হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীন
শহীদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীন

শহীদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ অধ্যাপক নূরুল ইসলাম শাহীন
পিতার নাম: আব্দুর রহমান মুন্সি
মাতার নাম: জাহান নেগার, বয়স ৪৫ বছর
পেশা: শিক্ষক- ইসলামিয়া কলেজ, মতিহার, রাজশাহী ও প্রেস ব্যবসায়ী
পূর্ণ ঠিকানা: ৯৯/ বিনোদপুর বাজার, মতিহার, রাজশাহী
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম.এ- ইসলামিক স্টাডিজ, রাবি
জন্ম তারিখ: ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ভাই-বোনের সংখ্যা: ভাই- ৩ জন, ১ বোন, শহীদের অবস্থান- ২য়
ভাই-বোনের পেশা: ২ ভাই শিক্ষক ও বোন বিবাহিত গৃহিনী
শহীদের শখ: গরীব-অসহায়দের খেদমত
ভবিষ্যৎ টার্গেট: আত্মনির্ভরশীল জীবন
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিহার থানা, রাজশাহী মহানগরী
সর্বশেষ দায়িত্ব: ওয়ার্ড সেক্রেটারি
সংগঠনে আসার ইতিহাস: পারিবারিকভাবে ও ছাত্রসংগঠনের অনুপ্রেরণায় আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়
আহত হওয়ার স্থান: ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ রাত ৯টায় ডিবি পুলিশ গুম করে অজানা স্থানে নিয়ে যায়।
শাহাদাতের স্থান: পুলিশ/র‍্যাব তার গলায় ও বুকে গুলি করে হত্যার পর রাজশাহী হাসপাতালে লাশ রাখে
হত্যাকারীর পরিচয়: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি ও র‍্যাব
শহীদের কবর: মতিহার থানার খোজাপুর কবরস্থান

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ রাত ৯টায় সাদা পোষাকধারী ৮/১০ জন ডিবি পুলিশ রাজশাহী শহরে স্বীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পয়া প্রেস থেকে নুরুল ইসলাম শাহীনকে ওম করে এবং নৃশংসভাবে বুকে ও গলায় গুলি করে হত্যার পর রাত ৩টা ৪৫ মি। রাজশাহী মেডিকেলে লাশ রেখে যায়... পরদিন ২৮ জানুয়ারী সকাল ৭টায় হাসপাতাল সূত্রে পরিবার জানতে পারে যে.. সে শাহাদাত বরণ করেছেন..
শহীদের পরিচিতি
শহীদ নূরুল ইসলাম শাহীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র মতিহার থানার বিনোদপুরে ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ জন্মগ্রহণ করেন। মানব দরদী, নম্র, ভদ্র ও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী শাহীন ৩ ভাই ১ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বাবা রাবি'র সাবেক ডেপুটি কন্ট্রোরাল। শহীদ শাহীন এম.এ ডিগ্রিধারী সাবেক ছাত্রনেতা। শিবিরের দুর্দিনের কান্ডারী ছিলেন। মামলা-হামলা আর জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার ও ইসলামী আন্দোলনের সার্বিক সহযোগিতায় শাহীন ও তার পরিবারের ভূমিকা বর্ণনাতীত। পেশায় রাবি'র পাশেই বিনোদপুর বাজার সংলগ্ন ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং পাশাপাশি গ্রেস ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজশাহী শহরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'পদ্মা প্রেস'টিও ছিলো ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম ছাপাখানা। সার্বিক বিবেচনায় নূরুল ইসলাম শাহীনকে আওয়ামী দুশমনেরা এবং প্রশাসনের অস্ত্রধারী পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে নিরবে-নিখরে দুনিয়া থেকে চিরজনমের মত শেষ করার মহাষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যা কখনো তার প্রিয় স্ত্রী, পরিবার কিংবা আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ভাবতেও পারেনি। মাতা-পিতা, ভাই-বোন, বিধবা স্ত্রী আর ইয়াতীম সন্তানেরা ছাড়াও রক্তাক্ত কফিন দেখে শত শত গরীব মানুষের আহাজারি, জানাযায় হাজারো মানুষের বেদনা-বিধুর কান্নাজড়িত আর্তনাদ প্রমাণ করে শহীদ শাহীন ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ আর পাড়া-প্রতিবেশী এবং অসহায়দের নিরব ত্রাণকর্তা। বিগত দিনে শহীদ শাহীন একাধিক মিথ্যা মামলায় বারবার কারাবরণ করেন। তাই বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনের তাগিদে এবং ব্যবসার স্বার্থে মাতা-পিতার অনুমতি সাপেক্ষে তিনি মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ড হেতেমখাঁ এলাকায় শশুড় বাড়ির পাশেই দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ রাত নয়টায় সাদা পোশাকধারী ৮/১০ জন ডিবি পুলিশ রাজশাহী শহরের মালোপাড়ায় অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পদ্মা প্রেস থেকে শহীদ নুরুল ইসলাম শাহীনকে নিয়ে যায়। পরে ২৮ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রাজশাহী নগরীর খড়খড়ি বাইপাসের আশরাফের মোড় এলাকায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বুকে এবং মাথায় গুলি করে হত্যা করে। শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তার কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, ছোটবেলা থেকে শহীদ নুরুল ইসলাম শাহীন ছিলেন ধার্মিক, চরিত্রবান, মেধাবী এবং পরোপকারী। এলাকার ছোট-বড় সবার সাথে ছিল গভীর সম্পর্ক। চরিত্র সম্পর্কে তাঁর বাবা-মা বলেন- ছোট বেলা থেকে শাহীন চরিত্রবান ছিল। আশেপাশের যে ছেলেগুলো খারাপ ছিল তাদের অভিভাবকরা এসে শাহীনের সংস্পর্শে চলার জন্য বলতো। তিনি কর্মজীবনে যা কিছু উপার্জন করতেন তার প্রায় সবই গ্রামের গরীব, দুঃখী, অসহায়দের সাহায্য করতেন। ঈদের সময় ঈদ সামগ্রী, শীতের সময় কম্বল এবং অসুখ হলো বিভিন্নভাবে অভাবীদের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন।
পারিবাবিরক সূত্র আরো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাহীনের নিজ বাসায় একাধিকবার পুলিশ তাল্লাশি চালিয়েছে। তাই ৫/৬ বছর থেকে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য শশুড়বাড়ির দিকে হেতেমখাঁ এলাকায় থাকতেন। সেখানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা হিসেবে পদ্মা প্রেসের দোকান দেন। তিনি কলেজ সময় ছাড়া বাকি সময়টা প্রেসে কাটাতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
২৮ জানুয়ারী, ২০১৫। প্রতিদিনের মত তিনি আসরের নামাজের পর কর্মক্ষেত্রে বের হয়ে যান। কিন্তু কেউ জানত না শহীদ শাহীন আর কখনো বাড়িতে হাসিমাখা বদনে ফিরে আসবে না। রাত ৯টায় সাদা পোশাকধারী ৮/১০ জন ডিবি পুলিশ রাজশাহী শহরের মালোপাড়ায় অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পদ্মা প্রেস থেকে শাহীনকে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়।
অফিসের কর্মচারীরা আটকের বিষয়টি পরিবারের কাছে জানালে তৎক্ষণাত পরিবারের সদস্যরা খানায় খোঁজ নিলে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরবর্তীকালে মহানগর ডিবি পুলিশ শাহীনের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার সময় তার ছোট ভাই ড. ফজলুল হক তুহিনের সাথে তাঁর কথা হয়। তুহিন তাঁর ভাইয়ের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর রাত ২টার দিকে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা খড়খড়ি বাইপাসের আশরাফের মোড় এলাকায় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে বুকে এবং মাথায় গুলি করে হত্যা করে। শুধু গুলি করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি।
আশরাফের মোড় এলাকার কয়েকজন জানান, মৃত্যুর পর এমনভাবে টানা হেচড়া করে মনে হয় যে তাদের সাথে শাহীনও যুদ্ধ করছিল? একজন নিরীহ তরতাজা প্রাণকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার করে বলা হচ্ছে কথিত 'বন্ধুক যুদ্ধে' নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ কাউকে সাক্ষী হতে নিষেধ করে সেখানকার সবাইকে শাসিয়ে আসে। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাত ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতলে মর্গে নেওয়া হয়।
যতদূর জানা যায় রাত ১১টা পর্যন্ত তাকে ডিবি অফিসেই বন্দী রাখে। তারপর তথাকথিত পুলিশ-র‍্যাব আশরাফের মোড়ে নিয়ে যায় এবং জঘন্য কায়দায় পরিকল্পিতভাবে তার বুকে ও গলায় গুলি করে হত্যা করে। এখানেই শেষ নয় মানবতার দুশমন প্রশাসনের সন্ত্রাসীরাই রাত ৩টা ৪৫ মি. শহীদ শাহীনের রক্তাক্ত লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে রেখে যায়। পরদিন ২৯ জানুয়ারী, সকাল ৭টায় হাসপাতাল সূত্রে পরিবার জানতে পারেন শাহীন শাহাদাতের সিঁড়ি বেয়ে দুনিয়ার মায়া-মমতার সকল বন্ধন ছিন্ন করে চলে গেছেন পরকালে। বিদ্যুৎ গতিতে শাহীনের শাহাদাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, উপরন্ত প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মিডিয়াকে জানাতে বাধ্য করে যে, শাহীন কথিত বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। কিন্তু শতভাগ সচেতন মহল বিশ্বাস করেন যে শাহীনকে ইসলামী আন্দোলনের কারণেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিকেল প্রায় ৫টায় খোজাপুর কবরস্থানে মহানগরী আমীর প্রফেসর ড. আবুল হাশেম, রাবি'র কয়েক ডজন সম্মানিত শিক্ষকসহ হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে শহীদের শশুড় মাওলানা মোস্তাক আহমদের ইমামতিতে তাকে দাফন করা হয়। আপনজনদের কথা
ছোটবেলা থেকে নম্র-ভদ্র, সৎ চরিত্রবান এবং পরোপকারী ছিলেন নুরুল ইসলাম শাহীন। কখনো কাউকে একটুর জন্যও কষ্ট দেননি। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবার প্রিয় শাহীন তাঁর ছোট শিশুসন্তান শামাউল ইসলাম রাহিনের 'আলু, আব্দু' শব্দ আর শুনতে পাবে না। কিংবা তার ডাকে সাড়াও দিবে না। আসবে না ফিরে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণকারী বাবা-মা আর প্রিয়জনের কাছে। সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রহমান মুন্সী কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেছিলেন।
সবার কাছে প্রশ্ন রেখে বুকভরা কষ্টে শাহীনের বৃদ্ধ মা বলতে থাকেন, 'আমার সন্তানের কি দোষ ছিল যে, এভাবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো? যদি কোন অপরাধ করেই থাকত, তাহলে আইনের মাধ্যমে বিচার করতো। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, "আল্লাহ যেন আমার সন্তানের শাহাদাতকে কবুল করেন। আর যারা আমার সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, পরকালে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। জানি এই দুনিয়াতে আমার সন্তানের কোন সঠিক বিচার পাব না।"
শহীদ শাহীনের সহবর্মীণী মাসুমা রাব্বী বলেন, 'কেন একটা তরতাজা প্রাণকে গুলি করে হত্যা করে টানা-হেচড়া করা হলো? এ হত্যার বিচার কার কাছে চাইব? তাঁকে (স্বামী) তো মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিকল্পনা করে মারা হয়েছে। আমার স্বামীকে যারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার এ দুনিয়াতেই দেখতে চাই'। নিহত শাহীনের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান সাবাহুল ইসলাম জাহিন এবং ছোট ছেলে শিশু শামাউল ইসলাম রাহিন। শিশু রাহিন শুধু 'আব্বু আর আম্মু বলতে পারতো তখন। শিতার মৃত্যুর পর প্রায়ই রাতে 'আব্বু আব্বু' বলে কান্না করতো।
পারিবারিক অবস্থান
ধর্মীয় ও শিক্ষা অনুরাগী শাহীনের পিতা আব্দুর রহমান মুন্সী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিপুটি কন্ট্রোলার ছিলেন। চার সন্তান-সন্ততির সবাই উচ্চশিক্ষিত
শহীদ নূরুল ইসলাম শাহীন বাড়ির পাশেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রাজশাহী নগরীর কোর্টছ দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল (১৯৮৮), আলিম (১৯৯০) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে এম এ (১৯৯৪) পাস করেন। ২০০১ সালে বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজের ইসলামিক ইস্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পদ্মা প্রেসের মালিক ছিলেন শহীদ নূরুল ইসলাম শাহীন।
শহীদ নুরুল ইসলাম শাহীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সদস্য এবং রাজশাহী মহানগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের জামায়াতের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পিতার চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। বড় তাই বেলেপুকুর আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক এবং ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক।
শহীদের জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা
শাহাদাতের দিন পর্যন্ত সংগঠনের কাছে তার ব্যবসায়িক প্রেসে ছাপাখানা বাবদ লাখ লাখ ঋণের টাকা বাকি থাকলেও সংগঠনের দুর্দিনের কারণে তা পরিশোধ করার জন্যে কখনো অসৌজন্য আচরণ কিংবা ছাত্র/মুরব্বি সংগঠনের কাউকে চাপ দেননি। তিনি আন্দোলনে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি ছেড়ে হেতেমখা এলাকায় ভাড়া বাসায় শাহাদাতের কয়েক মাস পূর্ব পর্যন্ত থাকতেন এবং মানোন্নয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দু'ঈদসহ বিভিন্ন সময় এলাকায় গরীব-অসহায় মানুষদের খাবার বিলাতেন। সত্যিই তিনি ছিলেন সংগঠনের এক অমায়িক, মানব দরদী ও নির্ভেজাল অনন্য কর্মি। শহীদের প্রিয় উক্তি
আমাদের প্রিয় নেতা আমীরে জামায়াত ও আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে যদি জালেম সরকার মিখ্যা মামলায় ফাঁসি দিয়েই দেয়, তবে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কি হবে।
শহীদের মা-বাবার প্রতিক্রিয়া
শহীদ শাহীন অতীব মানব দরদী, নদ্র, অস্ত্র ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। দোয়া করি যেন রহমানুর রহীম আল্লাহ আমার সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতবাসী করেন। তার জন্য আমরা আজ গর্বিত যে আল্লাহ আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে কবুল করেছেন। শাহীনকে ইসলামী আন্দোলনের কারণেই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী প্রশাসন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে হত্যা করেছে।
বিধবা স্ত্রীর মতামত
আমার স্বামী নূরুল ইসলাম শাহীন একজন মানব দরদী ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। আর আমার ইয়াতিম সন্তানদের হেফাজত করেন।
দায়িত্বশীলদের মতামত
শহীদ নূরুল ইসলাম শাহীন মানব দরদী ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, আমরা বিশ্বাস করি শাহীনকে ইসলামী আন্দোলনের কারণেই আওয়ামী পুলিশ প্রশাসন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা সবাই দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। আমরা এই নির্মম
হত্যাকাণ্ডের সুবিচার দুনিয়াতে পাবো না। তবে আখেরাতে পাবো ইদৃশা-আল্লাহ।
সহকর্মীদের মতামত শহীদ নূরুল ইসলাম শাহীন অনেক মানবিকগুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও গরীবের বন্ধু
ছিলেন। তাঁর আমানতদারীতা ছিলো খুবই প্রশংসনীয়। আল্লাহ যেন তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন।
জানাযা-নাফনে অন্য এক দৃশ্য
বুধবার বাদ আসর শহীদ নুরুল ইসলাম শাহীনের নামাযে জানাযা নগরীর খোজাপুর গোরস্থান মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং একই গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন, মরহুমের শ্বশুড় মাওলানা মোস্তাক আলী। জানাযারপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন- রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমীর প্রফেসর আবুল হাশিম, রাবি শিক্ষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ প্রমুখ। তাঁরা নুরুল ইসলামকে 'শহীদ' উল্লেখ করে বলেন, ইনশাআল্লাহ তাঁর রক্ত বৃথা যাবে না। পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-ছাত্রসহ অসংখ্য মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনেককেই ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৮ জানুয়ারি ২০১৫, বিবিসি বাংলায় 'রাজশাহীতে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' একজন নিহত' শিরোনামে
নিম্মোক্ত খবর প্রকাশিত হয়-
বাংলাদেশের রাজশাহীতে গতরাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধের সময় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গুলিতে নিহত নুরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং স্থানীয় একটি কলেজেরও শিক্ষক বলে জানা যাচ্ছে। গতরাতে ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বিনোদপুর এলাকার।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তাকে গত রাত ন'টার দিকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া দুটোর দিকে অস্ত্র উদ্ধার ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করার জন্য তাকে নিয়ে বিনোদপুর এলাকায় নলখোলা পৌঁছালে সহযোগীরা তাদের উপর হামলা চালায়। তখন গুলিতে মারা যান নুরুল ইসলাম।
জিনি রাজশাহী সদরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ বলছে।
মিঃ শামসুদ্দিন বলছেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে
কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে তার পরিবারের লোকেরা দাবি করছেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে মামলা করার কথাও বলেছেন।
নিহতের ভাই ফজলুল হক বিবিসি বাংলাকে জানান, মঙ্গলবার রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একদল সাদা পোশাকধারী নূরুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যায়। কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি নিহত নূরুল ইসলাম প্রিন্টিং
গ্রেসের ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ফজলুল হক বলেন, নূরুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যাবার খবর পেয়ে গতরাতেই তিনি ডিবি অফিসে যান, এবং তাকে আটকাবস্থায় দেখতেও পান।
ডিবি অফিস থেকে তাকে জানানো হয় যে পরদিন অর্থাৎ বুধবার সকালে তাকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু সকালে তারা জানতে পারেন যে নূরুল ইসলামের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে, বলছিলেন ফজলুল হক। মি. হক আরো জানান যে নূরুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং পরে জামায়াতে ইসলামী করলেও বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
দৈনিক সংগ্রাম ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ 'রাজশাহীতে জামায়াত কর্মী গুলিতে নিহত। রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক, সকালে মর্গে লাশ' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক ও জামায়াত কর্মী নূরুল ইসলাম শাহীন (৪৫) গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর মালোপাড়ার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অফসেট প্রেস থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে আটক করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে পরিবারের কাছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে থেকে শাহীনের নিহত হওয়ার খবর আসে। শাহীনের নিহত হবার বিষয়ে পুলিশের দাবি, তিনি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবার বলছে তাকে 'পরিকল্পিতভাবে হত্যা' করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে বলা হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পদ্মা অফসেট প্রেসে কাজ করার সময় ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের কিছুক্ষণ পূর্বে পরিবারের সাথে কথা হয় শাহীনের। আটকের বিষয়টি জানতে পারলে পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাত মহানগর ডিবি অফিসে গিয়ে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কিন্তু সকালে তার নিহত হবার খবর আসে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ওই জামায়াত কর্মীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে গুলিবিদ্ধ ওই জামায়াত কর্মীকে কারা হাসপাতালে নিয়েছে তা জানাতে তিনি রাজি হননি। তিনি মাথায় ও বুকে গুলিবিদ্ধ ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসক জানান। পরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে অপরাহ্নে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর নামাযে জানাযার পর লাশ দাফন করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে জানা যায়, শাহীন ছিলেন জামায়াতের একজন কর্মী। বর্তমানে তিনি তেমন সাংগঠনিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন না।
পড়িযায়ের সদস্যাদের বক্তব্য
নিহত শাহীনের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগরীর মালোপাড়ায় নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পদ্মা অফসেট প্রেসে কাজ করার সময় ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের কিছুক্ষণ পূর্বে পরিবারের সাথে কথা হয় শাহীনের। আটকের বিষয়টি জানতে পারলে পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ মহানগর ডিবি অফিসে গিয়ে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত ডিবি তাদের হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিতও করেছে। নিহত নূরুল ইসলাম শাহীনের স্ত্রী মাসুমা আখতার জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার স্বামীকে নগরীর পদ্মা অফসেট প্রেস থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ আটিক করে। তারা বিভিন্ন খানায় খোঁজ নিয়েও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি। পরে তারা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে যান। সেখানে শাহীনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, বুধবার তাকে আদালতে নেয়া হবে। কিন্তু ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তারা লাশের সন্ধান পান এবং মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। ডিবি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।
সবার কাছে অস্ত্র বিনয়ী অভিত্রবান নূরুল ইসলাম শাহীনের পৈত্রিক বাড়ি নগরীর বিনোদপুর বাজারে। বাড়ির পাশের ইসলামিয়া কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি নগরীর মালোপাড়ায় গ্রেসের ব্যবসা করতেন। পদ্মা অফসেট প্রেসের মালিক ছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী, ১০ বছরের একটি ও এক বছর বয়সের একটি ছেলে রয়েছে। পিতা আবদুর রহমান মুন্সি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কন্ট্রোলার। অপর দুই তাইও শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে পিতা আব্দুর রহমান মুন্সি ভেঙে পড়েন। যেন তার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে শাহীন আর বেঁচে নেই। আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন ভদ্র, নম্র, বিনয়ী এবং চরিত্রবান ব্যক্তি। সবার কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রিয়পাত্র। তাঁর এমন মৃত্যুর খবরে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় যেন আকাশ ভারি হয়ে উঠে। নূরুল ইসলাম শাহীন ছাত্রজীবনে রাবি শাখা শিবিরের সদস্য এবং রাজশাহী মহানগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের জামায়াতের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না।
মহানগরী জামায়াতের প্রতিবাদ
জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, গত মঙ্গলবার জামায়াত কর্মী অধ্যাপক নূরুল ইসলাম শাহীনকে তার পদ্মা প্রেস থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেফতার করে রাতে আশরাফের মোড়ে গুলি করে হত্যা করে। নেতৃবৃন্দ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীন কলেজের একজন অধ্যাপক হিসেবে দেশের সম্মানিত নাগরিক, চাকরির পাশাপাশি প্রেসের ব্যবসায় নিয়োজিত। বর্তমানে সংগঠনের কর্মকান্ডে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেন না। এমন একজন নিরীহ সাধারণ কর্মীকে 'ক্রসফায়ার' দিয়ে হত্যা করা দুঃখজনক। মিছিল-মিটিং বা দলীয় কর্মকান্ডে ভূমিকা না রাখার পরও কিসের ভিত্তিতে তাকে জীবন দিতে হলো দেশবাসী আজ তা জানতে চায়। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই এ সরকারের পতন হবে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। সর্বক্ষেত্রে বার্থ এই সরকার দিশেহারা হয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে ফেরাতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, গ্রেফতার-অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করছে। এই অবস্থা আর চলতে পারে না। এর জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।
রাবি শিবিরের বিক্ষোভ
রাজশাহী বিশ্বেবিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সদস্য ও জামায়াত কর্মী নূরুল ইসলাম শাহীন 'ক্রসফায়ারে' নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে রাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। বিবৃবিতে শিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়েব শাহরিয়ার বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশের কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে আইনের শাসন বজায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করার উদাত্ত আহ্বান জানান। আর তা না করা হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে, পূর্ব ঘোষিত রাজশাহী বিভাগের ৪৮ ঘন্টার হরতাল এবং জামায়াত নেতা নূরুল ইসলাম শাহীনের 'ক্রসফায়ারে' নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশ্বেবিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। শিবিরের পরিকল্পনা সম্পাদক সুমন রেজার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর তালাইমারীর কাঁচাবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারের কাছে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
এক নজরে শহীদের নূরুল শাহীন
শহীদের পূর্ণ নাম: নূরুল ইসলাম শাহীন
পিতার নাম: আব্দুর রহমান মুন্সি
মাতার নাম: জাহান নেগার, বয়স ৪৫ বছর
পেশা: শিক্ষক- ইসলামিয়া কলেজ, মতিহার, রাজশাহী ও প্রেস ব্যবসায়ী
পূর্ণ ঠিকানা: ৯৯/ বিনোদপুর বাজার, মতিহার, রাজশাহী
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম.এ- ইসলামিক স্টাডিজ, রাবি
জন্ম তারিখ: ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ভাই-বোনের সংখ্যা: ভাই- ৩ জন, ১ বোন, শহীদের অবস্থান- ২য়
ভাই-বোনের পেশা: ২ ভাই শিক্ষক ও বোন বিবাহিত গৃহিনী
শহীদের শখ: গরীব-অসহায়দের খেদমত
ভবিষ্যৎ টার্গেট: আত্মনির্ভরশীল জীবন
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিহার থানা, রাজশাহী মহানগরী
সর্বশেষ দায়িত্ব: ওয়ার্ড সেক্রেটারি
সংগঠনে আসার ইতিহাস: পারিবারিকভাবে ও ছাত্রসংগঠনের অনুপ্রেরণায় আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়
আহত হওয়ার স্থান: ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ রাত ৯টায় ডিবি পুলিশ গুম করে অজানা স্থানে নিয়ে যায়।
শাহাদাতের স্থান: পুলিশ/র‍্যাব তার গলায় ও বুকে গুলি করে হত্যার পর রাজশাহী হাসপাতালে লাশ রাখে
হত্যাকারীর পরিচয়: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি ও র‍্যাব
শহীদের কবর: মতিহার থানার খোজাপুর কবরস্থান

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍