।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
গত ৩ মে, ২০১৩ ইং বাসা থেকে সাংগঠনিক কাজে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ৪ মে ২০১৩, ঢাকায় ১৮ দলের মহাসমাবেশে যোগদান করতে। ৪ মে দুপুর থেকে বিকালের সময়ে ঢাকা মিরপুর-২, মধ্যমনিপুর, ৭০৭ নম্বর বাসা থেকে র্যাব-২ এর হাতে আটক হন। এরপর ১২ মে, ২০১৩ তাকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে রাত ৩টার সময় রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রস ফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
সমস্ত মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন। তাকে এলাকায় সমস্ত মানুষ খুবই ভালবাসত। তার মনের মধ্যে সব সময় শাহাদাতের তামান্না ছিল। বলতেন, 'আমি তো শহীদ হয়ে যাব। সংগী সাথীদের বলতেন, 'হয়ত কোনদিন আমাকে দেখতে পাবে আমি শহীদ হয়ে পড়ে আছি এবং আমার লাশের ছবিসহ পোস্টার বের হবে। তখন তোমরা আমাকে সেই পোস্টারে দেখতে পাবে।'৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ: ২০১০ সালে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১ বছর জেলে ছিলেন। সেই সময় তাকে একবার ক্রস ফায়ারের চেষ্টা করা হয়েছিল। জেল থেকে বের হয়ে তিনি আবারও সংগঠনের সাথে সক্রিয় হন। বিরোধীদলীয় লোকেরা সবসময় তার পিছনে গোয়েন্দার মতই লেগে থাকত। তার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা দিয়েছিল, তাই দীর্ঘ ৫ বছর বাড়িতে থাকতে পারতেন না। পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হত খুব কম। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অনেক নিষেধ করতো। সে উত্তরে বলতেন "ভয় কিসের একদিন তো মরতে হবেই, না হয় আমি শহীদ হয়ে গেলাম। আল্লাহ মনে হয় আমাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেছেন। আর বলতেন তোমরা ভয় করবে না। আল্লাহ তো আছেন, আমার কিছু হলে আল্লাহ তোমাদের মদদ দেবেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় হবার পর থেকে তিনি খুব উতলা হয়ে যান। মাকে বলে গেছেন "মা এবার তো আর ঘরে বসে থাকা যায় না সাঈদী সাহেবকে ফাঁসি দিবে আর আমি ঘরে বসে থাকবো। আমি তো এখন বদলা নিব, আমাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না, আমি শহীদ হয়ে যাব।
পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে। ১৩ মে' ১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
র্যাবের দাবি: এনকাউন্টারে নিহত। পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
নিখোঁজের ৯ দিন পর রাজশাহীতে শিবিরকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
রাজশাহী: (বামে) নিহত শিবিরকর্মী শাহাদাতের লাশ ও (ডানে) শিশুপুত্রসহ পরিবারের আহাজারি-সংগ্রাম
হাসান ইলিয়াছ তানিম, রাবি: আটক হওয়ার ১ দিন পর গতকাল রোববার ভোর সোয়া ৫টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বেজার মাঠ এলাকার আমজাদের মোড় থেকে শিবিরকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিবিরকর্মীর নাম আব্দুল্লাহ উমর নাসিফ (শাহাদাত)।
নিহত শাহাদাত রাজশাহী নগরীর কাজলা এলাকার আকতারুজ্জামান মানুর পুত্র ও কাটাখালী আদর্শ কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। তিনি ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী ও ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। রোববার সকালে মতিহার থানা পুলিশ শাহাদতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শাহাদাতের লাশ উদ্ধারের খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, নির্মম নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এ সরকারের আদালতে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় কোন মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন তার পিতা। তার প্রত্যাশা, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহ করবেন।
র্যাবের দাবি
রাজশাহী র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরের বেতার মাঠ এলাকায় র্যাবের এনকাউন্টারে শাহাদাত হোসেন নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে। রোববার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে র্যাব একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৬টি ককটেল এবং ৩ বোতল পেট্রোল উদ্ধার করেছে। রাজশাহী র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান সাংবাদিকদের জানান, আজ (রোববার) হরতালে নাশকতার জন্য শিবিরকর্মীরা বিনোদপুর বেতার কলোনি মাঠে গোপন বৈঠক করছিলো। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় শিবিরকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। জবাবে র্যাবও পাল্টা গুলি চালালে পিছু হটে শিবিরকর্মীরা। পরে ঘটনাস্থলে শিবিরকর্মী শাহাদত হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। র্যাব-৫ এর অধিনায়ক আরো জানান, নিহত শাহাদত হোসেন রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি মহানগরীতে নাশকতার সৃষ্টির জন্য শিবিরকর্মীদের ককটেল সরবরাহ করতেন।
পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্য
পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ৪ মে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা যায় শাহাদাত। সমাবেশ শেষে সে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকার মিরপুরে তার বন্ধুর বাসায় যায়। বন্ধুর বাসা থেকে কোন অভিযোগ ছাড়াই ৪ মে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ ঘটনার পর শাহাদাতকে র্যাব সদস্যরা আদালতে হাজির না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাবের সংশ্লিষ্ট দফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিন্তু কোথাও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। শাহাদাতের চাচাতো ভাই মোয়াজ্জেম জানান, 'র্যাব সদস্যরা তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসছে এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল (শনিবার) আমরা র্যাব-৫ এর সদর দফতরে যোগাযোগ করি। তবে সেখান থেকে আমাদের জানানো হয় শাহাদাত নামের কাউকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়নি।' শাহাদাতের পিতা ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি আকতারুজ্জামান মানু জানান, 'লোক মারফত খবর পেয়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিনোদপুরের রেডিও সেন্টারের এক কোণে গিয়ে দেখি রক্ত মাখা কাপড়ে আমার ছেলেটা গড়ে আছে। আমি গিয়ে জড়িয়ে ধরতেই আমাকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা সরিয়ে দেয় এবং তারা লাশ তুলে নিয়ে চলে যায়। তার পিতার দাবি সেখানে লাশ পড়ে ছিল সেখানে কোন অতিরিক্ত রক্ত নাই, তাই সেখানে তাকে গুলি করা হয়নি। অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে এনে রাখা হয়েছিল। লাশ রেখে পুলিশই পাহারা দিচ্ছিল আমার উপস্থিতির পরেই তাকে আবার পুলিশ নিয়ে চলে গেছে।' এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোর ৪টার দিকে র্যাব সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর র্যাবের পক্ষ থেকে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারকে ফোন করে বলা হয় নিহতের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য। খবর শুনে কমিশনার আনসার আলী সেখানে উপস্থিত হলে র্যাবই আবার তাকে স্থান ত্যাগ করতে বলে। এ সময় কমিশনার লাশ না নিয়েই চলে আসেন।
এলাকায় শোকের ছায়া
শাহাদাতের মৃত্যুর সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার আত্মীয় স্বজনেরা জমায়েত হতে থাকেন তার বাড়িতে। তবে বেলা ১টা পর্যন্ত বাড়িতে লাশ দাফনের বিষয় নিয়েও অনিশ্চয়তার মাঝে ছিল পরিবার ও স্বজনরা। বার বার মেডিকেল কলেজ ও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেও লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছিল না কেউ। তবে তার পিতা বলেন, পুলিশ-র্যাব মিলে নাকি লাশ দাফন করবে এমন তথ্য তাকে দেয়া হয়। তার পিতার দাবি, 'আমি আমার আত্মীয় স্বজন নিয়ে লাশ দাফন করবো এতটুকু প্রত্যাশা আমি এই সরকারের কাছে করছি।' অন্যদিকে, শোকাহত পরিবারের সদস্যরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না নিহত হয়েছে শাহাদাত। বিশেষ করে শাহাদাতের ৪ বছরের সন্তান আরেফিন আরাফাত সাইমুম অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সকলের দিকে। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক-হতবিহবল হয়ে গেছেন শাহাদাতের স্ত্রী। একই সাথে কথা আর কান্নার মাঝে ভেঙে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা। আর বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত তথ্যেও অনেকটা হতভম্ব হয়েছে স্বজনরা। বন্দুকযুদ্ধ প্রসঙ্গে স্বজনদের বক্তব্য বন্দুকযুদ্ধ থেকে পুলিশ আর কাউকে গ্রেফতার বা আহত করতে পারেনি। ভোর সাড়ে তিনটার সময় পেট্রোল ও ককটেল নিয়ে সাজানো নাটকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। সকালে পড়ে খাকা মরদেহ দেখে এলাকাবাসীর মন্তব্য 'শাহাদাতের শরীরে গুলি, রক্তের দাগ, অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন বলে দেয় হত্যাকাণ্ড অনেক আগেই ঘটানো হয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থলে (মাটিতে) রক্তের তেমন দাগও নেই। হত্যাকান্ডের পর এখানে এনে এনকাউন্টারটি সাজানো হয়েছে'।
১৪ মে'১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
৪ মে ঢাকা থেকে আটক করে রাজশাহীতে নিয়ে হত্যার তীব্র নিন্দা শিবির নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা
করা হয়েছে-শিবির সেক্রেটারি জেনারেল।
ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথী শিবির নেতা নাসিফ শাহাদাতকে র্যাব কর্তৃক এনকাউন্টারের নামে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক প্রতিবাদ বার্তায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জববার বলেন, গত ৪ মে ১৮ দলের সমাবেশে আসার পথে ঢাকা মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাকে র্যাব-৫ এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারিবারিকভাবে তার সন্ধান নিতে গেলে র্যাব-২, র্যাব-৫, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা কার্যালয়ে খোঁজ করা হলে তারা এ ঘটনা অস্বীকার করে। এরপর নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। তার লাশে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে র্যাব প্রচার করেছে তার সাথে নাকি পিস্তল, গুলি ও ককটেল পাওয়া গেছে। সুতরাং এটা যে পরিকল্পিত বর্বর হত্যাকাণ্ড তাতে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার গণহত্যা, হামলা, মামলা, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাতেও ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন র্যাব দিয়ে শিবির নেতা-কর্মীদের কম, হত্যা শুরু করেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের ভাই বলেন, 'আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি এবং দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার ভাইকে শহীদী মর্যাদা দেন এবং তাকে জান্নাতবাসী করুক। আমরা আপনজনরা গর্বিত এ জন্য যে আল্লাহ আমাদের পরিবারকে শহীদ পরিবার করেছেন। আমার ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত (১০০)। পেশা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১.১২.১৯৮৪, বয়স ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১২.০৫.২০১৩ইং রাত ৩টা ৩০ মি:
শাহাদাতের তারিখ: ১২.০৫.১৩ইং, স্থান: রাজশাহী বেতারের মাঠ আমজাদের মোড় ধরমপুরে ক্রসফায়ার নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। দাফন করা হয়। কাজল্য সাকোপাড়া গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-কাজলা, ডাকঘর- কাজলা, থানা-মতিহার, জেলা-রাজশাহী।
পিতা: মো: আখতারুজ্জামান মানু, অবসর প্রাপ্ত।
মাতা: মোছাঃ সাবিহা বেগম, বয়স প্রায় ৫৬ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: সংসারের অবস্থা ভাল না। আয়ের কোন উৎস নাই। একজন মাত্র ভাই আছে, সে পেশায় একজন নবীন এ্যাডভোকেট। সংসারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। ছোট ভাইয়ের উপর সংসারের সমস্ত ভার এখন। ভাই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। বর্তমানে বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক টাকা ঋণ আছে। শহীদ শাহাদাত সংসারের ৭০% খরচ যোগান দিতেন।
* স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী। রিনা খাতুন রেসমী। ছেলে। আরেফিন আহমেদ সাইমুম এবং বয়স তার ৪ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ। ভাই: হাসানুল বান্না, নবীন এ্যাডভোকেট। বোন। মোছা মুনিরা খাতুন, বি.এ অনার্স। বোন: মোছা রুহ আফজাহ (সাথী), গৃহিণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍