হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ হাফিজুর রহমান
শহীদ হাফিজুর রহমান

শহীদ হাফিজুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ হাফিজুর রহমান
পিতা: মোঃ হোসেন আলী
মাতা: হালিমা বেগম
জন্ম তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৯৬
ভাই বোন: তিন ভাই ও ১ বোন
স্থায়ী ঠিকানা: ছোটবন গ্রাম, সপুরা বোয়ালিয়া, রাজশাহী
সাংগঠনিক মান: সদস্য প্রার্থী
সর্বশেষ পড়ালেখা: অনার্স ২য় বর্ষ, লোক প্রশাসন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শাহাদাতের স্থান: Rmc কনডেম সেল।
শাহাদাতের তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৬
ডঃ রেজাউল করিম হত্যা মামলায় জেলে থাকাকালীন অসুস্থ অবস্থায়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

কারাগারের লৌহকপাটে বন্দিত্ব আর রিমান্ডের নির্মমতার হাত থেকে অবশেষে চিরতরে মুক্তি পেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরী শাখার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান। মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া আর অত্যধিক ওজন স্বল্পতা সত্ত্বেও বর্তমান সময়ের নিষ্ঠুরতা তাকে আটকে রেখেছিলো কারান্তরালে। কিন্তু প্রিজন সেলের খাঁচা ভেঙে হাফিজুর রহমানের প্রাণপাখি উড়ে গেছে চিরতরে মহান প্রভুর দরবারে। শাহাদাতকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ২১ বছর। তিনি ১৯৯৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ছোটবন গ্রাম, সপুরা বোয়ালিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মোহাম্মদ হোসেন আলী ও মাতা হালিমা বেগম।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
জটিল থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমানকে রাবি শিক্ষক হত্যার ঘটনায় ২৮ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাই করতে পারতো না এবং প্রতি তিন মাস পর পর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। এ বিষয়টি পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে ধরে তার মুক্তি দাবী করা হলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি। উল্টো রাবি শিক্ষক হত্যার মত স্পর্শকাতর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারাগারেও তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। অবশেষে কারান্তরীন থাকা অবস্থায় ১৯ মে ২০১৬ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
২৩ এপ্রিল সকালে নগরীর শালবাগানে রাবি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই মামলায় সন্দেহবশত গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে গ্রেফতার করা হয় ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফিজুর রহমানকে। তার বাসা ছিলো হত্যাকাণ্ডের স্থান শালবাগানের পার্শ্ববর্তী ছোটবনগ্রামে। ঐদিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। এসময় তার গুরুতর অসুস্থতা সম্পর্কিত মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপন করা হলেও রিমাণ্ড ঠেকানো যায়নি। পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোকসেদা আজগর হাফিজুরকে চার দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তাকে চারদিন ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সূত্র জানায়, আটকের সময় ওজন দাঁড়িয়েছিলো মাত্র ৩৯ কেজি। প্রতি সপ্তাহে তাঁর শরীরে রক্ত জোগান দিতে হতো। ১৭ মে মঙ্গলবার রাবি শিক্ষক রেজাউল হত্যার সঙ্গে জেএমবি জড়িত থাকার স্বীকারোক্তির বিষয় সাংবাদিকদের জানায় পুলিশ। কিন্তু সে পর্যন্ত অসুস্থ হাফিজুর ছিলেন কারাগারের বাসিন্দা।
শহীদ হাফিজুর রহমান স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাই করতে পারতো না এবং প্রতি তিন মাস পর পর আর রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। এ বিষয়টি পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে ধরে তার মুক্তি দাবী করা হলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি। উল্টো রাবি শিক্ষক হত্যার মত স্পর্শকাতর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারাগারেও তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। অবশেষে কারান্তরীন থাকা অবস্থায় ১৯.৫.১৬ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শাহাদাত বরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আপনজনদের কথা
হাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাবিবুর রহমান জানান, হাফিজুর রহমান খ্যালাসেমিয়ার রোগী ছিলেন। ডা. মাইনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্রতি তিন মাস পর পর তাঁকে রক্ত দিতে হতো। চার দিন আগে তাঁকে রক্ত
দেওয়ার কথা ছিল। হাবিবুর আরো বলেন, জেল কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে বিষয়টি জানিয়ে হাফিজুর রহমানকে ডা. মাইসুল ইসলামকে দেখিয়ে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি।
পরিবারের অভিযোগ
এদিকে হাফিজুর রহমানের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, শুধুমাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই বিনা অপরাধে হাফিজুর রহমানকে পুলিশ আটক করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেন, বাঁচার তাগিদে মিথ্যা করে হলেও হত্যার দায় স্বীকার করলে হয়তো তাকে এ মুহূর্তে মেরে ফেলা হতো না।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
দৈনিক নয়াদিগন্ত "রাবি শিক্ষক হত্যা মামলা। গ্রেফতার শিবির নেতা হাফিজুরের কারা হেফাজতে মৃত্যু। পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবার ও শিবিরের" শিরোনামে ২০ মে ২০১৬, শুক্রবার নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমান কারা হেফাজতে মারা গেছেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার শফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, হাফিজুরের পরিবার ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতন ও চিকিৎসায় অবহেলা করে পরিকল্পিতভাবে হাফিজুরকে হত্যা করা হয়। হাফিজুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। সিনিয়র জেলসুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিবির নেতা হাফিজুর রহমান আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ মে তাঁকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের প্রিজনসেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে হাফিজুরের লাশ রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিনিয়র জেলসুপার বলেন, তাঁর চিকিৎসায় যথাযথ ও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলার ঘটনা ঘটেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি রেজাউস সাদিক জানান, গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে আটক হাফিজুর রহমানকে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোকসেদা আজগর তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চার দিন ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল রাতে নগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে শিবির নেতা হাফিজুর রহমানকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তাঁর বাবার নাম হোসেন আলী মোল্লা।
গত মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন বলেন, জেএমবি সদস্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অপরজন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে অপেক্ষা করছিল। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে মাসুদ ওরফে আবদুলাহ (২৩) ছাড়াও আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাও জেএমবি সদস্য। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তারা সহায়তা ও আশ্রয়দানকারী।'
মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন আরো বলেন, আমরা মূল জায়গায় হাত নিয়েছি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া চারজনের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর তিনজনসহ এ হত্যায় পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত হয়েছে। সরাসরি অংশগ্রহণকারী মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আবদুল্লাহকে গত রোববার (১৫ মে) দিবাগত রাতে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন সোমবার (১৬ মে) তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
হাফিজুরের পরিবারের বক্তব্য।
শিবির নেতা হাফিজুরকে রিমাণ্ডে নিয়ে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবারের গক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। হাফিজুরের বাবা হোসেন মোল্লা এ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলেকে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশি নির্যাতন এবং কারাগারে চিকিৎসায় অবহেলা করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকার যেভাবে গুম-খুন করছে, সেভাবে আমার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আল্লাহ বিচারের ভার তোমাকে দিলাম, তুমি এর বিচার কর। হাফিজুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবে আর্তনাদ করে কথা বলতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন হোসেন মোল্লাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
এ সময় হাফিজুরের বড় ভাই হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার ছোট ভাই অসুস্থ থাকার পরেও তাকে শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের সাথে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। রিমান্ড শেষে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে নিয়ে বিনা চিকিৎসায় এভাবে হত্যা করা হলো। ছাত্রশিবিরের বক্তব্য।
জন্মগত জটিল রোগ খ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরী। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাইম মাহফুজ ও সেক্রেটারি আবদুল্লাহ জোবায়ের বলেন, গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় জটিল খ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রাবির মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমানকে অমানবিকভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। অথচ তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাই করতে পারতেন না এবং প্রতি তিন মাস পরপর তার দেহে রক্ত দিতে হয়। এ বিষয়টি পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে বরে তার জীবননাশের আশঙ্কা করে বারবার মুক্তি দাবি করা হলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি। বরং উল্টো রাবি শিক্ষক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এতে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, কারাগারেও তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। অবশেষে কারান্তরীণ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এভাবে অসুহ মেধাবী ছাত্রকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
শিবির নেতায় বক্তব্য।
ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক আবু বাক্কার সাংবাদিকদের বলেন, হাফিজুরের চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করার পরেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, হাফিজুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিয়ম অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়। পরে যখন অচেতন হয়ে পড়েন তখন তারা রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এক দিন পরেই গতকাল ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, রিমাণ্ডে পুলিশি নির্যাতনে ও চিকিৎসায় অবহেলায় হাফিজুরের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি এবং চিকিৎসায় অবহেলার কোনো খটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে রাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদি হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের আসামি
নামাজে জানাজা ও দাফন।
ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমানের নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ মে বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ চত্বরে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।জানাজা-পূর্ব এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মোঃ সেলিম, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাইনুল ইসলাম ও মহানগর শিবিরের সভাপতি নাঈম মাহফুজ। জানাজায় দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক হাড়াও এলাকার বিপুল মানুষ অংশ নেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে তার লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
জামায়াতের শোক।
জটিল রোগে আক্রান্ত ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা হাফিজুর রহমান বন্দী অবস্থায়
গতকাল ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ইন্তেকাল করায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলাম। দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা হাফিজুর রহমানকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্যায় ও অমানবিকভাবে গ্রেফতার করার পর জেলে চিকিৎসার অভাবে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।
ডা. শফিক আরো বলেন, গত ১৭ মে হাফিজুর কারাগারে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি এ মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনানুগ শাস্তি দেয়ার জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াতের এ নেতা বলেন, হাফিজুর রহমানের জীবনের সব নেক আমল কবুল করে আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি, আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
এক নজরে শহীদ হাফিজুর রহমান
পুরোনাম: শহীদ হাফিজুর রহমান
পিতা: মোঃ হোসেন আলী
মাতা: হালিমা বেগম
জন্ম তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৯৬
ভাই বোন: তিন ভাই ও ১ বোন
স্থায়ী ঠিকানা: ছোটবন গ্রাম, সপুরা বোয়ালিয়া, রাজশাহী
সাংগঠনিক মান: সদস্য প্রার্থী
সর্বশেষ পড়ালেখা: অনার্স ২য় বর্ষ, লোক প্রশাসন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শাহাদাতের স্থান: Rmc কনডেম সেল।
শাহাদাতের তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৬
ডঃ রেজাউল করিম হত্যা মামলায় জেলে থাকাকালীন অসুস্থ অবস্থায়।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍