হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: আব্দুর রহীম
শহীদ মো: আব্দুর রহীম

শহীদ মো: আব্দুর রহীম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: আব্দুর রহীম (০৫২)। পেশা: দিনমজুর এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২/০২/১৯৬৫, বয়স: ৪৬ বছর। আহত হওয়ার ০১.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০১.০৩.২০১৩, সকাল ১১টা, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। জানাজা নামাজ পড়ান মাওলানা হারেছ উদ্দিন এবং জানাজায় প্রায় ১২ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পারদিলালপুর, ডাকঘর: কানসাট, ইউনিয়ন: শাহাবাজপুর উপজেলা।
শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মরহুম মো: মকবুল হোসেন। ২৮ বছর আগে ইন্তেকাল করেন।
মাতা: মোসা: জায়েদা বেগম-বয়স ৭৪ বছর।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: রওশন আরা বেগম, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী। ১ম ছেলে: মোঃ আব্দুল জলিল। বয়স ২৮ বছর, কৃষি কাজ করে। মেয়ে: মোসা: রাহিমা বেগম, বয়স প্রায় ২১ বছর, বিবাহিত, গৃহিণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"হত-দরিদ্র হয়েও তার অন্তর কেঁদে উঠতো। কয়েকদিন যাবৎই তিনি দায়িত্বশীলদের কাছে বলে আসছেন, যায় ওয়াজ শুনে হিন্দুরাও মুসলমান হয়ে যায় তার ফাঁসি হলে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কী? বন্ধু বাবু তাকে স্বপ্নে দেখেছেন। সেই চেক শার্ট গায়ে, গামছা গলায় দাঁড়িয়ে আব্দুর রহীম, কিন্তু কী এক জ্যোতির্ময় হাসিতে উদ্ভাসিত তার মুখ।"
১. শহীদের পরিচিতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পারদিদালপুর গ্রামে শহীদ মো: আব্দুর রহীম ১২/০২/৬৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মকবুল হোসেন এবং মা জায়েদা বেগমের আট ছেলে-মেয়ের ভেতর তিনি ছিলেন ২য়। শহীদ আব্দুর রহীম মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের মুখে দু'বেলা দু'মুঠো ভাত তুলে দেয়াই তার জন্য কঠিন ছিল। পারেননি তাদের পড়া-লেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। বহু কষ্টে মেয়ে রহিমাকে বিয়ে দিয়েছেন। আর একমাত্র ছেলে আব্দুল জলিল আর্থিক দৈন্যতায় ষষ্ঠ শ্রেণির পর আর পড়তে পারেনি। বরং পিতার সাথে হাল ধরতে হয়েছে সংসারের। এত কষ্টের পরেও শহীদ মো: আব্দুর রহীম ছিলেন নম্র, অদ্র, সং, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাইতো সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রামরত অবস্থায়ই মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
দিনটি ছিল ১ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতাল প্রতিরোধের লক্ষ্যে সকাল ১১টায় নয়াগ্রামের আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা ও লাঠি-সোটা নিয়ে পারসিলাল পুরসহ কয়েকটি জায়গায় তৌহিদী জনতার ওপর আক্রমণ করে। আক্রান্ত এলাকার লোকজন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এই প্রতিরোধ মিছিলে শহীদ মো। আব্দুর রহীমও অংশ নেন। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শহীদ মো: আব্দুর রহীমকে লাঠি-সোটা দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে এবং রামদা দিয়ে মাথায় কোপায়। এতে করে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ফলে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। এ ঘটনায় শত শত মানুষ আহত হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হারেস উদ্দীন। জানাযায় প্রায় ১২ হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. স্বজনদের বর্ণনা
দিনটি ছিল ৩ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতাল প্রতিরোধের লক্ষ্যে সকাল ১১টায় নয়াগ্রামের আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা ও লাঠি-সোটা নিয়ে পারদিলালপুরসহ কয়েকটি জায়গায় তৌহিদি জনতার ওপর আক্রমণ করে। তিনি ছিলেন জামায়াতের সমর্থক, নিয়মিত প্রোগ্রামে যেতেন। সেদিন গিয়েছিলেন বিলে জমি দেখতে যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই সবার পরেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন প্রাণের টানে। ছোট ভাই আবেদ আলি কাছেই ছিলেন। তিনি বলেন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে তিনি গর্তে পড়ে গিয়েছিলেন। সে আবস্থায় বর্বর হায়েনার মত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উপর্যুপরি রামদা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করে। এতে করে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ফলে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে হত-দরিদ্র হয়েও তার অন্তর কেঁদে উঠতো, কয়েকদিন যাবৎই তিনি দায়িত্বশীলদের কাছে বলে আসছেন, 'যার ওয়াজ শুনে হিন্দুরাও মুসলমান হয়ে যায় তার ফাঁসি হলে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কী? বন্ধু বাবু তাকে স্বপ্নে দেখেছেন; সেই চেক শার্ট গায়ে, গামছা গলায় দাঁড়িয়ে আব্দুর রহীম, কিন্তু কী এক জ্যোতির্ময় হাসিতে উদ্ভাসিত তার মুখ।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
টিনের চালসহ আধা পাকা একটি ছোট ঘর আছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুর রহীম (০৫২)। পেশা: দিনমজুর এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২/০২/১৯৬৫, বয়স: ৪৬ বছর। আহত হওয়ার ০১.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০১.০৩.২০১৩, সকাল ১১টা, স্থান: হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। জানাজা নামাজ পড়ান মাওলানা হারেছ উদ্দিন এবং জানাজায় প্রায় ১২ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। দাফন করা হয়। বাড়ির পাশে কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পারদিলালপুর, ডাকঘর: কানসাট, ইউনিয়ন: শাহাবাজপুর উপজেলা।
শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মরহুম মো: মকবুল হোসেন। ২৮ বছর আগে ইন্তেকাল করেন।
মাতা: মোসা: জায়েদা বেগম-বয়স ৭৪ বছর।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: রওশন আরা বেগম, বয়স ৪৫ বছর, গৃহিণী। ১ম ছেলে: মোঃ আব্দুল জলিল। বয়স ২৮ বছর, কৃষি কাজ করে। মেয়ে: মোসা: রাহিমা বেগম, বয়স প্রায় ২১ বছর, বিবাহিত, গৃহিণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍