শহীদ শহিদুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ শহীদুল ইসলাম
জন্ম তারিখ: ৪ মে, ১৯৯২
পিতার নাম: জালাল উদ্দিন, ৫৮ বছর, ছোট-খাট গরুর খামার ব্যবসায়ী
মাতার নাম: জোসনা বেগম, ৪৩ বছর, গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: বিবি আখতার আখি, গৃহিণী
সন্তানের নাম: সাদিয়া আফরিন, সাড়ে ৩ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়া, ডাকঘর- বড়বন গ্রাম থানা- শাহমখদুম, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় কর্মস্থল থেকে ডিবি পুলিশ গুম করে
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পুলিশ-র্যাব তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক ভোর ৪টা
জন্ম তারিখ: ৪ মে, ১৯৯২
পিতার নাম: জালাল উদ্দিন, ৫৮ বছর, ছোট-খাট গরুর খামার ব্যবসায়ী
মাতার নাম: জোসনা বেগম, ৪৩ বছর, গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: বিবি আখতার আখি, গৃহিণী
সন্তানের নাম: সাদিয়া আফরিন, সাড়ে ৩ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়া, ডাকঘর- বড়বন গ্রাম থানা- শাহমখদুম, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় কর্মস্থল থেকে ডিবি পুলিশ গুম করে
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পুলিশ-র্যাব তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক ভোর ৪টা
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় সাদা পোশাকধারী ২০/২৫জন ডিবি ও পুলিশ যৌথভাবে রাজশাহী মহানগরী শাহমখদুম খানার নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে শহীদ শহিদুল ইসলামকে গুম করে। ১৩ এপ্রিল আনুমানিক রাত ৪টায় পুলিশের সন্ত্রাসীরা তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়। সকালে পরিবার খবর পায় সে শাহাদাত বরণ করেছেন।
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শহিদুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার জিয়া পার্ক সংলগ্ন বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়ায় পৈত্রিক বাড়ীতে ৪ মে, ১৯৯২ জন্মগ্রহণ করেন। মানবদরদী, নম্র, ভদ্র ও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী শহিদুল ইসলাম দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। আব্বার রয়েছে সামান্য গরুর খামার ব্যবসা। সে পড়ালেখা তেমন বেশী না করায় ভাল চাকরি হয়নি। কিন্তু বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের বাবা হবার পর অভাবের সংসারে ছোট চাকরি হলেও পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে প্রায় ১ বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তার অমায়িক চরিত্রের কারণেই তাকে নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ রাজশাহী (আইবিএমসি) ৪র্থ শ্রেণির সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে সামান্য বেতনে চাকরি দেয়। সাম্প্রতিকালে ইসলামের পক্ষে তার সাহসী অবদান, সর্বপরি জন্মগতভাবে এলাকায় স্থানীয় কৃতি সন্তান হিসেবে সে সমধিক পরিচিত। তাছাড়াও সে মহানগরীর (শিবির) সেক্রেটারী ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিনের ছোট ভাই। ফলে মাতা-পিতা অত্যন্ত সহজ-সরল হলেও তারা দু'ভাই মিথ্যা মামলা-হামলা আর জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার ও ইসলামী আন্দোলনের সার্বিক প্রয়োজনে তাদের ভূমিকা বর্ণনাতীত।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ঢাকে চলে যান:
১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় সাদা পোশাকধারী ২০/২৫ জন ডিবি ও পুলিশ যৌথভাবে রাজশাহী মহানগরী শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে শহীদ শহিদুল ইসলামকে গুম করে। ১৩ এপ্রিল আনুমানিক রাত ৪টায় পুলিশের সন্ত্রাসীরা তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়। সকালে পরিবার খবর পায় সে শাহাদাত বরণ করেছেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
সার্বিক বিবেচনায় আওয়ামী দুশমন ও প্রশাসনের অস্ত্রধারী পুলিশ বাহিনী মহানগরী শিবির সেক্রেটারী জসিম উদ্দিনকে খতম করার মহাষড়যন্ত্রে বিভোর হয়ে যায়। পুলিশ বারংবার বাড়ীতে অভিযান চালায়ে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের চাপ আরো বেড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক ভেবে আইবিএমসি কর্তৃপক্ষ শহিদুল ইসলামকে ছুটি দেয় ও সাবধানে থাকতে বলেন। কিন্তু শাহাদাত কপালে লেখা থাকলে দুনিয়ার কোন শক্তি কি তার জান্নাতের পথ রোধ করতে পারে? তাইতো তিনি নিরবে-নিখরে চিরজনমের মত শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যাবেন মহান রবের দরবারে যা কখনো তার প্রিয় স্ত্রী, পরিবার কিংবা আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ভাবতেও পারেনি। মাতা-পিতা, ভাই-বোন, বিধবা স্ত্রী আর ইয়াতীম সন্তান ছাড়াও রক্তাক্ত কফিন দেখে শত শত গরীব মানুষের আহাজারি, জানাযায় হাজারো মানুষের বেদনা-বিধুর কান্নাজড়িত আর্তনাদ প্রমাণ করে শহীদ শহিদুল ইসলাম ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ আর পাড়া-প্রতিবেশি অসহায়দের নিরব ত্রাণকর্তা।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১১ এপ্রিল, ২০১৫ বাদ মাগরিব। শহীদ শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে সহকর্মীর সাথে দেখা করতে যায়; কর্তৃপক্ষ তাকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে বলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা তাকে যেন বারংবার বাড়ি যেতে বারণ করে। ফলে সে স্বাভাবিকভাবেই হাসপতালের বিভিন্ন কাজে মশগুল হয়ে যায়। এভাবে সহকর্মীর সাথে থাকা অবস্থায় রাত প্রায় ১টায় সাদা পোশাকধারী ২০/২৫জন ডিবি ও রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার পুলিশ যৌথভাবে আইবিএমসি ঘেরাও করে এবং প্রায় ঘন্টাখানেক অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পাস মসজিদের সামনে থেকে রাত ২টায় শহীদ শহিদুল ইসলামকে আটক করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যায়। মিডিয়ায় প্রচার হলেও পুলিশ নির্লজ্জভাবে অস্বীকার করতে থাকে। ১২ এপ্রিল বারবার থানায় যোগাযোগ করলেও পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক রাত ৪টায় পুলিশের সন্ত্রাসীরা জঘন্য কায়দায় পরিকল্পিতভাবে তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়। সকালে পরিবার খবর পায় যে, দুনিয়ার মায়া-মমতার সকল বন্ধন ছিন্ন করে তিনি চলে গেছেন মহান রবের কাছে, সুন্দর ভূবনে। বিদ্যুৎ গতিতে শহিদুল ইসলামের শাহাদাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। উপরন্ত প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মিডিয়াকে জানাতে বাধ্য করে যে, সে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। কিন্তু সচেতন মহল বিশ্বাস করেন যে, তাকে ইসলামী আন্দোলনের কারণেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শহীদের মা-বাবার প্রতিক্রিয়া
মা-বাবা: শহীদ শহিদুল ইসলাম অতীব মানব দরদী ও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন রহমানুর রহীম আমার সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতবাসী করেন। আমরা আজ গর্বিত যে আল্লাহ আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে কবুল করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কারণেই পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দুনিয়াতে পাবো না। তবে আখেরাতে সুবিচার পাবো ইনশা-আল্লাহ।
আনাজা
১৩ এপ্রিল ২০১৫, দুপুর ২.৩০ টায় শাহমখদুম থানার জিয়া পার্কের সামনে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, কর্মপরিষদ সদস্য জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম ও শহীদের গর্বিত পিতা প্রমুখ। শহীদ শহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিত হত্যাকারী প্রশাসনের গডফাদারদেরকে বক্তাসহ উপস্থিত হাজারো জনতা চিৎকার করে ধিক্কার জানায় এবং শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর কাছে আবেগ জড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন। জানাযার ইমামতি করেন রাজপাড়া থানা আমীর মাও, মিজানুর রহমান, পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ।
১. জসিম উদ্দিন, এম এ-রাবিক, অধ্যায়নরত 'ল' কলেজ রাজশাহী, মহানগরী সেক্রেটারী-আইসিএস
২. শহীদ শহিদুল ইসলাম, শাহাদাত বরণ
৩. রিমা খাতুন, ১০ম শ্রেণি কমার্স, ১৬ বছর
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১৩ এপ্রিল ২০১৫, দৈনিক প্রথম আলো 'রাজশাহীতে শিবির কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
রাজশাহীতে শহীদুল ইসলাম নামের শিবিরের এক কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে নগরের খড়খড়ি বাইপাস সড়কের বড় বনগ্রাম এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শহীদুল নগরের নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী। তিনি নগরের ভাঁড়ালিপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরকে পেটানোসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পোস্টার ছাপানো হয়েছিল।
গতকাল রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ জোবায়ের ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন বলেন, শনিবার রাত দুইটার দিকে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ শিবির কর্মী শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কিন্তু তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। অভিভাবকেরা তাঁর অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেন।
এদিকে আজ দুপুরে এক যৌথ বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি শোয়েব শাহরিয়ার ও সেক্রেটারি হাসান তারিক এটাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, আজ সকালে নগরের খড়খড়ি বাইপাস সড়কের বড় বনগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাত এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। শিবিরের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁকে আটক করেনি। পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহীতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা ও চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি একই সড়কের সপুরা এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা করে বন্দুক কেড়ে নিয়ে পুলিশকে পেটানোর মামলার আসামি ছিলেন শহীদুল ইসলাম। হামলার সময় ধারণ করা ছবি দিয়ে পুলিশ শহীদুলকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পোস্টার করেছিল। ইতিমধ্যে এই মামলা দুটিতে শহীদুলের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
নগরের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, নিহত শহীদুলের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন এটা তদন্তের বিষয়।
এক নজরে শহীদ শহীদুল ইসলাম
শহীদের নাম: শহীদ শহীদুল ইসলাম
জন্ম তারিখ: ৪ মে, ১৯৯২
পিতার নাম: জালাল উদ্দিন, ৫৮ বছর, ছোট-খাট গরুর খামার ব্যবসায়ী
মাতার নাম: জোসনা বেগম, ৪৩ বছর, গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: বিবি আখতার আখি, গৃহিণী
সন্তানের নাম: সাদিয়া আফরিন, সাড়ে ৩ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়া, ডাকঘর- বড়বন গ্রাম থানা- শাহমখদুম, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় কর্মস্থল থেকে ডিবি পুলিশ গুম করে
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পুলিশ-র্যাব তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক ভোর ৪টা
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শহিদুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার জিয়া পার্ক সংলগ্ন বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়ায় পৈত্রিক বাড়ীতে ৪ মে, ১৯৯২ জন্মগ্রহণ করেন। মানবদরদী, নম্র, ভদ্র ও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী শহিদুল ইসলাম দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। আব্বার রয়েছে সামান্য গরুর খামার ব্যবসা। সে পড়ালেখা তেমন বেশী না করায় ভাল চাকরি হয়নি। কিন্তু বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের বাবা হবার পর অভাবের সংসারে ছোট চাকরি হলেও পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে প্রায় ১ বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তার অমায়িক চরিত্রের কারণেই তাকে নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ রাজশাহী (আইবিএমসি) ৪র্থ শ্রেণির সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে সামান্য বেতনে চাকরি দেয়। সাম্প্রতিকালে ইসলামের পক্ষে তার সাহসী অবদান, সর্বপরি জন্মগতভাবে এলাকায় স্থানীয় কৃতি সন্তান হিসেবে সে সমধিক পরিচিত। তাছাড়াও সে মহানগরীর (শিবির) সেক্রেটারী ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিনের ছোট ভাই। ফলে মাতা-পিতা অত্যন্ত সহজ-সরল হলেও তারা দু'ভাই মিথ্যা মামলা-হামলা আর জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার ও ইসলামী আন্দোলনের সার্বিক প্রয়োজনে তাদের ভূমিকা বর্ণনাতীত।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ঢাকে চলে যান:
১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় সাদা পোশাকধারী ২০/২৫ জন ডিবি ও পুলিশ যৌথভাবে রাজশাহী মহানগরী শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে শহীদ শহিদুল ইসলামকে গুম করে। ১৩ এপ্রিল আনুমানিক রাত ৪টায় পুলিশের সন্ত্রাসীরা তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়। সকালে পরিবার খবর পায় সে শাহাদাত বরণ করেছেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
সার্বিক বিবেচনায় আওয়ামী দুশমন ও প্রশাসনের অস্ত্রধারী পুলিশ বাহিনী মহানগরী শিবির সেক্রেটারী জসিম উদ্দিনকে খতম করার মহাষড়যন্ত্রে বিভোর হয়ে যায়। পুলিশ বারংবার বাড়ীতে অভিযান চালায়ে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের চাপ আরো বেড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক ভেবে আইবিএমসি কর্তৃপক্ষ শহিদুল ইসলামকে ছুটি দেয় ও সাবধানে থাকতে বলেন। কিন্তু শাহাদাত কপালে লেখা থাকলে দুনিয়ার কোন শক্তি কি তার জান্নাতের পথ রোধ করতে পারে? তাইতো তিনি নিরবে-নিখরে চিরজনমের মত শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যাবেন মহান রবের দরবারে যা কখনো তার প্রিয় স্ত্রী, পরিবার কিংবা আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ভাবতেও পারেনি। মাতা-পিতা, ভাই-বোন, বিধবা স্ত্রী আর ইয়াতীম সন্তান ছাড়াও রক্তাক্ত কফিন দেখে শত শত গরীব মানুষের আহাজারি, জানাযায় হাজারো মানুষের বেদনা-বিধুর কান্নাজড়িত আর্তনাদ প্রমাণ করে শহীদ শহিদুল ইসলাম ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ আর পাড়া-প্রতিবেশি অসহায়দের নিরব ত্রাণকর্তা।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১১ এপ্রিল, ২০১৫ বাদ মাগরিব। শহীদ শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে সহকর্মীর সাথে দেখা করতে যায়; কর্তৃপক্ষ তাকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে বলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা তাকে যেন বারংবার বাড়ি যেতে বারণ করে। ফলে সে স্বাভাবিকভাবেই হাসপতালের বিভিন্ন কাজে মশগুল হয়ে যায়। এভাবে সহকর্মীর সাথে থাকা অবস্থায় রাত প্রায় ১টায় সাদা পোশাকধারী ২০/২৫জন ডিবি ও রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার পুলিশ যৌথভাবে আইবিএমসি ঘেরাও করে এবং প্রায় ঘন্টাখানেক অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পাস মসজিদের সামনে থেকে রাত ২টায় শহীদ শহিদুল ইসলামকে আটক করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যায়। মিডিয়ায় প্রচার হলেও পুলিশ নির্লজ্জভাবে অস্বীকার করতে থাকে। ১২ এপ্রিল বারবার থানায় যোগাযোগ করলেও পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক রাত ৪টায় পুলিশের সন্ত্রাসীরা জঘন্য কায়দায় পরিকল্পিতভাবে তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়। সকালে পরিবার খবর পায় যে, দুনিয়ার মায়া-মমতার সকল বন্ধন ছিন্ন করে তিনি চলে গেছেন মহান রবের কাছে, সুন্দর ভূবনে। বিদ্যুৎ গতিতে শহিদুল ইসলামের শাহাদাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। উপরন্ত প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মিডিয়াকে জানাতে বাধ্য করে যে, সে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। কিন্তু সচেতন মহল বিশ্বাস করেন যে, তাকে ইসলামী আন্দোলনের কারণেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শহীদের মা-বাবার প্রতিক্রিয়া
মা-বাবা: শহীদ শহিদুল ইসলাম অতীব মানব দরদী ও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন রহমানুর রহীম আমার সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতবাসী করেন। আমরা আজ গর্বিত যে আল্লাহ আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে কবুল করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কারণেই পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের সন্ত্রাসীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দুনিয়াতে পাবো না। তবে আখেরাতে সুবিচার পাবো ইনশা-আল্লাহ।
আনাজা
১৩ এপ্রিল ২০১৫, দুপুর ২.৩০ টায় শাহমখদুম থানার জিয়া পার্কের সামনে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, কর্মপরিষদ সদস্য জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম ও শহীদের গর্বিত পিতা প্রমুখ। শহীদ শহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিত হত্যাকারী প্রশাসনের গডফাদারদেরকে বক্তাসহ উপস্থিত হাজারো জনতা চিৎকার করে ধিক্কার জানায় এবং শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর কাছে আবেগ জড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন। জানাযার ইমামতি করেন রাজপাড়া থানা আমীর মাও, মিজানুর রহমান, পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ।
১. জসিম উদ্দিন, এম এ-রাবিক, অধ্যায়নরত 'ল' কলেজ রাজশাহী, মহানগরী সেক্রেটারী-আইসিএস
২. শহীদ শহিদুল ইসলাম, শাহাদাত বরণ
৩. রিমা খাতুন, ১০ম শ্রেণি কমার্স, ১৬ বছর
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১৩ এপ্রিল ২০১৫, দৈনিক প্রথম আলো 'রাজশাহীতে শিবির কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
রাজশাহীতে শহীদুল ইসলাম নামের শিবিরের এক কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে নগরের খড়খড়ি বাইপাস সড়কের বড় বনগ্রাম এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শহীদুল নগরের নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী। তিনি নগরের ভাঁড়ালিপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরকে পেটানোসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পোস্টার ছাপানো হয়েছিল।
গতকাল রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ জোবায়ের ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন বলেন, শনিবার রাত দুইটার দিকে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ শিবির কর্মী শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কিন্তু তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। অভিভাবকেরা তাঁর অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেন।
এদিকে আজ দুপুরে এক যৌথ বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি শোয়েব শাহরিয়ার ও সেক্রেটারি হাসান তারিক এটাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, আজ সকালে নগরের খড়খড়ি বাইপাস সড়কের বড় বনগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাত এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। শিবিরের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁকে আটক করেনি। পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহীতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা ও চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি একই সড়কের সপুরা এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা করে বন্দুক কেড়ে নিয়ে পুলিশকে পেটানোর মামলার আসামি ছিলেন শহীদুল ইসলাম। হামলার সময় ধারণ করা ছবি দিয়ে পুলিশ শহীদুলকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পোস্টার করেছিল। ইতিমধ্যে এই মামলা দুটিতে শহীদুলের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
নগরের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, নিহত শহীদুলের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন এটা তদন্তের বিষয়।
এক নজরে শহীদ শহীদুল ইসলাম
শহীদের নাম: শহীদ শহীদুল ইসলাম
জন্ম তারিখ: ৪ মে, ১৯৯২
পিতার নাম: জালাল উদ্দিন, ৫৮ বছর, ছোট-খাট গরুর খামার ব্যবসায়ী
মাতার নাম: জোসনা বেগম, ৪৩ বছর, গৃহিণী
স্ত্রীর নাম: বিবি আখতার আখি, গৃহিণী
সন্তানের নাম: সাদিয়া আফরিন, সাড়ে ৩ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- বড়বন গ্রাম ভাড়ালীপাড়া, ডাকঘর- বড়বন গ্রাম থানা- শাহমখদুম, জেলা- রাজশাহী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ১১ এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২টায় কর্মস্থল থেকে ডিবি পুলিশ গুম করে
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: পুলিশ-র্যাব তার বুকে ৫টি গুলি করে হত্যার পর খড়খড়ি এলাকায় লাশ ফেলে যায়
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ আনুমানিক ভোর ৪টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍