শহীদ শফিকুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ শফিকুল ইসলাম
পিতার নাম: শেখ আব্দুর রহিম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি, অবসর
মাতার নাম: আলেয়া বেগম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি
স্ত্রীর নাম: রিক্তা বেগম নিলা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ৪৫৮/অচিনতলা, বসুয়া
ডাকঘর- হড়গ্রাম, থানা- রাজপাড়া, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যার পর লাশ মেডিকেলে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
পিতার নাম: শেখ আব্দুর রহিম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি, অবসর
মাতার নাম: আলেয়া বেগম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি
স্ত্রীর নাম: রিক্তা বেগম নিলা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ৪৫৮/অচিনতলা, বসুয়া
ডাকঘর- হড়গ্রাম, থানা- রাজপাড়া, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যার পর লাশ মেডিকেলে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
২৯ জানুয়ারী, ২০১২ জামায়াতসহ জোটের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে লোকনাথ স্কুলের পুকুর পাড়ে রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পাকা রোডের উপর পুলিশ সন্ত্রাসীয়া অতর্কিতভাবে নিরস্ত্র শিবির-জামায়াত কর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ করে। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করার আগেই শাহানাত বরণ করেন..
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শফিকুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম ইউপির বসুয়া/অচিনতলা পৈত্রিক বাড়ীতে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মানবদরদী, নম্র, ভদ্র ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী শফিকুল ইসলাম তিন ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। আব্বা ও আম্মা রাজশাহী মেডিকেলের ৪র্থ শ্রেণির চাকরি করলেও পিতা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। সে পড়ালেখা তেমন বেশী না করায় ভাল চাকরি হয়নি; কিন্তু বিবাহিত ও ১ পুত্র সন্তানের বাবা হবার পর অভাবের সংসারে ছোট চাকরি হলেও পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে প্রায় ২ বছর আগে স্থানীয় ও অমায়িক চরিত্রের কারণে লক্ষিপুর ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল রাজশাহীর কর্তৃপক্ষ তাকে ৪র্থ শ্রেণির ওয়ার্ডবয় হিসেবে সামান্য বেতনে চাকরি দেয়।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২৯ জানুয়ারী, ২০১২ জামায়াতসহ জোটের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শফিকুল ইসলাম।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
২৯ জানুয়ারী, ২০১২ জামায়াতসহ জোটের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। সবার সাথে তিনিও নতুন জুতা ও প্যান্ট পরে মিছিলে সামিল হবার জন্য ছুটে যান। মিছিলের প্রস্তুতিকালে লোকনাথ স্কুলের পুকুর পাড়ে রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পাকা রোডের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে নিরস্ত্র শিবির-জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। শফিকসহ ১৫/২০ জন ইট হাতে নিয়ে প্রতিরোধ করতে সামনে আগালে পুলিশের বুলেট তার বুক ভেদ করে যায়, সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে পুলিশ টেনে-হেচড়ে যাদুঘরের দিকে নিয়ে যায়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করার আগেই তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে শাহাদাত বরণ করেন।
বিদ্যুৎ গতিতে শফিকুল ইসলামের শাহাদাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। উপরন্তু প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজানোর শত চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর বাধ্য হয়ে পরদিন ৩০ জানুয়ারী, ২০১২ দুপুরে লাশ হস্তান্তর করে। দুপুর প্রায় ১২টায় বাড়ির পাশেই মাঠে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমীর আতাউর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবর্গ। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তারা এবং উপস্থিত হাজারো জনতা চিৎকার করে শহীদ শফিকুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকারী প্রশাসনের গডফাদারদেরকে ধিক্কার জানায়। তাঁরা শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর কাছে আবেগ জড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন। জানাযার ইমামতি করেন মহানগরী জামায়াতের আমীর আতাউর রহমান, পরে হেতেম খাঁ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শহীদের মা-বাবার প্রতিক্রিয়া।
শহীদ শফিকুল ইসলাম অতীব মানব দরদী ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন আমার সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতবাসী করেন। আমরা আজ গর্বিত যে আল্লাহ আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে কবুল করেছেন। আমরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার দুনিয়াতে পাবো না, তবে আখেরাতে সুবিচার পাবো ইনশা-আল্লাহ।
স্ত্রী-সন্তানদের বিবরণ:
আশিকুল ইসলাম আকাশ, ১১ বছর ৫ম শ্রেণি
স্ত্রী- রিক্তা বেগম নিলা, ২০ বছর, ১০ম শ্রেণি পাশ, বর্তমানে চাকরি
ভাই-বোনের বিবরণ।
রফিকুল ইসলাম, এইচএসসি, বিবাহিত, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে, ব্যবসা
শহীদ শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত বরণ
মনজুর রহমান, ১০ম শ্রেণি পাশ, বিবাহিত, চাকরি
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
৩১ জানুয়ারি ২০১২ দৈনিক প্রথম আলোতে 'রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: আরেকজনের প্রাণ গেল' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রকাশিত হয়-
রাজনৈতিক সহিংসতায় আরও একজনের প্রাণ গেল। গতকাল রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হন। আহত হয়েছেন পুলিশ-সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি আজ রাজশাহীতে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে।
আগের দিন চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। রাজনৈতিক সহিংসতায় এ নিয়ে দুই দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হলো
সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৬০ নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মহানগর পুলিশের দুই পরিদর্শকসহ সাতজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৩০)। তিনি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। তাঁর বাড়ি শহরের বহরমপুর অচিনতলা এলাকায়। বাবার নাম আবদুর রহিম।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াত-শিবির লোকনাথ স্কুলের পেছন থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তাঁরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। একপর্যায়ে শটগান থেকে গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় শফিকুলের পিঠে গুলি লাগে। পুলিশ গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়। হাসপাতালে আনার পথেই শফিকুল মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইমাজ উদ্দিন দাবি করেন, পুলিশ তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর অসংখ্য গুলি ছুড়েছে। এতে শফিকুল ইসলাম মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় চারদলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে আজ মঙ্গলবার রাজশাহীতে আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়। কাল বুধবার দোয়া দিবস ও তিন দিনের শোক পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান।
শহরে প্রবেশে বাধা। বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা বাসযোগে শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাগমারা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, নগরের নওদাপাড়ায় রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে নেতা-কর্মীরা একটি ট্রাক থেকে ইট নামিয়ে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশ এসে ব্যারিকেড তুলে দেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেখানে বাগমারা, মোহনপুর ও তানোর উপজেলার নেতা-কর্মীরা প্রায় ২০টি বাস নিয়ে শহরে ঢোকার অপেক্ষায় ছিলেন।
বিএনপির মিছিল: মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে নগরের লোকনাথ স্কুলের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গণমিছিলে অংশ নিতে জড় হন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির একাংশ নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে রাজশাহী কলেজ মাঠে এবং অপরাংশ পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে জড় হয়। তবে তাদের মিছিল কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এক নজরে শহীদ শফিকুল ইসলাম
শহীদের নাম: শহীদ শফিকুল ইসলাম
পিতার নাম: শেখ আব্দুর রহিম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি, অবসর
মাতার নাম: আলেয়া বেগম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি
স্ত্রীর নাম: রিক্তা বেগম নিলা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ৪৫৮/অচিনতলা, বসুয়া
ডাকঘর- হড়গ্রাম, থানা- রাজপাড়া, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যার পর লাশ মেডিকেলে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শফিকুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম ইউপির বসুয়া/অচিনতলা পৈত্রিক বাড়ীতে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মানবদরদী, নম্র, ভদ্র ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী শফিকুল ইসলাম তিন ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। আব্বা ও আম্মা রাজশাহী মেডিকেলের ৪র্থ শ্রেণির চাকরি করলেও পিতা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। সে পড়ালেখা তেমন বেশী না করায় ভাল চাকরি হয়নি; কিন্তু বিবাহিত ও ১ পুত্র সন্তানের বাবা হবার পর অভাবের সংসারে ছোট চাকরি হলেও পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে প্রায় ২ বছর আগে স্থানীয় ও অমায়িক চরিত্রের কারণে লক্ষিপুর ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল রাজশাহীর কর্তৃপক্ষ তাকে ৪র্থ শ্রেণির ওয়ার্ডবয় হিসেবে সামান্য বেতনে চাকরি দেয়।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২৯ জানুয়ারী, ২০১২ জামায়াতসহ জোটের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ শফিকুল ইসলাম।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
২৯ জানুয়ারী, ২০১২ জামায়াতসহ জোটের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। সবার সাথে তিনিও নতুন জুতা ও প্যান্ট পরে মিছিলে সামিল হবার জন্য ছুটে যান। মিছিলের প্রস্তুতিকালে লোকনাথ স্কুলের পুকুর পাড়ে রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পাকা রোডের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে নিরস্ত্র শিবির-জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। শফিকসহ ১৫/২০ জন ইট হাতে নিয়ে প্রতিরোধ করতে সামনে আগালে পুলিশের বুলেট তার বুক ভেদ করে যায়, সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে পুলিশ টেনে-হেচড়ে যাদুঘরের দিকে নিয়ে যায়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করার আগেই তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে শাহাদাত বরণ করেন।
বিদ্যুৎ গতিতে শফিকুল ইসলামের শাহাদাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। উপরন্তু প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজানোর শত চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর বাধ্য হয়ে পরদিন ৩০ জানুয়ারী, ২০১২ দুপুরে লাশ হস্তান্তর করে। দুপুর প্রায় ১২টায় বাড়ির পাশেই মাঠে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমীর আতাউর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবর্গ। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তারা এবং উপস্থিত হাজারো জনতা চিৎকার করে শহীদ শফিকুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকারী প্রশাসনের গডফাদারদেরকে ধিক্কার জানায়। তাঁরা শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর কাছে আবেগ জড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন। জানাযার ইমামতি করেন মহানগরী জামায়াতের আমীর আতাউর রহমান, পরে হেতেম খাঁ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শহীদের মা-বাবার প্রতিক্রিয়া।
শহীদ শফিকুল ইসলাম অতীব মানব দরদী ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন আমার সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতবাসী করেন। আমরা আজ গর্বিত যে আল্লাহ আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে কবুল করেছেন। আমরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার দুনিয়াতে পাবো না, তবে আখেরাতে সুবিচার পাবো ইনশা-আল্লাহ।
স্ত্রী-সন্তানদের বিবরণ:
আশিকুল ইসলাম আকাশ, ১১ বছর ৫ম শ্রেণি
স্ত্রী- রিক্তা বেগম নিলা, ২০ বছর, ১০ম শ্রেণি পাশ, বর্তমানে চাকরি
ভাই-বোনের বিবরণ।
রফিকুল ইসলাম, এইচএসসি, বিবাহিত, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে, ব্যবসা
শহীদ শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত বরণ
মনজুর রহমান, ১০ম শ্রেণি পাশ, বিবাহিত, চাকরি
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
৩১ জানুয়ারি ২০১২ দৈনিক প্রথম আলোতে 'রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: আরেকজনের প্রাণ গেল' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রকাশিত হয়-
রাজনৈতিক সহিংসতায় আরও একজনের প্রাণ গেল। গতকাল রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হন। আহত হয়েছেন পুলিশ-সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি আজ রাজশাহীতে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে।
আগের দিন চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। রাজনৈতিক সহিংসতায় এ নিয়ে দুই দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হলো
সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৬০ নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মহানগর পুলিশের দুই পরিদর্শকসহ সাতজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৩০)। তিনি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। তাঁর বাড়ি শহরের বহরমপুর অচিনতলা এলাকায়। বাবার নাম আবদুর রহিম।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াত-শিবির লোকনাথ স্কুলের পেছন থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তাঁরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। একপর্যায়ে শটগান থেকে গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় শফিকুলের পিঠে গুলি লাগে। পুলিশ গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়। হাসপাতালে আনার পথেই শফিকুল মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইমাজ উদ্দিন দাবি করেন, পুলিশ তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর অসংখ্য গুলি ছুড়েছে। এতে শফিকুল ইসলাম মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় চারদলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে আজ মঙ্গলবার রাজশাহীতে আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়। কাল বুধবার দোয়া দিবস ও তিন দিনের শোক পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান।
শহরে প্রবেশে বাধা। বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা বাসযোগে শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাগমারা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, নগরের নওদাপাড়ায় রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে নেতা-কর্মীরা একটি ট্রাক থেকে ইট নামিয়ে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশ এসে ব্যারিকেড তুলে দেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেখানে বাগমারা, মোহনপুর ও তানোর উপজেলার নেতা-কর্মীরা প্রায় ২০টি বাস নিয়ে শহরে ঢোকার অপেক্ষায় ছিলেন।
বিএনপির মিছিল: মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে নগরের লোকনাথ স্কুলের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গণমিছিলে অংশ নিতে জড় হন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির একাংশ নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে রাজশাহী কলেজ মাঠে এবং অপরাংশ পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে জড় হয়। তবে তাদের মিছিল কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এক নজরে শহীদ শফিকুল ইসলাম
শহীদের নাম: শহীদ শফিকুল ইসলাম
পিতার নাম: শেখ আব্দুর রহিম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি, অবসর
মাতার নাম: আলেয়া বেগম, সরকারি হাসপাতালে চাকরি
স্ত্রীর নাম: রিক্তা বেগম নিলা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ৪৫৮/অচিনতলা, বসুয়া
ডাকঘর- হড়গ্রাম, থানা- রাজপাড়া, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যার পর লাশ মেডিকেলে নিয়ে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ২৯ জানুয়ারী, ২০১২ বিকাল ৩টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍